Logo
শিরোনাম
বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা" পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার ১৬৩ টাকায় তেল বিক্রির ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ভোক্তার মহাপরিচালক দুর্গাপুরে বালুবাহী হ্যান্ডট্রলির চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত নওগাঁয় প্রাইভেটকার তল্লাসি, ৭২ কেজি গাঁজা সহ যুবক আটক রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার চাপায় গৃহবধু নিহত রাঙ্গামাটির বড়ইছড়ি নির্মাণ শ্রমিক বোঝাই ট্রাক খাদে নিহত-২, আহত-২০ মুসলিমদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে নওগাঁয় কম্পিউটার ব্যবসার অন্তরালে অশ্লিল ভিডিও বিক্রি করায় ৩ যুবক আটক

সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারী (কঃ) জীবনি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১১ জুলাই ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক গবেষক :

শাহসূফী হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারি পাকভারতে মুসলিম রাজত্বের আমলে বাগদাদ নগর নিবাসী এক বিশিষ্ট সৈয়দ পরিবার দিল্লী শহরে আগমন করেন। কিন্তু সেখানকার আবহাওয়া তাঁদের স্বাস্থ্যের প্রতিকূল হওয়ায় তাঁরা সেই স্থান থেকে বাংলার রাজধানী গৌড় নগরে পদার্পণ করেন।তখন ইলিয়াস শাহী বংশের বিখ্যাত বাদশাহ গিয়াসুদ্দিন আজম শাহ বাংলার পরাক্রমশালী স্বাধীন নরপতি ছিলেন। তাঁর রাজত্বকাল ১৩৮৯ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৪০৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ছিল। তিনি অতি ধর্মভীরু ন্যায়পরায়ণ রাজা ছিলেন।

তিনি জগদ্বিখ্যাত পারস্য কবি মাননীয় হাফেজের সাথে পত্রালাপ করতেন। তাঁর সভাসদগণের সকলেই জ্ঞানবান ছিলেন। দরবারে ধার্মিক জ্ঞানীর যথেষ্ট সমাদর ছিল।

কথিত আছে যে, উপরোক্ত বাগদাদ নগর নিবাসী সৈয়দ পরিবারে বহু লোক ধার্মিক, জ্ঞানী, যুদ্ধ-নিপুণ, খোদাভীরু অলি দরবেশ ছিলেন। বাদশাহ তাঁদের অতি সম্মান আদরের সাথে গ্রহণ করেন এবং ব্যক্তিগত উপযুক্ততা অনুসারে শাহী খান্দানের গৃহশিক্ষক, শাহী মসজিদের ইমাম, বিচারালয়ের কাজী এবং সেনানায়ক পদে নিযুক্ত করেন। এইভাবে তাঁরা বংশানুক্রমে প্রায় দুইশত বৎসরের অধিককাল বাংলার রাজধানী গৌড় নগরে পরম সুখে সম্মানের সাথে কালাতিপাত করেন। একসময় গৌড়ের সুলতান যুদ্ধে পরাজিত হন এবং গৌড় নগরে বসন্তরোগ মহামারী রূপে দেখা দেয়। দলে দলে নগরবাসী গৌড় ছাড়তে থাকে। পূর্ব থেকেই গৌড় নগরবাসী সৈয়দ পরিবারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চট্টলা। উপরোক্ত গৌড়ীয় সৈয়দ পরিবারের অপর সদস্য সৈয়দ সুলতান (১৫৫০খ্রি.-১৬৪৮খ্রি.) মতান্তরে কাজী সৈয়দ হামিদুদ্দিন শাহ গৌড় নগর থেকে চট্টগ্রাম এসে পটিয়া থানার অন্তর্গত চক্রশালায় বসবাস শুরু করেন।

