আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াংজু শহরে অবস্থিত ১২৭ বছরের পুরোনো গুয়াংজু ফার্স্ট পিপলস হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) একটি প্রতিনিধিদল। গত ২৫ অক্টোবর ফোরামের ৩৬ সদস্যের এই প্রতিনিধিদলটি হাসপাতালটির বিভিন্ন ক্যাম্পাস, বিশেষায়িত বিভাগ এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো ঘুরে দেখে। পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয়, যেখানে পিইটি-সিটি এবং ৩ টেসলা এমআরআইয়ের মতো অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসার পাশাপাশি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এমন মেলবন্ধন হাসপাতালটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সরকারি হাসপাতালটি গুয়াংজু মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রথম অধিভুক্ত এবং দক্ষিণ চায়না ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও চিকিৎসাসেবায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। চীনের শীর্ষ ১০০ হাসপাতালের তালিকায় ধারাবাহিকভাবে স্থান পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালের স্বীকৃতি লাভ করে। এখানে হেমাটোলজি, জেরিয়াট্রিকস, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও ইউরোলজির পাশাপাশি স্টেম সেল প্রতিস্থাপন, কোষভিত্তিক চিকিৎসা এবং জিন থেরাপি নিয়ে কাজ করা হয়। তিনটি ক্যাম্পাসে প্রায় দুই হাজার ৯৭০টি বেড বিশিষ্ট এই প্রতিষ্ঠানে বছরে প্রায় ৩০ লাখ রোগীকে সেবা দেওয়া হয়।
পরিদর্শনকালে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাকার ধানমন্ডির বাসিন্দা আব্দুল্লাহ হাসান নাসিফ রবিনের সঙ্গে কথা হয়, যার ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রী স্নিগ্ধার চিকিৎসা চলছে এখানে। রবিন জানান, অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টসহ সামগ্রিক চিকিৎসার খরচ অনেক কম। ভাষা ও খাবারের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও হাসপাতালের আন্তর্জাতিক চিকিৎসাকেন্দ্র এবং মুসলিম রোগীদের জন্য রান্নার পৃথক ব্যবস্থা এই সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করছে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ওউইয়াং ইংজুন জানান, হেমাটোলজি বিভাগে জটিল রক্তরোগের চিকিৎসায় বছরে প্রায় ৩০০টি হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। এছাড়া থ্যালাসেমিয়া ও মাল্টিপল মায়েলোমার চিকিৎসায় কার-টি সেল থেরাপি এবং জিন থেরাপির ক্লিনিক্যাল গবেষণা চলছে।
আন্তর্জাতিক মেডিকেল কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক চেংজুয়ান ঝাং জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে জাতীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ রয়েছে এবং এক হাজারের বেশি সিনিয়র পেশাজীবী কর্মরত আছেন। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি এখানে ব্যথা ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনের জন্য আকুপাংচার, কাপিং থেরাপি ও চাইনিজ ভেষজ চিকিৎসাসহ ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থার আলাদা বিভাগ রয়েছে। এই হাসপাতালে আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য গড়ে তোলা সেবাব্যবস্থা এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ঐতিহ্য আর সর্বাধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অপূর্ব সমন্বয়
ঐতিহ্য আর সর্বাধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অপূর্ব সমন্বয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াংজু শহরে অবস্থিত ১২৭ বছরের পুরোনো গুয়াংজু ফার্স্ট পিপলস হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) একটি প্রতিনিধিদল। গত ২৫ অক্টোবর ফোরামের ৩৬ সদস্যের এই প্রতিনিধিদলটি হাসপাতালটির বিভিন্ন ক্যাম্পাস, বিশেষায়িত বিভাগ এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো ঘুরে দেখে। পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয়, যেখানে পিইটি-সিটি এবং ৩ টেসলা এমআরআইয়ের মতো অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসার পাশাপাশি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এমন মেলবন্ধন হাসপাতালটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সরকারি হাসপাতালটি গুয়াংজু মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রথম অধিভুক্ত এবং দক্ষিণ চায়না ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও চিকিৎসাসেবায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। চীনের শীর্ষ ১০০
হাসপাতালের তালিকায় ধারাবাহিকভাবে স্থান পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালের স্বীকৃতি লাভ করে। এখানে হেমাটোলজি, জেরিয়াট্রিকস, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও ইউরোলজির পাশাপাশি স্টেম সেল প্রতিস্থাপন, কোষভিত্তিক চিকিৎসা এবং জিন থেরাপি নিয়ে কাজ করা হয়। তিনটি ক্যাম্পাসে প্রায় দুই হাজার ৯৭০টি বেড বিশিষ্ট এই প্রতিষ্ঠানে বছরে প্রায় ৩০ লাখ রোগীকে সেবা দেওয়া হয়।পরিদর্শনকালে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাকার ধানমন্ডির বাসিন্দা আব্দুল্লাহ হাসান নাসিফ রবিনের সঙ্গে কথা হয়, যার ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রী স্নিগ্ধার চিকিৎসা চলছে এখানে। রবিন জানান, অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টসহ সামগ্রিক চিকিৎসার খরচ অনেক কম। ভাষা ও খাবারের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও হাসপাতালের আন্তর্জাতিক চিকিৎসাকেন্দ্র এবং মুসলিম রোগীদের জন্য রান্নার পৃথক ব্যবস্থা এই সংকট মোকাবিলায়
সহায়তা করছে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ওউইয়াং ইংজুন জানান, হেমাটোলজি বিভাগে জটিল রক্তরোগের চিকিৎসায় বছরে প্রায় ৩০০টি হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। এছাড়া থ্যালাসেমিয়া ও মাল্টিপল মায়েলোমার চিকিৎসায় কার-টি সেল থেরাপি এবং জিন থেরাপির ক্লিনিক্যাল গবেষণা চলছে।আন্তর্জাতিক মেডিকেল কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক চেংজুয়ান ঝাং জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে জাতীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ রয়েছে এবং এক হাজারের বেশি সিনিয়র পেশাজীবী কর্মরত আছেন। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি এখানে ব্যথা ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনের জন্য আকুপাংচার, কাপিং থেরাপি ও চাইনিজ ভেষজ চিকিৎসাসহ ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থার আলাদা বিভাগ রয়েছে। এই হাসপাতালে আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য গড়ে তোলা সেবাব্যবস্থা এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত