Logo
শিরোনাম

নাবিকদের নিয়ে আমিরাতের বন্দরে এমভি আবদুল্লাহ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

সোমালিয়ান জলস্যুদের হাতে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার ৯ দিন পর অবশেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়া বন্দরে নোঙর করেছে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। সোমবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দুবাইয়ের আল হামরিয়া বন্দরে ভেড়ে জাহাজটি।

এসময় নাবিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবু জাফর। এছাড়াও ১৫ সদ্যের প্রতিনিধি দলে আছেন কেএসআরএম (কবির) গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহরিয়ার জাহান আরাফাত।

এর আগে, রোববার (২১ এপ্রিল) এমভি আবদুল্লাহ ওই বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করেছিল। কিন্তু বন্দরে জায়গা না থাকায় জাহাজটির বন্দরে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়।

কেএসআরএম গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৩ নাবিকের সবাই সুস্থ আছেন। কিন্তু এই মুহুর্তে তারা চাইলে বাইরে আসতে পারবেন না। কারণ, আরব আমিরাতে প্রবেশের জন্য এখনও তাদের ভিসা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ভিসার জন্য আবেদন করা হবে।

জাহাজের মালিকপক্ষ জানায়, এখন জাহাজের কয়লা খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর নতুন করে কার্গো ভর্তি করার পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

এদিকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেশটির আজমান প্রদেশে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেএসআরএম গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহরিয়ার জাহান।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে জলদস্যুর কবলে পড়ে ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। জলদস্যুরা জাহাজে ‍উঠে নাবিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলে দস্যুদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় নিয়ে যেতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে সুবিধাজনক স্থানে জাহাজটি নোঙর করায় দস্যুরা। এরপর মুক্তিপণের বিষয়ে দেনদরবার শুরু হয়। শনিবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় বিকেলে ২৩ নাবিকসহ জাহাজটি তারা ছেড়ে দেয়।


আরও খবর



যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে টর্নেডোর তাণ্ডব, মৃত্যু-১৫

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

ডিজিটাল ডেস্ক:


ভয়াবহ টর্নেডো ও ঝড়ের তাণ্ডবে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি অঙ্গরাজ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন। টর্নেডোর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে বিধ্বস্ত হয়েছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। 


 সোমবার (২৭ মে) সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওকলাহোমা, টেক্সাস এবং আরকানসাসে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র টেক্সাসেই মারা গেছেন ৭ জন।


শনিবার গভীর রাতে সাউদার্ন প্লেইনস অঞ্চলে ঝড় আঘাত করে। এতে কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।



টেক্সাসের কুক কাউন্টির শেরিফ রে স্যাপিংটন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ডালাসের উত্তরে ভ্যালি ভিউ এলাকায় টর্নেডোর আঘাতে সাত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এবিসির শাখা ডব্লিউএফএএর প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে। তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।


টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট চারটি কাউন্টির জন্য একটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এতে যেসব মানুষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সহায়তার জন্য কর্মী নিযুক্ত করা এবং অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।



টর্নেডো ও ঝড়কে কেন্দ্র করে কিছু বাড়িঘর এবং একটি গ্যাস স্টেশন ধ্বংস হয়ে গেছে। একটি সড়কে কিছু গাড়ি উল্টে গেছে।


যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে টর্নেডোর তাণ্ডব

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে টর্নেডোর তাণ্ডব

শনিবার গভীর রাতে মায়েস কাউন্টিতে টর্নেডো আঘাত হানলে কমপক্ষে দুজনের মৃত্যু হয়। 


কাউন্টির জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান জনি জ্যানজেন তুলসাতে ফক্স নিউজ–সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে এ কথা বলেছেন।


রোববার ভোরে আরকানসাসে ঝড়ে পাঁচ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এবিসির স্থানীয় স্টেশন কেএটিভিকে কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঝড়ে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং গাছপালা উপড়ে গেছে। কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।


মেয়র ক্রেইগ গ্রিনবার্গ বলেন, কেন্টাকির লুইসভিলেতেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের কারণে ইন্ডিয়ানাপোলিস ৫০০ নামের কার রেস শুরু হতে চার ঘণ্টা দেরি হয়েছে।  তখন নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ–বিভ্রাটবিষয়ক তথ্য সংগ্রহকারী ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, ঝড়কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৪৯ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় টর্নেডোজনিত সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে।


আরও খবর



১০ ফুট পানির নিচে সুন্দরবন, প্রাণীদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় বনবিভাগ

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ |

Image


বিডি টু ডে রিপোর্ট:


ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে সুন্দরবন এলাকা ৭ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। 


বিশেষ করে কটকা, কচিখালি, নীলকমল, মান্দারবারি, হলদিবুনিয়া এলাকা সবচেয়ে বেশি পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। 


এসব এলাকার বণ্যপ্রাণী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে বন বিভাগ।


রোববার (২৬ মে) বিকেলের দিকে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা ১০ ফুট পর্যন্ত পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এর আগে দুপুর থেকেই পানির চাপ বাড়তে থাকে।


সুন্দরবন বন বিভাগের বনসংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, সুন্দরবনের যে মিঠা পানির পুকুরগুলো রয়েছে যা বন্যপ্রাণী, বনজীবী এবং বনকর্মীদের খাবার পানির একমাত্র উৎস; প্রতিটি পুকুরই লোনা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। 


এছাড়া পানির উচ্চতা সেখানে ৭ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত হয়েছে। বনে বাঘ শাবক, হরিণ শাবক কিংবা শকুন শাবক এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণী আছে। বন্যপ্রাণীরা এখানে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, কটকা, কচিখালি, নীলকমল, মান্দারবারি, হলদিবুনিয়া- এসব স্থানে পানির যে উচ্চতা, পানির যে তীব্র স্রোত হচ্ছে তাতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, বন্যপ্রাণীদের যথেষ্ট ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।


আরও খবর



আটকে গেল ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ |

Image



মাজহারুল ইসলাম মাসুম/সদরুল আইনঃ


ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ইতালিয়ান-থাই কোম্পানির শেয়ার চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের কাছে হস্তান্তরের ওপর দুই সপ্তাহের স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ। 


এর ফলে এক্সপ্রেসওয়ের কাজ আপাতত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।


বৃহস্পতিবার (১৬ মে) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ৮ সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। এ সময় আপিল বিভাগ বলেন, আর কয়দিন কাজ বন্ধ থাকলে সমস্যা নেই।


আদালতে ইতালিয়ান-থাই কোম্পানির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন, শেখ মোহাম্মদ মোরসেদ, ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ ফারুক, ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল। 


চায়না কোম্পানির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাছান চৌধুরী, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।


আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাছান চৌধুরী বলেন, ইতালিয়ান-থাই কোম্পানির শেয়ার চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের কাছে হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে হাইকোর্টের আদেশের ওপর আপিল বিভাগ দুই সপ্তাহের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন।


এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চায়না ব্যাংক অব এক্সিম জানিয়ে দিয়েছে শেয়ার হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত তারা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজে টাকা দেবে না। এর ফলে আপাতত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকবে।


গত ১২ মে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ইতালিয়ান-থাই কোম্পানির শেয়ার চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের কাছে হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞার আদেশ তুলে নেন হাইকোর্ট। 


এর ফলে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে থাইল্যান্ডের ইতালিয়ান-থাই কোম্পানির শেয়ার চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করতে বাধা কেটে যায়।


বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধরীর হাইকোর্টের একক কোম্পানি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সেদিন ব্যারিস্টার মেহেদী হাছান চৌধুরী বলেন, আদেশে আদালত বলেছেন, দেনা-পাওনা নিয়ে থাই ও চায়না কোম্পানির বিরোধ সিঙ্গাপুরের আরবিট্রেশন আদালত নিষ্পত্তি করবেন।


পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে ইতালিয়ান থাই কোম্পানি।


এর আগে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ইতালিয়ান-থাই কোম্পানির শেয়ার চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের কাছে হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ইতালিয়ান-থাই কোম্পানির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।


এদিকে হঠাৎ করেই শ্রমিকশূন্য ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে মগবাজার অংশ। নেই কোনো নির্মাণ যজ্ঞ। পড়ে আছে এক্সপ্রেস ওয়ের কাঠামো। কথা ছিল চলতি বছরই শেষ হবে অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন প্রকল্প ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ে। 


এই সময় কাজ চলার কথা দ্রুত গতিতে। জানা যায় তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্বে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। থাইল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাই কিস্তির টাকা দিতে না পারায় তাদের শেয়ার দাবি করে চীনা প্রতিষ্ঠান।



 এই নিয়ে সিঙ্গাপুরে আরবিট্রেশন চলা অবস্থায় সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বন্দ্ব গড়ায় আদালত পর্যন্ত। সেই সঙ্গে ঋণ সহায়তা বন্ধ করে দেয় দুটি চীনা ব্যাংক।


থাইল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাই, চীনের শ্যানডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন গ্রুপ এবং সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড মিলে করছিলো এক্সপ্রেসওয়ের কাজ। এই কাজে তিন প্রতিষ্ঠান শেয়ার যথাক্রমে ৫১, ৩৪ ও ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ হলো এক্সপ্রেসওয়ের নির্বাহী প্রতিষ্ঠান।


প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণ ব্যয়ের ৭৩ শতাংশের জোগান দেবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। আর ২৭ শতাংশ দেবে বাংলাদেশ সরকার।