তিনি একজন ইসলাম ধর্ম প্রচারক, প্রসিদ্ধ কামেল পীর ছিলেন। তাঁর বংশধরের মধ্যে সৈয়দ আব্দুল কাদের শাহ অন্যতম। একদা তিনি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার অন্তর্গত আজিম নগর গ্রামে হিজরত করেন। তাঁরই পুত্র সৈয়দ আতাউল্লাহ শাহ। সৈয়দ আতাউল্লাহ শাহের পুত্র সৈয়দ তৈয়বুল্লাহ শাহ। সৈয়দ তৈয়বুল্লাহ শাহের তিন পুত্রের মধ্যে মধ্যম পুত্র সৈয়দ মতিউল্লাহ শাহ মাইজভান্ডার গ্রামে বসবাস করেন। এই স্থানে সৈয়দ মতিউল্লাহ শাহের তিনপুত্র জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর তিন পুত্রের মধ্যে সৈয়দ আবদুল করিম আল হাসানী আল মাইজভান্ডারী সৈয়দা মোশাররফ জান বিবির কোলে ২৭ আশ্বিন হযরত শাহসূফী আল সৈয়দ গোলামুর রহমান আল হাসানী আল মাইজভান্ডারী প্রকাশ বাবা ভান্ডারী কেবলা জন্মগ্রহণ করেন। হযরত শাহসূফী মাওলানা আল সৈয়দ গোলামুর রহমান আল হাসানী আল মাইজভান্ডারী কেবলা কাবা (.) হযরত কেবলা কাবা (.)-এর স্থলাভিষিক্ত ত্বরীকা- মাইজভান্ডারীয়ার পূর্ণ প্রতিষ্ঠাতা।

 আল্লাহ প্রেমে বিভোর জন সমাগমের মহা স্বর্গীয় সমারোহে মাইজভান্ডার শরীফে প্রতিবছর ২৭ শে আশ্বিন পবিত্র খোশরোজ উদযাপিত হয়ে থাকে। তিনি শৈশব থেকেই ধর্মের প্রতি আসক্ত ছিলেন। সাত বৎসর বয়স থেকে তাকে নামাজ রোজা অভ্যস্ত দেখা গিয়েছিল। নির্জনতায় প্রিয় শিশু গাউছ গ্রাম্য মক্তবের শিক্ষা সমাপন করে উচ্চতর দ্বীনি এলেম, শিক্ষাকালে ১৫ বৎসর বয়সেছায়েমুদ্দায়ারঅর্থাৎ সারা বৎসর রোজা রাখতেন। মাদ্রাসার ছুটির ফাঁকে ফাঁকে তাঁর জেঠা পীর হযরত কেবলা কাবা (.) এর নিকট প্রায়শঃ হাজির থাকতেন।

করুণাময়ের সান্নিধ্য লাভের অভিলাষে পাঠ্যাবস্থা থেকেই কঠোর সাধনায় রত থাকতেন এবং ২৮ বৎসর বয়সে পীরের রুহানীয়তের যাবতীয় আধ্যাত্মিক শক্তি তাঁর আত্মায় সঞ্চারিত হয়। হযরত ছাহেব কেবলা কাবা (.) নিজ হস্তে স্বীয় জোববা মোবারক তাকে পরিয়ে দেন। অতঃপর বাবাজান কেবলা কাবা (.) আল্লাহ পাকের একত্বের তৌহিদ আহরণে চলে গেলেন পার্বত্য অঞ্চলের গভীর অরণ্যে।

দীর্ঘ ১২ বৎসরকাল সাধনা পরিপূর্ণ করে ফিরে আসেন নিজ বাসস্থান মাইজভান্ডার শরীফে। সাধনা, সংযম আধ্যত্মিক শক্তির প্রভাবে সংসারের সাথে সকল সম্পর্ক ছেদ করে গোশানশীল অবস্থায় থাকেন। দুই বৎসর পর থেকে ২৩ বৎসর যাবত জবান মোবারক বন্ধ রাখেন। সবাই বিস্ময়ে নির্বাক, তাঁর হস্ত মোবারকদ্বয়ে পানি ঢালার অপরূপ দৃশ্য দেখে। পানির উছিলায় মকছুদ পূরণ কত না বেদনা উপশম হত। তিনি আল কোরআনের মর্মকথা, তৌহিদের মূলমন্ত্রে প্রণীত ত্বরীকা মাইজভান্ডারীয়ার নির্দেশিত পথে মানুষকে দিয়েছেন খোদাপ্রাপ্তির সহজ সরল পথের দিশা, জানিয়েছেন রহমানুর রাহিমের অফুরন্ত সওগাত। বাবা ভান্ডারী কেবলা (.) বেলায়ত প্রাপ্তি এবং বুজুর্গীয় গৌরবোজ্জ্বল পূণ্যে মাইজভান্ডার শরীফ ধন্য।

