Logo
শিরোনাম

এডিস মশা ছড়াচ্ছে সারাদেশে

প্রকাশিত:সোমবার ২৮ আগস্ট ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

রোকসানা মনোয়ার : সারাদেশেই মহামারি আকারে ছড়াচ্ছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। এরই মধ্যে লার্ভার জন্ম ও কামড়ানোর ধরনেও পরিবর্তন এসেছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। গত কয়েকদিন পাঁচ-সাতশ করে আক্রান্ত হলেও সবশেষ দুদিন এ সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। ঢাকার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢাকার বাইরেও বাড়ছে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ডেঙ্গুর সংক্রমণ সামান্য থাকলেও মে মাস থেকে ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়। মে মাসেই ১০৩৬ জন আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যু হয় দুজনের। জুন মাসে তা কয়েকগুণ বেড়ে হাসপাতালে ভর্তি হন পাঁচ হাজার ৯৫৬ জন। জুলাই মাসে এসে এ চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। এই মাসে  আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বারো হাজার ১৬৫ জনে। আর মৃত্যু হয়েছে ৯১ জনের। প্রতিদিনই বাড়ছে এ সংখ্যা।

এবার বর্ষার আগেই এ রোগের সংক্রমণ বাড়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়। বিশেষজ্ঞরাও বলে আসছিলেন একই কথা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, ২০১৯ সালে দেশে এক বছরে সবচেয়ে বেশি এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হন, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও আক্রান্ত হন ১৪০৫ জন ও মারা যান ৭ জন। এরপর ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জন মারা যান। গত বছর ২০২২ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন। মারা যান ১৮১ জন।

২০২৩ সালে এসে ২০১৯ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ডও ভেঙে ফেলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন আট হাজার ১৬৫ জন। আর মারা গেছেন ৩৬ জন। এছাড়া গত ছয় মাসে ঢাকার বাইরে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ১ হাজার ৮৯৯ জন। কিন্তু গত ১১ দিনে শুধু ঢাকার বাইরে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭০৬ জন। সামনে আরও ব্যাপক আকারে ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ও অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, একটি মশা তিন থেকে চারদিন পর্যন্ত বাঁচতে পারে। এর মধ্যে সে ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করে যতজন মানুষকে কামড়ানোর সুযোগ পায় ততজনকেই আক্রান্ত করতে পারে। একটি মশা চার-পাঁচজনকে দিনে কামড়াতে পারে। তবে মশা যদি চুপিসারে রক্ত চুষে নিতে পারে তখন একজন থেকেই তার মাত্রা অনুযায়ী রক্ত নিতে পারে, যা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তবে কতজনকে একটি মশা আক্রান্ত করতে পারে তার নিশ্চয়তা নেই। এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও নেই।

তিনি বলেন, এবছর অতীতের সব রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাধারণভাবেই ডেঙ্গুর উপদ্রব বাড়বে। এরই মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ চোখ রাঙানো শুরু করেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মৃত্যু এবং আক্রান্ত দুটিই দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়বে।

কবিরুল বাশার বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে পরিষ্কার পানি ছাড়াও এডিস মশা সুয়ারেজের পানি, ড্রেনের পানি এমনকি সমুদ্রের নোনা পানিতেও ডিম পাড়ে এবং তার জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে। আগে আমরা ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে পরিষ্কার পানির কথা জানলেও তা এখন পরিবর্তিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এক সেন্টিমিটার পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও আমরা এডিস মশার বংশবৃদ্ধির প্রমাণ পেয়েছি। এর আগে আমরা জানতাম এডিস মশা শুধু দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকালে এবং বিকেলে কামড়ায়। কিন্তু আমাদের গবেষণায় সেটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের ল্যাবরেটরি ও মাঠ পর্যায়ের গবেষণায় আমরা পেয়েছি এডিস মশা রাতেও কামড়ায়। তবে রাতে কামড়ানোর হার কম। পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং মানুষের আচরণের কারণে এই মশা অত্যন্ত সুচতুরভাবে নিজেকে পরিবর্তিত করে নিয়েছে।

এবছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, প্রথমবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার আক্রান্ত হলে শারীরিক পরিস্থিতির বেশি অবনতি হয়। এবছর সন্দেহ করা হচ্ছে ডেঙ্গুর ডেন-২ ধরন বেশি। তবে ড্রেন বা সেরোটাইপ যে ধরনেরই আক্রান্ত হোক সেটি বড় বিষয় নয়, একাধিকবার আক্রান্তদের ঝুঁকি বেশি। এবার দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার আক্রান্ত বাড়ছে। জটিলতাও বেশি দেখা দিচ্ছে। এরপরও অনেকে ডেঙ্গুকে গুরুত্ব কম দিচ্ছেন।

যথাসময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন বা হাসপাতালে যেতে দেরি করছে। এতে রোগীর উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি, হার্টের সমস্যা, পেটে পানি জমা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়ে দ্রুত শক সিনড্রোমে চলে যাচ্ছে। তাই জ্বর দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা যাবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতিতে এডিস মশার ঘনত্ব যেহেতু খুব বেশি নয়। আর আমরা এটাও জানি না কোন এডিস মশা ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করছে কোনটি নয়। তাই আমাদের রাতে বা দিনে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনোভাবেই এডিস মশা কামড়াতে না পারে।

 


আরও খবর



১০ ফুট পানির নিচে সুন্দরবন, প্রাণীদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় বনবিভাগ

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image


বিডি টু ডে রিপোর্ট:


ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে সুন্দরবন এলাকা ৭ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। 


বিশেষ করে কটকা, কচিখালি, নীলকমল, মান্দারবারি, হলদিবুনিয়া এলাকা সবচেয়ে বেশি পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। 


এসব এলাকার বণ্যপ্রাণী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে বন বিভাগ।


রোববার (২৬ মে) বিকেলের দিকে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা ১০ ফুট পর্যন্ত পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এর আগে দুপুর থেকেই পানির চাপ বাড়তে থাকে।


সুন্দরবন বন বিভাগের বনসংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, সুন্দরবনের যে মিঠা পানির পুকুরগুলো রয়েছে যা বন্যপ্রাণী, বনজীবী এবং বনকর্মীদের খাবার পানির একমাত্র উৎস; প্রতিটি পুকুরই লোনা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। 


এছাড়া পানির উচ্চতা সেখানে ৭ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত হয়েছে। বনে বাঘ শাবক, হরিণ শাবক কিংবা শকুন শাবক এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণী আছে। বন্যপ্রাণীরা এখানে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, কটকা, কচিখালি, নীলকমল, মান্দারবারি, হলদিবুনিয়া- এসব স্থানে পানির যে উচ্চতা, পানির যে তীব্র স্রোত হচ্ছে তাতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, বন্যপ্রাণীদের যথেষ্ট ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।


আরও খবর

শেখ হাসিনার প্রশংসায় জয়শঙ্কর

শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪




এমপি আনার হত্যার সময় ফ্ল্যাটে ছিলেন শিলাস্তিও, আসামিদের লোমহর্ষক বর্ণনা

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

ডিজিটাল ডেস্ক:


এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের জট এখনও খোলাসা না হলেও দেশে গ্রেপ্তার তিন আসামি— শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ, তানভীর ভূঁইয়া ও শিলাস্তি রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি ডিবির। 


এরই মধ্যে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এমপি আনারকে রিসিভ করার পর হত্যাকাণ্ডের সময় কলকাতার নিউটাউনের ওই ফ্ল্যাটেই ছিলেন শিলাস্তি রহমান। এমনকি ঝিনাইদহ-৪ আসনের এ সংসদ সদস্যকে হত্যার পর নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে সব কাজ করেছেন হত্যাকারীরা।


শুক্রবার (৩১ মে) শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ, তানভীর ভূঁইয়া ও শিলাস্তি রহমানকে আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান। কিন্তু আদালত এ তিন আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


এই তিন আসামির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, এমপি আনারকে হত্যা করার আগে কলকাতার সেই ফ্ল্যাটে ওঠেন শিলাস্তি রহমান। হত্যা করার সময় ফ্ল্যাটে ছিলেন তিনি। তার দায়িত্ব ছিল এমপি আনার যখন ফ্ল্যাটটিতে যাবেন তাকে রিসিভ করা। 


