অনুকূল আবহাওয়ার কারণে জেলায় এ বছর পাটের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে বেজায় খুশি পাট চাষীরা। এখন পাটের ভরা মৌসুম চলছে। আর এতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মাঠ, বিল, নদী, খাল, ডোবা ও জলাশয়ে ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত কৃষকদের পাট গাছ কেটে পানিতে জাগ দিতে দেখা গেছে। পানিতে জাগ দেয়া পাট গাছগুলো তুলে আঁশ ছাড়ানো এবং পাটের আঁশ ধুয়ে রোদে শুকানোর কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। পাট সংশ্লিষ্ট এ কর্মব্যস্ততা জেলাব্যাপী দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। হাট বাজারেও উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট।
এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পাটের ফলন খুব ভালো। দামও ভালো, আর এতে খুশি চাষীরা। অধিক ফলন আর ভালো দামে ক্লান্তির কোন চিহ্ন যেন নেই তাদের চোখে মুখে। জেলায় এবার প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা থেকে ৪ হাজার ২শ’ টাকায়।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষমাত্রার চেয়ে পাট চাষ কিছুটা বেশি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমণে ৫শ’ টাকা থেকে ৮শ’ টাকা পর্যন্ত দাম বেশি পাচ্ছেন কৃষকরা। ফলে আবারও সোনালি আঁশে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন তারা।
অপরদিকে, পাটের সুদিন ফেরাতে প্রণোদনা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
গত বছর প্রতিমণ পাট বিক্রি দাম ছিল ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা। এ বছর আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় আশানুরূপ ফলন এবং দামও ভালো পাওয়ায় সন্তুষ্ট কৃষকরা।
জেলার সদর উপজেলার রানিহাটি ইউনিয়নের পাট চাষী মো. আকবর আলী বাসস’কে জানিয়েছেন, এ বছর ভালো আবহাওয়ার কারণে ফলন ভালো হয়েছে দামও বেশ ভালো। তিনি জানান, এবছর আমি ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। মোট খরচ হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। ২ বিঘা জমিতে পাট হয়েছে ২৮ মণ। এই পাট বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ টাকা পেয়েছি।
শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের পিয়ালিমারি গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা বলেন, তিনি ৩ বিঘা জমিতে দেশি ও তোষা পাটের আবাদ করেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এক বিঘা দেশি পাট কেটে জাগ দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে প্রথমবার ১৩ মণ পাট ৪৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। ভালো দাম পাওয়ায় তিনি খুব খুশি।
কৃষকদের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিঘা প্রতি মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করে কৃষকরা আয় করছেন ৪৫ থেকে ৫০হাজার টাকা পর্যন্ত। তাই আবার সোনালি আঁশে নতুন স্বপ্ন দেখছেন তারা। তবে কৃষকরা পাট চাষে সরকারি সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর দাবি করেছেন।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০৪০ হেক্টর। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে ২৭২৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. আতিকুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া ভাল হওয়ায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে এখন দামও ভালো মিলছে। কাজেই কৃষকরা খুব খুশি। তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় পাট চাষ কিছুটা বেশি।