বাংলার ইতিহাসে ২৬ মার্চ এক অনির্বাণ আলোর নাম, এক অমলিন গৌরবের দিন। মহান স্বাধীনতা দিবস শুধু একটি তারিখ নয়—এটি বাঙালির অস্তিত্ব, আত্মমর্যাদা এবং অদম্য সংগ্রামের প্রতীক। ১৯৭১ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোতে লাখো মানুষের রক্ত, অশ্রু ও ত্যাগের বিনিময়ে জন্ম নিয়েছিল আমাদের প্রিয় স্বাধীন বাংলাদেশ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, প্রায় ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান এবং অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আজও আমাদের হৃদয়ে গভীর আবেগ জাগায়, গর্বে বুক ভরে ওঠে।
স্বাধীনতার এত বছর পরও ২৬ মার্চ এলেই মনে পড়ে সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোর কথা—স্বপ্ন, বেদনা এবং বিজয়ের এক অবিনাশী কাহিনি। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মনে জাগে এক গভীর প্রশ্ন—আমরা কি সত্যিই সেই স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে পেরেছি? স্বাধীনতার চেতনা কতটা ধারণ করতে পেরেছি আমাদের চিন্তা, মূল্যবোধ ও কর্মে?
এই প্রশ্ন, আবেগ ও প্রত্যাশা নিয়েই মহান স্বাধীনতা দিবসে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অনুভূতি, ভাবনা ও স্বপ্ন তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে ফুটে উঠেছে একদিকে ইতিহাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, অন্যদিকে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়। দিবসটি উপলক্ষে মাভাবিপ্রবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে তাদের ভাবনা তুলে ধরেছেন ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মো. হৃদয় হোসাইন।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবু হাঞ্জালা মেরিন বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় অধ্যায়। এ দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, বরং বাংলাদেশি মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং স্বপ্নের প্রতীক। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য আরও গভীর ও বহুমাত্রিক।
অনেক শিক্ষার্থীর মতে, স্বাধীনতা মানে শুধু ভৌগোলিক সীমানার মুক্তি নয়, বরং চিন্তা, মতপ্রকাশ ও শিক্ষার স্বাধীনতা। তারা মনে করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যে বীজ, তা বোনা হয়েছিল ১৯৭১ সালের অনেক আগেই। এই ভূমির মানুষ চিরকালই স্বাধীনচেতা। তবে পলাশীর প্রান্তরে যে পরাজয় ঘটেছিল, তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়—সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
তাদের মতে, বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা অর্জন এবং পরবর্তীতে স্বৈরাচারের পতনের মাধ্যমে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা—এসবই স্বাধীনতার ধারাবাহিক সংগ্রামের অংশ। তবে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ এই সংগ্রাম পূর্ণতা পায় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের দিকে অগ্রযাত্রার মাধ্যমে।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশকে ধারণ করতে হলে ১৯৭১-কে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ইতিহাসকে বিকৃত বা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত না করার দিকেও সচেতন থাকতে হবে। পলাশী থেকে শুরু করে ১৯৪৭, ১৯৪৮-৭০, ১৯৭১ এবং পরবর্তী সময়—প্রতিটি অধ্যায়ের আত্মত্যাগকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
এফটিএনএস বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান উর্মি বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতির ইতিহাসে এক গৌরবময় ও আবেগঘন অধ্যায়। এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেই সব শহীদদের, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে স্বাধীনতা দিবস শুধু উদযাপনের বিষয় নয়, বরং এর চেতনাকে ধারণ ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—সাম্য, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ—আমাদের চিন্তা ও কাজে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। আজকের তরুণ সমাজই দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি। তাই জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ রাজন বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতির জন্য এক গৌরবময় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনে আমরা স্মরণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ।
তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা শুধু ইতিহাস জানতেই চায় না, বরং সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে। তারা একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চায়, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি—এসবই তাদের প্রধান প্রত্যাশা।
ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আরাবিয়া সুলতানা প্রীতি বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতির গৌরবের দিন। এই দিনটি শুধু আনন্দের নয়, বরং ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করার দিন।
তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে এই স্বাধীনতা তাকে সমান অধিকার ও স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো দেশকে ভালোবাসা এবং সৎ নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান ইমন বলেন, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রথমত তার চাওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—যেখানে সবাই সবার মতামতকে সম্মান করবে এবং মতের ভিন্নতার কারণে কেউ কাউকে আক্রমণ বা হেয় করবে না।
তিনি আরও বলেন, অতীতের দলীয়করণ নীতির পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। যাতে সবাই নিজ নিজ যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রুবেল মিয়া বলেন,স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতির গৌরবের প্রতীক। এ দিনে শিক্ষার্থীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও বীরত্ব। তাদের মনে জাগে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং দেশের জন্য কিছু করার অঙ্গীকার। শিক্ষার্থীদের ভাবনায় স্বাধীনতা মানে শুধু রাজনৈতিক মুক্তি নয়, বরং দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও উন্নত একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
তাদের প্রত্যাশা—মানসম্মত শিক্ষা, সবার জন্য সমান সুযোগ, প্রযুক্তিতে অগ্রগতি এবং নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ সমাজ। তারা চায় এমন একটি দেশ, যেখানে সত্য ও ন্যায়ের জয় হবে, এবং তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতা যথাযথ মূল্যায়ন পাবে।
স্বাধীনতার এই চেতনা ধারণ করে শিক্ষার্থীরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
শিক্ষার্থীদের এসব ভাবনা ও প্রত্যাশা প্রমাণ করে, স্বাধীনতার চেতনা শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি নতুন প্রজন্মের চিন্তা, স্বপ্ন ও দায়িত্ববোধের মধ্যেও গভীরভাবে প্রোথিত। তাদের প্রত্যাশা—একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, যেখানে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ প্রতিফলিত হবে প্রতিটি মানুষের জীবনে।
মহান স্বাধীনতা দিবসে নতুন প্রজন্মের এই অঙ্গীকারই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
স্বাধীনতার এত বছর পরও ২৬ মার্চ এলেই মনে পড়ে সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোর কথা—স্বপ্ন, বেদনা এবং বিজয়ের এক অবিনাশী কাহিনি। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মনে জাগে এক গভীর প্রশ্ন—আমরা কি সত্যিই সেই স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে পেরেছি? স্বাধীনতার চেতনা কতটা ধারণ করতে পেরেছি আমাদের চিন্তা, মূল্যবোধ ও কর্মে?
এই প্রশ্ন, আবেগ ও প্রত্যাশা নিয়েই মহান স্বাধীনতা দিবসে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অনুভূতি, ভাবনা ও স্বপ্ন তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে ফুটে উঠেছে একদিকে ইতিহাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, অন্যদিকে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়। দিবসটি উপলক্ষে মাভাবিপ্রবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে তাদের ভাবনা তুলে ধরেছেন ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মো. হৃদয় হোসাইন।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবু হাঞ্জালা মেরিন বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় অধ্যায়। এ দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, বরং বাংলাদেশি মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং স্বপ্নের প্রতীক। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য আরও গভীর ও বহুমাত্রিক।
অনেক শিক্ষার্থীর মতে, স্বাধীনতা মানে শুধু ভৌগোলিক সীমানার মুক্তি নয়, বরং চিন্তা, মতপ্রকাশ ও শিক্ষার স্বাধীনতা। তারা মনে করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যে বীজ, তা বোনা হয়েছিল ১৯৭১ সালের অনেক আগেই। এই ভূমির মানুষ চিরকালই স্বাধীনচেতা। তবে পলাশীর প্রান্তরে যে পরাজয় ঘটেছিল, তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়—সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
তাদের মতে, বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা অর্জন এবং পরবর্তীতে স্বৈরাচারের পতনের মাধ্যমে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা—এসবই স্বাধীনতার ধারাবাহিক সংগ্রামের অংশ। তবে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ এই সংগ্রাম পূর্ণতা পায় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের দিকে অগ্রযাত্রার মাধ্যমে।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশকে ধারণ করতে হলে ১৯৭১-কে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ইতিহাসকে বিকৃত বা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত না করার দিকেও সচেতন থাকতে হবে। পলাশী থেকে শুরু করে ১৯৪৭, ১৯৪৮-৭০, ১৯৭১ এবং পরবর্তী সময়—প্রতিটি অধ্যায়ের আত্মত্যাগকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
এফটিএনএস বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান উর্মি বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতির ইতিহাসে এক গৌরবময় ও আবেগঘন অধ্যায়। এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেই সব শহীদদের, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে স্বাধীনতা দিবস শুধু উদযাপনের বিষয় নয়, বরং এর চেতনাকে ধারণ ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—সাম্য, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ—আমাদের চিন্তা ও কাজে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। আজকের তরুণ সমাজই দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি। তাই জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ রাজন বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতির জন্য এক গৌরবময় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনে আমরা স্মরণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ।
তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা শুধু ইতিহাস জানতেই চায় না, বরং সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে। তারা একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চায়, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি—এসবই তাদের প্রধান প্রত্যাশা।
ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আরাবিয়া সুলতানা প্রীতি বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতির গৌরবের দিন। এই দিনটি শুধু আনন্দের নয়, বরং ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করার দিন।
তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে এই স্বাধীনতা তাকে সমান অধিকার ও স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো দেশকে ভালোবাসা এবং সৎ নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান ইমন বলেন, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রথমত তার চাওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—যেখানে সবাই সবার মতামতকে সম্মান করবে এবং মতের ভিন্নতার কারণে কেউ কাউকে আক্রমণ বা হেয় করবে না।
তিনি আরও বলেন, অতীতের দলীয়করণ নীতির পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। যাতে সবাই নিজ নিজ যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রুবেল মিয়া বলেন,স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতির গৌরবের প্রতীক। এ দিনে শিক্ষার্থীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও বীরত্ব। তাদের মনে জাগে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং দেশের জন্য কিছু করার অঙ্গীকার। শিক্ষার্থীদের ভাবনায় স্বাধীনতা মানে শুধু রাজনৈতিক মুক্তি নয়, বরং দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও উন্নত একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
তাদের প্রত্যাশা—মানসম্মত শিক্ষা, সবার জন্য সমান সুযোগ, প্রযুক্তিতে অগ্রগতি এবং নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ সমাজ। তারা চায় এমন একটি দেশ, যেখানে সত্য ও ন্যায়ের জয় হবে, এবং তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতা যথাযথ মূল্যায়ন পাবে।
স্বাধীনতার এই চেতনা ধারণ করে শিক্ষার্থীরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
শিক্ষার্থীদের এসব ভাবনা ও প্রত্যাশা প্রমাণ করে, স্বাধীনতার চেতনা শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি নতুন প্রজন্মের চিন্তা, স্বপ্ন ও দায়িত্ববোধের মধ্যেও গভীরভাবে প্রোথিত। তাদের প্রত্যাশা—একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, যেখানে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ প্রতিফলিত হবে প্রতিটি মানুষের জীবনে।
মহান স্বাধীনতা দিবসে নতুন প্রজন্মের এই অঙ্গীকারই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।