প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার মতো ঘটনায় সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিক—নজরুল ও সিতির শিরশ্ছেদের ঘটনাটি স্রেফ কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি মানবাধিকার ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ও ক্ষোভের বিষয় হলো, জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে বিন্দুমাত্র অবহিত না করেই এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
কোনো দেশ তার নিজস্ব আইনি ব্যবস্থা প্রয়োগ করতেই পারে, কিন্তু বিচারে ন্যায্য অধিকার, কূটনৈতিক যোগাযোগ ও ন্যূনতম মানবিক মর্যাদার প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কোথায়? আজকে যদি নজরুল আর সিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো শক্তিশালী পশ্চিমা দেশের নাগরিক হতো, তবে সৌদি প্রশাসনের সাধ্য হতো না কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙে এভাবে তড়িঘড়ি করে তাদের শিরশ্ছেদ করার।
একটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং তার নাগরিকরা দিনমজুর বা শ্রমজীবী বলেই কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের রক্তের কোনো মূল্য থাকবে না?
এই অমানবিক ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রতি দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক অবহেলা ও চরম বৈষম্যেরই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। সেখানে আমাদের দেশের অগণিত নারী গৃহকর্মী বছরের পর বছর ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরছেন, অথচ তাদের সুরক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা বিচার পাওয়া যায় না। প্রবাসীদের রক্তপানি করা শ্রমে অর্জিত অর্থ আর শ্রমকে শোষণ করা হলেও তাদের ন্যূনতম সম্মানটুকু দিতে এরা প্রস্তুত নয়। গোপনে আর প্রকাশ্যে যে দ্বিমুখী নীতির আইনি প্রহসন সেখানে চলে, তা তথাকথিত বিচারব্যবস্থার চরম অসংগতিকেই উন্মোচিত করে।
অথচ প্রতিবছর এই দেশের মানুষ হজ ও ওমরাহের মাধ্যমে শত শত কোটি ডলার সেই ভূমিতে দিয়ে আসে। ধর্মীয় আবেগের কারণে কিংবা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র ভূমির প্রতি শ্রদ্ধাবোধের সুযোগ নিয়ে কোনো রাষ্ট্রের শাসকশ্রেণি বা তাদের অমানবিক কর্মকাণ্ডকে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে রাখা যায় না। ধর্মের দোহাই দিয়ে যেকোনো ধরণের অমানবিকতা ও আইনি বর্বরতাকে বৈধতা দেওয়ার মানসিকতা বন্ধ হওয়া উচিত।
ধর্মীয় পরিচয়ের আগে মানুষ হিসেবে অন্য মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার ও আত্মমর্যাদার মূল্য দিতে শিখতে হবে। যে রাষ্ট্র প্রবাসীদের জীবনকে সামান্যতম মূল্য দেয় না, তাদের এই অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে এখনই সোচ্চার হওয়া এবং তাদের প্রতি সব ধরণের নৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন প্রত্যাখ্যান করা প্রতিটি বিবেকবান মানুষের দায়িত্ব।।।
নজরুল ও সিতির শিরশ্ছেদ মানবাধিকার ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন
নজরুল ও সিতির শিরশ্ছেদ মানবাধিকার ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন
প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার মতো ঘটনায় সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিক—নজরুল ও সিতির শিরশ্ছেদের ঘটনাটি স্রেফ কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি মানবাধিকার ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। সবচেয়ে মর্মান্তিক ও ক্ষোভের বিষয় হলো, জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে বিন্দুমাত্র অবহিত না করেই এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। কোনো দেশ তার নিজস্ব আইনি ব্যবস্থা প্রয়োগ করতেই পারে, কিন্তু বিচারে ন্যায্য অধিকার, কূটনৈতিক যোগাযোগ ও ন্যূনতম মানবিক মর্যাদার প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কোথায়? আজকে যদি নজরুল আর সিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো শক্তিশালী পশ্চিমা দেশের নাগরিক হতো, তবে সৌদি প্রশাসনের সাধ্য হতো না কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙে এভাবে তড়িঘড়ি করে তাদের শিরশ্ছেদ করার। একটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং তার
নাগরিকরা দিনমজুর বা শ্রমজীবী বলেই কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের রক্তের কোনো মূল্য থাকবে না? এই অমানবিক ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রতি দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক অবহেলা ও চরম বৈষম্যেরই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। সেখানে আমাদের দেশের অগণিত নারী গৃহকর্মী বছরের পর বছর ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরছেন, অথচ তাদের সুরক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা বিচার পাওয়া যায় না। প্রবাসীদের রক্তপানি করা শ্রমে অর্জিত অর্থ আর শ্রমকে শোষণ করা হলেও তাদের ন্যূনতম সম্মানটুকু দিতে এরা প্রস্তুত নয়। গোপনে আর প্রকাশ্যে যে দ্বিমুখী নীতির আইনি প্রহসন সেখানে চলে, তা তথাকথিত বিচারব্যবস্থার চরম অসংগতিকেই উন্মোচিত করে। অথচ প্রতিবছর এই দেশের মানুষ
হজ ও ওমরাহের মাধ্যমে শত শত কোটি ডলার সেই ভূমিতে দিয়ে আসে। ধর্মীয় আবেগের কারণে কিংবা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র ভূমির প্রতি শ্রদ্ধাবোধের সুযোগ নিয়ে কোনো রাষ্ট্রের শাসকশ্রেণি বা তাদের অমানবিক কর্মকাণ্ডকে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে রাখা যায় না। ধর্মের দোহাই দিয়ে যেকোনো ধরণের অমানবিকতা ও আইনি বর্বরতাকে বৈধতা দেওয়ার মানসিকতা বন্ধ হওয়া উচিত। ধর্মীয় পরিচয়ের আগে মানুষ হিসেবে অন্য মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার ও আত্মমর্যাদার মূল্য দিতে শিখতে হবে। যে রাষ্ট্র প্রবাসীদের জীবনকে সামান্যতম মূল্য দেয় না, তাদের এই অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে এখনই সোচ্চার হওয়া এবং তাদের প্রতি সব ধরণের নৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন প্রত্যাখ্যান করা প্রতিটি বিবেকবান মানুষের দায়িত্ব।।।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত