চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গা ঘেঁষে বসেছে গ্রামীণ হাটে। হাটের একপাশে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সারি সারি গাছের চারা— পুরো নার্সারিই উঠেছে সাপ্তাহিক হাটে। এ চোখে পড়ার মতো এক ভিন্ন দৃশ্য।
মাছ, মাংস, শাকসবজি ও গৃহস্থের ঘরের গাছের ফল কিংবা দেশি মোরগ নিয়ে হাটে এসেছেন বিক্রেতারা। মানুষজন ব্যাগ হাতে ঘুরছেন, কেউ দরদাম করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছেন। এমন ব্যস্ত হাটে চোখে পড়ে চারা গাছের সারি।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ডেপুটিবাজার হাটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে নানা প্রজাতির গাছ ও সবজির চারা। আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন সপ্তাহের হাটবারে (প্রতি শুক্র ও সোমবার) এসে এখান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন গাছের চারা।
মাছ-সবজির হাটে গাছের চারা বিক্রি হওয়াকে ‘নতুন ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, সরকারি উদ্যোগে বৃক্ষরোপণের ব্যাপক প্রচার, জনগণকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের আহ্বান জনগণের মধ্যে কৃষি ও বৃক্ষরোপণ নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। সে কারণেই দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে গাছের চারার চাহিদা বেড়েছে।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই স্থায়ী বাজার গড়ে উঠায় প্রায় মলিন হতে বসেছিল সাপ্তাহিক হাট। তবে এখনও কিছু জায়গায় নিয়মিত হাট বসে আর আশপাশের মানুষজন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জিনিসপত্র কিনতে হাটেই ভরসা রাখেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন বাসসকে বলেন, ‘এক সময় গ্রামের সাপ্তাহিক হাট মানে ছিল মাছ, মাংস, দেশি হাঁস-মুরগি-কবুতর, শাকসবজি আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বেচাকেনা। ইদানীং হাটের সেই চেনা চিত্রে যুক্ত হয়েছে নতুন পণ্য— গাছের চারা। এই হাটে এটা নতুন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষায় সবাইকে বৃক্ষরোপণের যে আহবান জানিয়েছেন, তাতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছেন। মানুষজনের মধ্যে এখন গাছ লাগানোর প্রবণতা বেড়েছে, ঘরের সামনে ছোট জায়গা থাকলে সেখানেও সবজির চারা লাগাচ্ছেন। এ কারণে চারা বিক্রি বাড়ছে।
মোস্তফা আমিন আরও বলেন, ‘চাহিদা থাকায় নার্সারির মালিকরাও নিয়মিত হাটে নিয়ে আসছেন নানা জাতের চারা। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন হাটের দিন এসে চারা কিনে নিয়ে যান।’
জানা গেছে, হাট থেকে স্থানীয় গৃহস্থরা কেউ কিনছেন পেয়ারা, কেউ আম, কাঁঠাল কিংবা লেবুর চারা। আবার অনেকে বাড়ির আঙিনা বা পতিত জমিতে লাগানোর জন্য নিচ্ছেন পেঁপে, মরিচ ও বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির চারাও।
হাটে চারা নিয়ে আসা বিক্রেতা মহিউদ্দিন বাসসকে বলেন, ‘দেশি ফলের চারার প্রতি মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে এমন গাছের চাহিদা রয়েছে; যেগুলো বাড়ির আঙিনায় লাগানোর পর কয়েক বছর ধরে ফল পাওয়া যায়।’
তিনি জানান, এখানে প্রতি হাটেই চারা নিয়ে আসেন তিনি। চারা বিক্রির এই নতুন বাজার তৈরি হওয়ায় স্থানীয় নার্সারির মালিকরাও হাটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ, গ্রামাঞ্চলে অনেকে নার্সারি থেকে চারা কিনতে যেতে চান না। কিন্তু সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে হাটে চারা পেলে কিনে নেন।
