বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
তীব্র তাপপ্রবাহ: অনাগত প্রজন্মের জন্য নীরব বিপদ • সামিট এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৪৯১ মিলিয়ন ঘনফুট • মিরপুরের সড়কে শ্রমিক নেই, ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন: ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার • রোদের ছোঁয়ায় সুস্থ দীর্ঘায়ু • কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয়জয়কার, অভিনন্দন ট্রাম্পের • বাচসাসের নির্বাচন, লিমিটেড কোম্পানি ও জ্বীনের বাদশার আজব সদস্য • আইনি লড়াই শেষে হামট্রামকের মেয়র হচ্ছেন বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ • ঘুরে বেড়ানো ও কাপড় ভাঁজ করার রোবট নিয়ে কাজ করছে অ্যাপল • জিয়া-খালেদার সমাধিতে সিপিসির মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের শ্রদ্ধা • এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড ইয়ামালের
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা রোদের ছোঁয়ায় সুস্থ দীর্ঘায়ু

রোদের ছোঁয়ায় সুস্থ দীর্ঘায়ু

স্বাস্থ্য ডেস্ক: দীর্ঘদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবন পাওয়ার ক্ষেত্রে পুষ্টিকর খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি সূর্যালোক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও দীর্ঘায়ু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিমিত পরিমাণে সূর্যের আলো গ্রহণ করা শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে দারুণভাবে সহায়তা করে। সঠিক নিয়মে রোদ পোহানো ভালো ডায়েট বা শরীরচর্চার মতোই মানবদেহের গড় আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। জীবনযাপন-বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিকিৎসাবিদেরা এই তথ্য জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহ প্রাকৃতিকভাবেই সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। হরমোন উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি নিয়ন্ত্রণে সূর্যের আলো বিশেষভাবে কাজ করে। তবে আধুনিক যুগে মানুষ বদ্ধ ঘরে দীর্ঘক্ষণ কাজ করায় প্রয়োজনীয় সূর্যালোক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ওজোন স্তরের পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিকর রশ্মির প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোদ পোহানোর ক্ষেত্রে সতর্কতাও জরুরি।

প্রতিদিন খোলা ত্বকে মাত্র ১০ থেকে ৩০ মিনিট সূর্যের আলো লাগানো উচিত বলে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এছাড়া সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ভোরের নরম আলো চোখে লাগালে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি সচল থাকে। মার্কিন বিশেষজ্ঞ ডা. সাবরিনা সোল্ট এবং ডা. দর্শন শাহের মতে, পরিমিত রোদ পোহানো মানসিক অবসাদ দূর করে এবং রাতে গভীর ঘুম নিশ্চিত করে। পাশাপাশি এটি প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি সরবরাহ করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে, যা মেজাজ শান্ত ও মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। ভোরের আলো মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্রন্থিকে সংকেত দেওয়ায় রাতে প্রাকৃতিকভাবে মেলাটোনিন হরমোন তৈরি হয়, যা ভালো ঘুমের সহায়ক। এছাড়া নিয়মিত রোদ পোহানো হাড় ক্ষয় রোগ প্রতিরোধ করে এবং শরীরের ভেতরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ইনফ্লামেইশন দূর করে দীর্ঘায়ু লাভে সহায়তা করে।

উপকারী হলেও দুপুরের কড়া রোদ বা অতিরিক্ত সময় রোদের মধ্যে থাকা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই ক্ষতিকর দিকগুলো এড়াতে সকালের নরম আলো বেছে নেওয়া এবং বাইরে যাওয়ার সময় সানস্ক্রিন বা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করা উচিত। পরিমিত ও কৌশলগতভাবে রোদ পোহানোর মাধ্যমেই কেবল দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

খুঁজুন