আরও খবর



স্বাস্থ্যখাতে রন্ধে রন্ধে দুর্নীতি, কেরানিও শতকোটি টাকার মালিক

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image



আবুল খায়ের:


রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতি। এখন চারদিকে শুধুই দুর্নীতির খবর। কোটি টাকা না, শত কোটি, হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিভাবে এত টাকার মালিক হলেন তারা তা নিয়ে খুব বেশি অনুসন্ধানের কথা শোনা যায় না।


 আগে যেখানে এক কোটি টাকার কথা শুনলেও অনেকে চমকে উঠছেন, এখন সেখানে হাজার কোটি টাকার খবরেও কেউ অনুসন্ধান করছে না। সর্বশেষ নজরে এলো হোমিও প্যাথি ডাক্তার ডা. দিলিপ রায়ের দুর্নীতির খবর। কিভাবে তিনি এত টাকার মালিক হলেন সেটার অনুসন্ধান জরুরী। 


স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ‘যে অভিযোগগুলো আসছে সেগুলো অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা তালিকা করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’


সাবেক এক মন্ত্রীর প্রশ্রয়ে স্বাস্থ্যখাতে ঠিকাদার মিঠুর উত্থান হয়েছে। দেশের বাইরে তার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ। নিম্নমানের যন্ত্রপাতি এবং অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করে তিনি হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়েছেন।


 তার বিরুদ্ধে নিউজ করতে গিয়ে হুমকিতে পড়তে হয়েছে সাংবাদিকদেরও। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরও অনেক কর্মকর্তা তাকে প্রটেকশন দিয়েছেন। এরপর এলো ড্রাইভার মালেকের শত শত কোটি টাকার সম্পদের কথা। সাবেক একজন মহাপরিচালকের ড্রাইভার হিসেবে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেনাকাটাসহ সব সেক্টরেই তার হাত ছিল। 


একজন ড্রাইভার কিভাবে এত টাকার মালিক হলেন। এর পর এলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (পরিচালক) এডুকেশনে বিভাগে কেরানি আফজালের কাহিনী। কানাডায় তার বাড়ি আছে। কেরানি কিভাবে এত বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হলেন সেটাও এখনো অজানা। 


দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছিলেন, ‘এসব দুর্নীতিবাজদের মূল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান হল সচিবালয়। সচিবালয় থেকে এগুলো বন্ধ করা না গেলে এদের কখনই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’ ঠিক তাই হচ্ছে। স্বাস্থ্যের মতো সব জায়গায় দুর্নীতির বিশাল নেটওয়ার্ক। সবাই মিলেই গড়ে তুলেছে সিন্ডিকেট। 


যে দুর্নীতির ভাগ পায় সবাই। ফলে এখন মন্ত্রণালয়ও কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে পারছে না। গত নির্বাচনের আগে আমলা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দুই শতাধিক ব্যক্তির দুর্নীতির তালিকা ছাপা হয়েছিল। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তারা এখন আরও বেশি বেপরোয়া। 


দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার জহিরুল হক বলেন, ‘আমরা নিজেরাও অনুসন্ধান করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি কারোর বিরুদ্ধে মিডিয়ায় খবর এলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমরা তদন্ত করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো। কাউকে ছাড় দেবো না।’


অথচ স্বাস্থ্য খাতে যাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া কথা সেই চিকিৎসকরাই বঞ্চিত হচ্ছেন। এখন হাসপাতালে অনেক শিক্ষকের পদ শূন্য। ছাত্ররা সুশিক্ষা থেকে বঞ্জিত হচ্ছে। শিক্ষকদের পদোন্নতি হচ্ছে না। মেধাবীরাও আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না। 


একজন চিকিৎসকের চাকরি নেওয়ার পর অধ্যাপক হতে আর চাকরির বয়স থাকে না। দলবাজ না হলে পদোন্নতিও হয় না। পুরো স্বাস্থ্য খাতে যেন অশনি সংকেত। চিকিৎসকরাও কাজে উৎসাহ হারাচ্ছেন। জুনিয়রদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন অনেকে। ফলে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না। 


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে দুর্নীতি দেখার কেউ নেই। সুযোগ সুবিধা না পেলে কেন তারা এই পেশায় থাকবেন? ফলে সামনের দিনে চিকিৎসা সেক্টরে ব্যাপক শূন্যতার সৃষ্টি হতে পারে।


বিএমএ মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক দুলাল বলেন, ‘আসলে দুর্নীতি এমন ভয়াবহ পর্যায়ে গেছে। যারা দুর্নীতি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে দুর্নীতি বেড়ে গেছে। অনেক বড় কর্মকর্তাও এর সঙ্গেও জড়িত। সবাইকে জবাবদিহিতার মধ্যে না আনা গেলে বা পেছনে যারা আছে তাদের খুঁজে বের করে জবাবদিহিতায় আনতে না পারলে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না।’  