চারা কিনতে আসা আবুল বশর বলেন, ‘চুনতি এলাকার আশপাশে অনেক নার্সারি আছে। সেখানে চাহিদা মতো চারা পাওয়া যায়। তবে হাট থেকে চারা কিনার সুবিধা হলো একসাথে দুই কাজ হয়ে যায়। নতুন করে নার্সারিতে যেতে হয় না। বাজার করতে এসে চারাও কিনে নিয়ে যাই।’
আরেক ক্রেতার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে জায়গা আছে। সেখানে কয়েকটি ফলের গাছ লাগানোর ইচ্ছা ছিল। নার্সারিতে আলাদা করে যাওয়ার সময় হয় না। হাটে চারা পেয়ে কাজটা সহজ হয়েছে।’
বিষয়টি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বাসসকে বলেন, ‘গ্রামের সাপ্তাহিক হাটে গাছ-সবজির চারা বিক্রি হওয়া নতুন একটি বিষয় এবং এটি খুব ভালো একটি দিক। চারা যত সহজলভ্য হবে, রোপণও তত বাড়বে।’
তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগে বৃক্ষরোপণের ব্যাপক প্রচার, জনগণকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করা, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে জনগণের মধ্যে কৃষি ও বৃক্ষরোপণ নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সে কারণে সর্বত্র গাছের চারার চাহিদা বেড়েছে। এতে আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে বর্তমান সরকার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, হাটে চারা বিক্রির মতো নতুন আবহে তা পূরণে ভূমিকা রাখবে।
কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ আরও বলেন, চারার বাজার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষির প্রতিও মানুষের আগ্রহের একটি পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।
শহর ও গ্রামের সংযোগস্থলের হাটগুলোতে বাড়ির আঙিনা, ছাদ কিংবা পতিত জায়গায় ফল-সবজি উৎপাদনের প্রবণতা বাড়ছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রামে হাটে উঠছে গাছের চারা— কৃষি ও বৃক্ষরোপণে নতুন আগ্রহ
চট্টগ্রামে হাটে উঠছে গাছের চারা— কৃষি ও বৃক্ষরোপণে নতুন আগ্রহ
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গা ঘেঁষে বসেছে গ্রামীণ হাটে। হাটের একপাশে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সারি সারি গাছের চারা— পুরো নার্সারিই উঠেছে সাপ্তাহিক হাটে। এ চোখে পড়ার মতো এক ভিন্ন দৃশ্য। মাছ, মাংস, শাকসবজি ও গৃহস্থের ঘরের গাছের ফল কিংবা দেশি মোরগ নিয়ে হাটে এসেছেন বিক্রেতারা। মানুষজন ব্যাগ হাতে ঘুরছেন, কেউ দরদাম করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছেন। এমন ব্যস্ত হাটে চোখে পড়ে চারা গাছের সারি। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ডেপুটিবাজার হাটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে নানা প্রজাতির গাছ ও সবজির চারা। আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন সপ্তাহের হাটবারে (প্রতি শুক্র ও সোমবার) এসে এখান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন গাছের চারা। মাছ-সবজির হাটে গাছের চারা বিক্রি হওয়াকে ‘নতুন ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সরকারি উদ্যোগে বৃক্ষরোপণের ব্যাপক প্রচার, জনগণকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের আহ্বান জনগণের মধ্যে কৃষি ও বৃক্ষরোপণ নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। সে কারণেই দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে গাছের চারার চাহিদা বেড়েছে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই স্থায়ী বাজার গড়ে উঠায় প্রায় মলিন হতে বসেছিল সাপ্তাহিক হাট। তবে এখনও কিছু জায়গায় নিয়মিত হাট বসে আর আশপাশের মানুষজন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জিনিসপত্র কিনতে হাটেই ভরসা রাখেন। স্থানীয় বাসিন্দা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন বাসসকে বলেন, ‘এক সময় গ্রামের সাপ্তাহিক হাট মানে