সেই অনুযায়ী শিলাস্তি রহমান ওই ফ্ল্যাটটিতে এমপি আনারকে রিসিভ করেন। এরপর থেকে আর এমপি আনারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।


রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার শিমুল ভূঁইয়া (৫৬) জিজ্ঞাসাবাদে ডিবিকে জানায়, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) শীর্ষস্থানীয় নেতা। খুলনা, জিনাইদহ, যশোরসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তথা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।


 শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে এমপি আনারের আদর্শের বিরোধ ছিল। এছাড়া ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান ওরফে শাহিনের সঙ্গেও সংসদ সদস্যের বিরোধ ছিল। এই দুই বিরোধকে কেন্দ্র করে শাহিন ও শিমুল ভূঁইয়া আনারকে হত্যা করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পনা করছিলেন।


এমপি আনার হত্যাকাণ্ড / এবার নেপাল যাচ্ছে ডিবি

গত জানুয়ারি ও মার্চ মাসে দুবার তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হন তারা। পরবর্তীতে শাহিন ভারতের কলকাতার নিউটাউন অভিজাত এলাকায় চলতি মাসের এপ্রিল মাসের ২৫ তারিখে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। 


পরিকল্পনায় শামিল করা হয় শিলাস্তি রহমানকে। পরে তাদের সঙ্গে হত্যা পরিকল্পনার মিটিং করে শাহিন গত ১০ এপ্রিল বাংলাদেশে চলে আসেন।


ডিবির রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পরবর্তীতে শিমুল ভূঁইয়া ও শাহিনের নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা ভুক্তভোগীকে কৌশলে ব্যবসার কথা বলে কলকাতার ওই ফ্লাটে নিয়ে যান। পরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শিমুল ভুঁইয়া অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় আনারকে হত্যা করেন। 


হত্যার পর তার মরদেহের হাড়-মাংস আলাদা করে মাংসের ছোট ছোট টুকরো করা হয়। পরে সেগুলো ফ্ল্যাটের টয়লেটের কমোডে ফেলে ফ্লাশ করা হয়। এছাড়া হাড়সহ শরীরের অন্যান্য অংশ ট্রলিব্যাগে করে কলকাতার নিউটাউন থেকে দূরে একটি খালে ফেলে দেয় হত্যাকারীরা।


রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, শাহিন ভুঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য কলকাতার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশকে জানানো হয়। পরবর্তীতে কলকাতার সিআইডি পুলিশ ওই ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংকে তালাশ করে মানুষের মাংস সদৃশ কিছু উদ্ধার করে। যা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আনোয়ারুল আজীম আনারের কি না নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে কলকাতার সিআইডি পুলিশের মাধ্যমে মৌখিকভাবে জানানো হয়। 


এই আলামত উদ্ধারের সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।


ডিবিকে গ্রেপ্তার শিমুল ভুঁইয়া আরও জানান, আনারকে হত্যা করা ও লাশ থেকে হাড় মাংস আলাদা করার কাজে আসামি ফয়সাল, মোস্তাফিজ ও জিহাদ সরাসরি জড়িত ছিলেন। হাড় ও শরীরের অন্যান্য অংশ দূরে ফেলে দেওয়ার কাজে সিয়ামসহ অজ্ঞাতনামা দু-একজন সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।


আসামি জিহাদকে কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আসামি তানভীর ভূঁইয়া (৩০) ঘটনার সময় শাহিন ভুঁইয়ার সঙ্গে কলকাতা ছিলেন। এছাড়া তিনি হত্যাকাণ্ডে শাহিন ভুঁইয়াকে সহযোগিতা করেন বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। 


পরে তানভীর ভূঁইয়ার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তার বাড়ি থেকে তিনটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। আনারকে হত্যার সময় শিলাস্তি রহমান কলকাতায় ওই ফ্ল্যাটেই ছিলেন। হত্যা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিলাস্তির দায়িত্ব ছিল এমপি আনারকে রিসিভ করা।


 ঘটনায় জড়িত পলাতক মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান শাহিন, সিয়াম ও মোস্তাফিজসহ অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। 


বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার রহস্য জানতে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসমিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়।


