আহলে বাইত (নবী কারীম (সা.)-এর পবিত্র পরিবারবর্গ)-এর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ। কুরআনে আহলে বাইতের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পবিত্র কুরআনে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার হুকুম বা নির্দেশনার মূল ভিত্তি নিচে দেওয়া হলো:
সূরা শুরা (আয়াত ২৩):
আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রিয় রাসূল (সা.)-কে সম্বোধন করে বলেন, "বলুন, আমি আমার রিসালাতের পারিশ্রমিক তোমাদের কাছে চাই না, কেবল আমার আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া।"
মুফাসসিরীনে কেরামের মতে, এই আয়াতে 'আত্মীয়-স্বজন' (কুরবা) বলতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র আহলে বাইত—হযরত আলী, হযরত ফাতেমা, হযরত হাসান ও হযরত হুসাইন (রা.)-কে বুঝানো হয়েছে।
সূরা আহযাব (আয়াত ৩৩):
আল্লাহ তায়ালা আহলে বাইতের পবিত্রতা ঘোষণা করে বলেন, "হে নবী পরিবার! আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।" এই আয়াতটি আহলে বাইতের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন প্রত্যেক মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব।
সুরা সাবা (আয়াত ৪৭): আল্লাহ বলেন, "বলুন, আমি তোমাদের কাছে যে পারিশ্রমিক চেয়েছি, তা তো তোমাদেরই জন্য।" অর্থাৎ, আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও তাদের অনুসরণ উম্মতের নিজেদের কল্যাণ ও নাজাতের জন্যই নির্ধারিত।
হাদিসের আলোকে নির্দেশনা:
কুরআনের নির্দেশের পাশাপাশি প্রিয় নবী (সা.) আহলে বাইতের ভালোবাসাকে ঈমানের মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিরমিজি শরীফে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, "আল্লাহর শপথ! কোনো ব্যক্তির অন্তরে ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর ওয়াস্তে এবং আমার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে তাদেরকে (আহলে বাইতকে) ভালোবাসবে।"
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-কোন ব্যক্তির অন্তরে ইমান প্রবেশ করবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমাদেরকে (নবী বংশকে) আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য ভালবাসবে।
[মিশকাত শরীফ ৫৭০ পৃষ্ঠা]
নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, এই উম্মতের যারা আমার আহলে বাইতকে ভালোবাসবে ( অনুসরণ করবে ) তারাই নাজাত পাবে ও যারা অনুসরণ করবে না, তারা ধ্বংস হবে। --[মেশকাত, খন্ড-১১, হাদিস-৫৯২৩]
হাদীস
أخرج الطبرانی والحاكم عن ابن عباس رضی الله عنهما قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يابنی عبد المطلب، انی سألت الله فيكم ثلاثا: أن يثبت قلوبكم، وأن يعلم جاهلكم، ويهدی ضالكم، وسألته أن يجعلکم جوداء، نجداء، رحماء. فلو أن رجلا صفن بين الركن والمقام فصلى وصام، ثم مات وهو مبغض لأهل بيت محمد، دخل النار؛
ইমাম তাবরানী ও হাকেম হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যদি কোন ব্যক্তি রুকন ও মক্কামে ইব্রাহীমের মাঝখানে অবস্থান করে, অতঃপর (তাতে) নামাজ আদায় করে এবং রােজা রাখে, অতঃপর (এমতাবস্থায়) মারা গেল যে, সে মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর পরিবার বর্গের (আহলে বাইত) সাথে হিংসা পােষণকারী, (তাহলে) সে জাহান্নামে প্রবেশ করল।
তথ্যসূত্রঃ
১. আল মু'জামুল কাবীর-১১: ১৪২ (১১৪১২)।
২. আল মুসতাদরেক -৩:১৬১ (৪৭১২) এবং তিনি এ হাদীসকে ইমাম মুসলিমের শর্তমতে সহীহ বলেছেন।
আহলে বাইত আলাইহিসসালাম
আহলে বাইত আলাইহিসসালাম
