Logo
শিরোনাম

ছাত্রের হাতে শিক্ষক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল সাভার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

ছাত্রের অতর্কিত হামলা ও আঘাতে শিক্ষক উৎপলের মৃত্যুর পর অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে এই দাবিতে সাভার উপজেলার শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ও জামগড়ার চিত্রশাইল এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) সকালে আশুলিয়ায় বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। একইদিন দুপুরে সাভার উপজেলার শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ।

নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার এলংজানি দত্তপাড়া গ্রামের মৃত অজিত সরকারের ছেলে। তিনি ২০১৩ সালে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার।

অভিযুক্ত বখাটে ছাত্র চিত্রশালাই এলাকার উজ্জ্বল হাজীর ছেলে বিদ্যালয়টির দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মালিক হাজী হযরত আলীর ভাগিনার ছেলে ওই ছাত্র। ঘটনার পর স্থানীয়দের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যায় বখাটে ছাত্র।

মানববন্ধনে সাভার উপজেলা কিন্ডারগার্টেন ফেডারেশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, হত্যাকান্ডের আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানাই।

অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন পিটার গমেজ তার বক্তব্যে বলেন, ‘বখাটে ওই ছাত্রকে আমরা কুলাঙ্গার হিসেবে আখ্যায়িত করছি। তার স্ট্যাম্পের আঘাতে শিক্ষক উৎপলের মৃত্যু হয়েছে। মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলম সাজুসহ প্রমুখ।

চিত্রশাইল এলাকায় হাজী ইউনুস আলী কলেজ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা সারা দিন এই কর্মসূচি পালন করব। স্থানীয় অন্যান্য স্কুল এবং কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে তাদের আমাদের সঙ্গে সামিল করব। যতক্ষণ পর্যন্ত ন্যায় বিচার এবং দাবি পূরণ না হবে ততক্ষণ আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

তাদের দাবিগুলো হলো- অনতি বিলম্বে ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে হবে, হত্যাকারীর সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, হত্যাকারীর বাবা ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে হবে, নিহতের পরিবারকে সর্বোচ্চ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ভেদাভেদ নির্মূলে সাধারণ সর্বজনীন আইন প্রণয়ন করতে হবে, পুরো এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং মুছে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিক্ষোভ মিছিলকে বেগবান করতে হবে।

উল্লেখ্য- শনিবার (২৫ জুন) দুপুরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে শিক্ষক উৎপল কুমারের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে একই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণীর এক ছাত্র। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৭ জুন) ভোরে শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার মারা যান। রবিবার (২৬ জুন) আশুলিয়া থানায় নিহত শিক্ষকের ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।


আরও খবর



ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জনের মধ্যেই মানচেস্টারে ফিরলেন রোনালদো

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

পারিবারিক ব্যস্ততা কাটিয়ে অবশেষে ইংল্যান্ডে ফিরে এসেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শোনা যাচ্ছে, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে কথা বলতেই তার ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফেরা।

নতুন কোচ এরিক টেন হাগের অধীনে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ বা অনুশীলন করেননি পর্তুগিজ সুপারস্টার। এমনকি দলটির প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে যাননি তিনি। সোমবার (২৫ জুলাই) ৩৭ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার মানচেস্টারে ফিরেছেন।

যদিও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষের মতে, এখন পর্যন্ত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বিক্রির জন্য নয়। ২০২২-২০২৩ মৌসুমের পরিকল্পনায় তিনি বেশ ভালোভাবেই আছেন। তবে এটা এখনো অজানা যে, তিনি রেড ডেভিলসদের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার অনুশীলন করবেন কিনা। এরিক টেন হাগের সঙ্গেও কথা বলবেন সিআরসেভেন।

এদিকে, রোনালদোর ম্যানচেস্টারে ফেরাকে ক্লাব কর্তৃপক্ষ ভালো লক্ষ্মণ হিসেবেই দেখছে। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কা জানিয়েছে, ওল্ড ট্রাফোর্ডে রোনালদোর থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা জোড়ালো হচ্ছে।


আরও খবর

এশিয়া কাপের দল ঘোষণা ভারতের

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




অলিখিত ফাইনাল: মোসাদ্দেকের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ আগস্ট 2০২2 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

ক্যারিয়ারে এর চেয়ে ভালো উপহার আর কী হতে পারে? মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ম্যাচ জেতানোর পর যেন উপহার হিসেবে পেলেন অধিনায়কত্বের দায়িত্ব! দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে জয় উপহার দেওয়ার নায়ক মোসাদ্দেক আজ শেষ ম্যাচে নেতৃত্ব দেবেন টাইগারদের। তিনি বাংলাদেশের নবম টি-২০ অধিনায়ক। এর আগে টি-২০ ক্রিকেটে টাইগারদের নেতৃত্ব দিয়েছেন শাহরিয়ার নাফিস, মোহাম্মদ আশরাফুল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস ও নুরুল হাসান সোহান। 

সৈকতের নেতৃত্বে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ। সিরিজে দুই ম্যাচ শেষে সমতা ১-১ এ। এই ম্যাচটি তাই দুই দলের জন্যই ফাইনাল। প্রথম ম্যাচে ১৭ রানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দাপুটে জয়ে বাংলাদেশ সমতা ফেরায়, এবার চ্যালেঞ্জ সিরিজ জয়ের।

বাংলাদেশের বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড সোমবার বলছেন সেরাটা দিতে হবে এই ম্যাচে, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে পারফরম্যান্স খারাপ করার কারণে কখনোই দোষ দেইনি বা ধরি না। গুরুত্বপূর্ণ হলো ওই অবস্থা থেকেই কীভাবে আপনি ফিরে আসেন? যেটা আমরা গত ম্যাচে করে দেখিয়েছি। তো আগামীকাল (আজ) ফাইনাল, আমাদের আবারও সেরাটা দিতে হবে।'

'আমরা যেভাবে দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট করেছি এবং সঠিকভাবে প্রমাণ করেছি যে গত ম্যাচটি পরিশ্রম দিয়ে আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। তো শেষ ম্যাচটি ফাইনাল, প্রথম ম্যাচে যে পিচে হয়েছে সেখানেই হবে। আমরা এই ম্যাচের অপেক্ষায় আছি'- আরও যোগ করেন ডোনাল্ড।


আরও খবর

এশিয়া কাপের দল ঘোষণা ভারতের

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




ইতিহাসের এক জ্বলন্ত সাক্ষী মহররম মাস

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

মাহমুদুল হক আনসারী : চার সম্মানিত মাসের প্রথম মাস মহররম, যাকে আরবের অন্ধকার যুগেও বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখা হতো। আবার হিজরি সনের প্রথম মাসও মহররম। শরিয়তের দৃষ্টিতে যেমন এ মাস অনেক তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি এই মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণও অনেক দীর্ঘ। আমরা দেখতে পাই, ইতিহাসের এক জ্বলন্ত সাক্ষী মহররম মাস। ইসলামের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাত হয় এ মাসে। শুধু উম্মতে মুহাম্মদিই নয়, বরং পূর্ববর্তী অনেক উম্মত ও নবীদের অবিস্মরণীয় ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল এই মাসে।

নামকরণ থেকেই প্রতীয়মান হয় এ মাসের ফজিলত। মহররম অর্থ মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ। যেহেতু অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এ মাস ঘিরে, সঙ্গে সঙ্গে এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল, এসব কারণেই এ মাস মর্যাদাপূর্ণ। তাই এ মাসের নামকরণ করা হয়েছে মহররম বা মর্যাদাপূর্ণ মাস। মহররম সম্পর্কে (যা আশহুরে হুরুমের অন্তর্ভুক্ত তথা নিষিদ্ধ মাস) পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা ১২। যেদিন থেকে তিনি সব আসমান ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে চারটি হলো সম্মানিত মাস। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর সম্মান বিনষ্ট করে নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না’- (সূরা তওবা : ৩৬)। অর্থাৎ সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে আল্লাহতায়ালা ১২টি মাস নির্ধারণ করে দেন। তন্মধ্যে চারটি মাস বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে। ওই চারটি মাস কী কী? এর বিস্তারিত বর্ণনা হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হাদিসে উল্লিখিত হয়েছে, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘এক বছরে ১২ মাস। এরমধ্যে চার মাস বিশেষ তাৎপর্যের অধিকারী। এরমধ্যে তিন মাস ধারাবাহিকভাবে (অর্থাৎ জিলকদ, জিলহজ ও মহররম) এবং চতুর্থ মাস মুজর গোত্রের রজব মাস’- (সহিহ বোখারি : ৪৬৬২ ও মুসলিম : ১৬৭৯)।

মহররম মাস সম্মানিত হওয়ার মধ্যে বিশেষ একটি কারণ হচ্ছে আশুরা (মহররমের ১০ তারিখ)। এ বসুন্ধরার ঊষালগ্ন থেকে আশুরার দিনে সংঘটিত হয়েছে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ও হৃদয়বিদারক কাহিনি। অনেকেই না বুঝে অথবা ভ্রান্ত প্ররোচনায় পড়ে আশুরার ঐতিহ্য বলতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয়তম দৌহিত্র, জান্নাতের যুবকদের সরদার হজরত হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত ও নবী পরিবারের কয়েকজন সম্মানিত সদস্যের রক্তে রঞ্জিত কারবালার ইতিহাসকেই বুঝে থাকে। তাদের অবস্থা ও কার্যাদি অবলোকন করে মনে হয়, কারবালার ইতিহাস ঘিরেই আশুরার সব ঐতিহ্য, এতেই রয়েছে আশুরার সব রহস্য। আসলে বাস্তবতা কিন্তু এর সম্পূর্ণ বিপরীত। বরং আশুরার ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে প্রাচীনকাল থেকেই। হজরত হুসাইন (রা.)-এর মর্মান্তিক শাহাদাতের ঘটনার অনেক আগ থেকেই আশুরা অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ও রহস্যঘেরা দিন। কারণ কারবালার যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৬১ হিজরির ১০ মহররম। আর আশুরার রোজার প্রচলন চলে আসছে ইসলাম আবির্ভাবেরও বহুকাল আগ থেকে। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, আবহমানকাল থেকে আশুরার দিনে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা যেমন অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি হিজরি ৬১ সনে আশুরার দিন কারবালার ময়দানের দুঃখজনক ঘটনাও মুসলিম জাতির জন্য অতিশয় হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক। প্রতি বছর আশুরা আমাদের এই দুঃখজনক ঘটনাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে এও বাস্তব যে, এ ঘটনাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে না পেরে আজ অনেকেই ভ্রষ্টতা ও কুসংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত। যারা কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাকে ব্যথাভরা অন্তরে স্মরণ করে থাকেন, তারা কোনো দিনও চিন্তা করেছেন যে, কী কারণে হজরত হুসাইন (রা.) কারবালার ময়দানে অকাতরে নিজের মূল্যবান জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তাইতো অনেকেই মনে করেন যে, জারি মর্সিয়া পালনের মধ্যেই কারবালার তাৎপর্য! হায়রে আফসোস! কী করা উচিত! আর আমরা করছি কী? হজরত হুসাইন (রা.)-এর উদ্দেশ্য ও আদর্শ বাস্তব জীবনে অনুসরণ করাই হবে এ ঘটনার সঠিক মর্ম অনুধাবনের বহিঃপ্রকাশ। হজরত হুসাইন (রা.)-ও রাসুলে করিম (সা.)-এর প্রতি মহব্বত ও আন্তরিকতার একমাত্র পরিচায়ক।

মহররম মাসে রোজা রাখা সম্পর্কে অনেক বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। বিশেষভাবে আশুরা অর্থাৎ মহররমের ১০ তারিখে রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। একটি হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়, ‘রমজান মাসের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা উম্মতে মুহাম্মদির ওপর ফরজ ছিল। পরবর্তী সময়ে অবশ্যই ওই বিধান রহিত হয়ে যায় এবং তা নফলে পরিণত হয়। হাদিস শরিফে হজরত জাবের (রা.) সূত্রে বর্ণিত আছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করতেন। এ বিষয়ে নিয়মিত তিনি আমাদের খবরাখবর নিতেন। যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হলো, তখন আশুরার রোজার ব্যাপারে তিনি আমাদের নির্দেশও দিতেন না এবং নিষেধও করতেন না। আর এ বিষয়ে তিনি আমাদের খবরাখবরও নিতেন না’ (সহিহ মুসলিম শরিফ : ১১২৮)। ওই হাদিসের আলোকে আশুরার রোজার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতীয়মান হয়। এমনকি ওই সময়ে তা ফরজ ছিল। বর্তমানে এই রোজা যদিও নফল, কিন্তু অন্যান্য নফল রোজার তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরা ও রমজানের রোজা সম্পর্কে যে রূপ গুরুত্ব প্রদান করতেন, অন্য কোনো রোজা সম্পর্কে সেরূপ গুরুত্বারোপ করতেন না’- (সহিহ বোখারি ও মুসলিম)। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রোজা নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতকে রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তাই এর পূর্ণ অনুসরণ ও আনুগত্যের মধ্যেই নিহিত রয়েছে উম্মতের কল্যাণ। এ ছাড়া অসংখ্য হাদিসে আশুরার রোজার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

মুসলিম শরিফে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘মহানবী (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করেন, তখন সাহাবিরা অবাক হয়ে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইহুদি-নাসারারা তো এই দিনটিকে বড়দিন মনে করে। আমরা যদি এই দিনে রোজা রাখি, তাহলে তো তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে। তাদের প্রশ্নের উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘(তারা যেহেতু এদিন একটি রোজা পালন করে) আগামী বছর ইনশাআল্লাহ আমরা এই ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোজা পালন করব’ (সহিহ মুসলিম : ১১৩৪)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিনে আপন পরিবার-পরিজনের মধ্যে পর্যাপ্ত খানাপিনার ব্যবস্থা করবে, আল্লাহপাক পুরো বছর তার রিজিকে বরকত দান করবেন’ (তাবরানি : ৯৩০৩)। উল্লিখিত হাদিস সম্পর্কে আল্লামা ইবনুল জাওযিসহ অনেক মুহাদ্দিস আপত্তিজনক মন্তব্য করলেও বিভিন্ন সাহাবি থেকে ওই হাদিসটি বর্ণিত হওয়ায় আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতিসহ অনেক মুহাক্কিক আলেম হাদিসটিকে গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।

অতএব যদি কেউ উপরোক্ত হাদিসের ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে ওইদিন উন্নত খানাপিনার ব্যবস্থা করে, তাহলে শরিয়তে নিষেধ নেই। তবে স্মরণ রাখতে হবে, কোনোক্রমেই যেন তা বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘনের স্তরে না পৌঁছে।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট [email protected]


আরও খবর

আজ পবিত্র আশুরা

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২

মাকামে ইব্রাহিম

শুক্রবার ০৫ আগস্ট ২০২২




৩ কোটি টাকা মূল্যের কুশ মাদক উদ্ধার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ আগস্ট 2০২2 | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

দেশে প্রথমবারের মতো কুশ মাদকসহ বিভিন্ন অপ্রচলিত মাদক বিক্রি এবং কুশ মাদক তৈরির মূলহোতা ওনাইসি সাঈদকে আটক করেছে র‍্যাব।

মঙ্গলবার ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম ইমরান খান।

তিনি বলেন, দেশে এই প্রথম অপ্রচলিত মাদক কুশ, হেম্প, এক্সট্যাসি, মলি, এডারল, ফেন্টানিল ও অন্যান্য মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক তৈরির মূলহোতা ওনাইসি সাঈদ ওরফে রেয়ার সাঈদকে আটক করা হয়।

অভিযানে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের দেশি ও বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে। অভিযান ও কুশ মাদকের বিষয়ে আজ দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




দায়িত্ব অবহেলায় বিমানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল ঃ

যার দায়িত্ব সে দায়িত্ব পালন না করে অন্যকে দিয়ে সেই কাজ করানোর কারণে হ্যাঙ্গার ও পার্কিং বেতে বাংলাদেশ বিমানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  বলে জানিয়েছেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।  

নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নেয়ার পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তদন্তে বেরিয়ে এসেছে বিমানকে পার্কিং বে তে নিয়ে আসার জন্য পুশাকটের নির্দেশনা একজন সুইপার করছিলেন। যারা দায়িত্ব পালন করেননি তাদের সবাইকে বরখাস্ত করা হয়েছে। 

নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, তার লক্ষ্য বিমানের বার্ষিক আয় ৭০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নিত করা।

দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের গাফিলতিতেই একের পর এক এয়ারক্রাফটে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিমানবন্দরে। স্বীকার করলেন খোদ বিমান এমডি ই। বলাকায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত যে কটি ঘটনা ঘটেছে সবগুলোতেই দোষী সবাইকেই বরখাস্ত করা হয়েছে। এসময় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমানের লাভ করা উচিত ছিলো জানিয়ে বিমান এমডি বলেন, চলতি বছর স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বেশি লাভের মুখ দেখবে সংস্থাটি।

কখনো হ্যাঙ্গারে, কখনো থেমে থাকা এয়ারক্রাফটে, শেষ ৫ মাসে ৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে শাহজালাল বিমানবন্দরে। সবশেষ গত ৩ জুলাই রাতে বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে সংঘর্ষ ঘটে দুটি বোয়িং বিমানের মধ্যে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বার বার এমন ঘটনা কি নিছক ই দুর্ঘটনা নাকি ইচ্ছাকৃত অবহেলা, তা নিয়ে।

এবার এই ইস্যুতে বেশ খোলামেলা বিমানের নতুন এমডি। বলাকায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি দায়ী করলেন, দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের। দোষী সবাইকেই বহিস্কার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষ জনবলের অভাবে ভুগছে বিমান।

সংবাদ সম্মেলনে বিমানবন্দরের লাগেজ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, সেবার নিম্ন মান, আর ধারাবাহিক লোকসানের অভিযোগ স্বীকার করেন বিমান এমডি। এসময় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের মুখ দেখতে না পারার ব্যর্থতা মেনে নিয়ে সংস্থাটির দাবি, চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ অর্থ উপার্জন করবে বিমান।

বিমানে যার যে কাজ করার কথা, এর আগে কেউ তা করেনি। পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা ছিলো বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানায় সংস্থাটি।


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২