মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
শাহজালাল বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিপুল পরিমাণের ল্যাপটপ ও ট্যাব জব্দ ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে অভিযোগ: চসিকের উচ্ছেদ অভিযান ভাষা শিখে বিনা খরচে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জাপানে চাকরির সুযোগ : মাহদী আমিন চট্টগ্রাম বন্দরে নিলাম-অযোগ্য ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ক্রিমার মহানবীর (সা.) আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬ শুরু মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলবে বাংলাদেশ : ডি ভিলিয়ার্স রদ্রিকে না পেলেও স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট মরিনহো
পর্যটন আমার প্রথম বিদেশযাত্রা ও আজমীর শরীফ জিয়ারত

আমার প্রথম বিদেশযাত্রা ও আজমীর শরীফ জিয়ারত

“আপনি যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হলে বাকি দায়িত্ব আমার।”

এক বিকেলের আড্ডায় হঠাৎ এই একটি বাক্যেই আমার জীবনের প্রথম বিদেশযাত্রার দরজা খুলে গিয়েছিল—আজ থেকে ২০ বছর আগে, আ.ক.ম মোজাম্মেল ভাইয়ের মুখ থেকে।

গল্পে গল্পে তিনি জানিয়েছিলেন, খুব শিগগিরই তিনি খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.)-এর মাজার শরীফে ওরশ শরিফ উপলক্ষে যাচ্ছেন। আমি যাব কি না? আমি জানালাম, আমার পাসপোর্টই নেই—এত অল্প সময়ে পাসপোর্ট তৈরি করে তাঁর সফরসঙ্গী হওয়া প্রায় অসম্ভব। তখনই তিনি বললেন সেই কথাটা।

আমি তরিকতপন্থী মানুষ। অলি-আউলিয়ার প্রতি মহব্বত, ভালোবাসা ও সম্মান আমার কাছে অন্যরকম। খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.)-এর ব্যাপারে ইতিহাস আমরা কমবেশি সবাই জানি। তাঁর মাধ্যমে ভারত উপমহাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

তাঁর মাজার জিয়ারতের সুযোগ, সেই সঙ্গে ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় একটি দেশ ভ্রমণের সুযোগ—দুটো একসঙ্গে পাওয়ার সম্ভাবনায় কালবিলম্ব না করে সম্মতি জানালাম।

ভাইয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে মাত্র তিন দিনের মধ্যে পাসপোর্ট এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই ভিসা ও টিকিটের ব্যবস্থা হয়ে গেল।

যথাসময়ে বিমানবন্দরে হাজির হলাম। সেখানে পরিচিত হলাম আরেকজন সফরসঙ্গী—মোজাম্মেল ভাইয়ের অতি ঘনিষ্ঠ ইসলাম ভাইয়ের সঙ্গে।

বাংলাদেশ বিমানের টিকিট। জীবনের প্রথম বিদেশযাত্রা, তার সঙ্গে প্রথম বিমান ভ্রমণ। কিন্তু শুরুতেই কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হলো। বাংলাদেশ বিমানের স্টাফরা গোমড়ামুখে জানিয়ে দিলেন, বিমান বেশ কয়েক ঘণ্টা দেরি করবে।

পরিশেষে গভীর রাতে কলকাতায় পৌঁছালাম। নির্বিঘ্নে আমি ও মোজাম্মেল ভাই ইমিগ্রেশন পার হয়ে গেলাম, কিন্তু ইসলাম ভাই পড়লেন অনাকাঙ্ক্ষিত জেরার মুখে।

“কেন এসেছেন? কতদিন থাকবেন? কার কাছে যাচ্ছেন?”—প্রশ্নের পর প্রশ্ন। ইসলাম ভাই ধৈর্য ধরে জবাব দিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু কর্মকর্তার চোখেমুখে সন্দেহ কমছিল না। অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি আমাদের সঙ্গে মিলিত হলেন।

আমি বিস্মিত হলাম—বাড়ির এত কাছে কলকাতা, তাতেও যদি এত ঝামেলা হয়, তাহলে ইউরোপ-আমেরিকা গেলে কী হবে?

গত ২০ বছরে প্রায় ২০ বার ভারতে ভ্রমণ হয়েছে। ইসলাম ভাইয়ের মতো আমাকেও কয়েকবার এ ধরনের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। এটি শুধু আমার বা ইসলাম ভাইয়ের ক্ষেত্রে নয়; অনেক বাংলাদেশি নাগরিককেই এ ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কবে যে এই সমস্যার সমাধান হবে!

পরের দিন সকালে কলকাতা থেকে বিমানে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। বিমান থেকে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি, নিচে শুভ্র, সীমাহীন এক দিগন্ত। পরে বুঝলাম—ওগুলো আসলে আকাশের মেঘ।

দিল্লি এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি চলে গেলাম নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজার শরীফে। জিয়ারত করতে করতে মনে হলো, এই মহান সাধকের আধ্যাত্মিক শিকড়ের একটি ধারা গিয়ে মিশেছে সেই খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.)-এর সিলসিলায়, যাঁর দরবারের উদ্দেশ্যেই আমি তখন যাত্রা করছি। যেন একই আধ্যাত্মিক শিকড়ের দুটি শাখায় হাঁটছিলাম।

জিয়ারত শেষে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির খানকায় অবস্থান করলাম। সেখানে থাকতে থাকতে খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহ.)-এর জীবনের একটি কথা বারবার মনে হচ্ছিল—তাঁর অন্যতম মূল শিক্ষা ছিল মানুষের প্রতি ভালোবাসা, ক্ষমা ও নিঃস্বার্থ সেবা।

তাঁর নামে প্রচলিত একটি বিখ্যাত বাণী হলো—“কেউ তোমার পথে কাঁটা দিলে তুমি ফুল বিছিয়ে দাও; কাঁটার বদলে কাঁটা দিলে পুরো পৃথিবী কাঁটাময় হয়ে যাবে।” মানুষের নিঃস্বার্থ সেবা ও ক্ষমার মাধ্যমেই আল্লাহর নৈকট্য লাভ সম্ভব—এই দর্শন যেন খানকার প্রতিটি কোণে এখনো অনুভব করা যায়।
দিল্লি থেকে রাজস্থানের পথে

পরদিন সকালে ট্রেনে রাজস্থানের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আমার চোখেমুখে নতুন দৃশ্য দেখার স্বপ্ন।
দিল্লি থেকে রাজস্থানে যাওয়ার পথে পাথুরে পাহাড় ও শুষ্ক উপত্যকার দৃশ্য চোখে পড়ে। হরিয়ানা পার হয়ে জয়পুরের দিকে এগোতে থাকলে দূর-দূরান্তে হলদে বালির ঢিবি ও আধা-মরুভূমির আবহ স্পষ্ট হতে থাকে।

রেললাইনের দুপাশে রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর, রঙিন পোশাকের গ্রামীণ মানুষ, মাঠে চরে বেড়ানো উট ও ময়ূর—সব মিলিয়ে এক নতুন পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় হচ্ছিল। দূর পাহাড়ের চূড়ায় ঐতিহাসিক দুর্গের ঝলকও চোখে পড়ছিল।

দিগন্তজুড়ে চোখ যায়, আর ভালো লাগার এক অপূর্ব অনুভূতি কাজ করে। বিখ্যাত জয়পুর শহর দেখলাম। কোথাও বড় বড় মার্বেলের শোরুম, কোথাও শুষ্ক ও মরুপ্রবণ ভূদৃশ্য। তার সঙ্গে ট্রেনের নানারকম খাবার ও আপ্যায়ন। বলতে পারেন, বিদেশ ভ্রমণের স্বাদ এখান থেকেই শুরু হলো।

অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.)-এর দরবার শরীফে পৌঁছে গেলাম।

আজমীর শরীফ—জিয়ারতের অনুভূতি:

যাঁর কাছে জিয়ারতের জন্য এত দূর ছুটে এসেছি, তাঁর ইতিহাসটুকু সেই মুহূর্তে যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠল।

১১৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যে, বর্তমান ইরানে, জন্মগ্রহণকারী খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.) ছিলেন চিশতিয়া তরিকার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। গরিবদের প্রতি অগাধ দয়ার কারণে তিনি ‘গরীবে নেওয়াজ’ নামে পরিচিত।

আধ্যাত্মিক গুরু খাজা ওসমান হারুনির নির্দেশে তিনি পারস্য থেকে এসে রাজস্থানের আজমীরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। জাত-পাত ও ধর্ম-বর্ণের বৈষম্য ভুলে নদীর মতো দানশীলতা আর সূর্যের মতো ভালোবাসা দিয়ে তিনি মানুষকে বুকে টেনে নেন।

জিয়ারতে গিয়ে অবাক হলাম। হাজার হাজার মানুষ জিয়ারতের জন্য আসছেন। আল্লাহর এই অলির সম্মানে ফুলের ডালা নিয়ে মানুষ শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাচ্ছেন। শুধু মুসলমানরাই তাঁকে সম্মান করেন—এমন নয়; অন্য ধর্মের মানুষও এখানে আসেন। এমনকি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মন্ত্রীরাও জিয়ারত করতে আসেন।

তাঁর মানবপ্রেম, নিঃস্বার্থ সেবা ও উদার জীবনদর্শনের যে আকর্ষণ, তার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি যেন চোখের সামনেই দেখতে পেলাম। ১২৩৬ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর ইন্তেকালের পরও আজমীর শরীফ দরগাহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের একটি পবিত্র মিলনমেলা হয়ে আছে।

দরবার শরীফের মানবসেবার ঐতিহ্যও আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। আজমীর শরীফ দরগাহর লঙ্গরখানা শত শত বছরের পুরনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবসেবার এক অনন্য প্রতীক। এখানে সম্রাট আকবরের উপহার দেওয়া ১২০ মণের বিশাল বড় ডেগ এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের দেওয়া ছোট ডেগে তাবাররুক রান্না করা হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এখানে বিনামূল্যে আহার গ্রহণ করেন।

এই আধ্যাত্মিক পরিবেশের আরেকটি অপূর্ব দৃশ্য ছিল সন্ধ্যার সময়। দরগাহ প্রাঙ্গণের গাছগুলো অসংখ্য চড়ুই পাখিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠত। পাখিদের কিচিরমিচির আর দরবারের আধ্যাত্মিক আবহ মিলিয়ে পুরো পরিবেশে যেন এক স্বর্গীয় প্রশান্তি নেমে আসত।

দরবার শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ যেন নির্বাক হয়ে গেলাম। বহুদিনের আকাঙ্ক্ষিত সেই জায়গায় সত্যিই এসে দাঁড়িয়েছি—এই অনুভূতিটাই তখন বারবার মনে হচ্ছিল।

আজমীরে নতুন পরিচয়:

আমাদের আশ্রয় হলো মাজার শরীফ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বাড়িতে। সেখানে মোজাম্মেল ভাই পরিচয় করিয়ে দিলেন বাংলাদেশি ভাই, খাজা মার্কেট ও সানরাইজ মার্কেটের মালিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খাজা মজিবুল হকের সঙ্গে। তিনি আজমীর শরীফে নিয়মিত জিয়ারতে আসেন।

তিনি আমাদের আন্তরিকতার সহিত বললেন “আপনারাআমাদের সঙ্গেই থাকবেন।”

তাঁর সঙ্গে ছিল আরও ডজনখানেক সঙ্গী। একে একে সবার সঙ্গে পরিচিত হলাম। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সবার সঙ্গে এক আন্তরিকতার বন্ধনে আবদ্ধ হতে থাকলাম।

আমাদের সফরকাল ছিল এক সপ্তাহেরও বেশি। এই সময়ে খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থানে গমন করলাম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল আনা সাগর।

মাজার সংলগ্ন যে দুই খানকায় আমরা অবস্থান করেছিলাম, উভয় স্থানের ব্যবস্থাপনায় যাঁরা ছিলেন, তাঁদের নিজেদের ঐতিহ্য ও পরিচয়ে তাঁরা এই অলি-আউলিয়ার উত্তরসূরি। তাঁদের আন্তরিক আপ্যায়ন ও ভালোবাসা আজও মনে রাখার মতো।

একটি পেট্রোল পাম্প, একটি পরামর্শ এবং জীবনের নতুন অধ্যায়:

রাজস্থান থেকে দিল্লি ফেরার পথে কয়েকটি জিপে আমরা রওনা দিলাম। আমরা, খাজা মজিবুল ভাইয়ের পুরো গ্রুপ এবং আজমীর শরীফের প্রতিনিধিরা—সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ জন।

পথে আমরা থামলাম একটি আধুনিক পেট্রোল পাম্প ও রেস্টুরেন্ট কমপ্লেক্স এলাকায়। সেখানে রুটিসহ বিভিন্ন রকম খাবারের আয়োজন ছিল। আমরা গভীর আগ্রহ নিয়ে ঘুরে ঘুরে পুরো কমপ্লেক্সটি দেখলাম।

ঠিক এই জায়গায় দাঁড়িয়েই মোজাম্মেল ভাই আমাকে জানালেন, তিনি নিজেও সিএনজি স্টেশন ও পেট্রোল পাম্পের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। আধুনিক এই কমপ্লেক্সটি দেখিয়ে বললেন, ইচ্ছে করলে আমিও এই ব্যবসায় আসতে পারি।

