ওষুধের কারখানায় মানুষের সুস্থ হওয়ার উপকরণ তৈরি হয়। সেই কারখানায় আগুন লাগলে উদ্বেগ শুধু ভবন, যন্ত্রপাতি কিংবা উৎপাদনের ক্ষতি নিয়ে থাকে না। সেখানে কর্মরত মানুষের জীবন, উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তা, আশপাশের পরিবেশ এবং ওষুধ সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনায় আসে। তাই এমন অগ্নিকাণ্ডকে একটি প্রতিষ্ঠানের দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না। এটি শিল্পনিরাপত্তা, জরুরি প্রস্তুতি এবং সরকারি তদারকির কার্যকারিতা যাচাইয়েরও উপলক্ষ।
১৪ অক্টোবর টঙ্গীর চেরাগ আলীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট কাজ করেছে। সেনাবাহিনী ও বিজিবিও সহায়তা করেছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভবনের ভেতরে থাকা রাসায়নিক এবং অ্যালুমিনিয়াম শিটের নিচে ব্যবহৃত দাহ্য রাবার আগুনের তীব্রতা বাড়িয়েছে। ধোঁয়া ও তীব্র গন্ধের কারণে অভিযান ব্যাহত হওয়ার এবং একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মীর শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা নেওয়ার কথাও এসেছে।
এসব তথ্য ঘটনার গুরুত্ব বোঝায়। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রাথমিক বক্তব্য এবং তদন্তে প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য রাখতে হবে। এই লেখায় উল্লিখিত ঘটনাসংক্রান্ত বিবরণ প্রকাশিত বক্তব্যের ভিত্তিতে আলোচিত হয়েছে; আগুনের চূড়ান্ত কারণ বা কোনো পক্ষের দায় নির্ধারণ করা হয়নি।
কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বক্তব্যে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনার কথা এসেছে। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, তখনো আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারিত হয়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে শর্ট সার্কিটকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
আগুনের পরে বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া গেলেই সেই তার থেকে আগুন লেগেছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। আগুনেও তার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ নির্ধারণে আগুনের উৎসস্থল, তার ও সংযোগের অবস্থা, ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড, সুরক্ষা-যন্ত্রের কার্যকারিতা এবং অন্যান্য আলামত একসঙ্গে পরীক্ষা করতে হয়। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, প্রাসঙ্গিক ভিডিও ও রক্ষণাবেক্ষণের নথিও সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ।
উৎপাদন ভবনে দাহ্য পদার্থ ছিল না—কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যও প্রতিবেদনে এসেছে। আবার ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্যে রাসায়নিকের উপস্থিতির কথা পাওয়া যায়। এই দুটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী কি না, তা বুঝতে আগে জানতে হবে কোন পদার্থের কথা বলা হচ্ছে। সব রাসায়নিক দাহ্য নয়। আবার কোনো পদার্থ সরাসরি দাহ্য না হলেও উত্তাপে ভেঙে ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি করতে পারে অথবা অন্য পদার্থের সঙ্গে বিপজ্জনক বিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে।
এই বিষয়টি পরিষ্কার করার উপায় হলো রাসায়নিকের তালিকা, মজুতের পরিমাণ, সংরক্ষণের অবস্থান এবং নিরাপত্তা-তথ্যপত্র বা সেফটি ডেটা শিট যাচাই করা। কোনো গন্ধকে ‘ক্লোরিনের মতো’ মনে হওয়া রাসায়নিক শনাক্তকরণের প্রমাণ নয়। গন্ধ সতর্ক হওয়ার কারণ হতে পারে; পরিচয় নিশ্চিত করতে উপযুক্ত শনাক্তকরণ ও পরীক্ষার প্রয়োজন।
আগুনের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি তার বিস্তারও বিশ্লেষণ করতে হবে। কোথা থেকে আগুন শুরু হয়েছে এবং কীভাবে তা বড় হয়েছে—এই দুটি আলাদা বিষয়। বৈদ্যুতিক ত্রুটি আগুনের সূচনা করে থাকলেও ভবনের নির্মাণসামগ্রী, ভেতরের দাহ্য বস্তু, বায়ু চলাচলের পথ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অবস্থা তার পরবর্তী গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।
