বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
আন্তর্জাতিক চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ‘ইতিবাচক’: হুমায়ুন কবির

চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ‘ইতিবাচক’: হুমায়ুন কবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে ত্রিদেশীয় অর্থনৈতিক করিডোর স্থাপনের বিষয়ে চীন সরকারের প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সরকার। সম্প্রতি ঢাকা সফর শেষে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে বিদায় জানানোর সময় এই কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি এই করিডোর চালুর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগে কোনো ভূরাজনৈতিক শঙ্কা থাকার কথা নয়।

এর আগে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ হয়ে মিয়ানমার পর্যন্ত অর্থনৈতিক করিডোর সম্প্রসারণের প্রস্তাবটি নতুন করে সামনে আনা হয়। মূলত চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় এই যোগাযোগের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। অতীতে বিসিআইএম করিডোরের পরিকল্পনা করা হলেও নানা জটিলতায় তা স্থবির হয়ে পড়েছিল। বর্তমান প্রস্তাবিত রুটে ইউনান প্রদেশ থেকে শুরু হয়ে মিয়ানমার হয়ে সরাসরি বাংলাদেশের সঙ্গে কাঠামোগত সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সড়ক, রেলওয়ে এবং বন্দর খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের খরচ ও সময় উভয়ই হ্রাস পাবে। এছাড়া দেশের যোগাযোগ ও লজিস্টিক হাবগুলো উন্নত হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এই করিডোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ওপর দিয়ে যাওয়ার কারণে এর বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেছেন যে রাখাইনের স্থিতিশীলতা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। চীন মনে করছে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হলে জাতিগত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে আসবে।

এদিকে ঢাকায় দুই দিনের ব্যস্ত সফর শেষে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা লিউ হাইশিং নিজ দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সফরকালে তিনি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে চীনের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেছে বাংলাদেশ।

খুঁজুন