ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় তিনি যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, তখন কাকতালীয়ভাবে মনে পড়ে গেল মালালা ইউসুফজাইয়ের কথা। ২০১২ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তালি*বান জ*ঙ্গিরা মালালাকে খুব কাছ থেকে মাথা লক্ষ্য করে গুলি করেছিল। গুলিটি কানের পাশ দিয়ে ঢুকে মস্তিষ্কের নিকটবর্তী অংশে গুরুতর ক্ষতি করেছিল। মালালার অবস্থা ছিল এতটাই সংকটাপন্ন যে, প্রথম কয়েক ঘণ্টা তাকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে কি না তা নিয়েই ছিল প্রবল সংশয়।
ওসমান হাদি কি হতে চলেছেন বাংলাদেশের মালালা ইউসুফজাই? প্রশ্নটা শুনে অনেকেই বিস্মিত হবেন, কেউ কেউ হয়তো মজাও পাবেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ও তার সম্ভাব্য সামাজিক–রাজনৈতিক অভিঘাত বিবেচনায় নিলে প্রশ্নটা একেবারেই অবান্তর নয়। বাস্তবতার নিরিখে বলা যায়, ওসমান হাদি ভবিষ্যতে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইকনে পরিণত হতে পারেন।
পাকিস্তানের মালালার ভাগ্য ভালো বলতে হয়। পাকিস্তানের সেনা নিউরোসার্জন কর্নেল জুনায়েদ খানের তড়িৎ সিদ্ধান্ত ও সাহসী উদ্যোগ, সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সম্মিলিত প্রয়াসে মালালা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন। পাকিস্তানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে লন্ডনে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হন।
তারপরই শুরু হয় মালালার জীবনের নতুন অধ্যায়। বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন, ইউরোপ ও আমেরিকার নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ, বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ও মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন একটি বৈশ্বিক প্রতীক। ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে মালালা নিজেকে স্থায়ীভাবে বিশ্বপ্রতীকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
বাংলাদেশের হাদির ভাগ্যও ভালো বলা যায়। আশা করি, ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আগামীকাল সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) থাইল্যান্ডে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার তার চিকিৎসার সব খরচ বহন করবে। আশা করা যায়, ব্যাংককে উন্নত চিকিৎসা এবং শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। তারপর নতুন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানে প্রবেশ করবেন।
হাদির শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটময়। মাথায় গুলি লাগলে অনেক সময় উন্নত চিকিৎসায় জীবন ফিরে পাওয়া যায়। অনেক সময় জীবন ফিরে পেলেও স্বাভাবিক বলার ক্ষমতা হারাতে পারেন কিংবা শরীরের বিভিন্ন অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে পারে। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, তিনি ধীরে ধীরে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে ওসমান হাদি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হবেন কি না, হলে কারা তাকে সেই জায়গায় পৌঁছে দেবে এবং তিনি কাদের পক্ষে, কাদের স্বার্থে কাজ করবেন—এসব প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়ই। তবে আমার ব্যক্তিগত ধারণা, এ ঘটনা হাদির জীবনকে শুধু বদলাবে না বরং তাকে কেন্দ্র করে নতুন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক ন্যারেটিভ (বয়ান) তৈরি হতে পারে।
ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ থেকে বলতে পারি, রাজনীতি ও রাষ্ট্রপরিচালনা খুবই সূক্ষ্ম পরিকল্পনার অংশ। এটাকেই সম্প্রতি ‘মেটিকুলাসলি ডিজাইন্ড’ বলা হয়। ইউরোপ ও আমেরিকা ১৭ বছরের কিশোরী মালালাকে শুধু নারী শিক্ষাপ্রসারের জন্যই নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়নি। পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ধীরে ধীরে তৈরি করা হচ্ছে মালালাকে। প্রয়োজনে তিনি যেন পাকিস্তানের রাজনীতিতে নামতে পারেন, তার পথও খোলা রাখা হয়েছে। একদিন মালালা যদি পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা পান, তাহলে কি সত্যিই অবাক হওয়া উচিত?
ইউরোপ-আমেরিকা তাদের স্বার্থেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অঞ্চলে আইকন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তৈরি করে, তাদের প্রতিষ্ঠিত হতে সহযোগিতা করে। অনেকে বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। নোবেল শান্তি পুরস্কার তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দেশটির মানবাধিকারকর্মী ও রাজনীতিবিদ মারিয়া কোরিনা মাচাদো, তারপরই সেখানে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ দখল ও লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারই তাদের মূল লক্ষ্য, এখন তা সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এরকম উদাহরণ আরও অসংখ্য দেওয়া যায়।
ওসমান হাদির প্রসঙ্গটি ভিন্ন। ইউরোপ-আমেরিকার আগ্রহ এখনো তার প্রতি তেমন লক্ষণীয় নয়। তবে ভবিষ্যতে তার প্রতি পাকিস্তানের আগ্রহ প্রবল হতে পারে। কারণ, হাদি সরাসরি ভারতবিরোধী রাজনীতি করেন। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিরও সমালোচনা করেন। প্রক্ষান্তরে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি ও জামায়াতে ইসলামীকেই তিনি প্রমোট করেন। ফলে ভবিষ্যতে হাদিকে পাকিস্তান সব ধরনের সহযোগিতা করতে পারে।
বাংলাদেশে ফেলানী খাতুন ও আবরার ফাইয়াজের ঘটনা থেকে বলা যায়, হাদির শারীরিক অবস্থা যাই হোক না কেন, ভবিষ্যতে যদি তাকে ভারতবিরোধী ‘আইকন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়, তাতে কি সত্যিই অবাক হওয়া উচিত?
ওসমান হাদির ভাগ্যে কী আছে, কে জানে!
ওসমান হাদির ভাগ্যে কী আছে, কে জানে!
ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় তিনি যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, তখন কাকতালীয়ভাবে মনে পড়ে গেল মালালা ইউসুফজাইয়ের কথা। ২০১২ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তালি*বান জ*ঙ্গিরা মালালাকে খুব কাছ থেকে মাথা লক্ষ্য করে গুলি করেছিল। গুলিটি কানের পাশ দিয়ে ঢুকে মস্তিষ্কের নিকটবর্তী অংশে গুরুতর ক্ষতি করেছিল। মালালার অবস্থা ছিল এতটাই সংকটাপন্ন যে, প্রথম কয়েক ঘণ্টা তাকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে কি না তা নিয়েই ছিল প্রবল সংশয়।ওসমান হাদি কি হতে চলেছেন বাংলাদেশের মালালা ইউসুফজাই? প্রশ্নটা শুনে অনেকেই বিস্মিত হবেন, কেউ কেউ হয়তো মজাও পাবেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ও তার সম্ভাব্য সামাজিক–রাজনৈতিক অভিঘাত বিবেচনায় নিলে প্রশ্নটা একেবারেই অবান্তর নয়। বাস্তবতার নিরিখে বলা যায়, ওসমান হাদি ভবিষ্যতে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইকনে পরিণত হতে পারেন।পাকিস্তানের মালালার ভাগ্য ভালো বলতে হয়। পাকিস্তানের সেনা নিউরোসার্জন কর্নেল জুনায়েদ খানের তড়িৎ সিদ্ধান্ত ও সাহসী উদ্যোগ, সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সম্মিলিত প্রয়াসে মালালা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন। পাকিস্তানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে লন্ডনে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হন।তারপরই শুরু হয় মালালার জীবনের নতুন অধ্যায়। বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন, ইউরোপ ও আমেরিকার নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ, বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ও মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন একটি বৈশ্বিক প্রতীক। ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে মালালা নিজেকে
স্থায়ীভাবে বিশ্বপ্রতীকে প্রতিষ্ঠিত করেন।বাংলাদেশের হাদির ভাগ্যও ভালো বলা যায়। আশা করি, ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আগামীকাল সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) থাইল্যান্ডে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার তার চিকিৎসার সব খরচ বহন করবে। আশা করা যায়, ব্যাংককে উন্নত চিকিৎসা এবং শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। তারপর নতুন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানে প্রবেশ করবেন।হাদির শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটময়। মাথায় গুলি লাগলে অনেক সময় উন্নত চিকিৎসায় জীবন ফিরে পাওয়া যায়। অনেক সময় জীবন ফিরে পেলেও স্বাভাবিক বলার ক্ষমতা হারাতে পারেন কিংবা শরীরের বিভিন্ন অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে পারে। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, তিনি ধীরে ধীরে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।দ্বিতীয় অধ্যায়ে ওসমান হাদি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হবেন কি না, হলে কারা তাকে সেই জায়গায় পৌঁছে দেবে এবং তিনি কাদের পক্ষে, কাদের স্বার্থে কাজ করবেন—এসব প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়ই। তবে আমার ব্যক্তিগত ধারণা, এ ঘটনা হাদির জীবনকে শুধু বদলাবে না বরং তাকে কেন্দ্র করে নতুন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক ন্যারেটিভ (বয়ান) তৈরি হতে পারে।ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ থেকে বলতে পারি, রাজনীতি ও রাষ্ট্রপরিচালনা খুবই সূক্ষ্ম পরিকল্পনার অংশ। এটাকেই সম্প্রতি ‘মেটিকুলাসলি ডিজাইন্ড’ বলা হয়। ইউরোপ ও আমেরিকা ১৭ বছরের কিশোরী মালালাকে শুধু নারী শিক্ষাপ্রসারের জন্যই নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়নি। পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও
বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ধীরে ধীরে তৈরি করা হচ্ছে মালালাকে। প্রয়োজনে তিনি যেন পাকিস্তানের রাজনীতিতে নামতে পারেন, তার পথও খোলা রাখা হয়েছে। একদিন মালালা যদি পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা পান, তাহলে কি সত্যিই অবাক হওয়া উচিত?ইউরোপ-আমেরিকা তাদের স্বার্থেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অঞ্চলে আইকন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তৈরি করে, তাদের প্রতিষ্ঠিত হতে সহযোগিতা করে। অনেকে বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। নোবেল শান্তি পুরস্কার তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দেশটির মানবাধিকারকর্মী ও রাজনীতিবিদ মারিয়া কোরিনা মাচাদো, তারপরই সেখানে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ দখল ও লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারই তাদের মূল লক্ষ্য, এখন তা সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এরকম উদাহরণ আরও অসংখ্য দেওয়া যায়।ওসমান হাদির প্রসঙ্গটি ভিন্ন। ইউরোপ-আমেরিকার আগ্রহ এখনো তার প্রতি তেমন লক্ষণীয় নয়। তবে ভবিষ্যতে তার প্রতি পাকিস্তানের আগ্রহ প্রবল হতে পারে। কারণ, হাদি সরাসরি ভারতবিরোধী রাজনীতি করেন। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিরও সমালোচনা করেন। প্রক্ষান্তরে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি ও জামায়াতে ইসলামীকেই তিনি প্রমোট করেন। ফলে ভবিষ্যতে হাদিকে পাকিস্তান সব ধরনের সহযোগিতা করতে পারে।বাংলাদেশে ফেলানী খাতুন ও আবরার ফাইয়াজের ঘটনা থেকে বলা যায়, হাদির শারীরিক অবস্থা যাই হোক না কেন, ভবিষ্যতে যদি তাকে ভারতবিরোধী ‘আইকন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়, তাতে কি সত্যিই অবাক হওয়া উচিত?
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত