শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
মতামত শেখ হাসিনাও কি মাদুরোর মতো বন্দী ..?

শেখ হাসিনাও কি মাদুরোর মতো বন্দী ..?

২০১৪ সালে বাংলাদেশ ভারতের সমুদ্রসীমা নিয়ে যে দ্বন্দ্ব সেই কেইসে বাংলাদেশ জয় লাভ করে ভারতের সাথে। বিরোধপূর্ণ এলাকা ২৫,৬০২ বর্গকিলোমিটার,
বাংলাদেশ পায় ১৯,৪৬৭ বর্গকিলোমিটার, ভারত পায় ৬,১৩৫ বর্গকিলোমিটার।

ভারতের কোন কথাটা সত্যিকারার্থে শেখ হাসিনা শুনেছেন?

চীনের সহায়তায় মোংলা সমুদ্র বন্দরের আধুনিকায়ন করেছে শেখ হাসিনার সরকার। পায়রা সমুদ্র বন্দর তৈরীতে যুক্ত আছে চীনা কোম্পানি।
সোনাদিয়াতেও গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে চীনের প্রস্তাব ছিল।

এক নজরে যদি দেখা হয় তাহলে:

শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে (২০০৯–২০২৪) বাংলাদেশে চীনের অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তায় অসংখ্য বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। চীনের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (BRI)-এর আওতায় এই প্রকল্পগুলো মূলত যোগাযোগ, জ্বালানি এবং অবকাঠামো খাতের আমূল পরিবর্তন এনেছে।

নিচে সম্পন্ন হওয়া এবং বর্তমানে চলমান প্রধান প্রকল্পগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:-

১. সম্পন্ন হওয়া বৃহৎ প্রকল্পসমূহঃ
এই প্রকল্পগুলো ইতিমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে:

১. পদ্মা বহুমুখী সেতু (কারিগরি সহায়তা): যদিও এটি বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি, তবে এর মূল অবকাঠামো নির্মাণ করেছে চীনের 'চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি' (MBEC)।
 
২. পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প (আংশিক): ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত অংশটি ইতিমধ্যে সম্পন্ন ও উদ্বোধন হয়েছে। এটি চীনের অর্থায়নে নির্মিত অন্যতম ব্যয়বহুল প্রকল্প।

৩. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল (কর্ণফুলী টানেল): দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম তলদেশীয় সড়ক টানেল, যা চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত।
 
৪. পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র: এটি বাংলাদেশ-চীন যৌথ বিনিয়োগে (BCPCL) নির্মিত দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

৫. দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার: এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম একক পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প, যা চীনের অর্থায়নে নির্মিত।

৬. বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র (পূর্বাচল): পূর্বাচলে নির্মিত এই অত্যাধুনিক এক্সিবিশন সেন্টারটি চীনের অনুদান ও সহায়তায় তৈরি।

৭. শাহজালাল সার কারখানা: নরসিংদীতে অবস্থিত এই আধুনিক সার কারখানাটি চীনের ঋণে ও প্রযুক্তিতে নির্মিত।

২. বর্তমানে চলমান (বা শেষ পর্যায়ের) প্রকল্পসমূহঃ

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু প্রকল্পের গতিপ্রকৃতি নিয়ে পর্যালোচনা চললেও, নিচের প্রকল্পগুলো বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন:

১. পদ্মা সেতু রেল সংযোগ (বাকি অংশ): ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত রেললাইনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ের দিকে।

২. ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: ঢাকার যানজট নিরসনে ২৪ কিমি দীর্ঘ এই উড়ালপথের কাজ চীনের অর্থায়নে চলমান রয়েছে।

৩. সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (SPM) উইথ ডাবল পাইপলাইন: সমুদ্র থেকে সরাসরি জ্বালানি তেল খালাসের এই মেগা প্রকল্পটি প্রায় শেষের পথে।

৪. রাজশাহী সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট: রাজশাহীবাসীর জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে এই বৃহৎ প্রকল্পটি চলমান।
 
৫. মংলা বন্দর আধুনিকায়ন: মংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি চীনের সাথে বড় ধরনের বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে, যার কাজ শুরু হওয়ার পথে।

৬. তিস্তা মহাপরিকল্পনা (Teesta Mega Plan): নদী খনন ও তীর ব্যবস্থাপনার এই বিশাল প্রকল্পটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চীনের কারিগরি পর্যালোচনার পর এটি শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে ফ্লাইওভার ছাড়াও আরো অন্যান্য অগুনতি উন্নয়ন রয়েছে।

প্রকল্পের প্রভাব ও বর্তমান অবস্থা

শেখ হাসিনার সরকারের আমলে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য সহযোগী এবং অবকাঠামো খাতের প্রধান অর্থায়নকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়। বর্তমান সময়ে (২০২৬) অনেক প্রকল্প নিয়ে ব্যয় ও প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের রিভিউ চলছে, তবে কৌশলগত কারণে বেশিরভাগ বড় অবকাঠামো প্রকল্পই অব্যাহত রয়েছে।

চীন যখন বাংলাদেশের অন্যতম বিনিয়োগকারী সর্বক্ষেত্রে সেই অবস্থা কি সত্যিকারার্থে ভারত বা আমেরিকার ভালো লাগার কোন কারণ আছে?

শেখ হাসিনাকে ভারতের দালাল বলা হয়,সত্য হলো শেখ হাসিনা তার পিতা মত বাংলাদেশ ছাড়া আর কারও দালালী ই করেনি। তার কারণে আমেরিকা ভারতের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছে,বাংলাদেশের চীনের সাথে দহরমমহরমের শাস্তি হিসেবে।

দিন শেষে পৃথিবীতে সব বড় দেশের লক্ষ্য হলো বাণিজ্য-চীনের সাথে সখ্যতায় ভারত যেমন নাখোশ হয়েছে, আমেরিকা তো হয়েছে ই। তাই আমেরিকা এমন বাণিজ্য চুক্তি করেছে দখলে ইউনূস সরকারের মাধ্যমে যেখানে বাংলাদেশ খাদ্যের জন্য পর্যন্ত আমেরিকার উপর নির্ভর করবে এমনকি আয়ের ছাড়া টু শব্দ করতেও আমেরিকা পার্মিশন লাগবে!

শেখ হাসিনাকে সহসা ভারত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সাপেক্ষে বাংলাদেশেও ফিরতে দিবে না,শেখ পরিবারকেও রাজনীতিতে শক্তিশালী কোন অংশীদারীত্বে থাকতে দিবে না-এক্ষেত্রে ভারত ও আমেরিকার মনোভাব একই থাকবে আগামীতে আপাতত এইটুকুই নিশ্চিত করা যেতে পারি। 

খুঁজুন