রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
নতুন বছরে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে বই-ড্রেস-জুতা ও ব্যাগ • এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে জালিয়াতি প্রতিরোধে ইসলামী ব্যাংকে কর্মশালা • নেতানিয়াহুকে হঠাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের দাবিতে ইসরায়েলিদের বিক্ষোভ • বাইনোকুলারে দেখলাম ওঁৎ পেতে আছে বাংলাদেশিরা, ফাঁক পেলে ঢুকে পড়বে: শুভেন্দু অধিকারী • ‘১৩ হাজার এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী অবসর-কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন’ • হ‌ুমায়ূন পড়লে বাংলা আর ভাষার প্রতি ভালোবাসা বেড়ে যায়: অনুপম রায় • বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় চাকরি: লটারিতে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন নির্বাচিত • নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার • ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইমোশন নয়, আইনের পথেই এগোবে সরকার’ • যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পাচ্ছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী
জাতীয় ছবির রাজনীতি ও ক্ষমতা

ছবির রাজনীতি ও ক্ষমতা

গণমাধ্যম ডেস্ক: রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। রাজনীতির বিশ্লেষণ, সমালোচনা এবং সরকারের ত্রুটিবিচ্যুতি তুলে ধরার পাশাপাশি গণমাধ্যম মানুষকে বিনোদন ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সরবরাহ করে। এই প্রক্রিয়ায় চিত্রসাংবাদিকতা ব্যাপকভাবে কাজে আসে কারণ স্থিরচিত্র অত্যন্ত সরাসরি, নিখুঁত এবং সত্য তথ্য প্রকাশ করে। তাত্ত্বিক সুজান সনটাগ উল্লেখ করেছেন যে আলোকচিত্র এমন বিষয়ের সাক্ষ্য দেয় যা মানুষ শুনে সন্দিহান থাকলেও ছবি তার সত্যতা প্রমাণ করে। তবে গণমাধ্যম সবসময় তার স্বাধীন কাজটি করতে পারে না এবং এর পেছনে বিজ্ঞাপনদাতা ও মালিকপক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে।

এডওয়ার্ড এস. হারম্যান ও নোয়াম চমস্কি তাদের গ্রন্থে বলেছেন যে গণমাধ্যম বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় স্বাধীন বা গণমুখী হওয়া কঠিন। যেখানে সম্পদ কেন্দ্রীভূত থাকে, সেখানে মিডিয়া বিজ্ঞাপনদাতাদের হয়ে কাজ করতে বাধ্য হয়। গবেষক আফসান চৌধুরী জানিয়েছেন যে পেশাদার গণমাধ্যমের ভূমিকা শুধু তথ্য সরবরাহ নয়, বরং সংবাদমাধ্যম ও মালিকদের টিকিয়ে রাখা অর্থনৈতিক ইকো-সিস্টেমকে সমর্থন দেওয়া। মালিক বা বিজ্ঞাপনদাতারা ব্যবসায়িক স্বার্থে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকায় গণমাধ্যমকে অনেক সময় ক্ষমতাসীন দলের তাঁবেদারি করতে দেখা যায়। এর ফলে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রায়শই সরকারি প্রচারপত্রে পরিণত হয় এবং সরকারের পুতুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মার्चাল ম্যাকলুহান গণমাধ্যমকে হট ও কোল্ড এই দুই ভাগে ভাগ করে ফটোগ্রাফিকে হট মিডিয়ার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ছবির ভাষা প্রায় সব শ্রেণীর মানুষের কাছে সহজ হওয়ায় এর প্রভাব ব্যাপক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এর ছড়িয়ে পড়ার গতি অত্যন্ত দ্রুত। তবে আলোকচিত্রের শক্তি ও দুর্বলতা তার উপস্থাপনের ওপর নির্ভর করে এবং কীভাবে বা কতটুকু দেখানো হচ্ছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেহনুমা আহমেদ তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে মিডিয়া কী পরিবেশন করছে তার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষমতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ক্ষমতার এই সম্পর্কের কারণেই অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় না।

লেখক তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান যে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের ভাঙা সড়ক ও যানজটের ছবি তুললেও তা পত্রিকায় ছাপা হতো না। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন গ্রুপ পত্রিকার অন্যতম বিজ্ঞাপনদাতা হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো ছবি প্রকাশ করা হতো না। একইভাবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও স্বার্থের হিসাব-নিকাশ করে ছবি প্রকাশ করা হয়। দ্য ইন্টারসেপ্ট এবং সেন্টার ফর মিডিয়া মনিটরিংয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো ইসরায়েলি নিহতদের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ছবি প্রকাশ করলেও ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে ধ্বংস্তূপ বা শুধু পরিসংখ্যান উপস্থাপনে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে গণমাধ্যমের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের বাণিজ্যিক এবং রাজনৈতিক স্বার্থ গভীরভাবে জড়িত থাকে।

খুঁজুন