বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
সামিট এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৪৯১ মিলিয়ন ঘনফুট • মিরপুরের সড়কে শ্রমিক নেই, ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন: ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার • রোদের ছোঁয়ায় সুস্থ দীর্ঘায়ু • কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয়জয়কার, অভিনন্দন ট্রাম্পের • বাচসাসের নির্বাচন, লিমিটেড কোম্পানি ও জ্বীনের বাদশার আজব সদস্য • আইনি লড়াই শেষে হামট্রামকের মেয়র হচ্ছেন বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ • ঘুরে বেড়ানো ও কাপড় ভাঁজ করার রোবট নিয়ে কাজ করছে অ্যাপল • জিয়া-খালেদার সমাধিতে সিপিসির মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের শ্রদ্ধা • এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড ইয়ামালের • টিয়ারশেল ও ইট-পাটকেলে রণক্ষেত্র নারায়ণগঞ্জ
বিনোদন বাচসাসের নির্বাচন, লিমিটেড কোম্পানি ও জ্বীনের বাদশার আজব সদস্য

বাচসাসের নির্বাচন, লিমিটেড কোম্পানি ও জ্বীনের বাদশার আজব সদস্য

পর্ব - ৩

বাচসাসের পারিবারিক লিমিটেড কোম্পানি ও জ্বীনের বাদশার আজব সদস্য কারখানার ইতিকথা: 

আমার জন্মের আগের ইতিহাস ঘাঁটলেও দেখা যায় আবদুর রহমান নামের এই ‘অমর জ্বীন’ তখন থেকেই বাচসাসের সিংহাসনে বসে আছেন। আজও নাকি তিনি হুকুম দিয়ে সভাপতি হতে চান। ভাবুন তো কাণ্ড! মানুষ দুনিয়া ছেড়ে চলে যায়, গ্রহ-নক্ষত্র বদলে যায়, কিন্তু বাচসাসের সিংহাসন থেকে আমাদের এই জ্বীনের বাদশাকে নড়ানোর সাধ্য কার?

তাঁর এই আজীবন রাজত্বকালে সবচেয়ে জাদুকরী এবং বিনোদনমূলক যে কাজটি তিনি করেছেন, তা হলো ইচ্ছামতো সদস্য বা মেম্বার বানানোর মহোৎসব। বাচসাস কি কোনো পেশাদার চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের সংগঠন, নাকি তাঁর নিজের কোনো পারিবারিক সম্পত্তি —তা বোঝা দায়! তাঁর এই রাজত্বে সদস্য বানানোর কোনো বাছবিচার ছিল না। শোনা যায়, এর আগে তিনি নিজের পুত্রকেও এই সাংবাদিক সমিতির সদস্য বানিয়ে ধন্য করেছেন। বাপকা বেটা—সাংবাদিকতা না শিখলেও বাচসাসের সদস্যপদ তো পকেটে থাকল।

তবে এখানেই কি শেষ? শোনা যায় তাঁর এই সদস্য বানানোর কারখানা এতটাই চওড়া যে, চ্যানেল আইয়ের পিয়ন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত গাড়ির ড্রাইভার—কেউই এই সৌভাগ্য থেকে বাদ যাননি। শোনা যায়, চ্যানেল আইয়ের হাবিবুল হুদা পিটু ভাই নাকি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীকেই বাচসাসের গর্বিত সদস্য বানিয়ে ফেলেছেন। এই যদি হয় অবস্থা, তবে আগামীতে কী হতে পারে?

অতীতের রেকর্ড বলে, আবদুর রহমান যদি এবারও কায়দা করে সভাপতি হতে পারেন, তবে তাঁর ছেলের বউ থেকে শুরু করে দুই মেয়ে এবং নিজ স্ত্রী—কেউই বাকি থাকবেন না। সবাই একযোগে বাচসাসের লাল কার্ডধারী ‘সদস্য’ বনে যাবেন। বিগত দিনে এই জ্বীনের বাদশা এবং তাঁর আদর্শের সাঙ্গপাঙ্গ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা যা করেছেন, তা রূপকথাকেও হার মানায়। অফিসের পিয়ন, বন্ধু-বান্ধব, বউ-ঝি থেকে শুরু করে পরিবার-পরিজন—সবাইকে তারা সদস্যের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটি আজ আবদুর রহমান, তাঁর গং এবং চ্যানেল আই পরিবারের কাছে জিম্মির সুতোয় পুরোপুরি বাঁধা।

টক অব দ্য মিডিয়াপাড়ায় এখন কান পাতলে আরও মারাত্মক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এবার যদি ওই আবদুর রহমান ভাই আবারও ভাগ্যক্রমে সিংহাসনে বসেন, তবে তিনি বোধহয় আর কাউকে বাদ দেবেন না। তাঁর বাসার সামনের গলির কশাই, মুদি দোকানের কাকা, কাঁচাবাজারের নাপিত কিংবা রাস্তার ধারের মুচি—কাউকেই আর বাচসাসের মেম্বারশিপ থেকে বঞ্চিত করবেন না। তখন হয়তো সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় সাংবাদিকদের চেয়ে কশাই-মুচিদের তালি আর কোলাকুলিই বেশি শোনা যাবে।

দেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার এই চরম রসাতল ও প্রহসন দেখে আজ যাঁরা সত্যিকারের কলম সৈনিক, যাঁরা সংগঠনটিকে বুক দিয়ে ভালোবেসেন, তাঁদের চোখে জল আর বুকে আগুন জ্বলছে। ভোটাররা কি আসলেই এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেবেন? নাকি এবার ব্যালটের চাবুকে এই পারিবারিক লিমিটেড কোম্পানির লাইসেন্স চিরতরে বাতিল করবেন? সবাই সেই বুদ্ধিমত্তা ও বিবেকের অপেক্ষায়।

তবে বাচসাসের এই অন্ধকার সুড়ঙ্গের এখানেই শেষ নয়। আরও অনেক রোমাঞ্চকর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছে... পর্ব চার।।।

খুঁজুন