শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
মতামত মৃত্যুর পরও অমর সারাহ ইসলাম

মৃত্যুর পরও অমর সারাহ ইসলাম

রোকসানা মনোয়ার :সারাহ ইসলাম, বয়স মাত্র ২০। দশ মাস বয়সে তার ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে। মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে দীর্ঘ ১৯ বছর সংগ্রাম করেছেন তার বাবা মা। দেশে বিদেশে নানা রকম চিকিৎসাতেও কোন কাজ হয়নি। ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন; সদ্য জীবন শুরু করা ফুটফুটে এই মেয়েটি। বাবা মাকে সারাহ অনুরোধ করেছিলেন; মৃত্যুর পর তার দেহটি যাতে মানুষের কল্যানে দান করা হয়।
বুধবার রাত ১০টায় সারাহ মারা যান। তার দুটি কিডনী ও চোখের দুটি কর্নিয়া সরিয়ে নিয়ে প্রায় সাথে সাথেই চারজন মানুষের দেহে প্রতিস্থাপন করেন ডাক্তাররা। রাত ১০টা থেকে টানা ভোর পর্যন্ত চলেছে এই অস্ত্রপচার। চারজন রোগীই সুস্থ আছেন। এটি হয়তো দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার এগিয়ে যাওয়ার চিত্র। কিন্তু আমি বিস্মিত অন্য কারনে।
মৃত্যুর মতো একটি কঠিন সত্যকে মেনে নিয়ে; এমন আত্মত্যাগের জীবন গড়তে কে তোমাকে শেখালো মা ? এই সার্থপর সমাজ, চারপাশে লোভের-লাভের এতো এতো প্রতিযোগিতা; এই নষ্ট সময়ে তুমি এক তরতাজা ফুল।
স্যালুট তোমাকে মা। স্যালুট তোমার মতো বীরকন্যার জন্মদাত্রী মাকেও। যে কিনা এমন একটা পবিত্র সৌরভের জন্ম দিয়েছে।

মৃত্যুতেও অমর একজন সারাহ ইসলাম । দূরারোগ্য রোগের সাথে লড়াই করে নিজে হার মানলেও, কিডনি ও কর্নিয়া দান করে নতুন জীবন দিয়েছেন চারজনকে। সারাহর অঙ্গ নেয়া চার রোগীই এখন সুস্থ আছেন। সাহসিকা সারাহর গল্প জানালেন তার মা ।

পাঁচ বছর যাবত বোনের চিকিৎসা খরচ জোগাতে গিয়ে যখন প্রায় নি:স্ব শাহাজাদা আহমেদের পরিবার তখন সারাহ ইসলাম এসেছেন জীবনের বাক বদলকারী হিসেবে। শাহাজাদা ফিরে পেয়েছেন তার বোনকে আর দশ বছরের ছোট্ট সন্তানের কাছে তার মাকে ফিরিয়ে দিয়েছে সারাহর দান করা কিডনী।

বলছি সেই ২০ বছরের সারাহর কথা। মাত্র দশ মাস বয়স থেকেই লড়েছেন টিউবেরাস স্কেলোসিসের মত দুরারোগ্য ব্যাধির সাথে।এবার ব্রেনে বাঁধা বেসেছিলো টিউমার। হয়তো বুঝতে পরেছিলেন লড়াইয়ে এবার ফিরে নাও আসতে পারেন। মৃত্যুর পরও নিজেকে বিলিয়ে বাঁচতে চেয়েছেন সারাহ। মস্তিস্ক যখন আর সারা দিচ্ছিলো না তখন সারাহর দুই কিডনী আর চোখের কর্ণিয়া নতুন করে বাঁচার আশা যুগিয়েছে চার চারটা মানুষকে।

বড় আঁকিয়ে হবেন একদিন, এমন স্বপ্ন ছিলো সারাহর চোখে। জীবন তাকে সেই সময়টুকু না দিলেও মৃত্যুতেও থমকে যাননি সারাহ! এমন সাহসী আর মানবিক মেয়েই তো চেয়েছিলেন মা শবনম।

বিখ্যাত কেউ নন কিন্তু তারপরও এমন সিলিউট থেকে সারাহ ইসলামকে চিনে নিতে আর কষ্ট হয় না। তার এই দেখিয়ে যাওয়া পথে যেদিন এমন আরও অনেক মৃত্যুঞ্জয়ের কাহিনীযুক্ত হবে সেই দিনের অপেক্ষায় সারাহর পরিবার।



খুঁজুন