Logo
শিরোনাম

দেশে পাবজি বন্ধই থাকবে : হাইকোর্ট

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ |
Image

সব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে পাবজি বন্ধের রায় প্রত্যাহার চেয়ে পাবজি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে পাবজির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সামির সাত্তার। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব।

এর আগে গত বছরের ২৪ জুন সব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অবিলম্বে পাবজি, ফ্রি ফায়ারসহ এ ধরনের সব ক্ষতিকর গেম বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

সব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেম তথা লাইকির মত সব প্রকার অনলাইন গেমস এবং অ্যাপস অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার এ রিট দায়ের করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, স্বাস্থ্য সচিব এবং পুলিশের আইজিকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

গত বছরের ১৯ জুন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেম তথা লাইকির মত সব প্রকার অনলাইন গেমস এবং অ্যাপস বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, এবং ফ্রি ফায়ারের মত গেমসগুলোতে বাংলাদেশের যুব সমাজ এবং শিশু-কিশোররা ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। যার ফলে সামাজিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি বিনষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ, প্রজন্ম হয়ে, পড়ছে মেধাহীন। এসব গেমস যেন যুব সমাজকে সহিংসতা প্রশিক্ষণের এক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।

টিকটক, লাইকি অ্যাপসগুলো ব্যবহার করে দেশের শিশু কিশোর এবং যুব সমাজ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে এবং সারাদেশে কিশোর গ্যাং কালচার তৈরি হচ্ছে। টিকটক অনুসারীরা বিভিন্ন গোপনীয় জায়গায় পুল পার্টির নামে অনৈতিক বিনোদন যৌন কার্যক্রমে লিপ্ত হচ্ছে। এছাড়াও সম্প্রতি নারী পাচারের ঘটনা এবং বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরে অর্থ পাচারের ঘটনায়ও টিকটক, লাইকি এবং বিগো লাইভের মাধ্যমে চলছে যেটা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং দেশের এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী, শৃঙ্খলা-মূল্যবোধের পরিপন্থী। এছাড়াও দেশের শিশুরা বিভিন্ন অনলাইন গেমস গুলোতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, এ বিষয়টি মনিটর করার জন্য এবং সময়ে সময়ে শিশুদের জন্য উপযোগী এবং যথাযথ অনলাইন গেমসগুলোকে সুপারিশ করার জন্য একটি মনিটরিং টিম গঠন করা অত্যন্ত জরুরি। তাই সব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেমস এবং টিকটক, লাইকি, বিগো লাইভের মত ক্ষতিকারক অ্যাপসগুলোকে অবিলম্বে অপসারণ করা এবং সব লিংক বন্ধ করার অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে এই সব বিষয় মনিটর করবার জন্য এবং শিশুদের উপযোগী যেসব অনলাইন গেমস রয়েছে সেগুলো সুপারিশ করার জন্য একটি একটি মনিটরিং, ইভালুয়েশন এবং সুপারিশ কমিটি গঠন করার জন্য অনুরোধ করা হয় নোটিশে। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন বলে জানান আইনজীবীরা।


আরও খবর



বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল :  টানা বর্ষণ ও অব্যাহত পাহাড়ি ঢলে সিলেটে বেড়েই চলেছে বন্যার পানি। এরই মধ্যে সিলেট নগরী ও অনেক উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে পুরোপুরি ডুবে গেছে। গতকাল শনিবারও টানা বর্ষণে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সিলেট নগরীর বাকি এলাকা। পুরো সিলেট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে ট্রেন যোগাযোগ।

এ ছাড়া গতকাল সকালে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, সদর উপজেলাসহ আরো অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে নৌবাহিনী ও ফায়ার ব্রিগেড সদস্যরা মাঠে নেমেছেন।

গতকাল শসকাল থেকে নৌবাহিনীর ৩৫ জন সদস্য দুটি টিমে বিভক্ত হয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নৌবাহিনীর সদস্যরা নিজস্ব ক্রুজ ও বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন। বিকালে ৬০ জনের আরেকটি দল এবং আরো ক্রুজ ও হেলিকপ্টার উদ্ধার কাজে যুক্ত হয়েছে।

বন্যার পানি ওঠায় পানিতে তলিয়ে গেছে কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। ফলে পুরো সিলেট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মোবাইল টেলিফোন নেটওয়ার্কও পাচ্ছেন না বন্যাদুর্গতরা। এদিকে ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে সিলেটের জকিগঞ্জ-কানাইঘাট উপজেলায়। প্রথম দফা বন্যায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর অন্তত ১৫ স্থানে ভেঙে যাওয়া ডাইক মেরামত না করায় ফের ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। গত শুক্রবার সকাল থেকে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর অন্তত ৫টি স্থান দিয়ে পানি ঢুকছে। গতকাল নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে অনেক এলাকা।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট : সিলেট কুমারগাঁও গ্রিড উপকেন্দ্রে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় পুরো সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পানি উঠে যাওয়ায় আপাতত সাবস্টেশনটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি পানি সেচে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি আবার চালু করতে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে এই সাবস্টেশনে পানি উঠতে শুরু করে। গত শুক্রবার দুপুর থেকে এই কেন্দ্র সচল রাখতে যৌথভাবে কাজ শুরু করে সেনাবাহিনী, বিদ্যুৎ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশন। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশে বাঁধ নির্মাণ করেন তারা। তবে পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বন্ধ করে দিতে হলো উপকেন্দ্রটি।

ভাঙা ডাইক এখন মরণফাঁদ : জকিগঞ্জ-কানাইঘাট উপজেলায় ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে। প্রথম দফা বন্যায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর অন্তত ১৫ স্থানে ভেঙে যাওয়া ডাইক মেরামত না করায় ফের ভাঙা ডাইক দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। গত শুক্রবার সকাল থেকে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর অন্তত ৫টি স্থান দিয়ে পানি ঢুকছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে অনেক এলাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুরমা নদীর আটগ্রাম এলাকার মরিচা, নালুহাটি ও বড়বন্দ গ্রামে প্রথম দফায় ভেঙে যাওয়া ডাইক দিয়ে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। শুক্রবার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মাত্র ১২ ঘণ্টায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে অর্ধশতাধিক গ্রাম। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট।

সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে নৌবাহিনী : সিলেটে বন্যাদুর্গত এলাকায় পানিবন্দি লোকজনকে উদ্ধারে কাজে যোগ দিয়েছে নৌবাহিনী। গতকাল সকাল থেকে নৌবাহিনীর ৩৫ জন সদস্য দুটি টিমে ভাগ হয়ে কাজ শুরু করেছে। সিলেট জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধার কাজে নৌবাহিনী সদস্যরা নিজস্ব ক্রুজ ও বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন। বিকালের মধ্যে ৬০ জনের আরেকটি দল এবং আরো ক্রুজ ও হেলিকপ্টার উদ্ধার কাজে যুক্ত হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নৌবাহিনীর ৩৫ সদস্যের একটি দল শুক্রবার রাতেই সিলেট এসে পৌঁছায়। গতকাল সকাল থেকে ৩৫ সদস্যের দল কোস্টগার্ডের একটি ক্রুজ ও বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে একটি টিম সকাল থেকে কাজ শুরু করে। আরেকটি টিম কোম্পানীগঞ্জে কাজ শুরু করেছে। জেলা প্রশাসন সূত্র আরো জানায়, আরো দুটি ক্রুজ উদ্ধার কাজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি সিলেটে ও অন্যটি সুনামগঞ্জে উদ্ধার কাজে যুক্ত হবে। এদিকে, সেনাবাহিনীর ৯টি ইউনিট সিলেট ও সুনামগঞ্জে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবার বিকাল থেকে তারা সিলেটের ৩টি উপজেলা ও সুনামগঞ্জের ৫টি উপজেলায় উদ্ধার কাজ করছে।

রেকর্ড ভেঙেছে এবার বন্যা : সিলেটে বন্যা দেশের আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। বিভাগের ৮০ শতাংশ এলাকা এখন পানির নিচে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ৯০ শতাংশ এলাকা ডুবে গেছে। বাকি তিন জেলা শহরের কিছু উঁচু স্থান, পাহাড়ি এলাকা এবং ভবন ছাড়া সবখানে এখন পানি। আগামী দুই দিনে এই পানি আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ১৯৯৮ সালের জুন মাসে সিলেট বিভাগে অনেকটা এমন বন্যা হয়েছিল। কিন্তু এরপর বেশির ভাগ বন্যা মূলত হাওর ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১৯ সালে সুনামগঞ্জ ও সিলেট শহরে দু-তিন দিনের জন্য হঠাৎ বন্যা হয়। কিন্তু পুরো সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত হওয়ার মতো বন্যা হয়নি।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূইয়া বলেন, দেশের একটি বিভাগের প্রায় ৮০ শতাংশ ডুবে যাওয়ার মতো বন্যা এর আগে বাংলাদেশে হয়নি। সিলেটে এর আগে যত বন্যা হয়েছে তা মূলত হাওর এলাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার গ্রাম, শহর ও উঁচু এলাকা হিসেবে বিবেচিত স্থানগুলোও পানির নিচে চলে গেছে। আর সোমবারের আগে এই পানি নামার সম্ভাবনা কম। কারণ উজানে আগামী দুই দিন অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূ-উপগ্রহভিত্তিক সংস্থা ইসিএমডব্লিউর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল বাংলাদেশের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে; যা ১২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি। আর গত তিন দিনে সেখানে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই অল্প কয়েক দিনে এত বৃষ্টির রেকর্ডও গত ১০০ বছরে নেই।

রানওয়েতে পানি, ফ্লাইট শিডিউল পরিবর্তন

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে পানি উঠে যাওয়ার কারণে সিলেট-লন্ডন ফ্লাইটের শিডিউলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গতকাল ও আজকের দুটি ফ্লাইট পিছিয়ে আগামী ২১ ও ২৩ তারিখে নেওয়া হয়েছে। গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ। তিনি বলেন, শনিবার ও রবিবার সিলেট-লন্ডন রুটে বিমানের দুটি ফ্লাইট ছিল। কিন্তু ওসমানী বিমানবন্দরের রানওয়েতে পানি উঠে যাওয়ায় এসব ফ্লাইট শিডিউল পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৮ তারিখের ফ্লাইট ২১ তারিখ এবং ১৯ তারিখের ফ্লাইট ২৩ তারিখ যাবে। এর আগে শুক্রবার বিকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ ঘোষণা

বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বিমানবন্দরের পর এবার সিলেট রেলস্টেশনও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলবে। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট রেলস্টেশন ম্যানেজার মো. নুরুল ইসলাম।

তিনি জানান, এরই মধ্যে রেলস্টেশনের মূল প্ল্যাটফরমে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। স্টেশনে কোনো ট্রেন ঢুকতে পারছে না। তাই রেলস্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে মাইজগাঁও রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল করবে।

সিলেট-সুনামগঞ্জের পর হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জে বন্যা দেখা দিয়েছে। কালনী-কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদণ্ডনদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এরই মধ্যে জেলার দুই উপজেলার অন্তত ৪০টি গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আজমিরীগঞ্জ-পাহারপুর ও আজমিরীগঞ্জ-কাকাইলছেও সড়ক ডুবে যাওয়ায় দুটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।



আরও খবর



স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোনার মামলায় এসআই গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

 নোয়াখালীর সদর উপজেলায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এক উপপরিদর্শক (এসআই) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  

গ্রেপ্তারকৃত উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জাবেদ (৩৬) সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর গ্রামের ফরাজি বাড়ির আবুল কাশেমের ছেলে।  সে চট্টগ্রাম জেলার আরআরএফ এ সংযুক্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের মনতরাব ফরাজি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  

বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে স্ত্রীকে আত্নহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে চট্রগ্রামের হালিশহর থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম থানার পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে হালিশহর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।      

উল্লেখ্য,২০১৪ সালে পারিবারিক ভাবে সুধারাম থানার বিনোদপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলের সাথে বিয়ে হয় কলির। তারা স্বামী-স্ত্রী এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে চট্রগ্রামের হালিশহরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত। তাঁর স্বামী বদ মেজাজী হওয়ায় কারণে-অকারণে স্ত্রীকে মারধর করত। এছাড়া তার স্বামীর সাথে তার বন্ধু বাদশার স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে সে তার পিতাকে জানায়। পরে গত ২৫ মার্চ শুক্রবার সকালের দিকে চট্টগ্রামের হালিশহরের শান্তিবাগের ৮ নং রোড়ের হক সাহেবের বাসায় এসআই স্বামীর প্ররোচনায় ফাতেমা আক্তার কলি (২৫) আত্মহত্যা করে। নিহত কলির নানা আব্দুল হক মেম্বার জানান, হাসপাতালের মর্গে থেকে লাশ আনতে গিয়ে নিহত কলির শরীরে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। এ ঘটনায় ২৭ মার্চ সকালে নিহতের পিতা আহছান উল্যাহ বাদী হয়ে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও সহায়তার দায়ে তাঁর স্বামী ও তাঁর বন্ধুসহ ৫ জনকে আসামি করে চট্রগ্রামের হালিশহর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩০।


আরও খবর



কুমিল্লা বরুড়ার আলম হত্যা মামলায়

৩ আসামীর যাবজ্জীবন দন্ডাদেশ দিয়েছে আদালত

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা

হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ১৪ বছর পর কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার দক্ষিণ শিলমুড়ির শিয়ামোড়া গ্রামে জমি বিরোধের জের ২০০৮সালের আলম হত্যা মামলায় ৮ আসামীর তিনজনের যাবজ্জীবনসহ ৫ জনকে খালাস দেয় আদালত । সোমবার (২৭ জুন) কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত অতিরিক্ত-২ এর বিচারক নাছরিন জাহান এ রায় প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী আবু কালাম ও আয়েশা ছিদ্দিকা ভূঁইয়া। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মামলার ১ নম্বর আসামি ফজলুল হককে যাবজ্জীবন, ৩ নম্বর আসামি আবিদ আলীকে যাবজ্জীবন ও অতিরিক্ত এক বছরের কারাদণ্ড, ৪ নম্বর আসামি আবুল খায়েরকে যাবজ্জীবন ও অতিরিক্ত ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। মামলার বিবরণ থেকে এড আবু কালাম জানান-, ২০০৮ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার দক্ষিণ শিলমু্ড়ি ইউনিয়নের শিয়ালোড়া গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে মো. আলম ও তার বড় ভাই আলী নেওয়াজকে জায়গা জমির বিরোধে একই গ্রামের ফজলুল হক, আবু তাহের, আবিদ আলী, আবুল খায়ের, মো. জসীম, সোহেল মিয়া, সুমন, জয়নব বিবি ও মো. সুমনসহ কয়েকজন মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আলম ও আলীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে ভর্তি করা হলে আলমের অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসা জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে নেয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর ২২ মার্চ সকালবেলা আলম মারা যায়। তারপর ওই দিন সন্ধ্যায় নিহতের মা মাছুমা বেগম বাদী হয়ে বরুড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী মাছুমা বেগম বলেন, আমি মামলার রায়ে সন্তুষ্ট নই। আমরা সবার ফাঁসি চাই। আমি উচ্চ আদালতে যাব সবার ফাঁসির রায়ের জন্য।


আরও খবর



বন্যার কারণে হচ্ছে না এসএসসি পরীক্ষা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর পরিবর্তিত তারিখ পরে জানানো হবে।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকটি উপজেলা। ক্রমেই এই অবস্থার অবনতি ঘটছে।

এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন। গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ২২ লাখ ৪৩ হাজার ২৫৪ জন। এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত বছরের চেয়ে প্রায় সোয়া দুই লাখ পরীক্ষার্থী কমেছে।

এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সারা দেশের ২৯ হাজার ৫১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৭৯০টি কেন্দ্রে এসএসসি, দাখিল এবং এসএসসি (ভকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা

এবার পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টা থেকে কমিয়ে দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রশ্নপত্রের এমসিকিউ অংশের জন্য ২০ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট নির্ধারিত থাকবে।

এর আগে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের কারণে ২৫ জুনের পরীক্ষা এক দিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে এখন বন্যার কারণে সব পরীক্ষাই স্থগিত হয়ে গেল।



আরও খবর



ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের কদর বাড়ছে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

রোকসানা মনোয়ার : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের কদর বাড়ছে। নির্বাচন এলেই নামসর্বস্ব এসব দলের দৌড়ঝাঁপ বাড়ে, সেই সঙ্গে স্বগোত্রীয় বড় দলের কাছে বাড়ে তাদের নানামুখী আবদার। দেশে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নিজেদের স্বার্থে সেই আবদারের গুরুত্বও বাড়িয়ে দেয়। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের হিসাব অনেক জটিল ও কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

দল নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বিএনপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে না যাওয়ার কথা এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে। অপরদিকে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে নিতে সরকারি দল আওয়ামী লীগ বেশ তৎপর। ছোট রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের পক্ষে টানার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে বড় দুই জোটে। এবারও এর ব্যক্তিক্রম নয়।

আগামী নির্বাচনে নিজেদের কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখাই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মূল লক্ষ্য। এজন্য দূরে সরিয়ে রাখা জোটের শরিকদের কাছে টানছে দুদলই। অন্যদিকে দুই দলের বাইরে থাকা ছোট দলগুলোও চাইছে আগামী নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নেতৃত্বাধীন যেকোনো জোটে যুক্ত হতে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও বেশ আগে থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না গেলেও রাজপথে নির্বাচন ও সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে প্রধান দুই দলই নিজ নিজ জোট শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এলেও আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় মহাজোট ও ১৪ দল শরিকদের কারো ঠাঁই মেলেনি। এমনকি ওই সময়ই প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতারা ১৪ দল শরিকদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর কিংবা বিরোধী দলে থেকে নিজ নিজ দলীয় কার্যক্রম চালানোর পরামর্শ দেন। পরবর্তী নির্বাচনে শরিকদের নিজ নিজ প্রতীকে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বিষয় ১৪ দল শরিক নেতাদের যেমন ক্ষুব্ধ করে রেখেছিল, তেমনি গত তিনবারের ধারাবাহিকতায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন জোটগতভাবে হবে কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল।

প্রায় তিন বছর পর গত ১৫ মার্চ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শরিক দলের নেতাদের বৈঠকে একসঙ্গে নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি ওই বৈঠকে সমন্বয়হীনতা দূর করে জোটের কার্যক্রম জোরদারের তাগিদও দেন। এমনকি জোট শরিকদের এখনই আসন সমঝোতাসহ মূল্যায়নের দাবি পূরণের আশ্বাসও দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

এদিকে ২০ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের অনেক নেতার কর্মকান্ডে অনেকটা অসন্তুষ্ট বিএনপি। ২০ দলের অনেক নেতা বিভিন্ন সময় বিএনপির স্বার্থে বাইরে গিয়ে কাজ করেছেন। তারপরও বৃহৎ স্বার্থে সেই দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বিএনপি। এরই মধ্যে কল্যাণ পার্টি ও এলডিপিকে এক প্ল্যাটফরমে নিয়ে আসতে সক্ষমও হয়েছে দলটি। এর বাইরে তারা বাম ও ইসলামী দলসহ সরকারবিরোধী অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও কাছে টানার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে বিএনপি নেতারা কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে নানা আশ্বাসও দিয়েছেন।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এই সরকারের পতনের পাশাপাশি গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে রাজপথের আন্দোলনের বিকল্প নেই। এজন্য সব দলকে এক প্ল্যাটফরমে আসতে হবে। বিএনপি বড় দল। তাদেরই এ ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নিতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সূত্র জানিয়েছে, যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে, তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ক্ষমতাসীনরা। ছোট দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান যা-ই থাকুক, রাজনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এসব দলকে বড় দুই দল জোটে টানছে।

জানা গেছে, বিএনপি ছোট দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করায় সরকারি দলও নড়েচড়ে বসেছে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ অন্যরা ছোট দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ১৪ দলের ঐক্য বাড়াতেই বেশি ব্যস্ত ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে মহাজোটগতভাবে নির্বাচন করবে। এ মুহূর্তে মহাজোট সম্প্রসারণের দলীয় চিন্তা না থাকলেও অনেকটা কৌশল থেকেই ছোট দলের সঙ্গে বৈঠক করছেন তারা। আওয়ামী লীগের নেতারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ১৪ দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তারা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও এলডিপির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের ভাবনায় সিপিবি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেভাবে ছোট দলগুলোর অফিসে ছুটে চলেছেন, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আবদুল জলিলও একইভাবে ছোটাছুটি করেন। এতে ইতিবাচক ফল পেয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলেই ২০০৪ সালে ১৪ দলীয় জোট। এরপর এরশাদকে সঙ্গে নিয়ে মহাজোট গঠন করে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির এখন টার্গেট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্র করা। এজন্য জোটসহ জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে চলেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কখনো গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে আবার কখনো দলগুলোর কার্যালয়ে বৈঠকে বসছেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট, সন্ত্রাসসহ সরকারের অনিয়মের বিরুদ্ধে গোটা দেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত। তাই দলগুলো তাদের নিজেদের আত্মমর্যাদার জন্য যেটা উত্তম সেটাই করবে।


আরও খবর