এর আগে গত ১২ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যান এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার। সেদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে কলকাতায় তার পারিবারিক বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পরদিন, ১৩ মে চিকিৎসক দেখাতে হবে জানিয়ে দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে গোপালের বাড়ি থেকে বের হন আনার। 


সন্ধ্যায় ফিরবেন বলেও জানান তিনি। পরে বিধান পার্কের কাছে কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে ট্যাক্সিতে উঠেছিলেন তিনি। চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় আনারের মোবাইল নম্বর থেকে তার বন্ধু গোপালের কাছে ম্যাসেজ আসে যে, তিনি দিল্লি যাচ্ছেন এবং সেখানে পৌঁছে তাকে ফোন করবেন।


পরে ১৫ মে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় এমপি আনার বন্ধু গোপালকে জানান, তিনি দিল্লি পৌঁছেছেন এবং ভিআইপিদের সঙ্গে আছেন। তাকে ফোন করার দরকার নেই। একই বার্তা পাঠান বাংলাদেশে তার ব্যক্তিগত সহকারী রউফের কাছেও।


১৭ মে আনারের পরিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে গোপালকে ফোন করেন। ওই সময় তারা গোপালকে জানান, তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তারা। পরিবারের পক্ষ থেকে ওই দিন ঢাকায় থানায় অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকে আর এমপি আনারের খোঁজ পাওয়া যায়নি।


২০ মে এমপি আনারের খোঁজ করতে গিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে। তারা জানতে পারেন, কলকাতায় বন্ধুর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার মোবাইলের লোকেশন একবার পাওয়া গিয়েছিল সেখানকার নিউমার্কেট এলাকায়।


 এরপর ১৭ মে তার ফোন কিছুক্ষণের জন্য সচল ছিল বিহারে। পরে বুধবার (২২ মে) ভারতের এনডিটিভির খবরে বলা হয়, কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জিভা গার্ডেনসের একটি ফ্লাটে এমপি আনারকে খুন করা হয়েছে।



আরও খবর



জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কালো তালিকায় ইসরায়েল

প্রকাশিত:শনিবার ০৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

বিডি টু ডে রিপোর্ট:

যুদ্ধক্ষেত্রে শিশুদের রক্ষায় ব্যর্থ দেশ ও সশস্ত্র বাহিনীর তালিকায় ইসরায়েলকে সংযুক্ত করতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। তবে বিশ্ব সংস্থাটির এমন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে ইহুদি রাষ্ট্রটি। খবর এএফপির।

যদিও জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছ থেকে আগামী ১৮ জুনের আগে বার্ষিক ‘শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত’ বিষয়ক প্রতিবেদনটি প্রকাশের সম্ভাবনা নেই। 

তবে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত জিলাড আরডান তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে আরডান বলেন, ‘এই লজ্জাজনক সিদ্ধান্তে আমি বিস্মিত ও বিরক্ত।’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তার অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে বলেন, ‘হামাসের অযৌক্তিক দাবিকে গ্রহণ করে জাতিসংঘ নিজেকেই আজ নিজেকে কালো তালিকাভুক্ত করল।’

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বিভাগের উদ্ধৃতি দিয়ে নেতানিয়াহু আরও লেখেন, ‘ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের অন্যতম ন্যায়পরায়ণ সামরিক বাহিনী এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের এমন ঢালাও সিদ্ধান্ত এটির কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না।’

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর বলেন, ‘ইসরায়েলকে এই লজ্জার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলেও তাদের হামলায় নিহত শিশুদের জীবন ফিরে আসবে না কিংবা পঙ্গু হয়ে পড়া মানুষের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে না।’

এক্স হ্যান্ডেলে রিয়াদ মানসুর আরও বলেন, ‘এটা সঠিক নির্দেশনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। দুমুখো নীতি ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণে ইসরায়েল যে সুবিধা ভোগ করে আসছিল এবং যার কারণে আমাদের শিশুদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে তা কিছুটা হলেও দূর হবে।’

এদিকে, কূটনৈতিক সূত্রগুলো বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, হামাস এবং আরেকটি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদের নামও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত জিলাড আরডান অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বলেন, ‘আজকে জাতিসংঘ মহাসচিবই কালো তালিকাভুক্ত হলেন।’