ছিল মাছ, মাংস, দেশি হাঁস-মুরগি-কবুতর, শাকসবজি আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বেচাকেনা। ইদানীং হাটের সেই চেনা চিত্রে যুক্ত হয়েছে নতুন পণ্য— গাছের চারা। এই হাটে এটা নতুন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষায় সবাইকে বৃক্ষরোপণের যে আহবান জানিয়েছেন, তাতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছেন। মানুষজনের মধ্যে এখন গাছ লাগানোর প্রবণতা বেড়েছে, ঘরের সামনে ছোট জায়গা থাকলে সেখানেও সবজির চারা লাগাচ্ছেন। এ কারণে চারা বিক্রি বাড়ছে। মোস্তফা আমিন আরও বলেন, ‘চাহিদা থাকায় নার্সারির মালিকরাও নিয়মিত হাটে নিয়ে আসছেন নানা জাতের চারা। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন হাটের দিন এসে চারা কিনে নিয়ে যান।’ জানা গেছে, হাট থেকে স্থানীয় গৃহস্থরা কেউ কিনছেন পেয়ারা, কেউ আম, কাঁঠাল কিংবা লেবুর চারা। আবার অনেকে বাড়ির আঙিনা বা পতিত জমিতে লাগানোর জন্য নিচ্ছেন পেঁপে, মরিচ ও বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির চারাও। হাটে চারা নিয়ে আসা বিক্রেতা মহিউদ্দিন বাসসকে বলেন, ‘দেশি ফলের চারার প্রতি মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে এমন গাছের চাহিদা রয়েছে; যেগুলো বাড়ির আঙিনায় লাগানোর পর কয়েক বছর ধরে ফল পাওয়া যায়।’ তিনি জানান, এখানে প্রতি হাটেই চারা নিয়ে আসেন তিনি। চারা বিক্রির এই নতুন বাজার তৈরি হওয়ায় স্থানীয় নার্সারির মালিকরাও হাটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ, গ্রামাঞ্চলে অনেকে নার্সারি থেকে চারা কিনতে যেতে চান না। কিন্তু সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে হাটে চারা পেলে কিনে নেন। চারা কিনতে আসা আবুল বশর বলেন, ‘চুনতি এলাকার আশপাশে অনেক নার্সারি
আছে। সেখানে চাহিদা মতো চারা পাওয়া যায়। তবে হাট থেকে চারা কিনার সুবিধা হলো একসাথে দুই কাজ হয়ে যায়। নতুন করে নার্সারিতে যেতে হয় না। বাজার করতে এসে চারাও কিনে নিয়ে যাই।’ আরেক ক্রেতার ভাষায়, ‘বাড়ির পাশে জায়গা আছে। সেখানে কয়েকটি ফলের গাছ লাগানোর ইচ্ছা ছিল। নার্সারিতে আলাদা করে যাওয়ার সময় হয় না। হাটে চারা পেয়ে কাজটা সহজ হয়েছে।’ বিষয়টি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বাসসকে বলেন, ‘গ্রামের সাপ্তাহিক হাটে গাছ-সবজির চারা বিক্রি হওয়া নতুন একটি বিষয় এবং এটি খুব ভালো একটি দিক। চারা যত সহজলভ্য হবে, রোপণও তত বাড়বে।’ তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগে বৃক্ষরোপণের ব্যাপক প্রচার, জনগণকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করা, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে জনগণের মধ্যে কৃষি ও বৃক্ষরোপণ নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সে কারণে সর্বত্র গাছের চারার চাহিদা বেড়েছে। এতে আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে বর্তমান সরকার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, হাটে চারা বিক্রির মতো নতুন আবহে তা পূরণে ভূমিকা রাখবে। কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ আরও বলেন, চারার বাজার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষির প্রতিও মানুষের আগ্রহের একটি পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। শহর ও গ্রামের সংযোগস্থলের হাটগুলোতে বাড়ির আঙিনা, ছাদ কিংবা পতিত জায়গায় ফল-সবজি উৎপাদনের প্রবণতা বাড়ছে বলে জানান তিনি।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত