পলাশ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলনের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে ই আন্দোলনের নেতা সৈয়দ ফয়জুল করিম একটি নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি মুসলমানদের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস নিয়ে কথা বলেছেন, আত্মপরিচয় তুলে ধরেছেন।
ফয়েজ ভাই টিএসসিতে বসে আড্ডা দিয়েছেন, চা খেয়েছেন। অথচ দীর্ঘদিন ঢাবির ক্যাম্পাস ইসলামপন্থীদের জন্য অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ ছিলো। সেখানে ইসলাম চর্চাকে প্রগতিহীনতা, সাম্প্রদায়িক বলে ট্যাগ করা হতো। মুসলিম বলে পরিচয় দেওয়া, ইসলামপন্থী বলে পরিচয় দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। এই পরিবেশ তৈরি করেছিলো- রাজনৈতিক খয়রাতি বাম ছাত্র সংগঠন এবং গণহত্যার দায়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। তাদের পেছনের শক্তি ছিলো- ভারতপন্থী শিক্ষক এবং কুবুদ্ধিজীবীরা।
ইসলাম বিদ্বেষী-খয়রাতি বাম এবং গণহত্যাকারী-নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কখনো ইসলামপন্থীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার সাহস করেনি। তারা পেশি এবং রাষ্ট্র ক্ষমতাকে ব্যবহার করে ইসলামপন্থীদের দমন করতে চেয়েছে, নিষিদ্ধ চেয়েছে। তাদের সন্ত্রাসী এবং আগ্রাসী আচরণে ঢাবিতে ইসলামপন্থীদের জন্য বুক ফুলিয়ে পরিচয় দেয়া, সভা সমাবেশ করা- সর্বোপরি ইসলাম চর্চা করা কঠিন ছিলো।
২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতির বদল হয়। দেশের সর্বত্র ইসলামপন্থীরা অন্যদের মতো স্বাভাবিক এবং দৃশ্যমান কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে।
ঢাবিতে ইসলামপন্থী ছাত্র রাজনীতি করা যাবে না, এই ট্যাবু ৯০ এর পরে- ২০১৯ সালে প্রথম ভাঙ্গে ছাত্র আন্দোলন এবং ২৫ শে ভাঙলেন সৈয়দ ফয়জুল করিম।
আমি মনোযোগ দিয়ে ফয়েজ ভাইর পুরো বক্তব্যটা শুনেছি। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, উপমহাদেশের ইতিহাসে মুসলমানদের অবদান কতো বিশাল ছিলো। ভারত ভেঙ্গে পাকিস্তান, পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে- নেয়ামক শক্তি ছিলো মুসলমানরা। উপমহাদেশের ইতিহাসে মুসলমানরা ছিলো সবচেয়ে ভালো শাসক। ২৪ সহ সকল ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনে, সংগ্রামে মুসলমানদের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিলো। অথচ বাংলাদেশে শিক্ষিত মুসলমানদের বড় একটা অংশ নিজেদের পরিচয় দিতে সংকোচ বোধ করে। "আল্লাহু আকবার" স্লোগান দিতে লজ্জা পায়। মুসলিম পরিচয় বুক ফুলিয়ে বলতে দ্বিধা করে। এই পরিচয় সংকট থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ফয়েজ ভাই বলেন, মুসলমানরা সম্প্রদায় কিন্তু সাম্প্রদায়িক নয়।
নিঃসন্দেহে ফয়েজ ভাইর বক্তব্য সময়োপযোগী ও চিন্তার খোরাক জোগায়। কিন্তু একজন জাতীয় নেতা হিসেবে আরও বিস্তৃত ও জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত ছিলো। বিশেষ করে শিক্ষা বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি, যা খানিকটা বিস্ময়কর মনে হয়েছে।
ফ্যাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষা সিলেবাস যুগোপযোগী করা হয়নি। শিক্ষার মান নষ্ট করা হয়েছে। শিক্ষা থেকে ইসলামের আদর্শ তুলে দিয়ে- আবর্জনায় পূর্ণ করা হয়েছে। ইউনুস সরকারও শিক্ষা সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। অথচ এটা সবার আগে দরকার ছিলো। জাতিকে আদর্শিকভাবে শিক্ষিত করে তুলতে না পারলে- কোনো সংস্কার টেকসই হবে না। দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার এবং গবেষণার সঠিক পরিবেশ নেই। দলীয় বিবেচনার বাইরে যোগ্য মানের শিক্ষকের অভাব। হলগুলো দখল ও নির্যাতনের কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে। নির্বাচন না দিয়ে ছাত্র সংসদগুলো অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। ছাত্রদের জন্য আদর্শ চর্চার পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
এসব বিষয়ে ফয়েজ ভাই কোনো কথা বলেননি। জাতীয় রাজনীতি ও চলমান সংকট নিয়ে কোনো কথা বলেননি, যা প্রত্যাশিত ছিলো।শাহ ইফতেখার তারিকও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। তিনি মূলত রাসূল সা.-এর আদর্শ চর্চার আহ্বানে সীমাবদ্ধ থেকেছেন। যদিও সেটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দেশের বাস্তব সংকট ও শিক্ষাক্ষেত্রে ভাঙনের প্রসঙ্গ উপেক্ষা করা জাতীয় রাজনীতির পরিচয় নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সত্যিকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংকট, প্রশাসনিক সংকট এবং ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করা দরকার ছিলো। ডাকসু নির্বাচন ও ছাত্র সংসদের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলা দরকার ছিলো।
এসব বিষয়ে ফয়েজ ভাই কোনো কথা বলেননি। জাতীয় রাজনীতি ও চলমান সংকট নিয়ে কোনো কথা বলেননি, যা প্রত্যাশিত ছিলো।শাহ ইফতেখার তারিকও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। তিনি মূলত রাসূল সা.-এর আদর্শ চর্চার আহ্বানে সীমাবদ্ধ থেকেছেন। যদিও সেটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দেশের বাস্তব সংকট ও শিক্ষাক্ষেত্রে ভাঙনের প্রসঙ্গ উপেক্ষা করা জাতীয় রাজনীতির পরিচয় নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সত্যিকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংকট, প্রশাসনিক সংকট এবং ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করা দরকার ছিলো। ডাকসু নির্বাচন ও ছাত্র সংসদের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলা দরকার ছিলো।
ফয়েজ ভাই ডাকসু নির্বাচনে ছাত্র আন্দোলনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন, যার কোনো দরকার ছিলো না। উনার জায়গা থেকে ঘোষণাটি মানানসই হয়নি।