সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
সব সেবার সমন্ময় করতে ‘ওমনি চ্যানেল’ এনেছে ব্র্যাক ব্যাংক • ১৪ বছরে লিভারপুলের আঙিনায় আর্সেনালের প্রথম জয় • এমবাপের মন্তব্যের জেরে রেয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ দেখাল না চীন • বিইউএফটিতে সপ্তম টেক্সটাইল গবেষণা সম্মেলন • বাঙালির প্রিয় শুঁটকিতেও মিলল ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক • বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে চায় আলজেরিয়া • রাজনৈতিক দলের এত টাকা আসে কোথা থেকে? • পোশাক খাত প্রবৃদ্ধির ধারায়, অক্টোবরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪.৩৯% • পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে হবে নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী • দুর্নীতির মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ২৩ নভেম্বর
কৃষি বাঙালির প্রিয় শুঁটকিতেও মিলল ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক

বাঙালির প্রিয় শুঁটকিতেও মিলল ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় খাবার শুঁটকি মাছে উদ্বেগজনক মাত্রায় প্লাস্টিক দূষণ ধরা পড়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা শুঁটকি মাছে নয় ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। উপকূলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে সংগৃহীত ছয় প্রজাতির মাছের সব কটি নমুনার মধ্যেই এই ক্ষতিকর কণা পাওয়া গেছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য খাদ্যনিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর নতুন করে বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলিমুল আশরাফুল আজম খানের নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। গবেষক দলটি কক্সবাজার, টেকনাফ, সুন্দরবনের দুবলার চর ও কুয়াকাটা থেকে লইট্টা, ছুরি, পোয়া, ফাইস্যাসহ বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি মাছের নমুনা সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত ২৪টি নমুনা পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করে প্রতিটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব নিশ্চিত হন গবেষকরা। আন্তর্জাতিক পলিমার হ্যাজার্ড ইনডেক্স অনুযায়ী, কুয়াকাটা ও কক্সবাজারের শুঁটকিতে এসব ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

গবেষণায় চিহ্নিত নয় ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিকের মধ্যে পলিভিনাইল ক্লোরাইড বা পিভিসি এবং পলিস্টাইরিনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি রয়েছে। গবেষকদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় যত্রতত্র ফেলা প্লাস্টিক বর্জ্য এবং শিল্পকারখানার দূষণ পানিতে মিশে জলজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া মাছ শুকানোর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্লাস্টিক উপকরণ, রশি এবং জালের কারণেও এই দূষণ ছড়াতে পারে। পরিবেশের সঙ্গে মিশে যাওয়া এই ক্ষুদ্র কণাগুলো খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে সরাসরি মাছে প্রবেশ করছে বলে তাঁরা মনে করেন।

তবে শুঁটকির এই মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে ঠিক কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি গবেষকরা। এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মত দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও খাদ্যশৃঙ্খলে এমন দূষণের বিস্তার রোধে এখনই জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপকূলীয় জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের যথাযথ নিয়ম মেনে চলতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।

খুঁজুন