অ্যালুমিনিয়ামের আবরণ দেখেই কোনো নির্মাণসামগ্রীকে অগ্নিনিরাপদ ধরে নেওয়া যায় না। কিছু অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেলের ভেতরে দাহ্য কোর থাকে। আবার সব প্যানেলের গঠন ও অগ্নি-কার্যক্ষমতা এক নয়। সংশ্লিষ্ট ভবনে ঠিক কোন উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল, তার পরীক্ষার সনদ কী ছিল এবং কীভাবে তা স্থাপন করা হয়েছিল—এসব যাচাই ছাড়া নির্দিষ্ট প্যানেলকে আগুন ছড়ানোর কারণ বলা উচিত নয়। অ্যালুমিনিয়াম শিটের নিচের রাবার এবং কম্পোজিট প্যানেলের কোরকেও পরীক্ষা ছাড়া একই উপকরণ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না।
ভবনের ভেতরে আগুন ও ধোঁয়া আটকে রাখার ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অগ্নি-প্রতিরোধী দেয়াল ও দরজা, সুরক্ষিত সিঁড়িঘর এবং পাইপ-কেবলের ফাঁকে উপযুক্ত ফায়ার-স্টপিং আগুনের বিস্তার সীমিত রাখতে সাহায্য করে। এসব ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে আগুন ও ধোঁয়া এক অংশ থেকে অন্য অংশে পৌঁছানোর সুযোগ পেতে পারে। তবে এই কারখানায় কোথায় কী ঘাটতি ছিল, তা পরিদর্শন ও তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারণ করতে হবে।
একইভাবে অ্যালার্ম, ডিটেক্টর, স্প্রিংকলার, হাইড্র্যান্ট, পাম্প ও পানির সরবরাহের কার্যকারিতা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রযোজ্য নকশা ও বিধি অনুযায়ী কোন ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল, বাস্তবে কী স্থাপন করা হয়েছিল, কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সময় সেগুলো কেমন কাজ করেছে—এই ধারাবাহিক তথ্য ছাড়া সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব নয়।
আগুন বড় হয়েছে বলেই সব ব্যবস্থা ব্যর্থ ছিল, এমন সিদ্ধান্ত যথাযথ নয়। আবার অনুমোদনপত্র আছে বলেই সব ব্যবস্থা কার্যকর ছিল, সেটিও ধরে নেওয়া যায় না। নকশা, স্থাপন, পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঘটনার সময়কার কার্যকারিতা মিলিয়েই নিরাপত্তার মূল্যায়ন করতে হবে।
রাসায়নিক ঝুঁকিসম্পন্ন স্থাপনায় অগ্নিনির্বাপণের সঙ্গে হ্যাজম্যাট ব্যবস্থাপনা যুক্ত থাকে। হ্যাজম্যাট বলতে বিপজ্জনক পদার্থজনিত ঝুঁকি শনাক্ত, নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলার প্রস্তুতিকে বোঝানো হচ্ছে। এর মধ্যে পদার্থের পরিচয় জানা, নিরাপদ দূরত্ব নির্ধারণ, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, উপযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম নির্বাচন এবং প্রয়োজনমতো দূষণমুক্তকরণ বা ডিকন্টামিনেশনের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।
এ ধরনের অভিযানে একটি সমন্বিত কমান্ড কাঠামো প্রয়োজন। কে সিদ্ধান্ত দেবেন, কে রাসায়নিক তথ্য সংগ্রহ করবেন, কোন দল কোথায় প্রবেশ করবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের কীভাবে ফিরিয়ে আনা হবে—এসব দায়িত্ব স্পষ্ট থাকা জরুরি। একাধিক বাহিনী অংশ নিলে তাদের যোগাযোগ ও কাজের সমন্বয়ও একই কাঠামোর মধ্যে রাখতে হয়।
ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলকে হট, ওয়ার্ম ও কোল্ড জোনে ভাগ করা হয়। হট জোনে সরাসরি বিপদের আশঙ্কা থাকে এবং প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। ওয়ার্ম জোনে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিকন্টামিনেশন ও সংশ্লিষ্ট সহায়তা দেওয়া হয়। কোল্ড জোনে নিরাপদ অবস্থানে কমান্ড, চিকিৎসা ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব এলাকার সীমানা স্থায়ী নয়; বাতাসের দিক, শনাক্তকরণের ফল এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুযায়ী তা সংশোধন করতে হয়।
সংশ্লিষ্ট অভিযানে এই ব্যবস্থাগুলো কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা কার্যক্রমের নথি দিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সেই মূল্যায়নের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ভালো কাজগুলো চিহ্নিত করা, সীমাবদ্ধতা বোঝা এবং পরবর্তী অভিযানে সংশোধন আনা।
উদ্ধারকারীদের সুরক্ষার বিষয়টি এখানে বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। সাধারণ অগ্নিনির্বাপণ পোশাক সব রাসায়নিক থেকে সুরক্ষা দেয় না। শ্বাসযন্ত্রের সুরক্ষা এবং ত্বকের সুরক্ষার প্রয়োজনও এক নয়। সম্ভাব্য পদার্থ, তার ঘনত্ব, সংস্পর্শের পথ ও কাজের ধরন অনুযায়ী সুরক্ষা সরঞ্জাম নির্বাচন করতে হয়। অজানা বা জীবনহানিকর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের ক্ষেত্রে উপযুক্ত শ্বাস-সুরক্ষা অপরিহার্য।
তাই বিশেষায়িত হ্যাজম্যাট সক্ষমতা বলতে শুধু সরঞ্জাম কেনাকে বোঝালে চলবে না। প্রশিক্ষিত দল, সচল শনাক্তকরণ যন্ত্র, উপযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম, ডিকন্টামিনেশন সুবিধা, চিকিৎসাসহায়তা এবং দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা একসঙ্গে কার্যকর থাকতে হবে। নিয়মিত মহড়া ও সক্ষমতা যাচাই ছাড়া কাগজের প্রস্তুতি বাস্তব প্রস্তুতিতে পরিণত হয় না।
কারখানার নিজস্ব দায়িত্বও স্পষ্ট। হালনাগাদ রাসায়নিক তালিকা, সহজে পাওয়া যায় এমন নিরাপত্তা-তথ্যপত্র, সঠিক লেবেল, উপযুক্ত সংরক্ষণ এবং জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা উদ্ধারকারী দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। জরুরি পরিকল্পনায় এসব তথ্য দ্রুত হস্তান্তরের পদ্ধতি থাকতে হবে।
লাইসেন্স ও সরকারি পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও দায়িত্বভিত্তিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। কোন সংস্থা কোন বিষয় অনুমোদন করেছে, পরিদর্শনে কী পাওয়া গেছে, সংশোধনের কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং তা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না—এই নথিগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। সব সংস্থার দায়িত্ব এক নয়। তাই দায়ও নির্ধারণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আইনগত ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং প্রমাণের ভিত্তিতে।
শুধু অনুমোদনের সংখ্যা দিয়ে নিরাপত্তার মান বোঝা যায় না। গুরুত্বপূর্ণ হলো অনুমোদনের শর্ত বাস্তবে মানা হয়েছে কি না এবং পরিবর্তিত ব্যবহার, রাসায়নিক মজুত বা ভবনের পরিবর্তনের সঙ্গে ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না।
আগুন নেভার পর পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত মূল্যায়নও প্রয়োজন হতে পারে। ঘটনাস্থলে থাকা পদার্থ এবং ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য পথ বিবেচনা করে ছাই, অবশিষ্টাংশ, ক্ষতিগ্রস্ত পাত্র ও নির্বাপণ-পানির ঝুঁকি নির্ধারণ করতে হবে। কোথায় নমুনা নেওয়া দরকার এবং কী পরীক্ষা প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা নির্ধারণ করবেন। পরীক্ষা ছাড়া দূষণ ঘটেছে বলা যেমন অনুচিত, তেমনি দূষণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়াও ঠিক নয়।
ধোঁয়া বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা শ্রমিক ও উদ্ধারকারীদের তথ্য নথিবদ্ধ করা জরুরি। তারা কোথায় ছিলেন, কতক্ষণ ছিলেন, কী সুরক্ষা ব্যবহার করেছেন এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিয়েছে কি না—এসব তথ্য চিকিৎসকের মূল্যায়নে কাজে আসে। সবার জন্য একই রক্তপরীক্ষার তালিকা যথেষ্ট নয়। সম্ভাব্য পদার্থ, সংস্পর্শের ইতিহাস ও উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পরবর্তী পর্যবেক্ষণ নির্ধারণ করবেন।