সর্বশেষ দুর্নীতির তথ্য সামনে এসে ডা. দিলীপ কুমার রায়ের। পনের বছরের ব্যবধানে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. দিলীপ কুমার রায়। রাজনীতির জাদুর ছোঁয়ায় তিনি হোমিও মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক থেকে হয়েছেন বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথী বোর্ডের চেয়ারম্যানও।


 রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারে সিদ্ধহস্ত দিলীপ কুমার রায় টানা পাঁচ মেয়াদে ১৫ বছর ধরে হোমিও বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ দখলে রেখেও গড়েছেন রেকর্ড।


বোর্ডে দুর্নীতি হালাল করতে নীতিকে পাল্টে অনিয়মকেও তার ব্যক্তিগত নিয়মে পরিণত করেছেন। চা-পোষা হোমিও চিকিৎসক সেই দিলীপ কুমার এখন রাজনীতিতে বড় নেতা, স্বর্ণ, ডায়মন্ড, ইটভাটা, খাদ্য ও ওষুধের এক্সেসরিজের ব্যবসায়ীও। 


ফরিদপুরের বোয়ালমারী এলাকার ধোপা পরিবারের সন্তান দিলীপ কুমার এখন প্রতিষ্ঠিত এক স্বর্ণ ও হিরা ব্যবসায়ীর নাম। কারখানা গড়ে ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছেন খাদ্য, ওষুধ ও ওষুধের এক্সেসরিজ খাতেও। অথচ ৮০-এর দশকে হোমিওপ্যাথী মেডিকেল কলেজে ছিলেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। 


পাশাপাশি হাঁটতেন রাজনৈতিক এক নেতার অনুসারী হয়ে। এরপর দিলীপ কুমারের উত্থান যত না আকাশচুম্বী ততই রহস্যে ঘেরা।


অথচ ২০১৫ সালের ৩০ জুন ডা. দিলীপ কুমার রায়কে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুসন্ধান করেন দুদকের উপ-পরিচালক এসএম মফিদুল ইসলাম। তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দিলীপ কুমার রায়কে অব্যাহতি দেয় কমিশন।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি কোন কলেজে কাউকে চাকরি দিতে পারি না। এই চাকরি দেন ডিসিরা। সামনে আওয়ামী লীগের সম্মেলন আসছে। সে কারণে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।'


আরও খবর



বিকেলের মধ্যে রাজধানী অতিক্রম করবে রেমাল

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ |

Image


সদরুল আইন:


উপকূলে ঝড়, বৃষ্টি, জোয়ার আর জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডব চালিয়ে ঘূর্ণিঝড় রেমাল বর্তমানে যশোর পূর্ববর্তী অঞ্চলে অবস্থান করছে।


 ধারণা করা হচ্ছে, আজ সোমবার বিকেল ৩টা নাগাদ রাজধানী ঢাকা অতিক্রম করবে ঘূর্ণিঝড় রেমালের কেন্দ্রভাগ। এ সময় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হবে।


সোমবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান ঘূর্ণিঝড় নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন।


তিনি জানান, রেমালের কেন্দ্রভাগ বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ঢাকার দিকে আসবে। এটি এখন অনেকটা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হচ্ছে। 


এর ফলে ঢাকায় আরও বৃষ্টি হবে। সেই সাথে ঝোড়ো বাতাস বইবে। তবে ঘূর্ণিঝড়টি রাজধানীর ওপর দিয়ে গেলেও তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না।


আজিজুর রহমান বলেন, ঢাকার ওপর দিয়ে এটা পর্যায়ক্রমে সিলেট হয়ে বাংলাদেশের বাইরে যাবে ৷ ঢাকায় আসলে বৃষ্টিপাত আর দমকা বাতাস বাড়বে একটু।



দেশজুড়ে তাণ্ডব চালানো ঘূর্ণিঝড় রিমালের কেন্দ্র ঢাকার ওপর দিয়ে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ সারাদিন ঢাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হবে। এর সঙ্গে থাকবে দমকা হাওয়া। আগামীকাল ঢাকার আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে।


এই আবহাওয়াবিদ বলেন, আমরা যে পথের কথা বলেছিলাম, ঘূর্ণিঝড় সেই পথ দিয়ে অতিক্রম করেছে। সাগরে যেসব ট্রলার নিরাপদে আছে, তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।


রেমাল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে জানিয়ে আজিজুর রহমান বলেন, রেমাল এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে ঘূর্ণিঝড় ও সবশেষে উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে যশোর ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। 


এটি আরও উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঝড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। এটি আগামীকালের মধ্যে আরও দুর্বল হয়ে বৃষ্টি দিয়ে একই দিক দিয়ে নিম্নচাপ আকারে আসামের দিকে চলে যাবে।



আরও খবর