তাঁর আধ্যত্মিক ছোঁয়ায় এসে দ্বীন দুনিয়া দো-জাহানের ত্বরক্কী লাভ করতে দরবারে পাকে আগত মুসলমান ছাড়াও ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সর্বকালের সকল জায়েরীনদের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। মাইজভান্ডারী ত্বরীকা নবুয়্যতে মোহাম্মদীয় জাতে পাকে আত্মপ্রকাশ। সেইরূপ এই বেলায়তের ধারা পদ্ধতি অনুযায়ী ফয়েজ বিতরণে সমর্থ। হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা (.) ২২ চৈত্র ১৩৪৩ বাংলা, এপ্রিল ১৯৩৭ ইংরেজী, ২২ মহরম ১৩৫৩ হিজরী রোজ সোমবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ৭১ বৎসর মাস বয়সে তাঁর প্রভুর সাথে মহামিলনের ইচ্ছায় চলে গেলেন (ইনালিল্লাহে……..রাজেউন) প্রতি বৎসরই ২২শে চৈত্র লক্ষ লক্ষ শোকাতুর আশেকের আগমনে ভরে উঠে মাইজভান্ডার শরীফের প্রাঙ্গণ। এই পবিত্র দিনে প্রতিটি মুহূর্তে আসক্তজন ‘‘আল্লাহু আল্লাহু’’ জিকিরে মত্ত থেকে স্ব স্ব কামনা বাসনা পূর্ণ করে নিজ নিজ স্থানে ফিরে যায়।


‘‘বায়াত’’ শব্দটি আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ বিক্রি হওয়া। যাকে ত্বরীকতের পরিভাষায় পীরের হাতে হাত রেখে চাদর ধরে বা পাগড়ী ধরে গুনাহ হতে তাওবাকরতঃ আবদ্ধ হওয়াকে কথ্য ভাষায় মুরিদ বলা হয়। এই মুরিদ আল্লাহ রাসূলের সমস্ত নিয়মনীতির মাধ্যমে পীরের নির্দেশনা পরামর্শ মেনে চলে।


ত্বরীকাতে কামিয়াব হওয়ার পূর্বশর্ত হল নিজ মুর্শিদের প্রতি একান্ত মহববত। একত্ববাদ আন্তরিক আকর্ষণ থাকা। মুর্শিদের প্রতি ভক্তি তাজিমে থাকাই প্রধান আদর্শ বা শর্ত। ‘‘হযরত মাওলানা আল সৈয়দ গোলামুর রহমান আল হাসানী আল মাইজভান্ডারী প্রকাশ বাবা ভান্ডারী কেবলার দেখানো সহজ-সরল পথ অবলম্বন করে সেই সংস্পর্শ তৌহিদের অনুকূলে যে গমন করতে থাকবে ‘‘ইনশাল্লাহ’’ অনতিবিলম্বে সেই নূরে মোহাম্মদীর নূরকে চিনতে সক্ষম হব।
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় করো, তাঁর সকল নবী আসমানী কিতাব, কেয়ামত তকদীরের উপর পরিপূর্ণ ঈমান আনয়ন কর। খাঁটি অন্তরে দ্বীন ইসলাম তাওহীদে সমর্পিত হও এবং তৎ পর্যন্ত পৌঁছিতে উছিলা বা অবলম্বন খোঁজ। আল্লাহ মাদের সবাইকে সেই তওফীক দান করুন।


আরও খবর



রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঘিরে নতুন ষড়যন্ত্র

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর থেমে নেই জান্তা সরকার। রাখাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী ও আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর পাশাপাশি নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে এই জান্তা সরকার। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতীর প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।

মিয়ানমার বর্তমানে নজিরবিহীন জাতিগত বৈষম্য ও নিপীড়নে জর্জরিত। দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের তিন বছরের মাথায় সম্প্রতি দেশটির জান্তা সরকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। তিনটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জোট থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের যোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণে দিশেহারা জান্তা বাহিনী। বিদ্রোহী জোটের অন্যতম সদস্য আরাকান আর্মি (এএ) এই মুর্হূর্তে রাখাইন রাজ্যের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে লড়াই অব্যাহত রেখেছে।

এই রাজ্যে আরাকান আর্মির কাছে বিপর্যয়কর পরাজয়ের শিকার হয়েছে জান্তা সেনারা। বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারছে না তারা। আর এই কারণেই তারা জাতিগত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে। মিয়ানমারের পুরানো রাজধানী শহর ইয়াঙ্গুন ও অন্যতম বড় শহর মান্দালয়সহ একাধিক শহরে জাতিগত রোহিঙ্গাবিরোধী পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। এসব পোস্টার ও লিফলেটের মাধ্যমে জাতিগত রোহিঙ্গাদের বয়কটের আহ্বান জানানো হচ্ছে। রোহিঙ্গা মালিকানাধীন দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোঁরায় না যেতে বলা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এইসব শহরে যেসব জাতিগত রোহিঙ্গা বসবাস করেন তাদেরকে তাদের নিজ রাজ্য রাখাইনে ফিরে যেতে বলা হচ্ছে।

স্থানীয় অধিবাসীদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়ের মতো শহরগুলোতে জাতিগত রোহিঙ্গা মালিকানাধীন দোকান ও রেস্তোঁরার সাইনবোর্ডে বা রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট ও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পোস্টার দেখা যায়। ইয়াঙ্গুনে একটি ল্যাম্পপোস্টে লাগানো একটি পোস্টারে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী আরাকান আর্মিকে (এএ) নিন্দা জানাতে রাখাইনের রোহিঙ্গা মালিকানাধীন যেকোনো ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে চলুন।

বহু জাতিগোষ্ঠীর দেশ মিয়ানমার। দেশটিতে কমবেশি ১৩৫টি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী বা জাতির বসবাস। এরমধ্যে প্রধান নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী বামার। অন্য জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শান, কারেন, মন, ওয়া ও রাখাইন বা রোহিঙ্গা উল্লেখযোগ্য। বামাররা বার্মান বা বর্মী নামেও পরিচিত।

আদমশুমারিতে বর্মীদের সংখ্যা মোট জনগোষ্ঠীর ৬৮ শতাংশ বলে দেখানো হয়। অন্যান্য জনগোষ্ঠী আরও ৩২ ভাগ। শাসকদল আর সেনাবাহিনীতেও বর্মীদের সংখ্যা ও প্রভাব সবচেয়ে বেশি। সেই প্রভাব ধরে রাখার লক্ষ্যেই অন্যান্য বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন ও নিধন চালানো হয়। আর এ দমনপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো থেকেই শুরু জাতিগত সংঘাত।

অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে প্রায়ই জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর কৌশল বেছে নেয় সংখ্যাগুরু শাসকগোষ্ঠী। মিয়ানমারে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ কমায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিগত বিদ্বেষ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। যার প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংঘটিত হয় এবং ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। দেশটিতে জাতিগত বিদ্বেষকে রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছে। শুধু সেনাশাসকরাই নয়, বেসামরিক গণতান্ত্রিক সরকারের আমলেও জাতিগত বিদ্বেষ সব মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়। যা বিভিন্ন সময় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে ভয়াবহ উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যপুস্তকে বর্ণবাদী ও জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। এর জন্য গণতন্ত্রকামী নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সুচিকেও দায়ী করা হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সু চির সরকারকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করে রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এরপর গণতন্ত্রকামী বিক্ষোভকারীদের নির্মমভাবে দমন করা হয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ভয়াবহ বলপ্রয়োগ ও দমন-নিপীড়নের ঘটনায় হাতে অস্ত্র তুলে নেন গণতন্ত্রকামীরা। গড়ে তোলেন সশস্ত্র প্রতিরোধ।


আরও খবর

সোমবারের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি হতে পারে

মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




সংরক্ষিত নারী আসনে আ.লীগের ফরম বিক্রি শুরু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম আজ থেকে বিক্রি শুরু হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নের আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। যা চলবে বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থাপিত প্রশাসনিক বিভাগ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট বুথে গিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে।

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ ও তৃতীয় তলায় রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হবে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় সব বিভাগের মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কোনো প্রকার অতিরিক্ত লোকসমাগম ছাড়া প্রার্থী নিজে অথবা প্রার্থীর একজন যোগ্য প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে হবে।

আবেদনপত্র সংগ্রহের সময় অবশ্যই প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে এবং ফটোকপির ওপর মোবাইল নম্বর ও সাংগঠনিক পরিচয় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।


আরও খবর

সোমবারের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি হতে পারে

মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি  :

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কৃষক আবুল কাশেম (৩৫) হত্যা মামলায় স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালক-শ্যালিকাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।  শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‌্যাব-১১ এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কম্পানি অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মোর্শেদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার সবার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে র‌্যাব তাদের কমলনগর থানায় হস্তান্তর করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নিহত কাশেমের শ্বশুর আলী আক্কাস, শ্যালক জহির উদ্দিন, জেঠ্যস আকলিমা বেগম, স্ত্রী তাছলিমা বেগম ও শ্যালিকা তাহমিনা আক্তার।

গত শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরজাঙ্গালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব তাদের গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মোর্শেদ বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের কোনো তথ্য ও প্রমাণ ছিল না। ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তার তাহমিনা পলাতক ছিলেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তহিদুল ইসলাম বলেন, র‌্যাব পাঁচজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। হত্যা মামলার আসামি হিসেবে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত কাশেম কমলনগরের চরকাদিরা ইউনিয়নের চরপাগলা গ্রামের আবু ছায়েদ মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষি শ্রমিক ছিলেন।

প্রায় তিন মাস আগে চর জাঙ্গালিয়া গ্রামের তাছলিমাকে পারিবারিকভাবে তিনি বিয়ে করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যান। ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে বের হন। রাত ১০ টার দিকে স্ত্রী তাছলিমা তাকে মোবাইলে কল দিলে মোবাইল বন্ধ পান। পরদিন সকাল সোয়া ৭টার দিকে শ্বশুর বাড়ির পাশের একটি সয়াবিন ক্ষেতে কাশেমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তাছলিমার বাবা আক্কাস মোবাইলে বিষয়টি কাশেমের বাবাকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং নাক ও মুখে রক্ত লেগে ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ছায়েদ বাদি হয়ে কমলনগর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে র‌্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করেন। এরপর কাশেমের স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালক, জেঠ্যস ও শ্যালিকাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


আরও খবর

বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা"

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




আতঙ্কে তুমব্রু সীমান্তবাসী

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

অস্ত্রসহ পালিয়ে আসা তিন শ বিজিপি ও জান্তা সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্ত্রাসী দলের সদস্য হলে তা রোহিঙ্গাদের মতো বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এদের মধ্যে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর গুপ্তচর থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা। এই জান্তা বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

সীমান্ত এলাকা পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনে যারা অংশ নিয়েছিল পালিয়ে আসাদের মধ্যে তারাও থাকতে পারে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্থিরতা সৃষ্টি কিংবা বাংলাদেশে গুপ্তচরবৃত্তি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার বলেও তিনি মনে করছেন।

তিনি আরো বলেন, তাদের এখন ফেরত না পাঠিয়ে এখানে ডিটেনশনে রাখা উচিত। কারণ এই বাহিনীটা মিয়ানমারে গণহত্যার জন্য দায়ী। রোহিঙ্গা গণহত্যা এবং জাতিগত নিধনে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিচারে প্রয়োজনে আর্ন্তজাতিক আদালতের সহায়তাও চাইতে পারে বাংলাদেশ।

মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে গোলাগুলি থেকে রক্ষা পেতে, এবার বাড়িঘরেই বাঙ্কার তৈরি করে থাকছেন তুমব্রুবাসী।

রোববারও মিয়ানমারের এক সৈনিকের লাশ ভেসে এসেছে পালংখালীতে। তবে ২৪ ঘণ্টায় তেমন কোনো গোলাগুলির শব্দ না আসায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।

ঘটনাস্থল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু থেকেও আরো পাঁচ কিলোমিটার ভেতরে কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীদের একটি নজরদারি চৌকি। সেখানে একটি টং ঘরের মধ্যে পাঁচজন বসে আছেন। যাদের মধ্যে আরাকান আর্মির ইউনিফর্ম পড়া একজন আর বাকিরা সাধারণ পোশাকে। তাদের সবাই অস্ত্রধারী। মাঝেমধ্যে নিজেরা কথা বলছেন।

এলাকাবাসী বলছেন, এরা সবাই আরাকান আর্মির সদস্য। সাত দিনেরও বেশি সময় সঙ্ঘাতের পর, এখন রাখাইন রাজ্যটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আরাকান আর্মি। তারাই পাহারা দিচ্ছে সীমান্তে। এপার থেকে তাদের স্পষ্ট দেখা যায়।

ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তের বিভিন্ন সীমান্ত প্রাচীরে আরাকান আর্মির সদস্যদের সশস্ত্র অবস্থায় পাহারা দিতে দেখা গেছে। সেখানে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সেনাবাহিনীর কোনো উপস্থিতি চোখে পড়েনি। ২৪ ঘণ্টাতে তেমন কোনো গোলাগুলির শব্দ শোনা না গেলেও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি।

