শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
মতামত মানুষ চিরকাল আশ্রয়হীন

মানুষ চিরকাল আশ্রয়হীন

খুব মনে পড়ে শৈশবের কথা। তখন এত কিছু জানতাম না, বুঝতামও না। নিজের মতো খেলতাম, বাবা–মাকে ঘিরেই ছিল আরেকটা জীবন। কেন যেন মনে হয়, মানুষ শৈশবেই সবচেয়ে স্বাধীন থাকে, নিজের ইচ্ছে মতো, বুঝে  হোক বা না বুঝে হোক, জীবনকে নিজের মতো করে দেখতে পারে। তখন হয়তো জীবন কী, সেটা বোঝা যেত না, কিন্তু জীবনের অনুভূতি ছড়িয়ে থাকত চারপাশে, সহজ আর নির্দোষভাবে।

কিন্তু মানুষ যত বড় হয়, ততই পরাধীন হতে থাকে। কেউ মানুক বা না মানুক, পৃথিবীর প্রায় সকলে-ই আসলে পরাধীন। সহজ করে বললে, এই যে ভালোবাসা, এই যে মায়া, এগুলোও তো এক ধরনের পরাধীনতা। অন্য জটিল পরাধীনতার কথা বাদই দিলাম, কারণ সেগুলো আরও কঠিন, ধীরে ধীরে মানুষকে ক্ষয়িষ্ণু করে ফেলে। মানুষ সেটা বোঝে, কিন্তু স্বীকার করতে চায়না । কারণ, সবাই চায় নিজেকে সাহসী হিসেবে দেখাতে, অথচ অনেক সময় সেই সাহসই হয়ে ওঠে কেবল গল্প; ভেতরে জমে থাকে এক নিঃশব্দ কাপুরুষতা। মানুষ অসময়ে সাহসী হয়, সময়ে ভীরু হয় | 

হয়তো শৈশবের সেই নিষ্পাপ মানুষটার কাছে এসব ভাববার মতো জ্ঞান ছিল না। যেমন, শৈশবে মাটির ঢিবি দিয়ে ঘর বানানোর খেলা। তখন মনে হতো এটা নিছক একটা খেলা। এখন ভাবি, তখন ওই মাটির ঘর বানানোটা নিছক খেলা ছিল না। আজ মনে হয়, জীবনের শেষ আশ্রয়ও তো এমনই এক মাটির ঘর। খেলার ভেতরেই লুকিয়ে ছিল জীবনের গভীর বাস্তবতা।

জীবন আসলে বড় অদ্ভুত, অনেকটা  মুসাফিরের মতো। সারাজীবন মানুষ মাথার ওপর ছাদ খোঁজে, অথচ শেষ আশ্রয় হয়ে ওঠে সেই সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে।

মানুষ বড় হয়, আর যত বড় হয়, চিন্তার তত রূপান্তর ঘটে। পরিবর্তনের এই ধারা কখনো থামে না, পরিবর্তনই বাস্তবতা। মানুষ বদলায় চিন্তায়, বদলায় নিজের মতো করে, বাস্তবতা মানুষকে বদলায়, পরিস্থিতি মানুষকে অসহায় মানায় । 
তবু শেষ পরিবর্তনটা যেন হয়ে ওঠে, চারপাশের সত্যের আলোয় বসে থাকা শৈশবের সেই মানুষটার মতো, যে মাটির ঢিবির ঘর বানাতো, কিন্তু ঘরটাতে দরজা  থাকলেও নিজে কখনো ঢুকতে পারতোনা । কারণ মানুষের কোনো ঘর নেই, মানুষের চিরকাল আশ্রয়হীন |

খুঁজুন