আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বরাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ পরিবর্তনের পেছনে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবং অর্থনৈতিক চাপ কাজ করে থাকে। ২০২৬ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো সেই বাস্তবতাই পুনরায় তুলে ধরেছে। ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর জোট সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন লাভে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডনাল্ড ট্রাম্পের দল কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক রাজনীতিতে কোনো নেতার আধিপত্যই চিরস্থায়ী নয়।
ইসরায়েলের নেসেট নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩ আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। তবে নেতানিয়াহু দুর্বল হলেও তার রাজনৈতিক অধ্যায় পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে এমনটি ভাবার কারণ নেই। আবার নেতানিয়াহুর বিদায় মানেই ফিলিস্তিনিদের স্বস্তি বা পূর্ণ স্বাধীনতার নিশ্চয়তা নয়। কারণ সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্বও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়নি এবং নিরাপত্তাকেন্দ্রিক কাঠামো সহজে বদলাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের দুই কক্ষ জয়ের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে ভোটারদের অর্থনৈতিক ক্ষোভ। ইরানের কারণে বা যুদ্ধের নৈতিকতার চেয়েও মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও দৈনন্দিন খরচ বৃদ্ধি ভোটারদের বেশি প্রভাবিত করেছিল। তবে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও যুদ্ধ বা পররাষ্ট্রনীতির প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত অবস্থান রাতারাতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে মিশিগান থেকে আবদুল এল সাইয়েদের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হওয়া মুসলিম আমেরিকানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে এক অনন্য মাইলফলক।
এই বৈশ্বিক রাজনৈতিক পালাবদলের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোতে। তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যহারে বেড়ে যায় এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকলে জ্বালানি বাজারে চাপ থেকেই যায়। ইরানের সঙ্গে মার্কিন দরকষাকষি দীর্ঘায়িত হলে রিজার্ভ ও প্রবাসী আয়ের ওপর চাপ আরও কিছুদিন বজায় থাকবে। এই ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমদানিনির্ভরতা কমানোর কোনো বিকল্প নেই।
সংকট উত্তরণে শক্তিশালী কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তোলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। ভর্তুকির চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে যাতে বৈশ্বিক ধাক্কা এড়ানো যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং উপসাগরীয় দেশ ও ইরানের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখতে হবে। পরিশেষে, বিশ্বমঞ্চের এসব পরিবর্তনের মাঝে নিজেদের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণই এখন সময়ের দাবি।
মসনদে টান ওদের, দমবন্ধ কিন্তু আমাদেরই
মসনদে টান ওদের, দমবন্ধ কিন্তু আমাদেরই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বরাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ পরিবর্তনের পেছনে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবং অর্থনৈতিক চাপ কাজ করে থাকে। ২০২৬ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো সেই বাস্তবতাই পুনরায় তুলে ধরেছে। ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর জোট সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন লাভে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডনাল্ড ট্রাম্পের দল কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক রাজনীতিতে কোনো নেতার আধিপত্যই চিরস্থায়ী নয়।ইসরায়েলের নেসেট নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩ আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। তবে নেতানিয়াহু দুর্বল হলেও তার রাজনৈতিক অধ্যায় পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে এমনটি ভাবার কারণ নেই। আবার নেতানিয়াহুর বিদায় মানেই ফিলিস্তিনিদের স্বস্তি বা পূর্ণ স্বাধীনতার নিশ্চয়তা নয়।
কারণ সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্বও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়নি এবং নিরাপত্তাকেন্দ্রিক কাঠামো সহজে বদলাবে না।যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের দুই কক্ষ জয়ের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে ভোটারদের অর্থনৈতিক ক্ষোভ। ইরানের কারণে বা যুদ্ধের নৈতিকতার চেয়েও মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও দৈনন্দিন খরচ বৃদ্ধি ভোটারদের বেশি প্রভাবিত করেছিল। তবে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও যুদ্ধ বা পররাষ্ট্রনীতির প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত অবস্থান রাতারাতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে মিশিগান থেকে আবদুল এল সাইয়েদের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হওয়া মুসলিম আমেরিকানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে এক অনন্য মাইলফলক।এই বৈশ্বিক রাজনৈতিক পালাবদলের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোতে। তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যহারে বেড়ে যায় এবং
হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকলে জ্বালানি বাজারে চাপ থেকেই যায়। ইরানের সঙ্গে মার্কিন দরকষাকষি দীর্ঘায়িত হলে রিজার্ভ ও প্রবাসী আয়ের ওপর চাপ আরও কিছুদিন বজায় থাকবে। এই ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমদানিনির্ভরতা কমানোর কোনো বিকল্প নেই।সংকট উত্তরণে শক্তিশালী কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তোলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। ভর্তুকির চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে যাতে বৈশ্বিক ধাক্কা এড়ানো যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং উপসাগরীয় দেশ ও ইরানের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখতে হবে। পরিশেষে, বিশ্বমঞ্চের এসব পরিবর্তনের মাঝে নিজেদের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণই এখন সময়ের দাবি।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত