Logo
শিরোনাম

ক্ষতিকর প্রসাধনী দিয়ে রং ফর্সা করে লাখ লাখ নারী সমস্যায়

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৪ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১৬১জন দেখেছেন
Image

আবেগময় কণ্ঠে শিরোমা নীরা বলেন, ‘বিয়ের দিন আমাকে দেখতে সত্যিই খুব খারাপ লাগছিল। এতো খারাপ আর কখনো লাগেনি।’ এটা (নীরা ) তার আসল নাম নয়। সামাজিক কারণে এ প্রতিবেদনে তার নাম বদলে দেয়া হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় রাজধানী কলম্বোর কাছেই থাকেন ত্রিশোর্ধ বছর বয়সী নীরা । বিয়ের আগে তিনি তার ত্বকের রঙ ফর্সা করতে চেয়েছিলেন। তার মতো দক্ষিণ এশিয়ায় আরো অনেক নারীই তাদের গায়ের রঙ উজ্জ্বল করতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, ‘বিয়ের দু'মাস আগে আমি একটি সেলুনে গিয়েছিলাম। রঙ ফর্সা করার জন্য তারা তখন আমাকে একটি ক্রিম দিয়েছিল। দু'সপ্তাহ ব্যবহার করার পর দেখলাম আমার মুখ জ্বলে গেছে। আমি ত্বক ফর্সা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা পুড়ে গেল। আমার মুখে প্রথমে শাদা রঙের ছোপ ছোপ দেখা গেল যা পরে কালো দাগে পরিণত হলো 

নীরার যখন তার বিয়ের কেনাকাটা ও অনুষ্ঠানে কারা কারা অতিথি হয়ে আসবেন সেদিকে নজর দেয়ার কথা ছিল তখন তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন তার ত্বকের চিকিৎসায়। এর পেছনে অনেক অর্থও খরচ হলো তার।

সেলুন থেকে তাকে রং ফর্সাকারী যে ক্রিম দেয়া হয়েছিল সেটি কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কোনো প্রসাধনী সামগ্রী ছিল না। এ ক্রিম অবৈধভাবে আমদানি করে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল।

এক বছর ধরে চিকিৎসার পর নীরার গলায় এখনো ওই কালো দাগ রয়ে গেছে। এরকম আরো কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর শ্রীলংকার কর্তৃপক্ষ এখন অনুমোদন নেই এরকম রং ফর্সাকারী ক্রিম বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।

কিন্তু এ সমস্যা শুধু শ্রীলঙ্কারই সমস্যা নয়। এশিয়া ও আফ্রিকাতে লাখ লাখ মানুষ, যাদের বেশিরভাগই নারী, গায়ের রং ফর্সা করার জন্যে এমন কিছু ব্যবহার করেন যা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্যে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

বাজার

সারা বিশ্বে গায়ের রং ফর্সা করার এই বাজারের আকার ২০১৭ সালে ছিল প্রায় ৪৮০ কোটি ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মধ্যে এই বাজার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৮৯০ কোটি ডলারে।এর চাহিদা মূলত এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যবিত্ত পরিবারে।

রং ফর্সাকারী এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে সাবান, ক্রিম, ব্রাশ, ট্যাবলেট। এমনকি ইঞ্জেকশনও রয়েছে। মানব দেহে মেলানিন পিগমেন্টের উৎপাদন কমিয়ে দেয় এ ইঞ্জেকশন এবং এগুলো অনেক জনপ্রিয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক হিসেবে দেখা গেছে, আফ্রিকাতে প্রতি ১০ জন নারীর চারজন রং ফর্সাকারী পণ্য ব্যবহার করে থাকেন।

সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় নাইজেরিয়াতে। সেখানে ৭৭% নারী ত্বকের রং উজ্জ্বল করার জন্যে নানা ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকেন। তার পরেই রয়েছে টোগো, ৫৯% ও দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৫%।

এশিয়ায় ৬১% ভারতীয় নারী ও চীনে ৪০% নারী এসব ব্যবহার করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, এসব জিনিসের প্রতি ভোক্তাদের চাহিদাও বাড়ছে। একই সাথে এসব মোকাবেলা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত বছর ঘানাতে কর্তৃপক্ষ গর্ভবতী নারীদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিল রং ফর্সাকারী ট্যাবলেট না খাওয়ার জন্যে। কারণ এসব ট্যাবলেটে পাওয়া গেছে এন্টিঅক্সিডেন্ট গ্লুটাথিওন।

গর্ভবতী নারীরা মনে করেন তারা যদি এই ট্যাবলেট খান তাহলে তাদের গর্ভে থাকা সন্তানের গায়ের রং ফর্সা হবে।

এ ধরনের পণ্য মোকাবেলার জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকাতে আছে কঠোর কঠোর আইন। গাম্বিয়া, আইভরি কোস্ট ও রোয়ান্ডাতে রং ফর্সাকারী যেসব পণ্যে হাইড্রোকুইনোন আছে সেগুলো নিষিদ্ধ করেছে।

শরীরে মেলানিনের (বাদামী কিম্বা কালো পিগমেন্ট, যার কারণে ত্বকের রঙ নির্ধারিত হয়) উৎপাদন কমিয়ে দেয় হাইড্রোকুইনোন। একই সাথে এটি স্থায়ীভাবে ত্বকের ক্ষতিও করতে পারে।

চিকিৎসা

ব্রিটিশ স্কিন ফাউন্ডেশন বলছে, ‘চর্ম চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে হাইড্রোকুইনোন আছে এরকম পণ্য নিরাপদে ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বকের যেসব স্থানে কালো দাগ পড়ে গেছে সেগুলো এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায় এবং তাতে ভালো ফল পাওয়াও সম্ভব।’

ব্রিটিশ স্কিন ফাউন্ডেশনের একজন মুখপাত্র এন্টন আলেকজানড্রফ বলেন, রং ফর্সাকারী ক্রিমের কোনো কোনোটি হয়তো সহায়ক। কিন্তু সেটা একজন ত্বক বিজ্ঞানীর পরামর্শে ও তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় সেগুলো বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে।

কার্যকারিতা


তবে ব্রিটিশ স্কিন ফাউন্ডেশন বলছে, "পুরো ত্বক ফর্সা করার নিরাপদ কোন উপায় নেই।

দোকানে যেসব ক্রিম বিক্রি হয় সেগুলো যে আসলেই গায়ের রং ফর্সা করে এমন প্রমাণ নেই। এর উল্টো ফলও হতে পারে। এই ক্রিম আপনার ত্বককে অস্বাভাবিক রকমের শাদা অথবা আরো কালোও করে দিতে পারে। এর ফলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে ত্বকের স্বাভাবিক গুণাবলীও," সতর্ক করে দিয়েছেন আলেকজানড্রফ।

তবে ম্যালাসমার মতো কিছু কিছু সমস্যার চিকিৎসার জন্যে চিকিৎসকরা রং ফর্সাকারী পণ্য প্রেসক্রাইব করে থাকেন।

বয়স হলে শরীরে এরকম সমস্যা দেখা দেয়া খুবই সাধারণ বিষয়। এতে ত্বকে বাদামী কিম্বা ধূসর রঙের দাগ তৈরি হয়। বিশেষ করে মুখে। নারীদের দেহে এরকম হওয়ার হার বেশি। বিশেষ করে গর্ভধারণের সময়।

আলেকজানড্রফ বলেন, ‘একজন চর্ম চিকিৎসকের মাধ্যমে ত্বকের রং ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে সেজন্যে অনুমোদিত কিছু ক্রিম আছে যা ডাক্তারদের পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে।


পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে নারীরা চিকিৎসকদের পরামর্শ ও নজরদারি ছাড়াই এসব রং ফর্সাকারী কসমেটিক ব্যবহার করতে শুরু করে দেন। কিন্তু এসব প্রসাধনীর গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। যেমন:

১. ত্বকে চুলকানি
২. প্রদাহ
৩. জ্বালাপোড়া
৪. ফুলে যাওয়া
৫. ফুসকুড়ি পড়া

মার্কারি

কিছু কিছু পণ্য যেগুলো দ্রুত রং ফর্সা করার দাবি করে সেগুলোতে নানা রকমের ক্ষতিকর উপাদানও থাকতে পারে। যেসব পণ্যে মার্কারি আছে সেগুলো স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর," বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কিন্তু তারপরেও মার্কারি আছে এরকম পণ্য চীন, লেবানন. মেক্সিকো, পাকিস্তান, ফিলিপিন, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হচ্ছে।

শরীরে মেলানিন গঠনের প্রক্রিয়াকে শ্লথ করে দেয় এ হাইড্রোকুইনোন।

যেসব পণ্যে মার্কারি আছে সেগুলোর বিক্রি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকার বহু দেশে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফিলিপিন ও আরো কয়েকটি দেশ অল্প পরিমাণে মার্কারি আছে যেসব পণ্যে সেগুলো বিক্রির অনুমোদন দিয়ে থাকে।

স্বাস্থ্য

আলেকজানড্রফ বলেন, ‘মার্কারি হচ্ছে বিষ।’ তিনি বলেন, এর ফলে নানা রকমের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।

মার্কারি আছে যেসব সাবান ও ক্রিমে সেগুলো ব্যবহার করলে যেসব ক্ষতি হতে পারে। তা হলো:

১. কিডনির ক্ষতি

২. ত্বকে ফুসকুড়ি হওয়া, রং বদলে যাওয়া, কালশিটে দাগ পড়া

৩. ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাল সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যাওয়া

৪. উদ্বেগ উৎকণ্ঠা, বিষণ্ণতা, মানসিক অস্থিরতা থেকে বৈকল্য

৫. স্নায়ু-জনিত সমস্যা

ধারণা

মার্কিন ত্বক বিজ্ঞানী শুয়াই জু বলেন, ‘লোকেরা মনে করেন যে ত্বকের ক্রিম সাধারণত নিরাপদ। এর ফলে স্বাস্থ্যের কী ক্ষতি হতে পারে তা নিয়ে তারা চিন্তাও করেন না। এ মানসিকতা পরিবর্তনের প্রয়োজন। আমার কাছে যেসব রোগী আসেন তারা আমাকে বিভিন্ন রকমের ক্রিম দেখান যেগুলো তারা কোনো ধরনের প্রেসক্রিপশান ছাড়াই বাজার থেকে কিনেছেন। সেগুলো দেখে সত্যিই আমি অবাক হয়ে যাই।

তিনি যেখানে পড়ান সেখানে এসব ক্রিমের ব্যবহারের ওপর একটি গবেষণা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে স্টেরয়েড আছে এরকম কিছু কিছু ক্রিম ঠিকমতো ব্যবহার না করলে শরীরের ক্ষতি করতে পারে।

বিপদ

বিপদজনক এসব পণ্যের বিক্রি ঠেকাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে শুয়াই জু।

তিনি বলেন, ‘ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প যেরকম নিয়ন্ত্রিত, কসমেটিক শিল্প সেরকম নয়। শীর্ষস্থানীয় যেসব কোম্পানি আছে তারা এ ধরনের বিপদজনক পণ্য তৈরি করে না। কিন্তু এধরনের পণ্য যখন বাইরে থেকে আমদানি করে আনা হয় তখনই নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বাজারে এরকম অনেক জাল পণ্য বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করা কঠিন। যারা এসব উৎপাদন করে তাদেরকে পাকড়াও করা সহজ নয়। কিছু কিছু পণ্য আছে যেগুলোতে কী উপাদান আছে সেসবও উল্লেখ করা হয় না। আপনি জানতেও পারেন না কারা এসব উৎপাদন করেছে। পণ্যটি ধরে এর উৎপাদনকারীদের খুঁজে বের করাও সম্ভব হয় না।

ফলে ত্বকের রং ফর্সা করার এরকম দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে লোকজনকে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।


সামাজিক আন্দোলন

এসব পণ্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে অনেকে সিনেমা নাটকের মতো বিনোদন শিল্পকে দায়ী করে থাকেন। কারণ এগুলোতে বিশেষ ধরনের শারীরিক কাঠামো ও ত্বকের রং-এর ওপর জোর দেয়া হয়।

আর এর ফলে হুমকির মুখে পড়ে লাখ লাখ নারীর স্বাস্থ্য।

গায়ের রং ফর্সা হতে হবে - এ মানসিকতার পরিবর্তনের জন্যে বিভিন্ন সমাজে নানা ধরনের আন্দোলন চলছে।

ভারতে এরকম এক আন্দোলনের নাম: 'কালোই সুন্দর।'

পাকিস্তানে এরকম এক আন্দোলনের স্লোগান: ‘সুন্দর হতে হলে আপনার ত্বকের রং ফর্সা হতে হবে না।

সূত্র : বিবিসি


আরও খবর



কখন কোথায় ঢাকার ঈদের জামাত

প্রকাশিত:সোমবার ০২ মে 2০২2 | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৭৯জন দেখেছেন
Image

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে , এবার ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় করোনার কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর এবারই এখানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে তবে বৈরী আবহাওয়া থাকলে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে

বায়তুল মোকাররমে ঈদের  জামাত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের নামাজের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে। ঈদের দিন সকাল ৭টা৮টা৯টা১০টা  ১০টা ৪৫ মিনিটে বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  বুয়েটে ঈদ জামাত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জমায়তে আহলে হাদিসে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে এই জামাতে ইমামতি করবেন বংশাল বড় জামে মসজিদের খতিব শাইখ মুহাম্মাদ মোস্তফা সালাফি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েটঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত সোয়া ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে

তবে মাঠে কোনো কারণে জামাত আয়োজন করা সম্ভব না হলে বুয়েটের নির্ধারিত তিনটি মসজিদে ঈদ জামাত আয়োজন করা হবে

সংসদে ভবনে ঈদের জামাত

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে  জামাত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে

এছাড়াও রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়  সাড়ে ৯টায়ধানমন্ডি ঈদগাহ জামে মসজিদে সকাল ৮টায়মিরপুর দারুস সালাম এলাকার মীর বাড়ি আদি (মাদবর বাড়িজামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়  সকাল ৯টামিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের হারুন মোল্লাহ্ ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টায়মতিঝিলের আরামবাগের দেওয়ানবাগ শরিফে সকাল ৮টা  সাড়ে ৯টায়বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মারকাজুল ফিকহিল ইসলামী মসজিদে সকাল ৭টায়বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকে উম্মে কুলসুম জামে মসজিদ (সি ব্লকসকাল সোয়া ৭টায়সকাল সাড়ে ৭টায় এফ ব্লক জামে মসজিদেসকাল ৮টায় বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ (জি ব্লক), সকাল সাড়ে ৮টায় ফকিহুল মিল্লাত জামে মসজিদে (এন ব্লকঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে

এছাড়াও গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে সকাল ৬টাসাড়ে ৭টা  ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে


আরও খবর



দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৪৪৩, বহু নিখোঁজ

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১২২জন দেখেছেন
Image

দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশে গত কয়েকদিনে প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় এবং ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৩ জনে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এখনও নিখোঁজ থাকা বহু মানুষের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

রয়টার্স জানিয়েছে, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে রাস্তাঘাট-ঘরবাড়ি। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এসবের প্রভাবে আফ্রিকার ব্যস্ততম বন্দর ডারবানের কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রাদেশিক এক আর্থিক কর্মকর্তার হিসাবে বন্যায় অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ ৬৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের বেশি দাঁড়াবে।

প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী শিলে জিকালালা বলেছেন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪৩ জনে ঠেকেছে। আর ৬৩ জনের কোনো হদিস নেই।

বেশি আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, রোববার আবহাওয়া পূর্বাভাসে আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে বলা হয়েছে। এ নিয়ে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। অনেকেই তাদের নিখোঁজ প্রিয়জনের খবর পেতে দুশ্চিন্তা নিয়ে অপেক্ষা করছেন।

সানশাইন গ্রামের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী সোবোঙ্গেলে মোজোকা জানান, কয়েকদিন ধরেই তিনি তার আট বছরের ভাইপোর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা হারাইনি। যদিও দিন গড়ালেই দুশ্চিন্তা বাড়ছে।’

মোজোকা রয়টার্সকে বলেন, ‘বৃষ্টি দেখলেই আমরা ট্রমাটাইজড হয়ে যাচ্ছি।’ বন্যায় তার বাড়িঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরেক গ্রামে বাড়ির দেয়াল ধসে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। ওই পরিবারের চার বছরের এক শিশু এখনও নিখোঁজ।

