রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়িয়েছে ‘দ্বিতীয় জীবন’: বন্যায় প্লাবিত টানেলে ১০ দিন বেঁচে থাকার বর্ণনা নেপালি শ্রমিকের মারাওয়ি অবরোধের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে আয়ারল্যান্ড সফরের দ্বিতীয় দিনে গলফ ও পারিবারিক ব্যবসায় মনোযোগ ট্রাম্পের সৌদি ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদের সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব লিগ্যাল এইডে সরকারি খরচে ২ লাখ ৪২ হাজার ২৫৫ মামলার নিষ্পত্তি সরকারি খরচায় আইনগত সহায়তা পেয়েছেন ১৬ লাখ ১০ হাজার উপকারভোগী
আন্তর্জাতিক ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়িয়েছে

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়িয়েছে

 গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। 

দেশটির কর্তৃপক্ষ শনিবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, এটিই এখন পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব।

তবে সরকার বলছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে সপ্তম প্রদেশেও ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হলেও রোগের বিস্তার সম্ভবত ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার সর্বশেষ প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হয় মে মাসের মাঝামাঝি সময়। দেশটিতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। এখন পর্যন্ত এতে ৩ হাজার ৩৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ইবোলার সংক্রমণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে শুরু হয়ে পরে সংঘাতকবলিত, দুর্গম পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। 
এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা রয়েছে এবং এখানে সরকারি নিয়ন্ত্রণ দুর্বল ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোও অপ্রতুল।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গো-ব্রাজাভিল সীমান্তবর্তী সাউথ-উবাঙ্গি প্রদেশেও ইবোলা শনাক্ত হয়।

কঙ্গোর সর্বশেষ সরকারি হিসাবে, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে ৭ হাজার ২২টি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৯৮ জন মারা গেছেন এবং ১ হাজার ৬৭১ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

কঙ্গো সরকারের মুখপাত্র প্যাট্রিক মুয়ায়া শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতেই সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব সূচকেই আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’ 
মুয়ায়া জানান, আক্রান্ত ৬১টি স্বাস্থ্য অঞ্চলের মধ্যে ১০টিতে অন্তত ২১ দিন ধরে নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।

সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ইতুরি প্রদেশে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর স্কুল খুলে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানকার বিভিন্ন স্কুলে ইবোলা শনাক্ত হওয়ায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ার এক শিক্ষার্থীর মা অ্যাঞ্জেল মাগানি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। কারণ কোন শিশু কোন পরিবার থেকে এসেছে বা ওই পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের অবস্থা কী, তা আমরা জানি না।’

তিনি বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধির ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও আমরা খুবই ভয় পাচ্ছি।’

বুনিয়ার স্কুল কর্মকর্তা রজার মুঙ্গিম্বো জানান, স্কুলে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং প্রতি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ জন শিক্ষার্থী রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিশুদের নিয়মিতভাবে সচেতন করছি যে তারা যেন একে অপরকে স্পর্শ না করে এবং নিয়মিত হাত ধোয়।’

গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় ইবোলা ১৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এ ভাইরাস ছড়ায়। এতে শরীরের ভেতরে ও বাইরে মারাত্মক রক্তক্ষরণ ও বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

চলমান প্রাদুর্ভাবটি বুন্দিবুগিও ধরন-এর ইবোলা ভাইরাসের কারণে হচ্ছে। এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই। 
তবে কয়েকটি টিকা ও চিকিৎসাপদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের পর্যায়ে রয়েছে।

খুঁজুন