ঘুষের সাথে সুদকে মেলানো যাবে না। কারণ, ঘুষ অপরাধ; সুদ কোনো অপরাধ নয়। সুদ ব্যাংকিং অর্থনীতির অঙ্গ। তাই আমি ইউনুসের সুদ ব্যবসা নিয়ে আপত্তি করি না। এটার সাথে আমার ধর্মীয় অনুভূতির কোনো ব্যাপার নেই। কিন্তু যাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে এই ব্যাপারটা যায় না, যারা সরাসরি ইসলামের ভিত্তিতে রাজনীতি করে, তারা কিভাবে সুদ ব্যবসায়ী ড. ইউনুসকে আমির বা খলিফা মানল?
আমি জামায়াতে ইসলামি, ইসলামি আন্দোলন, খেলাফত, হেফাজত, বিএনপি—এইসব সংগঠনের কথা বলছি। ইউনুসের খেলাফতে এদের অসন্তোষ নেই। যদিও পেছনে আমেরিকার খেলাফত—মাঠের শক্তি বিএনপি, জামাত, হেফাজতসহ সব ইসলামের সৈনিক।
ইউনুসকে শুধুই কি খলিফা বা আমির মেনেছে? তাকে তো এরা সরাসরি নবী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে! বলেছে, "আল্লাহ পৃথিবীতে যেভাবে নবী পাঠায়, ঠিক সেইভাবে ইউনুসকে পাঠিয়েছে।" সুস্পষ্টভাবে ওরা একথা বলেছে। এ বিষয়ে একজন প্রখ্যাত মওলানার একাধিক ভিডিও আমি দেখেছি।
বিশিষ্ট আলেম মুফতি কাজী ইব্রাহীমের কথা বলছি। দ্বীনের খেদমতে নিবেদিত সেনাপতি কাজী ইব্রাহীমের সে বয়ান ইসলামের সৈনিকরা গ্রহণ করেছে। কোনো দল আপত্তি করেনি। কাজী ইব্রাহীম অনেকবার আলেমদের সমাবেশে প্রকাশ্যে ফতোয়া দিয়েছেন, "ইউনুসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা বা তাকে সরানোর চেষ্টা করা নাজায়েজ হবে। সেটা সরাসরি আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ। কারণ নবী যেভাবে আসে, আল্লাহ সেই সিস্টেমে ইউনুসকে পাঠিয়েছে।"
সমস্যা হল, আল্লাহ এত লোক থাকতে একজন সুদ ব্যবসায়ীকে কেন নবী হিসেবে পাঠাল? তবে তার কাছেও কি সুদ এখন আর অপরাধ নয়? কথাগুলো আমি বললে আমার অনেক ভাই-বন্ধু ক্ষিপ্ত হয়, আর মুফতি ইব্রাহীমরা বললে মেনে নেয়।
আমি আবারও বলছি, ঘুষ আর সুদ এক জিনিস নয়। ঘুষ অপরাধ, সুদ ব্যাংকিং অর্থনীতির স্বাভাবিক অংশ। এটাতে আমার ধর্ম যায় না। তাই সুদের কারণে ইউনুস আমার কাছে অপাংক্তেয় নন। ইউনুসকে আমি খারাপ মনে করি, তার কারণ সুদ নয়। ভণ্ডামি না করে জামায়াতের শফিকুর রহমান এই সহজ সত্য কথা বলতে পারবেন? বলুক দেখি, সুদ ব্যবসার কারণে ইউনুস তার দলের কাছে গ্রহণযোগ্য!
সুদের ব্যবসার সাথে ইউনুস শেষতক যুক্ত করে গেছেন শূকরের মাংসের ব্যবসা। 'সোশ্যাল বিজনেস' তত্ত্বের জনক ইউনুস কম পয়সায় আমেরিকা থেকে শুয়োরের গোস্তো আমদানির বন্দোবস্ত করেছেন। শূকরের মাংসের "সামাজিক বাণিজ্যে" তিনি কি বিফল হয়েছেন? জামায়াতে ইসলামী তো তার শূকরের মাংস আমদানির চুক্তি মেনে নিয়েছে। তার এনসিপির পোলা-মাইয়ারাও মেনে নিয়েছে। বিএনপিও এটা মেনে নিয়েছে। সংসদে এক বান্দাও ব্যাপারটায় আপত্তি করল না!
আসলে ইউনুস তো তাদেরকে বাদ দিয়ে চুক্তি করেননি। তাদেরকে বিদেশি গোস্তো খাইয়ে আরও পুষ্ট করার জন্য এই বিশাল চুক্তি করেছেন। তার বাণিজ্য আইডিয়া অভিনব! তিনি যেভাবে জামায়াতে ইসলামীর পুষ্টি বর্ধনে কাজ করেছেন, নানাপদের মববাজ তৌহিদি জনতাকে পুষ্ট করেছেন—সেভাবে বিএনপিকেও খাইয়ে পুষ্ট করতে চেয়েছেন। পেলে কে না খায়? সস্তায় শূকরের মাংস বাজারে ছাড়লে তার অনুসারীরা লুফে নেবে—এটা হয়তো তিনি জানতেন। তার অনুসারীদের আমিষ দরকার, পুষ্টি দরকার। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ যা খায় তার স্বাদ থেকে তিনি তার অনুসারীদের বঞ্চিত করতে চান না। তার কাজকে জায়েজ করার জন্য কাজী ইব্রাহীমের মতো বিশিষ্ট উম্মতদের বয়ান রেডি থাকে।
সুদের মতো শূকরের মাংসও আমার কাছে হারাম নয়। সুতরাং এই গোস্তো আমদানির চুক্তি করার কারণে ইউনুসের প্রতি আমার রাগ নেই। আমার রাগ সামগ্রিক। আমি চুক্তিটির ভয়াবহতা জানি, পরিণাম জানি, দেশের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জানি। তাই বাংলার গাদ্দারটার প্রায় সকল ব্যাপারে আমার চূড়ান্ত আপত্তি আছে।
রাজনীতিতে বিদেশিদের পোষা কুকুরগুলো শূকরের হাড্ডির লোভে দেশটার প্রচণ্ড ক্ষতি করে দিয়েছে! গরিবের শ্রমে-ঘামে গড়া এই দেশটা আপন মেরুদণ্ডের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ানো এখন কঠিন। স্বার্থপর রাজনীতিকরা মাংস আর হাড়ের বাইরে কিছু বোঝে না। শুধু নিজেদের পুষ্টি বোঝে—মানুষ বোঝে না। মানুষের বড় ক্ষতি করেছে, করছে। এদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে সাধারণ মানুষকেই জাগতে হবে। জয় মানুষ।
শূকরের মাংসও আমদানির চুক্তি করে গেছেন ইউনূস
শূকরের মাংসও আমদানির চুক্তি করে গেছেন ইউনূস
ঘুষের সাথে সুদকে মেলানো যাবে না। কারণ, ঘুষ অপরাধ; সুদ কোনো অপরাধ নয়। সুদ ব্যাংকিং অর্থনীতির অঙ্গ। তাই আমি ইউনুসের সুদ ব্যবসা নিয়ে আপত্তি করি না। এটার সাথে আমার ধর্মীয় অনুভূতির কোনো ব্যাপার নেই। কিন্তু যাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে এই ব্যাপারটা যায় না, যারা সরাসরি ইসলামের ভিত্তিতে রাজনীতি করে, তারা কিভাবে সুদ ব্যবসায়ী ড. ইউনুসকে আমির বা খলিফা মানল?আমি জামায়াতে ইসলামি, ইসলামি আন্দোলন, খেলাফত, হেফাজত, বিএনপি—এইসব সংগঠনের কথা বলছি। ইউনুসের খেলাফতে এদের অসন্তোষ নেই। যদিও পেছনে আমেরিকার খেলাফত—মাঠের শক্তি বিএনপি, জামাত, হেফাজতসহ সব ইসলামের সৈনিক।ইউনুসকে শুধুই কি খলিফা বা আমির মেনেছে? তাকে তো এরা সরাসরি নবী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে! বলেছে, "আল্লাহ পৃথিবীতে যেভাবে নবী পাঠায়, ঠিক সেইভাবে ইউনুসকে পাঠিয়েছে।" সুস্পষ্টভাবে ওরা একথা বলেছে। এ বিষয়ে একজন প্রখ্যাত মওলানার একাধিক ভিডিও আমি দেখেছি। বিশিষ্ট আলেম মুফতি কাজী ইব্রাহীমের কথা বলছি। দ্বীনের খেদমতে নিবেদিত সেনাপতি কাজী ইব্রাহীমের সে বয়ান ইসলামের সৈনিকরা গ্রহণ করেছে। কোনো দল আপত্তি করেনি। কাজী ইব্রাহীম অনেকবার আলেমদের সমাবেশে প্রকাশ্যে ফতোয়া দিয়েছেন, "ইউনুসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা বা তাকে সরানোর চেষ্টা করা নাজায়েজ হবে। সেটা সরাসরি আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ। কারণ নবী যেভাবে আসে, আল্লাহ সেই সিস্টেমে ইউনুসকে পাঠিয়েছে।" সমস্যা