আহলে বাইত (নবী কারীম (সা.)-এর পবিত্র পরিবারবর্গ)-এর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ। কুরআনে আহলে বাইতের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পবিত্র কুরআনে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার হুকুম বা নির্দেশনার মূল ভিত্তি নিচে দেওয়া হলো:সূরা শুরা (আয়াত ২৩): আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রিয় রাসূল (সা.)-কে সম্বোধন করে বলেন, "বলুন, আমি আমার রিসালাতের পারিশ্রমিক তোমাদের কাছে চাই না, কেবল আমার আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া।" মুফাসসিরীনে কেরামের মতে, এই আয়াতে 'আত্মীয়-স্বজন' (কুরবা) বলতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র আহলে বাইত—হযরত আলী, হযরত ফাতেমা, হযরত হাসান ও হযরত হুসাইন (রা.)-কে বুঝানো হয়েছে। সূরা আহযাব (আয়াত ৩৩): আল্লাহ তায়ালা আহলে বাইতের পবিত্রতা ঘোষণা করে বলেন, "হে নবী পরিবার! আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।" এই আয়াতটি আহলে বাইতের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন প্রত্যেক
মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব। সুরা সাবা (আয়াত ৪৭): আল্লাহ বলেন, "বলুন, আমি তোমাদের কাছে যে পারিশ্রমিক চেয়েছি, তা তো তোমাদেরই জন্য।" অর্থাৎ, আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও তাদের অনুসরণ উম্মতের নিজেদের কল্যাণ ও নাজাতের জন্যই নির্ধারিত। হাদিসের আলোকে নির্দেশনা:কুরআনের নির্দেশের পাশাপাশি প্রিয় নবী (সা.) আহলে বাইতের ভালোবাসাকে ঈমানের মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিরমিজি শরীফে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, "আল্লাহর শপথ! কোনো ব্যক্তির অন্তরে ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর ওয়াস্তে এবং আমার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে তাদেরকে (আহলে বাইতকে) ভালোবাসবে।" নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-কোন ব্যক্তির অন্তরে ইমান প্রবেশ করবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমাদেরকে (নবী বংশকে) আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য ভালবাসবে।[মিশকাত শরীফ ৫৭০ পৃষ্ঠা] নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, এই উম্মতের যারা আমার আহলে বাইতকে ভালোবাসবে ( অনুসরণ করবে ) তারাই নাজাত পাবে ও যারা অনুসরণ করবে না, তারা ধ্বংস হবে। --[মেশকাত, খন্ড-১১, হাদিস-৫৯২৩]
হাদীস أخرج الطبرانی والحاكم عن ابن عباس رضی الله عنهما قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يابنی عبد المطلب، انی سألت الله فيكم ثلاثا: أن يثبت قلوبكم، وأن يعلم جاهلكم، ويهدی ضالكم، وسألته أن يجعلکم جوداء، نجداء، رحماء. فلو أن رجلا صفن بين الركن والمقام فصلى وصام، ثم مات وهو مبغض لأهل بيت محمد، دخل النار؛ইমাম তাবরানী ও হাকেম হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যদি কোন ব্যক্তি রুকন ও মক্কামে ইব্রাহীমের মাঝখানে অবস্থান করে, অতঃপর (তাতে) নামাজ আদায় করে এবং রােজা রাখে, অতঃপর (এমতাবস্থায়) মারা গেল যে, সে মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর পরিবার বর্গের (আহলে বাইত) সাথে হিংসা পােষণকারী, (তাহলে) সে জাহান্নামে প্রবেশ করল।তথ্যসূত্রঃ১. আল মু'জামুল কাবীর-১১: ১৪২ (১১৪১২)।২. আল মুসতাদরেক -৩:১৬১ (৪৭১২) এবং তিনি এ হাদীসকে ইমাম মুসলিমের শর্তমতে সহীহ বলেছেন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত