Logo
শিরোনাম

স্বাস্থ্যসেবায় ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

শহর এলাকায় ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বাংলাদেশকে ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক , বোর্ড সভায় এই ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাটি।

আরবান হেলথ, নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও তারাবো পৌরসভা এলাকায় ডেঙ্গুসহ সাধারণ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও চিকৎসা এবং মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করা হবে ওই অর্থ।

বিশ্বব্যাংক বলছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে আওতায় স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত বিভিন্ন সেবা দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংক আশা প্রকাশ করেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৫ লাখ শিশু এই সেবা থেকে উপকৃত হবে।

বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু শহর এলাকায় নাগরিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এখনও সীমিত। ফলে দরিদ্র এবং বস্তিবাসীদেরও বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যসেবা নিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, জনসংখ্যার উচ্চ ঘনত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ বাড়ছে, নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আবির্ভূত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা খাতে।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের ওই প্রকল্পের আওতায় নারীদের মাতৃত্বকালীন সেবাও দেওয়া হবে। এতে আড়াই লাখ নারী তাদের গর্ভকালীন অন্তত ৪টি চেকআপের সুযোগ পাবেন।

এছাড়া ১৩ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক উচ্চ রক্তচাপের স্ক্রিনিং এবং ফলো-আপ চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। সরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেব কেন্দ্র ও পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকে দরিদ্র নাগরিকদের সেবাপ্রাপ্তির খরচ কমিয়ে আনতেও সহায়ক হবে এই প্রকল্প।

মশা নিয়ন্ত্রণ, আবহাওয়াজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি দূষণ রোধ করে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে প্রচার চালানোর বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া হবে এই প্রকল্পে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এই প্রকল্পের আওতায় মৌসুমভিত্তিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসে কাজ করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে ওই ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাবে বাংলাদেশ। ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরের মধ্যে ওই ঋণ শোধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত অর্ধশতাব্দীতে সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে ৪ হাজার কোটি ডলারে ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। দারিদ্র্য বিমোচন, অবকাঠামো নির্মাণসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে।


আরও খবর



সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 |

Image
বিডি টুডে ডেস্ক:


সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু
সৌদি আরবের আল নাজাদ অঞ্চলের আপিপ শহরে কাজে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি সবুজ চৌকিদার (৩৮), মো. সাব্বির (২১) ও মো. রিফাত (২০) নামে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশি সময় দুপুর ১২টা ও সৌদি সময় আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে আপিপ থেকে নির্মাণ কাজে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় তিন শ্রমিকের মধ্যে সবুজ গাড়ির চালক ছিলেন।


নিহত শ্রমিকদের মধ্যে সবুজ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদু:খিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের পশ্চিম বিশকাটালি গ্রামের জামাল চৌকিদারের ছেলে। অপর নিহত সাব্বির পাশবর্তী হাইমচর উপজেলার আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নের চরভাঙা গ্রামের সৈয়াল বাড়ির মো. ইসমাইল সৈয়ালের ছেলে এবং রিফাত আলগী উত্তর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

শুক্রবার (১৪ জুন) সকালে নিহত তিন শ্রমিকের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে শোকের মাতম। ঈদুল আযহা আসন্ন সময়ে এমন দুর্ঘটনা প্রত্যেক পরিবারের হৃদয় বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।


কমলাপুর গ্রামের রিফাত মাত্র ৩ বছর আগে গিয়েছেন ওই দেশে। ভবন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তার বাবা দেলোয়া হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগেও ছেলের সাথে কথা হয়েছে। বাবার আবেদন ছিলে ছেলে যেন বাড়িতে এসে ঈদ করে। কিন্তু তা আর হলো না।

রিফাতের প্রতিবেশি আল-আমিন খান বলেন, রিফাত খুবই কমবয়সী। এমন দুর্ঘটনায় আমরা সবাই মর্মাহত। সান্ত্বনা দেয়ার মত কিছুই নেই। ছেলেটি তাদের সংসারের উপার্জনের হাল ধরেছিল।

নিহত সাব্বিরের বাবা ইসমাইল সৈয়াল ও মা ফাতেমা বেগমের একটাই দাবি তাদের সন্তানকে দেশে আনার জন্য সরকারিভাবে সহযোগিতা পায়। সাব্বিরের মা ফাতেমা বেগম ছেলের শোকে কথাও বলতে পারছে না। অনেকটা বাকরুদ্ধ। 

প্রতিবেশিরা সান্ত্বনা দিয়েও মাকে বুঝাতে পারছেন না। কিছু সময় পর পর ছেলের নাম নিয়ে কেঁদে উঠেন।

সাব্বিরের ছোট বোন স্নেহা বলেন, ভাই আমাকে ফোনে অনেক স্বপ্নের কথা বলতেন। দেশে আসলে কি কি করবেন। গত কয়েকদিন আগে কলা হলে আমি দেশে আসার জন্য বলি। কিন্তু ভাইয়ের আর আসা হলো না। দুই ভাইয়ের আমি ছোট। বড় ভাইও সৌদিতে থাকেন।

সাব্বির আর রিফাতকে সৌদিতে কাজের জন্য নিয়েছেন সবুজ চৌকিদার। তিনি তাদেরকে নিয়ে আপিপ শহর ও আশপাশের এলাকায় ভবন নির্মাণের কাজ করতেন। নিজেদের গাড়িতে তারা কাজে আসা-যাওয়া করতেন। 

গাড়ির চালক ছিলেন সবুজ। দুর্ঘটনায়র সময়ও গাড়ির চালক ছিলেন সবুজ জানালেন তার পিতা জামাল চৌকিদার।

জামাল চৌকিদার বলেন, তার ছেলে সবুজ প্রায় ১৮ বছর সৌদিতে থাকেন। বেশ কয়েকবার দেশে এসেছেন। তার স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান আছে। তাদেরকেও ভ্রমন ভিসায় কয়েকবার সৌদিতে নিয়েছেন। সর্বশেষ গত দুই সপ্তাহ পূর্বে দেশ থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের সৌদিতে নিয়েছেন। তারা এখন সৌদি আছেন।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি সময় ৪টায় সবুজসহ ৩ জনের দুর্ঘটনার খবর পান। রাত ১০টায় সেখানে অবস্থানরত স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পারেন দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে সবুজের মৃত্যুতে তার মা ও স্বজনরা খুবই শোকাহত। কারণ তার মৃত্যুতে ছেলের বউ ও নাতনিরা কেমন আছেন। তাদের কথা মনে করে কেঁদে উঠেন। তিনি বলেন, আমি আমার ছেলেকে নিজ চোখে এবং একটু ছুঁয়ে দেখতে চাই।

এই তিন পরিবারের দাবি হচ্ছে-তাদের সন্তানদের লাশ আনার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যাতে সহযোগিতা করে।

হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা নাজনীন তৃষা জানান, সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি। তবে আমাদের জানালে তাদের জন্য যেসব করণীয় আছে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

আরও খবর



মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ |

Image

ঢাকায় কোনো কাঁচা বস্তি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকবে না। সুন্দর পরিবেশে সবাই বসবাস করবে। সেই ব্যবস্থা করে দেবো। এই পদক্ষেপও আমরা নিয়েছি। মানুষের কল্যাণে কাজ করা, এটাই আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করি।