প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় মনোনিবেশ করতে পরিকল্পিত সৌদি আরব সফর পিছিয়ে দিয়েছেন। সংকট মোকাবিলায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।


আরও খবর



গাজীপুরের রাস্তায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঢল

প্রকাশিত:রবিবার ০১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৭৭জন দেখেছেন
Image

সদরুল আইন,গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

ঈদের আগে কারখানা ছুটির পর মানুষের ঢল নেমেছে গাজীপুরের রাস্তায়।

 গাড়ির অভাবে আর যানজটে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে।

শনিবার থেকে রোববার  দুপুর পর্যন্ত গাজীপুরে ঢাকা-ময়মমনসিংহ মহাসড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ে।

শেষ পর্যন্ত বাস না পেয়ে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়ায় মিনিবাসে, মাইক্রোবাসে, ট্রাকে, মোটরসাইকেলে, পিকআপে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রওনা হয়েছেন গন্তব্যের উদ্দেশে।প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে এ যেন হিমালয় আরোহন।

গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক জাকির হোসেন। ঈদে স্ত্রী হালিমা বেগম আর মেয়ে জুলেখাকে নিয়ে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুরে গ্রামের বাড়িতে যাবেন।

 তিনি বলেন, ভোর ৫টা থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়ে বাসের অপেক্ষায় থাকলেও সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কোনো বাসে উঠতে পারেননি তারা।

দু-একটি বাস পেলেও তিনজনের জন্য তিন হাজার টাকা ভাড়া চাওয়া হয় বলে অভিযোগ জাকিরের। নিরুপায় হয়ে বসে থেকে পরে একটি পিকআপে ৫০০ টাকায় বগুড়া পর্যন্ত যাওয়ার জন্য রওনা দেন তারা।

গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা হলেও দ্বিগুণেরও বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার কামরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “যার যেমন খুশি তেমন ভাড়া নিচ্ছে। কাউকে কিছু বলারও সুযোগ নেই।”

তাদের মতই হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষকে চন্দ্রা ত্রিমোড়ে যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় রাত ৯টার দিকে। বাসগুলো ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ তাদের।

চন্দ্রা এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ওসি ফিরোজ হোসেন।তিনি বলেন, শনিবার থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত অধিকাংশ কারখানা ছুটি হলে দুপুরে চন্দ্রা এলাকায় মানুষের ঢল নামে।

 গাড়িগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলতে না পারায় দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। চন্দ্রা মোড়ে হাজার হাজার মানুষ বাসে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছে। এ কারণেও যান চলাচল কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অধিকসংখ্যক যাত্রী একসঙ্গে রওনা হওয়ায় গাড়ির অভাব পড়ে বলে জানান গাজীপুর সিটি পুলিশের উপ-কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, “শনিবার দুপুরে অধিকাংশ পোশাক কারখানা ছুটি হলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। এতে গাড়ির সংকট দেখা দেয়। গাড়ির তুলনায় যাত্রী বেশি হওয়ায় অনেকেই ট্রাক ও পিকআপে করে রওনা হন।

“তিন দিন আগে এসব গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও গাড়ির অভাবের কারণে আটকানো হচ্ছে না। আটকালে জট লাগতে পারে।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সড়কে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও একই পরিস্থিতি। বেশির ভাগ কারখানা একযোগে বন্ধ হওয়ায় বাসের অভাব পড়ে। ঘরমুখী মানুষ পিকআপে, ট্রাকে ও মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরতে শুরু করে। এতে বিভিন্ন জায়গায় দেখা দেয় যানজট।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাইপাইল এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন পোশাক শ্রমিক জুলেখা বেগম। তিনি নাটোরে বাড়ি যাওয়ার জন্য পরিবার নিয়ে রওনা হয়েছেন।

জুলেখা বলেন, “যানজটের কারণে এখন বিরক্ত হচ্ছি। আবার মানুষের ঢল বেশি হওয়ায় সুযোগ নিচ্ছে বাস মালিকরা। তারা ইচ্ছামত ভাড়া বাড়াচ্ছে।”

পুলিশ যানজট নিরসনে সচেষ্ট থকলেও ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

তবে শনিবারের তুলনায় আজ এসব সড়কসমুহে যানজট সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।ঈদ মঙ্গলবার হবে এমন খবরে অনেকেই ধীরে সুস্থে বুঝে শুনে তাড়াহুড়ো না করে গ্রামের বাড়িতে রওনা হচ্ছেন।ফলে শনিবারের তুলনায় আজ গাজীপুর থেকে উত্তরবঙ্গ ও মযমনসিংহগামী পরিবহনগুলোতে তেমন চাপ পরিলক্ষিত হয়নি।


আরও খবর



পচছে আমদানি পেঁয়াজ

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১২জন দেখেছেন
Image

একদিকে দেশের বাজারে হু হু করে বাড়ছে দেশি পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে, দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পচে যাচ্ছে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ। ৫০ কেজি পচা পেঁয়াজের বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে। আবার ভালো মানেরটা বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বলছে, প্রচণ্ড গরম এবং বিক্রি কম হওয়ায় পচে যাচ্ছে এসব পেঁয়াজ।

শনিবার (১৪ মে) সকালে হিলি বন্দরে পেঁয়াজের গুদাম ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজে ভর্তি রয়েছে এসব গুদাম। গরম আর ক্রেতা সংকটের কারণে এমন হচ্ছে। নারী শ্রমিকরা পেঁয়াজ বাছাইয়ের কাজ করছেন। ভালো মানেরগুলো আলাদা করছেন। আর পচা ও অল্প খারাপগুলো মেঝেতে ঢেলে শুকানো হচ্ছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির পারমিট শেষ হয়ে যায়। রমজানের কারণে সরকার পেঁয়াজ আমদানির পারমিট বৃদ্ধি করে দেয় ৫ মে পর্যন্ত। কিন্তু ১ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত ঈদের ছুটি থাকায়, পেঁয়াজ আমদানিতে ব্যর্থ হয় আমদানিকারকরা। তবে পারমিট বন্ধের কারণে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে এই বন্দরে। চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।

হিলি বন্দরের রায়হান টেডার্সের ম্যানেজার আব্দুল মান্নান বলেন, ঈদের আগে পেঁয়াজগুলো ভারত থেকে আসছে। ওই দেশ থেকে আসতে প্রায় ৭ দিন সময় লাগে, এ ছাড়াও গরম। এতে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা নষ্ট ৫০ কেজি পেঁয়াজের বস্তা ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বিক্রি করছি।

হিলি বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মনোয়ার চৌধুরী বলেন, বেচা-বিক্রি কম, গরমে পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে, অনেক লোকসান গুনতে হবে। ৩ টাকা থেকে ৩০ টাকা দরে পেঁয়াজের কেজি বিক্রি করছি। পচাগুলোর দাম আলাদা


আরও খবর



বিক্ষোভ দমাতে গুলির নির্দেশ

শ্রীলঙ্কায় লুটপাট ও ভাঙচুর

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
Image

স্মরণকালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভ দমাতে নিরাপত্তাবাহিনীকে লুটপাট ও ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মে) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ নির্দেশনা দিয়েছে লঙ্কান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নলিন হেরাথ বলেছেন, কাউকে সরকারি সম্পত্তি লুটপাট বা মানবজীবনের ক্ষতি করতে দেখলে নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় এক এমপির অপমৃত্যু, আরেকজনের ওপর হামলা এবং মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীসহ অর্ধশতাধিক নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের পরের দিনই এমন কঠোর নির্দেশনা দিলো লঙ্কান কর্তৃপক্ষ।

গত কয়েক মাস ধরেই শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে চরম মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে, মুদ্রাস্ফীতিও আকাশছোঁয়া। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ।

এ অবস্থায় ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে। এক পর্যায়ে রাজাপাকসে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়।

বিক্ষোভ দমাতে এপ্রিলের শুরুতে রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। কিন্তু প্রেসিডেন্টের এমন পদক্ষেপ বিক্ষোভ দমাতে ব্যর্থ হয়। উল্টো মাত্রা আরও তীব্র হয়।


আরও খবর