হল, আল্লাহ এত লোক থাকতে একজন সুদ ব্যবসায়ীকে কেন নবী হিসেবে পাঠাল? তবে তার কাছেও কি সুদ এখন আর অপরাধ নয়? কথাগুলো আমি বললে আমার অনেক ভাই-বন্ধু ক্ষিপ্ত হয়, আর মুফতি ইব্রাহীমরা বললে মেনে নেয়। আমি আবারও বলছি, ঘুষ আর সুদ এক জিনিস নয়। ঘুষ অপরাধ, সুদ ব্যাংকিং অর্থনীতির স্বাভাবিক অংশ। এটাতে আমার ধর্ম যায় না। তাই সুদের কারণে ইউনুস আমার কাছে অপাংক্তেয় নন। ইউনুসকে আমি খারাপ মনে করি, তার কারণ সুদ নয়। ভণ্ডামি না করে জামায়াতের শফিকুর রহমান এই সহজ সত্য কথা বলতে পারবেন? বলুক দেখি, সুদ ব্যবসার কারণে ইউনুস তার দলের কাছে গ্রহণযোগ্য! সুদের ব্যবসার সাথে ইউনুস শেষতক যুক্ত করে গেছেন শূকরের মাংসের ব্যবসা। 'সোশ্যাল বিজনেস' তত্ত্বের জনক ইউনুস কম পয়সায় আমেরিকা থেকে শুয়োরের গোস্তো আমদানির বন্দোবস্ত করেছেন। শূকরের মাংসের "সামাজিক বাণিজ্যে" তিনি কি বিফল হয়েছেন? জামায়াতে ইসলামী তো তার শূকরের মাংস আমদানির চুক্তি মেনে নিয়েছে। তার এনসিপির পোলা-মাইয়ারাও মেনে নিয়েছে। বিএনপিও এটা মেনে নিয়েছে। সংসদে এক বান্দাও ব্যাপারটায় আপত্তি করল না!আসলে ইউনুস তো তাদেরকে বাদ দিয়ে চুক্তি করেননি। তাদেরকে বিদেশি গোস্তো খাইয়ে আরও পুষ্ট করার জন্য এই বিশাল চুক্তি করেছেন। তার বাণিজ্য আইডিয়া অভিনব! তিনি যেভাবে
জামায়াতে ইসলামীর পুষ্টি বর্ধনে কাজ করেছেন, নানাপদের মববাজ তৌহিদি জনতাকে পুষ্ট করেছেন—সেভাবে বিএনপিকেও খাইয়ে পুষ্ট করতে চেয়েছেন। পেলে কে না খায়? সস্তায় শূকরের মাংস বাজারে ছাড়লে তার অনুসারীরা লুফে নেবে—এটা হয়তো তিনি জানতেন। তার অনুসারীদের আমিষ দরকার, পুষ্টি দরকার। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ যা খায় তার স্বাদ থেকে তিনি তার অনুসারীদের বঞ্চিত করতে চান না। তার কাজকে জায়েজ করার জন্য কাজী ইব্রাহীমের মতো বিশিষ্ট উম্মতদের বয়ান রেডি থাকে।সুদের মতো শূকরের মাংসও আমার কাছে হারাম নয়। সুতরাং এই গোস্তো আমদানির চুক্তি করার কারণে ইউনুসের প্রতি আমার রাগ নেই। আমার রাগ সামগ্রিক। আমি চুক্তিটির ভয়াবহতা জানি, পরিণাম জানি, দেশের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জানি। তাই বাংলার গাদ্দারটার প্রায় সকল ব্যাপারে আমার চূড়ান্ত আপত্তি আছে। রাজনীতিতে বিদেশিদের পোষা কুকুরগুলো শূকরের হাড্ডির লোভে দেশটার প্রচণ্ড ক্ষতি করে দিয়েছে! গরিবের শ্রমে-ঘামে গড়া এই দেশটা আপন মেরুদণ্ডের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ানো এখন কঠিন। স্বার্থপর রাজনীতিকরা মাংস আর হাড়ের বাইরে কিছু বোঝে না। শুধু নিজেদের পুষ্টি বোঝে—মানুষ বোঝে না। মানুষের বড় ক্ষতি করেছে, করছে। এদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে সাধারণ মানুষকেই জাগতে হবে। জয় মানুষ।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত