জ্বীনের বাদশা গুপ্তধন ও তেলাপোকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট!
এক ছিল জ্বীনের বাদশা। মানুষ বলে তাকে আবদুর রহমান, কিন্তু তার কাণ্ডকারখানা দেখলে যে কোনো জ্বীন বা ভূতও লজ্জায় চোরাবালিতে লুকিয়ে পড়বে! রূপকথার রাজারা রাজ্য জয় করে সোনাদানা আনে, আর আমাদের এই গল্পের ‘মহানায়ক’ জ্বীনের বাদশা রাজত্ব চালাতেন বাচসাস নামের এক গরিব সংগঠনের সিন্দুক খালি করে।
গল্পে যেমন গুহায় লেখা থাকে—“সিম সিম ফাঁক”, আর ভেতরে থরে থরে সাজানো থাকে হিরের টুকরো ও স্বর্ণমুদ্রা; আমাদের বাচসাসের সিন্দুকটাও ছিল তেমনই এক আকর্ষণের জায়গা। তবে তফাত হলো, এখানে কোনো পাসওয়ার্ড লাগত না, লাগত কেবল একচ্ছত্র ক্ষমতার অন্ধ জোঁক-বৃত্তি।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটা রাজার একটা মেয়াদ থাকে, রাজত্ব শেষে হিসাব বুঝিয়ে দিতে হয়। কিন্তু আমাদের জ্বীনের বাদশা ভাবলেন—“হিসাব? সে আবার কী ভোজ্য বস্তু নাকি?” মাস যায়, বছর ঘোরে; নির্বাচিত কমিটি বারবার হাঁকডাক পাড়ে—“ভাই হে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টটা আর ৩৮ লাখ টাকা একটু বুঝিয়ে দিন বাবা!”
কিন্তু জিনের বাদশা তখন কানে তুলো গুঁজে দাত বের করে রূপকথার ঘুমে মগ্ন। ১৬ মাস ধরে চলল এই লুকোচুরি খেলা। কমিটি চিঠি দেয়, আর বাদশা এমন ভাব করেন যেন তিনি মহাভারত উদ্ধার করছেন।অবশেষে যখন জাদুকরী সিন্দুকের তালা ভাঙা হলো, তখন বেরিয়ে এলো আসল ভেলকি।
৩৮ লাখ টাকার পাহাড়সম অঙ্ক, আর আয়-ব্যয়ের হিসাবের সাথে অডিট রিপোর্টের মিল খুঁজতে গিয়ে গবেষকদের মাথা ঘুরে যাওয়ার জোগাড়। অডিট রিপোর্ট বলে একরকম, আর ব্যাঙ্কের খাতা বলে আরেকরকম। রেজুলেশন খাতার পাতাগুলো মনে হয় শীতের দিনে লেপ মুড়ি দিয়ে হাওয়া হয়ে গেছে।
এ যেন এক রূপকথার জাদুকরি ক্যাসিনো, যেখানে টাকা ঢোকে ঠিকই, কিন্তু বের হওয়ার সময় রূপ বদলে হাওয়া হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত কী হলো? রূপকথার শেষটা তো সুখের হওয়ার কথা, কিন্তু এখানে ঘটল উল্টো কাণ্ড। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এবং এই হরিলুট ও টাকা আত্মসাতের মহোৎসবে সরাসরি নাম জড়ানোর কারণে বাধ্য হয়ে জ্বীনের বাদশা আবদুর রহমান এবং কানা জসিম খ্যাত হামিদ মোহাম্মদ জসিমের সদস্যপদ পর্যন্ত স্থগিত করে দেওয়া হলো।
ভেবে দেখুন কাণ্ডটা! পকেটে চুরির কালি মেখে, বাচসাসের বারোটা বাজিয়ে, সিন্দুক সাফ করে যাঁরা একেবারে জিনের বাদশা সেজে বসেছিলেন, তাঁরাই এখন আবার বড় বড় গলায় নীতিবাক্য আওড়াতে মাঠে নেমেছেন! তাকেই আবার ভোট দিয়ে জ্বীনের বাদশা বানাতে হবে।
তবে জিনের বাদশার এই তেলেসমাতি কাণ্ড আর টাকার থলে চুরির রূপকথা এখানেই শেষ নয়। এই তছরুপের সাম্রাজ্যে আরও কী কী কাণ্ড ঘটেছিল, তার চাঞ্চল্যকর ও হাস্যরসাত্মক সব অধ্যায় নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছে... পর্ব- ০৩!
বাচসাস নির্বাচন, সিন্দুক চুরির রূপকথা
বাচসাস নির্বাচন, সিন্দুক চুরির রূপকথা
জ্বীনের বাদশা গুপ্তধন ও তেলাপোকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট! এক ছিল জ্বীনের বাদশা। মানুষ বলে তাকে আবদুর রহমান, কিন্তু তার কাণ্ডকারখানা দেখলে যে কোনো জ্বীন বা ভূতও লজ্জায় চোরাবালিতে লুকিয়ে পড়বে! রূপকথার রাজারা রাজ্য জয় করে সোনাদানা আনে, আর আমাদের এই গল্পের ‘মহানায়ক’ জ্বীনের বাদশা রাজত্ব চালাতেন বাচসাস নামের এক গরিব সংগঠনের সিন্দুক খালি করে। গল্পে যেমন গুহায় লেখা থাকে—“সিম সিম ফাঁক”, আর ভেতরে থরে থরে সাজানো থাকে হিরের টুকরো ও স্বর্ণমুদ্রা; আমাদের বাচসাসের সিন্দুকটাও ছিল তেমনই এক আকর্ষণের জায়গা। তবে তফাত হলো, এখানে কোনো পাসওয়ার্ড লাগত না, লাগত কেবল একচ্ছত্র ক্ষমতার অন্ধ জোঁক-বৃত্তি। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটা রাজার একটা মেয়াদ থাকে, রাজত্ব শেষে হিসাব বুঝিয়ে দিতে হয়। কিন্তু আমাদের জ্বীনের বাদশা ভাবলেন—“হিসাব? সে আবার কী ভোজ্য বস্তু নাকি?” মাস যায়, বছর ঘোরে; নির্বাচিত কমিটি
বারবার হাঁকডাক পাড়ে—“ভাই হে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টটা আর ৩৮ লাখ টাকা একটু বুঝিয়ে দিন বাবা!” কিন্তু জিনের বাদশা তখন কানে তুলো গুঁজে দাত বের করে রূপকথার ঘুমে মগ্ন। ১৬ মাস ধরে চলল এই লুকোচুরি খেলা। কমিটি চিঠি দেয়, আর বাদশা এমন ভাব করেন যেন তিনি মহাভারত উদ্ধার করছেন।অবশেষে যখন জাদুকরী সিন্দুকের তালা ভাঙা হলো, তখন বেরিয়ে এলো আসল ভেলকি। ৩৮ লাখ টাকার পাহাড়সম অঙ্ক, আর আয়-ব্যয়ের হিসাবের সাথে অডিট রিপোর্টের মিল খুঁজতে গিয়ে গবেষকদের মাথা ঘুরে যাওয়ার জোগাড়। অডিট রিপোর্ট বলে একরকম, আর ব্যাঙ্কের খাতা বলে আরেকরকম। রেজুলেশন খাতার পাতাগুলো মনে হয় শীতের দিনে লেপ মুড়ি দিয়ে হাওয়া হয়ে গেছে। এ যেন এক রূপকথার জাদুকরি ক্যাসিনো, যেখানে টাকা ঢোকে ঠিকই, কিন্তু বের হওয়ার সময় রূপ বদলে হাওয়া হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত কী হলো? রূপকথার
শেষটা তো সুখের হওয়ার কথা, কিন্তু এখানে ঘটল উল্টো কাণ্ড। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এবং এই হরিলুট ও টাকা আত্মসাতের মহোৎসবে সরাসরি নাম জড়ানোর কারণে বাধ্য হয়ে জ্বীনের বাদশা আবদুর রহমান এবং কানা জসিম খ্যাত হামিদ মোহাম্মদ জসিমের সদস্যপদ পর্যন্ত স্থগিত করে দেওয়া হলো। ভেবে দেখুন কাণ্ডটা! পকেটে চুরির কালি মেখে, বাচসাসের বারোটা বাজিয়ে, সিন্দুক সাফ করে যাঁরা একেবারে জিনের বাদশা সেজে বসেছিলেন, তাঁরাই এখন আবার বড় বড় গলায় নীতিবাক্য আওড়াতে মাঠে নেমেছেন! তাকেই আবার ভোট দিয়ে জ্বীনের বাদশা বানাতে হবে। তবে জিনের বাদশার এই তেলেসমাতি কাণ্ড আর টাকার থলে চুরির রূপকথা এখানেই শেষ নয়। এই তছরুপের সাম্রাজ্যে আরও কী কী কাণ্ড ঘটেছিল, তার চাঞ্চল্যকর ও হাস্যরসাত্মক সব অধ্যায় নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছে... পর্ব- ০৩!
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত