রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্বস্তির জয় • সহকর্মী বেচে থাকতেই তাঁর দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে শিখি • রিসোর্টের ট্র্যাজেডি আমাদের কী শেখায় • নজরুল ও সিতির শিরশ্ছেদ মানবাধিকার ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন • মেসির জোড়া গোলে আটলান্টাকে ৩-১ ব্যবধানে হারাল ইন্টার মায়ামি • জুনে সতর্কবার্তা, অক্টোবরে দশ মৃত্যু: টুপটুপ রিসোর্টের আগুন থেকে শিক্ষা • পটিয়া ভূমি অফিসে নথি বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি • বান্দরবান-চট্টগ্রামে কাঠ পাচারের অভিযোগ, বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা ঘুষের দাবি • আমি জ্ঞানের শহর, আলী তার দরজা • ওষুধের আগুন, রাষ্ট্রের পরীক্ষা: হ্যাজম্যাট প্রস্তুতি ও জবাবদিহি কোথায়?
জাতীয় বন্যাকবলিত এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ

বন্যাকবলিত এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ

কিছুটা উন্নতি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতির। তবে বিভিন্ন উপজেলায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। সিলেট জেলার ১১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক সপ্তাহে ২১৯ জন ডায়ারিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা স্বাস্থ্য বিভাগের।

সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডায়রিয়ার পাশাপাশি অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চর্মরোগের জন্য কেউ হাসপাতালে ভর্তি না হলেও রোগীরা সেবা নিতে আসছেন। জেলায় চিকিৎসা সেবার জন্য বর্তমানে ১৪০টি চিকিৎসা দল কাজ করছে।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুন) বেলা দুইটা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৪৮ জন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত আছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। উপজেলার ১৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ১৫ জনই শিশু। এর বাইরে জেলার গোয়াইনঘাট, বিশ্বনাথ ও দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির পর ডায়রিয়া ও চর্মরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ২২ জুন থেকে ডায়ারিয়া আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হতে শুরু করেন। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর বহির্বিভাগে প্রতিদিন শতাধিক ব্যক্তি চর্মরোগের জন্য চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন।

বন্যায় জেলার সাতটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আক্রান্ত হয়েছিল। এর মধ্যে পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অন্য চারটি পানিতে তলিয়ে না গেলেও বৃষ্টির পানিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়। হাসপাতালগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। যাতে কেউ হাসপাতালে গিয়ে নতুন করে আক্রান্ত না হন। জেলার ২৬৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩৯টি।

হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে প্রয়োজনে নিজেদের স্যালাইন কেনারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সিলেটে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দুই লাখ খাওয়ার স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আরও দুই লাখ খাবার স্যালাইন সরবরাহ করা হয়। জেলায় ১৪০টি চিকিৎসা দল পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি, খাবার স্যালাইনসহ বন্যায় আক্রান্ত এলাকাগুলোতে সরেজমিনে সেবা দিচ্ছে।

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, যে পরিমাণ মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন, এর চেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। তবে হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ায় সেটির হিসাব জানা যাচ্ছে না। বন্যায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোও আক্রান্ত ছিল।

খুঁজুন