রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিসিক

ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিসিক

ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ঋণ প্রদান, প্রশিক্ষণ এবং শিল্পনগরী স্থাপনসহ যেসব উদ্দেশে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই মূল লক্ষ্যকে এবার সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন শিল্পনগরী সরেজমিনে পরিদর্শন করে সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করেছেন জানিয়ে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের শিল্পায়নকে কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে ১৯৫৭ সালে ‘ইপসিক’ হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে বিসিক নামে পুনর্বিন্যাস করা হয়।

তিনি জানান, নানা সমস্যায় জর্জরিত বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশের ৮৪টি শিল্পনগরী ও পার্কের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার, বন্ধ ও রুগ্ন কারখানা চালু, অব্যবহৃত প্লট দ্রুত বরাদ্দ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করার উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

শিল্পনগরীগুলোর বর্তমান অবকাঠামোগত অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ শিল্পনগরী কয়েক দশক আগে নির্মিত। ষাটের দশকে হালকা যানবাহনের কথা ভেবে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো তৈরি করা হয়েছিল, কারণ তখন ভারী ট্রাক বা লরির চলাচল ছিল সীমিত। তবে বর্তমানে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনে ভারী যানবাহন ব্যবহৃত হওয়ায় পুরোনো রাস্তাগুলো দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। অনেক জায়গায় ড্রেনেজ ব্যবস্থাও মানসম্মত নয়।’

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, পুরোনো শিল্পনগরীগুলোতে সীমানা প্রাচীর দুর্বল, কোথাও গেট ভাঙা, আবার কোথাও পর্যাপ্ত আলো ও সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সংস্থাটির আওতাধীন শিল্পকারখানাগুলোর চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বিসিকের অধীন ৬ হাজার ২২৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু কারখানা রুগ্ন হয়ে পড়েছে এবং কিছু পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কারখানা বন্ধের কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সচল করতে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। এজন্য বন্ধ ও রুগ্ন কারখানার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৪৩টি বন্ধ মিল-কারখানাকে নতুন করে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে যেন কোনো কারখানা বন্ধ না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে থাকা প্লট বরাদ্দের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, নতুন ও পুরোনো শিল্পপার্কে অব্যবহৃত বা অবরাদ্দ অবস্থায় থাকা প্লটগুলো দ্রুত উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬০০টির বেশি প্লট বরাদ্দের জন্য নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া খুব দ্রুত শেষ করে নতুন শিল্প স্থাপনের পথ সুগম করতে চাই।

জাতীয় অর্থনীতিতে বিসিকের অবদান সম্পর্কে তিনি বলেন, বিসিকের অধীনে থাকা ৬ হাজারের বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতের অন্যতম মূল ভিত্তি। এসব প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে বিসিকের সার্বিক কার্যক্রম বিবেচনা করলে কর্মসংস্থানের এই পরিধি আরও অনেক বিস্তৃত।

শিল্পনগরী পরিচালনা ছাড়াও বিসিক নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে উল্লেখ করে বেনজীর আহমেদ বলেন, দক্ষ উদ্যোক্তা ও কারিগর তৈরি করতে পারলে কারখানার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বিসিককে কেবল ‘শিল্পপ্লট বরাদ্দকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে রেখে দিতে চান না জানিয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘তৃণমূল উদ্যোক্তাদের জন্য বিসিককে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প সহায়ক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য রাস্তা, ড্রেনেজ, নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ সংযোগ সহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। একইসাথে বন্ধ শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা, নতুন বিনিয়োগ আনা এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিসিক শিল্পায়নের যে ভিত্তি তৈরি করেছে, তাকে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত অবকাঠামো ও নতুন বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে গ্রাম পর্যায়ের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

বিসিক প্রধান উল্লেখ করেন, শিল্পনগরীগুলোকে নিরাপদ, আধুনিক ও উদ্যোক্তাবান্ধব করা সম্ভব হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। এতে বন্ধ কারখানা চালু হয়ে উৎপাদন বাড়বে, নতুন শিল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থেও প্রবাহ বাড়বে। পরিশেষে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক শিল্পায়ন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

খুঁজুন