রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়িয়েছে ‘দ্বিতীয় জীবন’: বন্যায় প্লাবিত টানেলে ১০ দিন বেঁচে থাকার বর্ণনা নেপালি শ্রমিকের মারাওয়ি অবরোধের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে আয়ারল্যান্ড সফরের দ্বিতীয় দিনে গলফ ও পারিবারিক ব্যবসায় মনোযোগ ট্রাম্পের সৌদি ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদের সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব লিগ্যাল এইডে সরকারি খরচে ২ লাখ ৪২ হাজার ২৫৫ মামলার নিষ্পত্তি সরকারি খরচায় আইনগত সহায়তা পেয়েছেন ১৬ লাখ ১০ হাজার উপকারভোগী
আন্তর্জাতিক মারাওয়ি অবরোধের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে

মারাওয়ি অবরোধের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে

২০১৭ সালের রক্তক্ষয়ী মারাওয়ি অবরোধে বেঁচে থাকা মানুষের জন্য গড়ে তোলা পুনর্বাসন এলাকার কাছে কালো মুখাবরণ পরা এক নারী নামহীন সমাধিফলকে ভরা একটি টিলার ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন।

নারীটি সোফিয়া আমিনোল্লা। তিনি একজন নার্স ও দুই সন্তানের মা। নিখোঁজ ছোট ভাই আমেরেল ওই নম্বরযুক্ত কবরগুলোর কোনো একটিতে শায়িত আছেন কি না, তিনি জানেন না। এমন অনিশ্চয়তায় আছেন আরও অনেকে। 

দক্ষিণ ফিলিপাইনের বর্তমানে আধা-স্বায়ত্তশাসিত মুসলিম অঞ্চলটি সোমবার প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে। 

এর আগে ওই কবরস্থানটি মনে করিয়ে দিচ্ছে, ক্ষত সারিয়ে ওঠার কাজ এখনো অনেক বাকি।

আমিনোল্লা এএফপিকে এ সপ্তাহে ওই কবরস্থান পরিদর্শনের সময় বলেন, ‘সে এখনো বেঁচে আছে কি না, আমি জানি না। কিন্তু আমার মন বলে, সে বেঁচে আছে। কারণ সে সবসময় আমার স্বপ্নে বাড়ি ফিরে আসে।’

২০১৭ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ফিলিপাইনের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বন্দুকধারীদের মধ্যে তীব্র লড়াই হয়। বাড়ি বাড়ি চলা ওই যুদ্ধে মারাওয়ির ৪০০ হেক্টরের বাণিজ্যিক এলাকাটি একটি জনশূন্য ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

সরকারি হিসাবে এতে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন হিসাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকা করেছে।

স্থানীয় মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা মোরো কনসেনসাস গ্রুপের চেয়ারম্যান ড্রিয়েজা লিন্ডিংগ সমাধিস্থলে এএফপিকে বলেন, ‘অবরোধে শুধু অবকাঠামো ও মানুষ মারা যায়নি, আমাদের সম্প্রদায়ের সামাজিক বন্ধনও ধ্বংস হয়েছে।’

ওই কবরস্থানের কয়েকটি কবরের প্রতিটিকে ছয়টি পর্যন্ত লাশ রয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য।

তাদের দাবিগুলো নিষ্পত্তির জন্য সরকার একটি বিশেষ বোর্ড গঠন করেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫০ কোটি পেসো (১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার) পরিশোধ করা হয়েছে। তবে আনুমানিক ১৪ হাজার দাবিদারের অন্তত অর্ধেক এখনো ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন।

মারাওয়ি কমপেনসেশন বোর্ডের মুখপাত্র জোহারি লুমনা বলেন, ক্ষতিপূরণ পেতে সরকারের দেওয়া মৃত্যু সনদ প্রয়োজন।

বর্তমানে যুদ্ধের সময় নিখোঁজ ব্যক্তিদের পক্ষে কাজ করা একটি সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া আমিনোল্লা বলেন, তার পরিবারের ক্ষতিপূরণের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরণে আহত হওয়ার পর তার ভাইকে কাছের একটি শহরের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এক আত্মীয় সেখানে তাকে শেষবার দেখেছিলেন। এরপর আর তাকে দেখা যায়নি।

‘গ্রাউন্ড জিরো’

মারাওয়ির ‘গ্রাউন্ড জিরোতে’ এখন নির্মাণকাজের ক্ষীণ শব্দ শোনা যায়। ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর কয়েকটির কালো হয়ে যাওয়া কাঠামো ক্ষতিপূরণের অর্থে আবার নির্মাণ করা হচ্ছে।

কাছের হ্রদের তীরে মাথায় স্কার্ফ পরা কিশোরীরা ই-স্কুটারে ছুটে বেড়াচ্ছে। শিশুরা পিকনিক করতে আসা মায়েদের পাশে খেলছে।

মারাওয়ি যুদ্ধের সময়ের মেয়র মাজুল গান্দামরা জানান, ২০১৭ সালে শহরটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় দুই লাখ। তাদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ এখনো ফিরে আসেনি বা পুনর্বাসিত হয়নি। তবে শহরের নতুন বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যবসা এখন জমজমাট।

৭৩ বছর বয়সী সোরায়া তাম্বো তার চারতলা ভবনের নিচতলায় মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশের দোকান আবার খুলেছেন। আঞ্চলিক সরকারের দেওয়া পাঁচ লাখ পেসোর নির্মাণসামগ্রী ও কিছু নগদ অর্থের সহায়তায় তিনি এটি করেছেন।

ভবনের ওপরের তলাগুলো এখনো যুদ্ধের ক্ষত বহন করছে। ক্ষতিপূরণের দাবি নিষ্পত্তি হলে সেগুলো মেরামত করার আশা করছেন তিনি।

একটি দেয়ালে এখনো লড়াইয়ে অংশ নেওয়া আইএস-সমর্থিত মাউতে গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের আঁকা রঙিন গ্রাফিতি দেখা যায়। সেখানে লেখা, ‘যুদ্ধ বন্ধ করো!’

চার কিলোমিটার দূরে সাময়িক সাগনসনগান পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো এখনো মাত্র ১৬ বর্গমিটারের ছোট ছোট ইউনিটে বসবাস করছে। ২০২২ সালেই তাদের এসব ঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল।

ছয় সন্তানের মা ৪৭ বছর বয়সী অ্যানালিন পাঙ্গাদামান বলেন, সেখানে কলের পানি নেই। বিদ্যুৎও মাঝে মাঝে চলে যায়। তার ৫০ বছর বয়সী স্বামী জামিল নিয়মিত কাজ পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছেন।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমি মুদি দোকান চালাই। কিন্তু আমার তাকগুলো খালি, একেবারেই কিছু নেই। আমরা সব খেয়ে ফেলেছি।’

যুদ্ধের ভয়াবহতায় এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে। মেঝেতে কোনো কিছু পড়ার সামান্য শব্দ হলেই সে কেঁদে উঠে তাদের জড়িয়ে ধরে।

মিনদানাও ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আকরাম লতিফ এএফপিকে বলেন, ‘এই মানুষগুলোর বাড়িঘর হারানোর পর থেকে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় অন্যায় সম্ভবত এটিই— তারা নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে পারছেন না।’

২০২৮ সালে ক্ষতিপূরণ বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর আগে এখনো প্রক্রিয়াধীন থাকা হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তির জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

তবে আমিনোল্লার মতো অন্যদের কাছে অর্থ কখনোই সমাধান নয়।

নিখোঁজ ভাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষুব্ধ। কারণ আমাদের সঠিক উত্তর দেওয়া হচ্ছে না।’

খুঁজুন