শনিবার (২৫ মে) সকালে পুড়ে যাওয়া বঙ্গবাজারের স্থানে ১০তলা বঙ্গবাজার পাইকারি মার্কেট, শাহবাগে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশু উদ্যানের আধুনিকায়নসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ফ্ল্যাট করে দিচ্ছি। বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দিচ্ছি। যে বস্তিতে যেরকম ভাড়া সেরকম ভাড়াই দেবে। কিন্তু তারা ফ্ল্যাটে থাকবে। শুধু বড়লোকেরাই ফ্ল্যাটে থাকবে সেটা হতে পারে না, আমাদের রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে দিন মজুররাও ফ্ল্যাটে থাকবে। স্বল্প ভাড়া, কেউ যদি প্রতিদিন ভাড়া দিতে চায়, সেই ব্যবস্থা আছে। কেউ যদি সাত দিনের ভাড়া দিতে চায়, সে ব্যবস্থা আছে। কেউ মাসের ভাড়া দিতে চাইলে সে ব্যবস্থাও হবে। আমরা ইতিমধ্যে ৩০০ পরিবার তুলেছি।

পরিবেশ রক্ষার গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের এক টুকরো জমি আছে তারা একটা ফুলের গাছ, একটা ফলের গাছ হলেও লাগান। যাদের গ্রামের বাড়ি আছে সেখানে যেন অনাবাদি জমি না থাকে সেই দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এতে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহম্মদ ইব্‌রাহিম।


আরও খবর

শেখ হাসিনার প্রশংসায় জয়শঙ্কর

শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪




ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ছে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 |

Image



বিডি টুডে রিপোর্ট:



ব্যাংকগুলো ক্রমবর্ধমান সুদের হার থেকে বেশি মুনাফা পেতে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই ও ২৯ মে সময়ে সরকার বিল ও বন্ড ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে ৭৮ হাজার ১১৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ১৭ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকার চেয়ে ৩৩৭ শতাংশ বেশি।



মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারকে ঋণ দেওয়া কমালে বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সরকারের ঋণ নেওয়া বাড়তে থাকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।


এদিকে ক্রমবর্ধমান সুদহারের কারণে ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার চেয়ে বিল ও বন্ডে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী। কারণ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ নিরাপদ, কিন্তু ঋণ মন্দ হওয়ার আশংকা থাকে।



কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বিল ও বন্ডের ব্যাপারে আগ্রহী। তারা তাদের উদ্বৃত্ত তারল্যের একটি বড় অংশ এসব উপকরণে বিনিয়োগ করেছে। ট্রেজারি বিলের সুদের হার বর্তমানে ১১.৬০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে আছে। 


অথচ গত বছরের জুনে তা ছিল ৬.৭৫ শতাংশ থেকে ৭.৭৫ শতাংশ। এছাড়া সম্প্রতি বন্ডের সুদের হার ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২.৭৫ শতাংশে পৌঁছেছে। টেজারি বিলগুলোর স্বল্পমেয়াদী ম্যাচিউরিটি ও বন্ডগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ম্যাচিউরিটি সময়কাল রয়েছে।


 এদিকে সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বেশি হওয়ায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে, যার মধ্যে ট্রেজারি বিল ও বন্ডসহ নগদ ও নগদ অর্থের সমতুল্য সম্পদ রয়েছে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ২০৫ কোটি টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা।


ব্যাংকাররা জানান, বিল ও বন্ডকে লিকুইড অ্যাসেট হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সেকেন্ডারি মার্কেট এখনো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেনি। তাই তাত্ক্ষণিকভাবে এগুলো নগদে পরিণত করা যাবে না। সুতরাং, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখানো উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ প্রকৃত তারল্য পরিস্থিতি নয়। তার প্রমাণ বর্তমানে বেশ কয়েকটি ব্যাংক তারল্যসংকটে ভুগছে।



 অন্যদিকে গত ছয় মাসে ব্যাংকগুলো রেপো ও তারল্য সহায়তার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রতি কর্মদিবসে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে।


ব্যাংককাররা জানান, ব্যাংকিং খাতে তারল্যসংকট রয়েছে। কোনো কোনো ইসলামি ব্যাংক এক বছরের বেশি সময় ধরে তারল্যসংকটে ভুগছে। 


এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে। এছাড়া ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বর্তমানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


আরও খবর

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ল

শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪




লেগুনা থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 |

Image

যানজটের হাত থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ বেতার রাজস্ব ভবনের পাশ দিয়ে শহীদ শাহাবুদ্দিন রোড থেকে শুরু করে কামাল সরণি হয়ে মিরপুর- নম্বর পর্যন্ত তৈরি করা হয় ৬০ ফিট সড়ক রোডটিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা লেগুনা আর এই লেগুনা থেকে লাইন খরচের নামে বছরে প্রায় সাড়ে কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে স্থানীয় একটি চক্র 

সরজমিন দেখা যায়, বাংলাদেশ বেতার জাতীয় রাজস্ব ভবনের পাশে গড়ে উঠেছে অলিখিত লেগুনা স্ট্যান্ড। সিরিয়ালে একের পর এক লেগুনা এসে থামছে। যাত্রীবোঝাই করে আবারো যে যার গন্তব্যে ছুটছে। মিরপুর- নম্বর বড়বাগ এলাকারও একই অবস্থা। মিরপুর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচলকারী এসব লেগুনাগুলোর সামনের গ্লাসে লাগানো রয়েছে ডিজিটাল সিটি পরিবহনের ব্যানার। আর যেই লেগুনাগুলো মিরপুর- নম্বরের বড়বাগ এলাকা থেকে ছেড়ে এসে ৬০ ফিট হয়ে ফার্মগেট যাচ্ছে সেগুলোতে সাঁটা রয়েছে ঢাকা-ইন্দিরা পরিবহনের স্টিকার। মো. সুমন মিয়া নামে এক লেগুনাচালক বলেন, ডিজিটাল পরিবহনের ব্যানারে এই রোডে অন্তত পঞ্চাশটি লেগুনা চলে। আর ঢাকা ইন্দিরা পরিবহনের ব্যানারে চলে দেড়শ মতো লেগুনা

সবমিলে ৬০ ফিট রোডে প্রতিদিন দুই শতাধিক লেগুনা চলাচল করে এর প্রতিটিকেই রোড খরচ হিসেবে লাইনম্যানদের টাকা দিতে হয় তিনি বলেন, ডিজিটাল সিটির ব্যানারে চলা লেগুনাগুলোকে দিনপ্রতি মোট ৬৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয় তিন ধাপে এই টাকা তোলা হয় মিরপুরের মাথায় ৫শ’, মাঝে পাবনা গলি এলাকায় ১শআর বেতারের মোড়ে ৫০ কারা এই চাঁদার টাকা তোলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বেতার মোড়ে ডিজিটাল পরিবহনের ব্যানারে চলা লেগুনা থেকে টাকা তোলেন লাইনম্যান বাবু ছাড়াও শাহজাহান, সবুজ, আলমগীর, মনির, চন্নুসহ আরও অনেকেই এসব চাঁদা আদায় করে কোনো কোনো গাড়ির লাইন খরচ মহাজন (গাড়ির মালিক) দিয়ে দেন কোনো গাড়ির রাস্তার খরচ আবার চালকের কাছ থেকেও নেয়া হয় আর এই টাকা না দিয়ে কেউ রাস্তায় গাড়ি নামাতে পারবে না


শেরে বাংলা নগর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িও এই রাস্তায় চলে তাকেও চাঁদার টাকা দিতে হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফার্মগেটগামী এক লেগুনার চালক বলেন, আজকে আমরা কথা বললে কাল থেকে আর আমাদের রাস্তায় নামতে দেয়া হবে না কাজ থাকবে না না খেয়ে মরবে আমার পরিবারের সদস্যরা উল্টো নির্যাতন করা হবে মো. সজীব নামে ফার্মগেটগামী এক লেগুনা চালক বলেন, মিরপুর- বড়বাগ থেকে ফার্মগেটগামী ঢাকা-ইন্দিরা পরিবহনের ব্যানারে চলাচলকারী লেগুনাগুলোকে সময়ভেদে দিনে থেকে ৯শটাকা চাঁদা দিতে হয় ফার্মগেট এলাকার দেলোয়ার হোসেন চুন্নু মিয়ার হয়ে লাইনম্যানরা এই চাঁদার টাকা ওঠায় অপ্রাপ্ত বয়সী এসব চালককে কখনো পুলিশ ধরে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই চাঁদার টাকা থানা থেকে নেতা সবার পকেটেই যায় তাই গাড়ির সামনে লাগানো স্টিকার দেখে কেউ গাড়ি আটকায় না চালকদের দেয়া তথ্য মতে, ডিজিটাল সিটি পরিবহনের ব্যানারে চলা ৫০টি লেগুনা থেকে প্রতিদিন ৬৫০ টাকা করে মোট ৩২ হাজার ৫শটাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে যা মাসে দাঁড়ায় লাখ ৭৫ হাজার টাকা বছরে কোটি ১৭ লাখ টাকা আর ঢাকা ইন্দিরা পরিবহনের ব্যানারে চলা ১৫০টি লেগুনা থেকে প্রতিদিন ৮শটাকা করে মোট লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয় যা এক মাসে দাঁড়ায় ৩৬ লাখ টাকা বছরে কোটি ৩২ লাখ টাকা এই একটি রাস্তা থেকে শুধুমাত্র লেগুনা থেকেই বছরে প্রায় কোটি ৪৯ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে 

 

বিষয়ে লাইনম্যান বাবু বলেন, আমি, শাহজাহান, সবুজ আমরা এই তিনজন প্রতিদিন মোস্তফা ভাইয়ের হয়ে টাকা তুলি। আমরা সামান্য বেতনভুক্ত কর্মচারী। টাকা তোলার পরিবর্তে দিনপ্রতি ৬শটাকা করে পাই। বাকি সবকিছুই মোস্তফা মির্জা নিয়ন্ত্রণ করে। তার সঙ্গে আরও অনেকে আছেন। ছাপড়া মসজিদ এলাকায় তাদের অফিস আছে। তিনি সেখানেই বসেন। তবে এলাকাটিতে গিয়ে তার কথিত অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। এলাকার অনেক বাসিন্দা জানান, মোস্তফা বর্তমানে জেলে আছে। তবে নিজের নাম না বললেও মোস্তফার বোন পরিচয় দেয়া এক চা দোকানি বলেন, মোস্তফা ব্যবসায়িক কাজে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি এসব কিছুই জানেন না। ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের ২৮/ গ্লোব সেন্টারে অবস্থিত ঢাকা ইন্দিরা পরিবহনের অফিসে গিয়েও কাউকেই পাওয়া যায়নি।  

এদিকে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে লেগুনায় চলাচলকারী উত্তর পীরেরবাগ এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, মাঝে মধ্যে দুই-এক টাকা কম দিতে চাইলোও নেয় না। হেল্পার-চালকেরা খুব খারাপ ব্যবহার করে। গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলে। কিন্তু চাঁদার টাকা ঠিকই দেয়। এই চাঁদা না দেয়া হলে আমাদের লেগুনা ভাড়া অনেক কমে আসতো। মিরপুর বড়বাগের বাসিন্দা মো. দুলাল জানান, এই লেগুনার জন্য প্রতিদিন জ্যাম লেগেই থাকে। রাস্তার ওপরই লেগুনাগুলো পার্ক করে রাখা হয়। যেখানে খুশি দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠাচ্ছে-নামাচ্ছে। কাউকেই যেন এরা তোয়াক্কা করে না। মনিপুরের বাসিন্দা সাদিয়া আক্তার বলেন, ছেলেকে প্রতিদিন স্কুলে দিতে যাই। কী যে অবস্থা বলে বোঝানো যাবে না। সড়কটিতে ঠিকমতো হাঁটারও উপায় নেই। রাস্তাটিতে নিয়মিত চলাচলকারী আমতলীর বাসিন্দা মো. ফয়সাল বলেন, এই রাস্তায় একমাত্র ভরসা লেগুনা। তবে লেগুনাতে উঠলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। যাত্রীর জন্য মোড়ে মোড়ে দাঁড়য়। সব চেয়ে বেশি অসুবিধা হয় সকাল বেলা। স্কুলগুলোর সামনে যেইভাবে লেগুনাগুলো দাঁড়িয়ে থাকে, তাতে অন্য গাড়ি আর পথ চলতে পারে না। দীর্ঘ যানজটের তৈরি হয়

বিষয় শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আহাদ আলী বলেছেন, মূলত  লেগুনা বা রাস্তার গাড়ি চলাচলের বিষয়টি পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ দেখভাল করে। আর লেগুনা থেকে টাকা নেয়ার যেই বিষয় বা চাঁদার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ মৌখিক বা লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। যদি আমরা তেমন অভিযোগ পাই, অবশ্যই তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো


আরও খবর

রাজধানী ঢাকা এখন ফাঁকা

মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪




সৌদিতে মৃত হজযাত্রীর সংখ্যা ৯০০, খোঁজ নেই অনেক হাজীর

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image



বিডি টুডে ডিজিটাল ডেস্ক:


চলতি বছর হজে গিয়ে তাপপ্রবাহ ও অসহনীয় গরমে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৯২২ জন হজযাত্রীর। এখনো বহু সংখ্যক হজযাত্রীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।


সৌদির সরকারি প্রশাসন, মক্কার বিভিন্ন হাসপাতাল এবং সৌদির বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের তথ্য সহায়তার ভিত্তিতে মৃত হজযাত্রীদের একটি সংখ্যাগত টালি করেছে বার্তাসংস্থা এএফপি। সেই টালির সর্বশেষ অবস্থা থেকে এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে।



এ বছর হজ শুরু হয়েছে গত ১৪ জুন থেকে। সৌদির আবহওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ ধরে মক্কার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। সোমবার মক্কার তাপমাত্রা ছিল ৫১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


মৃতদের অধিকাংশই মিসরের নাগরিক। মক্কার প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, হজের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬০০ মিসরীয় হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। 


মিসরের বাইরে জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সেনেগাল, তিউনিসিয়া, বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকরাও রয়েছেন মৃত হজযাত্রীদের তালিকায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবার হজ করতে মক্কায় গিয়ে মারা গেছেন ২৭ জন বাংলাদেশি।


বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৮ লাখ হজযাত্রী এবার হজ করতে সৌদি এসেছেন। বিদেশি হজযাত্রীদের অনেকেই মক্কার তীব্র গরমে অভ্যস্ত নন। তাছাড়া এই হজযাত্রীদের মধ্যে এমন হাজার হাজার যাত্রী রয়েছেন, যারা বিধি মেনে সৌদিতে আসেননি। 



ফলে প্রখর তাপপ্রবাহ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে যাত্রীদের জন্য যেসব সুবিধা ও পরিষেবা বরাদ্দ করেছে সৌদির সরকার, সেসব তারা পাচ্ছেন না। অবৈধভাবে সৌদিতে প্রবেশ করা এই যাত্রীরা এমনকি থাকা, খাওয়া এবং এয়ার কন্ডিশন সুবিধাও পাচ্ছেন না।


যেসব হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে, তাদের একটি বড় অংশই অবৈধভাবে সৌদিতে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।


এছাড়া হজের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন বহুসংখ্যক যাত্রী। এই গরমে নিরাপদ আশ্রয়ের বাইরে থাকা এই হজযাত্রীদের সবাই বেঁচে আছেন— এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই সামনের দিনগুলোতে মৃত হজযাত্রীদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।


আরও খবর