শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
মতামত সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকি ঢাকার বাতাসে

সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকি ঢাকার বাতাসে

দেশের অন্যতম ব্যস্থ নগরী  ঢাকা । জনসংখ্যার দিক থেকে এবং অর্থনৈতিকভাবে ঢাকা বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম একটি  সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিবছর মানুষ শহরমুখী হচ্ছে। এসব মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য তৈরি হচ্ছে নানা শিল্প-কলকারখানা। যাতায়াতের জন্য বৃদ্ধি পাচ্ছে যানবাহন।  শহরের রেলস্টেশন কিংবা সরকারি জমিতে গড়ে উঠছে বস্তি। এতে নগরজীবনে দেখা দিচ্ছে নানা সমস্যা এবং সংকট, যার মধ্যে অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বায়ুদূষণ।

 সম্প্রতি বায়ুদূষণ শহরে প্রকট আকার ধারণ করেছে। রাস্তায় চলাচলরত অতিরিক্ত যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত গ্যাসের প্রভাবে বায়ুদূষণ খুলনা শহরের ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশন এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় রাস্তাঘাট দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে করে সেখান থেকে ধুলো উড়ছে, যা বায়ুদূষণ বৃদ্ধি করছে। প্রতিনিয়ত এমন ভোগান্তিতে নগরীর পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। এ জন্য খুলনা শহরের নির্মলতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বায়ুদূষণ প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স নামে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যে প্রতিষ্ঠান বায়ুদূষণের পরিস্থিতি নিয়মিত তুলে ধরে থাকে। শহরভিত্তিক দূষণের তালিকায় রাজধানী ঢাকা শহর প্রায়শই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ওপরের দিকে থাকে। 

সেখানে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ুদূষণ বেড়ে চলেছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক মাস ধরে আইকিউএয়ার-এর মতে খুলনার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ২০০-এর ওপরে ছিল। অনেক সময় সেটি ২৫০ এমনকি ২৭৭ পর্যন্তও উঠেছিল। যেখানে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে ৫০-এর ওপরে গেলেই জনজীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে সেখানে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এর পরিমাণ ২০০-এর ওপরে চলে আসছে। তাহলে নির্দ্বিধায় বলা যাচ্ছে যে, গত কয়েক মাসে খুলনার বাতাস পুরোপুরি অস্বাস্থ্যকর ছিল, যেখানে বসবাসরত মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। সচারাচর এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি ঢাকা শহরে দেখা গেলেও এখন তা খুলনা শহরে বেশ দৃশ্যমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে ২০২৭ সালের মধ্যে খুলনাকে একটি স্বাস্থ্যকর শহরে রূপান্তরের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান সময়ে বায়ুদূষণ অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বায়ুদূষণের এই ক্ষতিকর প্রভাব সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। 

শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। এই বায়ুদূষণ মানুষের জীবন-জীবিকার ওপরও মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলছে। এ জন্য যেকোনো উপায়ে খুলনাকে বাসযোগ্য শহর হিসেবে বাঁচিয়ে রাখতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তার জন্য সিটি করপোরেশন, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সব প্রশাসনিক দপ্তরের সমন্বয় অপরিহার্য। খুলনা নগরীর বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ বালুর ব্যবসা। কিছু প্রভাবশালী মহল এই ব্যবসা পরিচালনা করে। রাস্তা দখল করে বালু রাখায় এর ওপর দিয়ে যখন যানবাহন চলাচল করে, তখন বালু উড়ে পথচারীদের শ্বাসনালিতে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। অনেক সময় তা কুয়াশার মতো দেখা যায়। এগুলো নিয়ন্ত্রণে মাঝেমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হলেও নিয়মিত না করার কারণে এ ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয় না। 

 সিটি করপোরেশনের উচিত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ডাস্টবিনের সংখ্যা বাড়ানো এবং ময়লার গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি করা। সর্বোপরিভাবে নগরীর সবটুকু বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ও অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ ছাড়া উন্নয়নকাজের দীর্ঘসূত্রতার ফলে খুলনায় বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক স্থানে রাস্তা, কালভার্ট, ড্রেনেজ প্রকল্পের কাজ মাসের পর মাস বন্ধ থাকায় শহরের রাস্তাগুলো চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়ছে। জনবহুল রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় এতে জমে থাকা ধুলা পরিবেশদূষণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আগে এ ধরনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। যেসব দপ্তরের সমন্বয়হীনতায় কাজ দীর্ঘদিন লেগে যাচ্ছে সেসব দপ্তর এক হয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে।

 পরিশেষে খুলনা শহরকে বসবাসের উপযোগী রাখতে এবং বায়ুদূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে শহরের বাতাসকে দূষণমুক্ত রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য নগরী হিসেবে রেখে যেতে।

রিয়াদ হোসেন : শিক্ষার্থী, সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা

খুঁজুন