শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
মতামত মনে রেখো বাংলাদেশ

মনে রেখো বাংলাদেশ

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের সাথে সমঝোতা করে গ্রেফতার হয়েছেন। আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি , বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি , বাংলাদেশ স্বাধীন হোক বঙ্গবন্ধু চাননি, এমন অসংখ্য হাস্যকর প্রোপাগান্ডা এই দেশের মানুষ বিশ্বাস করে।
 
বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগ যদি বাংলাদেশ না চায় , তাহলে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার কারা গঠন করলো?
 
১৯৭১ সালের জুন মাসে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার গঠন করে আওয়ামীলীগ সরকার।সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের নির্দেশে সেক্টর কমান্ডার গঠিত হয়। জিয়াউর রহমানকে সেক্টর কমান্ডার বানায় আওয়ামীলীগ। তাজউদ্দীন আহমদ শুধু অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। এখানে কোন যদিও কিন্তু নাই।
 
মুজিব নগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম তিনি কি জামায়াতে ইসলামীর আমীর ছিলেন? 
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে যদি বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে থাকে, তবে মুক্তিযুদ্ধের পর জামায়াত বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ গঠন না করে সাত বছর পর্যন্ত পাকিস্তানে পালিয়ে গেলো কেন?
 
জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে যদি মুক্তিযুদ্ধ হয়ে থাকে, তবে জিয়াউর রহমানের সরকার গঠিত হলো না কেন? 
কেন জিয়া সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্টের মেজর হয়েই থাকলো? মেজর থেকে মেজর জেনারেল হওয়ার জন্যও কেন রোজ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী খালেদা জিয়া সহ মোড়া পেতে থাকতো?
 
এসব আহম্মকী প্রোপাগান্ডা যে দেশের মানুষ গিলতে পারে তাদের মসজিদের ইমাম পিনাকী হবেন এটাই স্বাভাবিক। বিহারী ইলিয়াসের কথায় তাদের রোজ স্বপ্নদোষ হবে এটাও স্বাভাবিক। মাহমুদুর ও হাসনাতের মতো নিয়াজীর বংশধররা রোজ ভারতের সেভেন সিস্টার্স দখল করে ঘুমিয়ে যাবে। এভাবেই গত ৫৪ বছর ধরে এরা ভারতের একটা পিউবিক হেয়ার পর্যন্ত ছিড়তে পারেনি। মোল্লার দৌড় যেমন মসজিদ পর্যন্ত ঠিক তেমনি স্বাধীনতাবিরোধীদের দৌড় রোজ সকালের স্বপ্নদোষ পর্যন্ত। এছাড়া এদের আর একটিও অর্জন নেই।
১৯৭২ সালের ১০ ই জানুয়ারি মুজিব পাকিস্তানের লায়ালপুর কারাগার থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন ।
 
এর মাত্র দুইদিন পর কীভাবে ১৯৭২ সালের ১২ ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন?
 
মুক্তিযুদ্ধ যে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম পরিচালনা করছিলেন তাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু তাদের নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে তারা নিয়োগ দেয়নি।১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দীনকে অস্থায়ী সরকারের দিক নির্দেশনা ও মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণায় এই দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আওয়ামীলীগ নেতা এম এ হান্নান ও জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার একজন পাঠক ছিলেন মাত্র।
 
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়ে শপথ নিয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে বঙ্গবন্ধু সহ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন ও মন্ত্রীসভার সকল সদস্যরা ১২ ই জানুয়ারি বিকেলে একযোগে পদত্যাগ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী Provisional Constitutional Order 1972 এর ৭ ধারা বলে বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবলে ১৯৭২ সালের ১২ ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু মন্ত্রী পরিষদ গঠন করলেন।
 
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সেদিন বলেছিলেন, " আজ আমি সবচেয়ে বেশি সুখী লোক।আমি পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র চেয়েছিলাম, নেতা ( বঙ্গবন্ধু ) তা গ্রহণ করেছেন। তাজউদ্দীন আহমদকে জোর করে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, এসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়।
কারণ ওই আহম্মকদের দল জানে না, " ১৯৭১ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে ১১ ই জানুয়ারি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু তার রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে অস্থায়ী সংবিধান আদেশ ১৯৭২ জারি করেছেন।
 
১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশের সংবিধান লেখা শুরু হয় এবং ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর, বঙ্গবন্ধু সরকার বাংলাদেশের সংবিধান পাশ করে।গত ৫৩ বছর ধরে বাংলাদেশ এই সংবিধানের উপর চলছে।
 
বাংলাদেশের সংবিধান অবৈধ হলে জিয়া থেকে শুরু করে বিএনপি ও জামায়াত প্রায় ১৪ বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলেও এই সংবিধান পরিবর্তন করতে পারেনি কেন? সংবিধান পরিবর্তন করার ক্ষমতা বিএনপি ও জামায়াতের নেই কেন?
 
ইতিহাস বিজয়ীরাই লিখে। বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংবিধান বঙ্গবন্ধু সরকারের সৃষ্টি।১৯৭০ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে ১৬৭ আসনে বিজয়ের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বিজয়ের এই ইতিহাস পুরো বিশ্বে লিখেছে।১৯৭১ সালের ১৭ ই এপ্রিল এই সরকারের শপথ নেওয়ার মাধ্যমে ১৬ ই ডিসেম্বর বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৬ ই ডিসেম্বর এই সরকার ও বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান।তারই ধারাবাহিকতায় মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
 
১৬ ই ডিসেম্বর বিজয় না হয়ে ৩১ ডিসেম্বর বিজয় হলেও এই ইতিহাসটা আওয়ামীলীগ লিখতো।৬ ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ বিজয়ের ইতিহাস বিশ্ব মানচিত্রে লিখে নিয়েছিল।
 
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪ দিন আগেই ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়া বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মেনে নেয়।
 
১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিজয়ের ৩ দিন আগে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর সরকারকে স্বীকৃতি দেয় মায়ানমার।
১৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের দিনে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর সরকারকে স্বীকৃতি দেয় নেপাল
গো আযম, ইয়াহিয়া, নিয়াজী , ভূট্টো ও নিজামীর জামায়াত শিবিরের স্বাধীনতাবিরোধী মুরীদরা পাছা উঁচু করে পাকিস্তান জিন্দাবাদ দিয়ে মুড়ি খান।
 
যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের সংবিধান মেনেই রাজনীতি করতে হবে। মুখে বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা ও সংবিধান বাতিল করার ক্ষমতা জিয়াউর রহমান , খালেদা ও গো আযম কেউই পারেনি, সম্ভবও নয়। 
 
বাংলাদেশের সংবিধান বাতিল হয়ে যাওয়া মানে হচ্ছে বিশ্ব মানচিত্রে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বাতিল হয়ে যাওয়া। এটা জামায়াত শিবিরের স্বপ্নদোষ ছাড়া আর কিছুই নয়। অস্ত্রের জোরে জামায়াত রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে পারবে , অস্ত্রের মুখে মিডিয়া দখল করে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছতে পারবে কিন্তু বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সংবিধান মুছে ফেলা অসম্ভব। অতীতে জিয়াউর রহমান বিচারপতি সায়েমের মাথায় বন্দুকের নল ঠেকিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেও বাংলাদেশের ইতিহাস মুছতে পারেনি।এটা যদি সম্ভব হতো জিয়া বন্দুকের নল দিয়েই বাংলাদেশের ইতিহাস পাল্টে দিতো।
 
ইতিহাস বিজয়ীরা লিখে। বাঙালির বিজয়ের এই ইতিহাস লিখেছেন বঙ্গবন্ধু। জামায়াত শিবিরের বাপেরা পাকিস্তান থেকে উড়ে এলেও এই ইতিহাস পরিবর্তন সম্ভব নয়।
 
দেশ স্বাধীন একবারই হয়, বারবার নয় । স্বাধীনতার এই ইতিহাস বিশ্ব মানচিত্রে আওয়ামীলীগ লিখেছে।এই ইতিহাস মুছে ফেলা কোনদিনও সম্ভব নয়। ইতিহাস বিজয়ীরা লিখে, পরাজিতরা নয় ।জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, পাকিস্তান জিন্দাবাদ দিয়ে নয়।
সত্য সবসময় সুন্দর।

খুঁজুন