কথাটা তখনই মনে দাগ কেটে গিয়েছিল, যদিও তখনো জানতাম না, এই একটি পরামর্শ আমার জীবনের গতিপথ কতটা বদলে দেবে।

দিল্লি পৌঁছে বিখ্যাত রাজধানী এক্সপ্রেসে ঝাড়খণ্ড, বিহার ও উত্তর প্রদেশ হয়ে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

রাজধানী এক্সপ্রেসে ১৭ ঘণ্টা:

বিকেলের মায়াবী আলোয় দিল্লি ছাড়ার পর জানালার বাইরে দেখা মেলে বর্ষা-পরবর্তী সতেজ সবুজ ফসলের মাঠের। ট্রেনের ভেতরে শুরু হয় রাজধানী এক্সপ্রেসের রাজকীয় আতিথেয়তা—একটির পর একটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে খাবারের আয়োজন। আর খাবারের টেবিলেই জমে ওঠে মোজাম্মেল ভাই ও ইসলাম ভাইয়ের সঙ্গে অন্তহীন আড্ডা ও নানা রঙের গল্প।

গভীর রাতে কানপুরের ঝলমলে আলো পেরিয়ে ট্রেন যখন গঙ্গা-যমুনার সেতুর ওপর দিয়ে ছুটে চলে, অন্ধকারের বুকে চাকার ছন্দময় শব্দ মনে রোমাঞ্চ জাগায়।

পরদিন ভোরে ঝাড়খণ্ডের রুক্ষ মালভূমি পেরিয়ে ট্রেন বাংলায় প্রবেশ করে। জানালার বাইরে কাশবন, পেখম মেলা ময়ূর, হরেক রকম পাখি, ঘন সবুজ ধানক্ষেত আর দিঘির জলে রোদের ঝিলিক—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক মায়াবী দৃশ্য।

গল্প করতে করতে, খাওয়া-দাওয়া ও প্রকৃতি দেখতে দেখতে কখন যে ১৭ ঘণ্টা কেটে গেল, টেরই পেলাম না।

কলকাতায় বড়বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা ও কেনাকাটা করলাম। এরপর বিমানযোগে ঢাকায় ফিরে এলাম।

সেই পরামর্শের বাস্তব রূপ:

আজমীর শরীফের সেই সফর শেষে দেশে ফিরে পেট্রোল পাম্প কমপ্লেক্সে শোনা মোজাম্মেল ভাইয়ের সেই পরামর্শ অনুযায়ী আমি সিএনজি স্টেশন ও পেট্রোল পাম্প স্থাপনের বিষয়ে কাজ শুরু করি। 

পরবর্তীতে সেই উদ্যোগ বাস্তব রূপ পায়।

আলহামদুলিল্লাহ, আজ সেই ব্যবসা সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, ওই সফরটি শুধু আমার জীবনের প্রথম বিদেশযাত্রা বা একটি আধ্যাত্মিক ভ্রমণই ছিল না; অজান্তেই সেটি আমার ব্যবসায়িক জীবনের একটি নতুন অধ্যায়েরও সূচনা করেছিল।

আমি আ.ক.ম মোজাম্মেল ভাইয়ের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ—তাঁর উসিলাতেই যেমন আমার জীবনের প্রথম বিদেশযাত্রা সম্ভব হয়েছিল, তেমনি তাঁর একটি পরামর্শ পরবর্তীতে আমার ব্যবসায়িক জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ খুলে দিয়েছিল।

জীবনের অনেক ভ্রমণ সময়ের সঙ্গে স্মৃতির পাতা থেকে মুছে যায়। এরপর বহুবার বিদেশে গিয়েছি, বহুবার ভারত ভ্রমণ করেছি, বহুবার আজমীর শরীফেও গিয়েছি। কিন্তু প্রথমবারের সেই অনুভূতি আর কোনো ভ্রমণে ফিরে আসেনি।

কারণ সেটি ছিল শুধু আমার প্রথম বিদেশযাত্রা নয়; সেটিই ছিল আমার জীবনের প্রথম বিমানভ্রমণ, প্রথম ভারতযাত্রা এবং একজন মহান আল্লাহর ওলির দরবারে প্রথম জিয়ারত।

২০ বছর পরও চোখ বন্ধ করলে আজমীরের সেই ফুলের গন্ধ, দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক আবহ আর হাজারো মানুষের ভিড় যেন এখনো টের পাই।

খুঁজুন