রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
নতুন বছরে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে বই-ড্রেস-জুতা ও ব্যাগ • এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে জালিয়াতি প্রতিরোধে ইসলামী ব্যাংকে কর্মশালা • নেতানিয়াহুকে হঠাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের দাবিতে ইসরায়েলিদের বিক্ষোভ • বাইনোকুলারে দেখলাম ওঁৎ পেতে আছে বাংলাদেশিরা, ফাঁক পেলে ঢুকে পড়বে: শুভেন্দু অধিকারী • ‘১৩ হাজার এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী অবসর-কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন’ • হ‌ুমায়ূন পড়লে বাংলা আর ভাষার প্রতি ভালোবাসা বেড়ে যায়: অনুপম রায় • বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় চাকরি: লটারিতে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন নির্বাচিত • নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার • ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইমোশন নয়, আইনের পথেই এগোবে সরকার’ • যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পাচ্ছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী
আইন আদালত গণপিটুনিতে এক মাসে প্রাণ গেছে ৩২ জনের

গণপিটুনিতে এক মাসে প্রাণ গেছে ৩২ জনের

অপরাধ ডেস্ক: মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের একটি সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু অক্টোবরের এক মাসেই সারাদেশে গণপিটুনির শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৩২ জন। এর আগের মাস সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ২৩ জন, যার ফলে এক মাসের ব্যবধানে প্রাণহানির হার প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই নির্দিষ্ট সময়ে দেশজুড়ে অন্তত চৌষট্টিটি গণপিটুনির ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের বিবরণী থেকে জানা যায়, এসব মর্মান্তিক ঘটনার একটি বড় অংশ ঘটেছে চুরির সন্দেহে। শুধুমাত্র চুরির অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে চৌদ্দজনকে। এর মধ্যে গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরির অভিযোগে দুই যুবককে এবং মিঠাপুকুরে গরু চোর সন্দেহে অপর এক যুবককে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া সাতক্ষীরার দেবহাটায় ইসলাম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে মারা হয়।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অক্টোবরে নিহতের সংখ্যা বাড়লেও আহতের পরিমাণ বাহাত্তর থেকে কমে চৌপঞ্চাশে নেমে এসেছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, আহতের এই সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার অর্থ সহিংসতার মাত্রা কমে যাওয়া নয়। বরং এটি প্রমাণ করে যে বর্তমান সময়ে গণপিটুনির ধরন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও সরাসরি প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করেছে। তাছাড়া সাতক্ষীরা ও রংপুরসহ দেশের অন্তত চব্বিশটি জেলায় এ ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ও এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতার বাইরে ছিল না। টাঙ্গাইল, গাইবান্ধা ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া না চালিয়ে জনতা সরাসরি তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এমন একটি ঘটনায় গণপিটুনির শিকার শিক্ষককে উদ্ধার করতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হামলায় তিনজন পুলিশ সদস্যও গুরুতর আহত হন। পাশাপাশি, ওই মাসে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দির ও বসতবাড়িতে হামলার বেশ কিছু ঘটনা ঘটে।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতাকেই এই ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। অপরাধের সত্যতা যাচাই না করে নিজ হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করা হয়েছে। নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সব অপরাধীকে কঠোর আইনের আওতায় আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

খুঁজুন