আরডান বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সিদ্ধান্তের ফলে হামাস তাদের কাজে আরও বেশি করে স্কুল ও হাসপাতালগুলোকে ব্যবহার করতে থাকবে। এই সিদ্ধান্ত হামাসকে আশা জোগাবে।’

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন হামলায় এক হাজার ১৯৪ জন নিহত হওয়ার মাধ্যমে সূচনা হয় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ। পাল্টা প্রতিশোধ নিতে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের অবস্থানে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। 

চলমান এই হামলায় এ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৭৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক লোক। গাজার সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১৫ হাজার শিশু।


আরও খবর

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ইইউ

বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24




ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে ‘প্রস্তুত’ ফ্রান্স

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

স্পেন, নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ডের পর ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত তার দেশ।

এর আগে গতকাল ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় আয়ারল্যান্ড। একই দিনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় স্পেন ও নরওয়েও। এই তিন দেশের স্বীকৃতি দেওয়ার পরই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সম্পূর্ণ রূপে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ।

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া কোনো নিষিদ্ধ বিষয় নয়। তবে তা উপযোগী একটি সময়ে দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নতুন এক বার্তা দিয়েছে কানাডা। দেশটিতে বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের কাছে যেতে আগ্রাহী ফিলিস্তিনিদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিসার সংখ্যা বাড়িয়েছে ট্রুডো সরকার।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের সদস্য ১৪৭টি দেশ। এর মধ্যে চলতি বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে সবশেষ স্বীকৃতি দিয়েছে বাহামা, ত্রিনিনাদ অ্যান্ড টোবাগো, জামাইকা অ্যান্ড বারবাডোজ, স্পেন, নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ড। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও আল-জাজিরা


আরও খবর

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ইইউ

বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24




কুয়েতে বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৩৫

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image



সদরুল আইনঃ


কুয়েতের দক্ষিণাঞ্চলের মানগাফ শহরে একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছে। আজ বুধবার (১২ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপির।



দেশটির ফরেনসিক বিভাগের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইদ আল-ওয়াইহানের উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম আরব টাইমস কুয়েতের প্রতিবেদনে বলা হয়, মানগাফের ওই ভবনে আগুনে মৃতের সংখ্যা ৩৫ ছাড়িয়েছে। 


প্রাথমিকভাবে ১৫ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে চারজন পরে মারা গেছে।



এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ আল-গারিব বলেছেন, প্রাথমিকভাবে বেশকিছু প্রাণহানি ও আহতের তথ্য পাওয়া গেছে।


বুধবার ভোর সাড়ে ৪টায় ফায়ার বিভাগ কর্মীরা ঘনবসতিপূর্ণ একটি বাসভবনে আগুনের সূত্রপাতের খবর পায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।


 ভবনটির বাসিন্দারা ঘুমাচ্ছিলেন। ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে না পারায় অধিকাংশ প্রাণহানি হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।  



সূত্রের তথ্যমতে, বর্তমানে ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহতদের ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত সময় পার করছে কর্তৃপক্ষ। একাধিক ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা ওই ভবনে কাজ করছে। নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা চলছে।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৩ জনকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ছিলেন অনেকে। এর মধ্যে চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।



আহতদের মধ্যে ২১ জনকে আল-আদান হাসপাতালে, ছয়জন আল-ফারওয়ানিয়াহ হাসপাতালে, একজন আল-আমিরি হাসপাতালে, ১১ জন মুবারক হাসপাতালে এবং চারজনকে জাবের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত ও নিবিড় পরিচর্যা প্রদানে মেডিকেল টিমগুলো অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আহতদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে এবং সম্ভাব্য সর্বোত্তম চিকিত্সা পরিষেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে। 


আহতদের ফলোআপ করার জন্য এবং তাদেরকে মানসিকভাবে ও তাদের পরিবারকে নৈতিকভাবে সমর্থন দেওয়ার জন্য বিশেষায়িত মেডিকেল টিমও গঠন করা হয়েছে।



আরও খবর

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ইইউ

বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24