প্রতিরোধে বিনিয়োগের হিসাবও বাস্তবসম্মত হওয়া দরকার। নির্দিষ্ট কোনো শতাংশ ব্যয় করলেই সব ঝুঁকি দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। প্রয়োজন ঝুঁকি অনুযায়ী নকশা, মানসম্মত স্থাপন, প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ। একটি ব্যবস্থা বসানোর পর সেটিকে সচল রাখার ব্যয়ও নিরাপত্তা বিনিয়োগের অংশ।
অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি শুধু পোড়া সম্পদের দামে সীমাবদ্ধ থাকে না। উৎপাদন বন্ধ, শ্রমিকের আয়হানি, চিকিৎসা, উদ্ধার কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্নির্মাণের ব্যয়ও যুক্ত হয়। সরবরাহ ও ব্যবসায়িক আস্থার ওপর প্রভাব পড়লে ক্ষতির পরিধি আরও বাড়তে পারে। তাই শিল্পনিরাপত্তায় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও বৃহত্তর জনস্বার্থ—দুটিই রক্ষা করে।
এই ঘটনার পর সবচেয়ে প্রয়োজন একটি প্রমাণভিত্তিক তদন্ত এবং তার সুপারিশ বাস্তবায়ন। তদন্তে আগুনের কারণ, বিস্তারের পথ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা, উদ্ধারকারীদের সুরক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক তদারকি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। এরপর কোন ঘাটতি কে সংশোধন করবে, কত দিনের মধ্যে করবে এবং তা কে যাচাই করবে—সেটিও নির্ধারণ করতে হবে।
ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষা করে। সেই ওষুধ তৈরির সঙ্গে যুক্ত মানুষ এবং তাদের উদ্ধারে নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান দায়িত্বের বিষয়। এই দায়িত্ব পালনের প্রমাণ পাওয়া যাবে কার্যকর ব্যবস্থায়, নির্ভরযোগ্য নথিতে এবং সময়মতো সংশোধনে। একটি অগ্নিকাণ্ডের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা তখনই কাজে আসে, যখন তা পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমায়।
ওষুধের আগুন, রাষ্ট্রের পরীক্ষা: হ্যাজম্যাট প্রস্তুতি ও জবাবদিহি কোথায়?
ওষুধের আগুন, রাষ্ট্রের পরীক্ষা: হ্যাজম্যাট প্রস্তুতি ও জবাবদিহি কোথায়?
ওষুধের কারখানায় মানুষের সুস্থ হওয়ার উপকরণ তৈরি হয়। সেই কারখানায় আগুন লাগলে উদ্বেগ শুধু ভবন, যন্ত্রপাতি কিংবা উৎপাদনের ক্ষতি নিয়ে থাকে না। সেখানে কর্মরত মানুষের জীবন, উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তা, আশপাশের পরিবেশ এবং ওষুধ সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনায় আসে। তাই এমন অগ্নিকাণ্ডকে একটি প্রতিষ্ঠানের দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না। এটি শিল্পনিরাপত্তা, জরুরি প্রস্তুতি এবং সরকারি তদারকির কার্যকারিতা যাচাইয়েরও উপলক্ষ। ১৪ অক্টোবর টঙ্গীর চেরাগ আলীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট কাজ করেছে। সেনাবাহিনী ও বিজিবিও সহায়তা করেছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভবনের ভেতরে থাকা রাসায়নিক এবং অ্যালুমিনিয়াম শিটের নিচে ব্যবহৃত দাহ্য রাবার আগুনের তীব্রতা বাড়িয়েছে। ধোঁয়া ও তীব্র গন্ধের কারণে অভিযান ব্যাহত হওয়ার এবং একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মীর শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা নেওয়ার কথাও এসেছে। এসব তথ্য ঘটনার গুরুত্ব বোঝায়। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রাথমিক বক্তব্য এবং তদন্তে প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য রাখতে হবে। এই লেখায় উল্লিখিত ঘটনাসংক্রান্ত বিবরণ প্রকাশিত বক্তব্যের ভিত্তিতে আলোচিত হয়েছে; আগুনের চূড়ান্ত কারণ বা কোনো পক্ষের দায় নির্ধারণ করা হয়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বক্তব্যে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনার কথা এসেছে। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, তখনো আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারিত হয়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে শর্ট সার্কিটকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। আগুনের পরে বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া গেলেই সেই তার থেকে আগুন লেগেছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। আগুনেও তার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ নির্ধারণে আগুনের উৎসস্থল, তার ও সংযোগের অবস্থা, ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড, সুরক্ষা-যন্ত্রের কার্যকারিতা এবং অন্যান্য আলামত একসঙ্গে পরীক্ষা করতে হয়। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, প্রাসঙ্গিক ভিডিও ও রক্ষণাবেক্ষণের নথিও সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন ভবনে দাহ্য পদার্থ ছিল না—কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যও প্রতিবেদনে এসেছে। আবার ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্যে রাসায়নিকের উপস্থিতির কথা পাওয়া যায়। এই দুটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী কি না, তা বুঝতে আগে জানতে হবে কোন পদার্থের কথা বলা হচ্ছে। সব রাসায়নিক দাহ্য নয়। আবার কোনো পদার্থ সরাসরি দাহ্য না হলেও উত্তাপে ভেঙে ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি করতে পারে অথবা অন্য পদার্থের সঙ্গে বিপজ্জনক বিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। এই বিষয়টি পরিষ্কার করার উপায় হলো রাসায়নিকের তালিকা, মজুতের পরিমাণ, সংরক্ষণের অবস্থান এবং নিরাপত্তা-তথ্যপত্র বা সেফটি ডেটা শিট যাচাই করা। কোনো গন্ধকে ‘ক্লোরিনের মতো’ মনে হওয়া রাসায়নিক শনাক্তকরণের প্রমাণ নয়। গন্ধ সতর্ক হওয়ার কারণ হতে পারে; পরিচয় নিশ্চিত করতে উপযুক্ত শনাক্তকরণ ও পরীক্ষার প্রয়োজন। আগুনের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি তার বিস্তারও বিশ্লেষণ করতে হবে। কোথা থেকে আগুন শুরু হয়েছে এবং কীভাবে তা বড় হয়েছে—এই দুটি আলাদা বিষয়। বৈদ্যুতিক ত্রুটি আগুনের সূচনা করে থাকলেও ভবনের নির্মাণসামগ্রী, ভেতরের দাহ্য বস্তু, বায়ু চলাচলের পথ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অবস্থা তার পরবর্তী গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। অ্যালুমিনিয়ামের আবরণ দেখেই কোনো নির্মাণসামগ্রীকে অগ্নিনিরাপদ ধরে নেওয়া যায় না। কিছু অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেলের ভেতরে দাহ্য কোর থাকে। আবার সব প্যানেলের গঠন ও অগ্নি-কার্যক্ষমতা এক নয়। সংশ্লিষ্ট ভবনে ঠিক কোন উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল, তার পরীক্ষার সনদ
কী ছিল এবং কীভাবে তা স্থাপন করা হয়েছিল—এসব যাচাই ছাড়া নির্দিষ্ট প্যানেলকে আগুন ছড়ানোর কারণ বলা উচিত নয়। অ্যালুমিনিয়াম শিটের নিচের রাবার এবং কম্পোজিট প্যানেলের কোরকেও পরীক্ষা ছাড়া একই উপকরণ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। ভবনের ভেতরে আগুন ও ধোঁয়া আটকে রাখার ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অগ্নি-প্রতিরোধী দেয়াল ও দরজা, সুরক্ষিত সিঁড়িঘর এবং পাইপ-কেবলের ফাঁকে উপযুক্ত ফায়ার-স্টপিং আগুনের বিস্তার সীমিত রাখতে সাহায্য করে। এসব ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে আগুন ও ধোঁয়া এক অংশ থেকে অন্য অংশে পৌঁছানোর সুযোগ পেতে পারে। তবে এই কারখানায় কোথায় কী ঘাটতি ছিল, তা পরিদর্শন ও তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারণ করতে হবে। একইভাবে অ্যালার্ম, ডিটেক্টর, স্প্রিংকলার, হাইড্র্যান্ট, পাম্প ও পানির সরবরাহের কার্যকারিতা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রযোজ্য নকশা ও বিধি অনুযায়ী কোন ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল, বাস্তবে কী স্থাপন করা হয়েছিল, কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সময় সেগুলো কেমন কাজ করেছে—এই ধারাবাহিক তথ্য ছাড়া সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব নয়। আগুন বড় হয়েছে বলেই সব ব্যবস্থা ব্যর্থ ছিল, এমন সিদ্ধান্ত যথাযথ নয়। আবার অনুমোদনপত্র আছে বলেই সব ব্যবস্থা কার্যকর ছিল, সেটিও ধরে নেওয়া যায় না। নকশা, স্থাপন, পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঘটনার সময়কার কার্যকারিতা মিলিয়েই নিরাপত্তার মূল্যায়ন করতে হবে। রাসায়নিক ঝুঁকিসম্পন্ন স্থাপনায় অগ্নিনির্বাপণের সঙ্গে হ্যাজম্যাট ব্যবস্থাপনা যুক্ত থাকে। হ্যাজম্যাট বলতে বিপজ্জনক পদার্থজনিত ঝুঁকি শনাক্ত, নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলার প্রস্তুতিকে বোঝানো হচ্ছে। এর মধ্যে পদার্থের পরিচয় জানা, নিরাপদ দূরত্ব নির্ধারণ, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, উপযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম নির্বাচন এবং প্রয়োজনমতো দূষণমুক্তকরণ বা ডিকন্টামিনেশনের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের অভিযানে একটি সমন্বিত কমান্ড কাঠামো প্রয়োজন। কে সিদ্ধান্ত দেবেন, কে রাসায়নিক তথ্য সংগ্রহ করবেন, কোন দল কোথায় প্রবেশ করবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের কীভাবে ফিরিয়ে আনা হবে—এসব দায়িত্ব স্পষ্ট থাকা জরুরি। একাধিক বাহিনী অংশ নিলে তাদের যোগাযোগ ও কাজের সমন্বয়ও একই কাঠামোর মধ্যে রাখতে হয়। ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলকে হট, ওয়ার্ম ও কোল্ড জোনে ভাগ করা হয়। হট জোনে সরাসরি বিপদের আশঙ্কা থাকে এবং প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। ওয়ার্ম জোনে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিকন্টামিনেশন ও সংশ্লিষ্ট সহায়তা দেওয়া হয়। কোল্ড জোনে নিরাপদ অবস্থানে কমান্ড, চিকিৎসা ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব এলাকার সীমানা স্থায়ী নয়; বাতাসের দিক, শনাক্তকরণের ফল এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুযায়ী তা সংশোধন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট অভিযানে এই ব্যবস্থাগুলো কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা কার্যক্রমের নথি দিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সেই মূল্যায়নের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ভালো কাজগুলো চিহ্নিত করা, সীমাবদ্ধতা বোঝা এবং পরবর্তী অভিযানে সংশোধন আনা। উদ্ধারকারীদের সুরক্ষার বিষয়টি এখানে বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। সাধারণ অগ্নিনির্বাপণ পোশাক সব রাসায়নিক থেকে সুরক্ষা দেয় না। শ্বাসযন্ত্রের সুরক্ষা এবং ত্বকের সুরক্ষার প্রয়োজনও এক নয়। সম্ভাব্য পদার্থ, তার ঘনত্ব, সংস্পর্শের পথ ও কাজের ধরন অনুযায়ী সুরক্ষা সরঞ্জাম নির্বাচন করতে হয়। অজানা বা জীবনহানিকর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের ক্ষেত্রে উপযুক্ত শ্বাস-সুরক্ষা অপরিহার্য। তাই বিশেষায়িত হ্যাজম্যাট সক্ষমতা বলতে শুধু সরঞ্জাম কেনাকে বোঝালে চলবে না। প্রশিক্ষিত দল, সচল শনাক্তকরণ যন্ত্র, উপযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম, ডিকন্টামিনেশন সুবিধা, চিকিৎসাসহায়তা এবং দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা একসঙ্গে কার্যকর থাকতে হবে। নিয়মিত মহড়া ও সক্ষমতা যাচাই ছাড়া কাগজের
প্রস্তুতি বাস্তব প্রস্তুতিতে পরিণত হয় না। কারখানার নিজস্ব দায়িত্বও স্পষ্ট। হালনাগাদ রাসায়নিক তালিকা, সহজে পাওয়া যায় এমন নিরাপত্তা-তথ্যপত্র, সঠিক লেবেল, উপযুক্ত সংরক্ষণ এবং জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা উদ্ধারকারী দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। জরুরি পরিকল্পনায় এসব তথ্য দ্রুত হস্তান্তরের পদ্ধতি থাকতে হবে। লাইসেন্স ও সরকারি পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও দায়িত্বভিত্তিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। কোন সংস্থা কোন বিষয় অনুমোদন করেছে, পরিদর্শনে কী পাওয়া গেছে, সংশোধনের কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং তা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না—এই নথিগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। সব সংস্থার দায়িত্ব এক নয়। তাই দায়ও নির্ধারণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আইনগত ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং প্রমাণের ভিত্তিতে। শুধু অনুমোদনের সংখ্যা দিয়ে নিরাপত্তার মান বোঝা যায় না। গুরুত্বপূর্ণ হলো অনুমোদনের শর্ত বাস্তবে মানা হয়েছে কি না এবং পরিবর্তিত ব্যবহার, রাসায়নিক মজুত বা ভবনের পরিবর্তনের সঙ্গে ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না। আগুন নেভার পর পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত মূল্যায়নও প্রয়োজন হতে পারে। ঘটনাস্থলে থাকা পদার্থ এবং ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য পথ বিবেচনা করে ছাই, অবশিষ্টাংশ, ক্ষতিগ্রস্ত পাত্র ও নির্বাপণ-পানির ঝুঁকি নির্ধারণ করতে হবে। কোথায় নমুনা নেওয়া দরকার এবং কী পরীক্ষা প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা নির্ধারণ করবেন। পরীক্ষা ছাড়া দূষণ ঘটেছে বলা যেমন অনুচিত, তেমনি দূষণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়াও ঠিক নয়। ধোঁয়া বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা শ্রমিক ও উদ্ধারকারীদের তথ্য নথিবদ্ধ করা জরুরি। তারা কোথায় ছিলেন, কতক্ষণ ছিলেন, কী সুরক্ষা ব্যবহার করেছেন এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিয়েছে কি না—এসব তথ্য চিকিৎসকের মূল্যায়নে কাজে আসে। সবার জন্য একই রক্তপরীক্ষার তালিকা যথেষ্ট নয়। সম্ভাব্য পদার্থ, সংস্পর্শের ইতিহাস ও উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পরবর্তী পর্যবেক্ষণ নির্ধারণ করবেন। প্রতিরোধে বিনিয়োগের হিসাবও বাস্তবসম্মত হওয়া দরকার। নির্দিষ্ট কোনো শতাংশ ব্যয় করলেই সব ঝুঁকি দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। প্রয়োজন ঝুঁকি অনুযায়ী নকশা, মানসম্মত স্থাপন, প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ। একটি ব্যবস্থা বসানোর পর সেটিকে সচল রাখার ব্যয়ও নিরাপত্তা বিনিয়োগের অংশ। অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি শুধু পোড়া সম্পদের দামে সীমাবদ্ধ থাকে না। উৎপাদন বন্ধ, শ্রমিকের আয়হানি, চিকিৎসা, উদ্ধার কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্নির্মাণের ব্যয়ও যুক্ত হয়। সরবরাহ ও ব্যবসায়িক আস্থার ওপর প্রভাব পড়লে ক্ষতির পরিধি আরও বাড়তে পারে। তাই শিল্পনিরাপত্তায় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও বৃহত্তর জনস্বার্থ—দুটিই রক্ষা করে। এই ঘটনার পর সবচেয়ে প্রয়োজন একটি প্রমাণভিত্তিক তদন্ত এবং তার সুপারিশ বাস্তবায়ন। তদন্তে আগুনের কারণ, বিস্তারের পথ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা, উদ্ধারকারীদের সুরক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক তদারকি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। এরপর কোন ঘাটতি কে সংশোধন করবে, কত দিনের মধ্যে করবে এবং তা কে যাচাই করবে—সেটিও নির্ধারণ করতে হবে। ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষা করে। সেই ওষুধ তৈরির সঙ্গে যুক্ত মানুষ এবং তাদের উদ্ধারে নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান দায়িত্বের বিষয়। এই দায়িত্ব পালনের প্রমাণ পাওয়া যাবে কার্যকর ব্যবস্থায়, নির্ভরযোগ্য নথিতে এবং সময়মতো সংশোধনে। একটি অগ্নিকাণ্ডের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা তখনই কাজে আসে, যখন তা পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমায়।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত