কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ি ছিলো সহজিয়া সুফি দর্শনের বিচরণভূমি৷ কুষ্টিয়াতেই লালন, গগন হরকরা, কাঙাল হরিনাথসহ অসংখ্য বাউল সাধকের জন্ম৷ মীর মশাররফ হোসেনের মতো লেখক আর বাঘা যতিনের মতো বিপ্লবীও জন্ম নিয়েছেন এখানে৷ এই ভূমিতে বসেই রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন বহু কালজয়ী রচনা৷ কিন্তু সেই কুষ্টিয়াকে আজ নষ্ট করে দিচ্ছে আমীর হামযার উগ্র মতাদর্শ৷ লালনের পুণ্যভূমিতেই হামজাদর্শিদের হাতে গতকাল প্রকাশ্যে খুন করা হলেন একজন সুফি সাধক শামীম রেজা! আজকের কুষ্টেবাসীর হামযীয় উগ্রতা তখন থাকলে তারা হত্যা করতো লালন, গগন, হরিনাথ, রবীন্দ্রনাথকেও৷
আমীর হামযার ভয়ঙ্কর উগ্র ওহাবি দর্শন কুষ্টিয়া রাজবাড়িকে উগ্রবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে৷ আমীর হামযার দর্শন কী? রাশ্মিকা মান্দানাকে ভোগ, নারী বিদ্বেষ আর বিশ্ববিদ্যালয়কে বিতর্কিত করাইতো৷ শামীম রেজা সুফি সাধক ও আধ্যাত্মিক গুরু বাবা জাহাঙ্গীর ঈমান আল সুরেশ্বরীর অনুসারী৷ বাবা জাহাঙ্গীরের দর্শন মূলত কোরান ও সুফিবাদের অন্তর্নিহিত রহস্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত৷ তিনি আবার কালান্দার দর্শন প্রচার করতেন৷ রুনা লায়লার বিখ্যাত গান দমাদম মাসকালান্দার আবার এই কালান্দারকে নিয়েই রচিত৷ তারা আল্লাহর আরাধনার পাশাপাশি মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দিতেন৷
বাংলাদেশে সুফিদের হাত ধরেই ইসলাম আসে এবং মানুষ তা বিপুলভাবেই গ্রহণ করে বলেই বাংলাদেশের ৯১% মানুষই মুসলিম৷ সুফিরা উগ্রতা পরিহার করে মানবতার কথা বলে৷ অথচ উগ্রপন্থিরা মানুষের অধিকার লুণ্ঠন করছেন, হত্যার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছেন৷ আমি নিজে সুফিবাদী নই, বিজ্ঞানমনস্ক৷ কিন্তু সুফিদের অধিকারের পক্ষে, ভয়ঙ্কর দানবীয় উগ্রবাদের বিপক্ষে৷ উগ্র ওহাবিরা বিশ্বজুড়ে ইসলামকে এক ভয়ঙ্কর মতাদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করছে যাতে তৈরি হয়েছে ইসলামোফোবিয়া৷
শেখ হাসিনার পতনের পরে উগ্রবাদিদের আস্ফালন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে৷ অন্তবর্তীকালীন সরকারের মূল ব্যর্থতাই ছিলো মব দমন করতে না পারা৷ এ সরকারও বলেছিলো, আর মব হবে না, মবের জমানা শেষ৷ কিন্তু সেটা যে কথার কথা তার প্রমাণ হলো আরেক সুফিকে মব করে হত্যার মধ্য দিয়ে৷ উগ্রবাদকে কঠোর হস্তে দমন করতে না পারলে মবও বন্ধ হবে হবে৷
অধিকাংশ তৌহিদি জনতার ব্যানারে যারা মব করছেন তাদের বড়ো একটি অংশই অপরাধী—মাদক ও সন্ত্রাসের সাথে জড়িত৷ তাদের শক্তি বাড়াতেও তারা উগ্রপন্থি হয়েছে এবং আমীর হামযাদের ছাতার তলে সম্মিলিত হয়েছে৷ এছাড়াও সে অসংখ্য সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, নারী নিপীড়ন করেছে৷ অথচ এই পাপাত্মা ধর্মাত্মা সেজে বসে আছে৷ এমন অপরাধীরাই মূলত তৌহিদি জনতার শক্তি৷
আমীর হামযাদের দমন না করতে পারলে, মবসন্ত্রাসও দমন করা সম্ভব নয়, একাত্তরের চেতনাও বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়৷ দেশকে আফগানিস্তান হওয়া থেকে বাঁচাতে লেখক, বুদ্ধিজীবীসহ সচেতন মানুষদেরই এগিয়ে আসা দরকার, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা দরকার৷
আমীর হামযার ভয়ঙ্কর উগ্র ওহাবি দর্শন কুষ্টিয়া রাজবাড়িকে উগ্রবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে৷ আমীর হামযার দর্শন কী? রাশ্মিকা মান্দানাকে ভোগ, নারী বিদ্বেষ আর বিশ্ববিদ্যালয়কে বিতর্কিত করাইতো৷ শামীম রেজা সুফি সাধক ও আধ্যাত্মিক গুরু বাবা জাহাঙ্গীর ঈমান আল সুরেশ্বরীর অনুসারী৷ বাবা জাহাঙ্গীরের দর্শন মূলত কোরান ও সুফিবাদের অন্তর্নিহিত রহস্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত৷ তিনি আবার কালান্দার দর্শন প্রচার করতেন৷ রুনা লায়লার বিখ্যাত গান দমাদম মাসকালান্দার আবার এই কালান্দারকে নিয়েই রচিত৷ তারা আল্লাহর আরাধনার পাশাপাশি মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দিতেন৷
বাংলাদেশে সুফিদের হাত ধরেই ইসলাম আসে এবং মানুষ তা বিপুলভাবেই গ্রহণ করে বলেই বাংলাদেশের ৯১% মানুষই মুসলিম৷ সুফিরা উগ্রতা পরিহার করে মানবতার কথা বলে৷ অথচ উগ্রপন্থিরা মানুষের অধিকার লুণ্ঠন করছেন, হত্যার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছেন৷ আমি নিজে সুফিবাদী নই, বিজ্ঞানমনস্ক৷ কিন্তু সুফিদের অধিকারের পক্ষে, ভয়ঙ্কর দানবীয় উগ্রবাদের বিপক্ষে৷ উগ্র ওহাবিরা বিশ্বজুড়ে ইসলামকে এক ভয়ঙ্কর মতাদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করছে যাতে তৈরি হয়েছে ইসলামোফোবিয়া৷
শেখ হাসিনার পতনের পরে উগ্রবাদিদের আস্ফালন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে৷ অন্তবর্তীকালীন সরকারের মূল ব্যর্থতাই ছিলো মব দমন করতে না পারা৷ এ সরকারও বলেছিলো, আর মব হবে না, মবের জমানা শেষ৷ কিন্তু সেটা যে কথার কথা তার প্রমাণ হলো আরেক সুফিকে মব করে হত্যার মধ্য দিয়ে৷ উগ্রবাদকে কঠোর হস্তে দমন করতে না পারলে মবও বন্ধ হবে হবে৷
অধিকাংশ তৌহিদি জনতার ব্যানারে যারা মব করছেন তাদের বড়ো একটি অংশই অপরাধী—মাদক ও সন্ত্রাসের সাথে জড়িত৷ তাদের শক্তি বাড়াতেও তারা উগ্রপন্থি হয়েছে এবং আমীর হামযাদের ছাতার তলে সম্মিলিত হয়েছে৷ এছাড়াও সে অসংখ্য সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, নারী নিপীড়ন করেছে৷ অথচ এই পাপাত্মা ধর্মাত্মা সেজে বসে আছে৷ এমন অপরাধীরাই মূলত তৌহিদি জনতার শক্তি৷
আমীর হামযাদের দমন না করতে পারলে, মবসন্ত্রাসও দমন করা সম্ভব নয়, একাত্তরের চেতনাও বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়৷ দেশকে আফগানিস্তান হওয়া থেকে বাঁচাতে লেখক, বুদ্ধিজীবীসহ সচেতন মানুষদেরই এগিয়ে আসা দরকার, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা দরকার৷