শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
মতামত মঞ্চে অতিথিকে অপমান করা শিষ্টাচার বহির্ভূত

মঞ্চে অতিথিকে অপমান করা শিষ্টাচার বহির্ভূত

ইদানিং একটা শিষ্টাচার বিরোধী কাজ দেখা যাচ্ছে।  যেটা কোন ভদ্র মানুষের কাজ নয়। বরং এগুলো খুবই নিন্দনীয়। 
গতকাল চীন মৈত্রী সন্মেলন কেন্দ্রে ইমাম- খতীবদের কনফারেন্সে এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেল। জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের একাংশের মহাসচিব ড:মহিউদ্দিন ইকরাম সাহেবের বক্তৃতার সময় তাঁকে "ভুয়া"ভুয়া, " এই দালালের বাচ্চা দালাল" এই সব শব্দ বলে তাকে অপমান করা হল। তিনি শুধু বলেছিলেন, "আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ইমাম- খতীবদের আর কোন দাবী করতে হবেনা" ব্যস, এতটুকু বলার সাথে সাথে গালিগালাজ বর্ষণ হতে লাগল জমিয়তের মহাসচিবের দিকে। বেচারা মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তৃতার পরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ ঘটনার পরে অনেকেই খুশি হয়েছেন। অনেকে আনন্দে  তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। কেউ ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে নিজেকে বড় বাহাদুর ভাবা শুরু করেছেন।
তবে আমি কিন্তু খুশি হইনি। বরং খুই দু:খ পেয়েছি। একজন দেওবন্দী হালকার আলেমকে অপমান করা বড় পরিতাপের বিষয়।
দেখেন, আমি ড:মহিউদ্দিন ইকরামের চিন্তাধারায় বিস্বাসী নই। তিনি যেভাবে  খুল্লুমখোলা বিএনপির পক্ষে অবস্হান নিয়েছেন, এটাকে আমি সাপোর্ট করিনা।  তবে তাঁর চিন্তাধারার সাথে মিল নেই বলে আমি তাকে অপমান করব?একটি ভরপুর মজলিসে হাজারো মানুষের সামনে তাকে গালিগালাজ করব?এটা আমি বিলকুল সমর্থন করিনা।

বড় দু:খজনক বিষয়, ষ্টেজে একজন বিজ্ঞ আলেম ও রাজনীতিবিদকে হেনেস্তা করা হল, তাকে সরাসরি গালি দেওয়া হল, তাহলে জাতি আমাদের কাছ থেকে কী শিখবে? এভাবে আগামীতে কেউ আমাদের মতের খেলাফ বক্তব্য দিলে হইচই করার রাস্তা আবিস্কার হয়ে গেল।
প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব কিছু মত বা চিন্তাচেতনা রয়েছে। আর এটা থাকতেই পারে। সবাই তো তো একই চিন্তাধারার হবেনা।তাই বলে কী সেখানে চিল্লাফাল্লা করতে হবে? , আজ মহিউদ্দিন ইকরাম অপমান হলেন, আগামীতে চরমোনাই এর পীর সাহেব, ডা, শফিকুর রহমান, মামুনুল হক সাহেবরা অপমান হবেন না, এর কী কোন গ্যারান্টি আছে? যদি ভবিষ্যতে ওসব নেতার চিন্তাধারার সাথে এদেশের অধিকাংশ মানুষের চিন্তধারা না মেলে, তখন কী ওনাদের অপমান করা হবে?

আসলে আমাদের গোড়ায় গলদ আছে। গোড়া থেকে ঠিক হওয়া উচিত। কারো ইজ্জতের উপরে এভাবে হামলে পড়া ঠিক নয়। এব্যাপারে সকলেই যদি ঠিক হওয়ার চিন্তা করি,তাহলে কোথাও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।  বিশেষ করে আমাদের মুরুব্বী যারা আছেন, তারা যদি আগে ঠিক হন, তাহলে সাধারণ জনতা ঠিক হয়ে যাবে।

এবার আপনাদের কারো কাছে একটু তিক্ত লাগতে পারে, তারপরেও বলছি, কদিন আগে আমাদের মধুপুরী হুজুর সরাসরি ধর্মউপদেষ্টাকে হাজার জনতার মাঝে অপমান করলেন। তিনি নাকি পালিয়ে ওমরা করতে চলেগেছেন খতমে নবুওয়াত সন্মেলনে থাকবেন না।ব্যস, এই কথাটা অনেকের কাছে মুখরোচক হয়েছে।  ফেসবুকও খুব গরম হয়ে গেল এবং খুব ভাইরাল হল তখন। আবার উপদেষ্টা মহোদয়ও পাল্টা জবাব দিলেন। সেটাও সকলের নজর কাড়ল।
বলেন তো এগুলো কী মধুপুরী হুজুরের ঠিক হয়েছে? তিনি জাতিকে কী মেসেজ দিলেন? তার ওই আচরণ থেকে একশ্রেণীর মানুষ ভরপুর মজলিসে অপর আলেমকে তুলোধুনো করার শিক্ষা পেয়ে গেল।
তাহলে দেখুন আমাদের মুরুব্বীদের অবস্হা।  একজন মুরুব্বী যখন বল্গাহীন ভাবে আরেক মুরুব্বীকে ধোলাই করবেন, তাদের থেকে তো জনগণ ওইসবই শিখবে।
এজন্য গোড়ার গলদগুলো আগে।শোধরানো দরকার। তাহলে সব জায়গাতে ঠিক হয়ে যাবে। মুরুব্বীরা যদি ঠিক না হন তাহলে এসব অশান্তি চলতেই থাকবে।
চীনমৈত্রী সন্মেলনের প্রোগ্রাম যেখানে দেশের সর্বস্তরের রাজনীতিবিদ ও আলেম - ওলামা  এবং দেশের সুশীল সমাজ উপস্হিত,সেই ভরপুর মজলিসে একজন আলেমের অপমান হওয়া বড় দু:খজনক।

তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি যারা মহিউদ্দিন ইকরাম সাহেবকে অপমান করেছেন।  আমি আশা করব, সকলেই ধৈর্যশীল হবেন। আর যেন ওইরকম ঘটনা না ঘটে সেটার ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন সকলে।

আল্লাহ তায়ালা সকলকে হেফাজত করুন। আমিন।

( আমিনুল ইসলাম কাসেমী ,শিক্ষক ও কলামিস্ট)

খুঁজুন