তুমব্রুর হেডম্যান পাড়ার সামনে মনিরুল ইসলাম নামে একজনের দোকান আছে। মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীদের যে ক্যাম্প রয়েছে, ঠিক সেই পাহাড়ের নিচেই তার দোকান। তিনি জানান, গুলি থেকে বাঁচতে রাস্তার নিচের পানি চলাচলের বাঁধকে তিনি এখন বাঙ্কার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

এলাকার অনেক বাড়িতেই এখন এ রকম বাঙ্কারের মতো গর্ত খুড়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করেছেন এলাকাবাসী। খুব প্রয়োজন ছাড়া মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সীমান্তের কাছাকাছি নিজের জমিতেও যাওয়া নিষেধ করেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদগুলো।

ঘুমধুমের ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি উন্নতির পর এখন স্বাভাবিকভাবে মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কিন্তু সীমান্তে বসবাসকারীদের মাঝে পুরোপুরি আতঙ্ক কাটেনি। গতকাল রোববার রাতে দুটি গুলির শব্দ শোনা গেলেও আজ সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত কোনো প্রকার গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে, তুমব্রু সীমান্তে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পড়ে থাকা দুটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেডযুক্ত রকেটের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করেছে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। রোববার বিকেল ৪টার দিকে তমব্রু সড়কের দুই শ গজ দূরে ব্রিজ ও সড়কের পাশে দুটি মর্টার শেল নিষ্ক্রিয় করা হয়।

শনিবার সকালে তুমব্রু সীমান্তের পশ্চিমকুলে ফসলের ক্ষেতে কাজ করার সময় অবিস্ফোরিত রকেট লঞ্চার দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে বিজিবিকে জানানো হলে বেলা ১১টায় দুটি রকেট লাঞ্চার উদ্ধার করা হয়। পরে একটি স্থানে নিরাপদে রেখে দেয়া হয়, চারপাশে টাঙ্গিয়ে দেয়া হয় লাল পতাকা।

অন্যদিকে রোববার দুপুরে সীমান্তের বেশ কয়েক কিলোমিটার ভেতরে খালের মধ্যে ভেসে আসে একটি লাশ। নিহতের মাথায় হেলমেট, গায়ে ইউনিফর্ম ও লাইফ জ্যাকেট পরা। তাকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর সৈনিক বলেই মনে করা হচ্ছে।

উখিয়া থানার ওসি শামীম হোসেন জানান, উপজেলার বালুখালী কাস্টমস এলাকায় লাশটি দেখা যায়। মাথায় জলপাই রঙয়ের হেলমেট আর খাকি পোশাক পরা লাশটি মিয়ানমার থেকে ভেসে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয়রাও মনে করছেন, লাশটি মিয়ানমার থেকে ভেসে আসার সম্ভাবনা বেশি। গোলাগুলি কমেছে, মিয়ানমারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি ও আরকান সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি), মিয়ানমার সেনাবাহিনী, পুলিশ, ইমিগ্রেশন সদস্য ও অন্যান্য সংস্থার ৩৩০ জন সৈন্য বিজিবির কাছে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। দুদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনার পর তাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়। এরই মধ্যে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




গাজায় একদিনে ১১২ ফিলিস্তিকে হত্যা

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন থামছেই না। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১২ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ১৪৮ জন আহত হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের তাণ্ডবে ৭৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়েছে। সেখানে খাবার, পানি, ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

ইউএন অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (ইউএনওসিএইচএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) অনুমান করছে যে, গাজার প্রায় ১২ লাখ শিশুর এখন মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সহায়তা প্রয়োজন।

গত কয়েক দিনের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর সবচেয়ে মারাত্মক হামলার ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার। খান ইউনিস এবং রাফাহের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বেসামরিক গাড়ি এবং একটি মালবাহী গাড়ি হামলার শিকার হয়। এতে শিশু সহ চারজন নিহত হয়।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ২৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজারের বেশিই শিশু। চার মাসেরও কম সময়ে এত সংখ্যক শিশুর প্রাণ গেলো অবরুদ্ধ এই উপত্যকায়।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাফা এলাকায়ও হামলার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। এর আগে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।

উত্তর গাজার হামাদ স্কুলের কাছে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে অন্তত ৩০টি মরদেহ পাওয়া গেছে। তাদের হত্যার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীকে দায়ী করেছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।

তাছাড়া গাজায় অব্যাহত হামলা পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, শিগগির গাজায় যুদ্ধ বন্ধ না হলে আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।


আরও খবর