কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) বিনিয়োগ থেকে শুরু করে জ্বালানি সরবরাহ-বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও কানাডার সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগ বুধবার নতুন গতি পাচ্ছে। এদিন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন আগামী এক বছরের অগ্রাধিকার নিয়ে ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের সামনে বক্তব্য দেবেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সম্মানিত অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে অটোয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানাবেন। ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে কার্নি উপস্থিত থাকবেন। পরদিন তিনি নিজেও পার্লামেন্টে বক্তব্য দেবেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী ২৭ দেশের এই জোটের সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে উভয় পক্ষই বৈরী যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে।
কার্নিই প্রথম কোনো বিদেশি সরকারপ্রধান, যিনি ইইউ’র বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ ভাষণে অংশ নিচ্ছেন। আগামী মাসে মন্ট্রিয়েলে অনুষ্ঠেয় ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলনের আগে তার এই সফরকে দুই পক্ষের সম্পর্ক জোরদারের অনুঘটক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কানাডার ইইউবিষয়ক রাষ্ট্রদূত জোনাথন উইলকিনসন এএফপিকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব কিছুটা অস্থির হয়ে উঠেছে। তাই আমাদের জন্য পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসা ও সহযোগিতা করা যায়, তার পথ খুঁজে বের করার সময় এসেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার চাপে থাকা ব্রাসেলস ও অটোয়া ইতোমধ্যে বিদ্যমান উল্লেখযোগ্য সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে চাইছে।
ইউরোপীয় কমিশন আলোচনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে একজন মুখপাত্র বলেন, উভয় পক্ষের উচ্চাভিলাষের মাত্রা অনেক বেশি। বুধবার ফন ডার লিয়েন ‘ইতিবাচক ও অর্থবহ’ কিছু ঘোষণা করবেন।
২০১৬ সালে কার্যকর হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সিইটিএ) প্রায় সব শুল্ক বাতিল করেছে। চুক্তিটিকে পণ্য ও সেবায় বাণিজ্য ৮০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয়।
এ বছর কানাডা ইইউ’র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া প্রথম ইইউ-বহির্ভূত দেশ।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্পর্ক আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
উইলকিনসন বলেন, দুই পক্ষ এমন ক্ষেত্রগুলো নিয়ে কাজ করছে, যেখানে তাদের ‘পরিপূরক সক্ষমতা ও প্রয়োজন’ রয়েছে এবং যা ‘কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। নিজেদের ‘সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করাই’ এসব সহযোগিতার লক্ষ্য।
-শিক্ষার্থী ও এলএনজি-
কানাডা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্পে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) যাতে অর্থায়ন করতে পারে, সে বিষয়ে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। উইলকিনসন বলেন, এতে ব্যাটারির মতো ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা হতে পারে।
তিনি কানাডার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) জার্মানিতে পাঠানোর সাম্প্রতিক চুক্তি এবং কানাডার এআই প্রতিষ্ঠান কোহেরের জার্মানিতে বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব চুক্তি আরও বিস্তৃত সহযোগিতার পথ দেখাতে পারে।
টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইলকিনসন বলেন, ‘এখন বিষয়টি হলো এই কাজকে বাস্তবে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া।’
এ ছাড়া কিছু সহজেই বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগও রয়েছে।
ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডসহ ইইউ’র ১০টি দেশ এখনো সিইটিএ অনুমোদন করেনি। স্থানীয় কৃষকদের বিরোধিতার কারণে আংশিকভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চুক্তিটির পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
বিনিয়োগ সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলোও এখনো কার্যত অকার্যকর হয়ে আছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মধ্যপন্থী রিনিউ গ্রুপ ইইউ’র বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচকে দেওয়া এক চিঠিতে বলেছে, ‘এই বিলম্ব অব্যাহত থাকলে নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে ইইউ’র বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল হবে।’ এতে পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনের জন্য ব্রাসেলসকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কিছু ইইউ আইনপ্রণেতা ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে সিইটিএর সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে আরও উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যান্য ক্ষেত্রেও আলোচনা চলছে।
শ্রমিকদের চলাচলের নিয়ম সহজ করা এবং ইইউ’র জনপ্রিয় এরাসমাস যুব চলাচল কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়ানো থেকে শুরু করে ইউক্রেনের জন্য ইইউ’র ৯০ বিলিয়ন ইউরো (১০৫ বিলিয়ন ডলার) ঋণে কানাডার অবদান রাখাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় রয়েছে।
উইলকিনসন বলেন, ‘আমরা কেবল মুক্ত বাণিজ্য সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। বরং সব ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে আরও গভীর করতে চাই।’
ইইউ-কানাডা জোট আরও গভীর করার উদ্যোগ
ইইউ-কানাডা জোট আরও গভীর করার উদ্যোগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) বিনিয়োগ থেকে শুরু করে জ্বালানি সরবরাহ-বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও কানাডার সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগ বুধবার নতুন গতি পাচ্ছে। এদিন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন আগামী এক বছরের অগ্রাধিকার নিয়ে ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের সামনে বক্তব্য দেবেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সম্মানিত অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত থাকবেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে অটোয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানাবেন। ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে কার্নি উপস্থিত থাকবেন। পরদিন তিনি নিজেও পার্লামেন্টে বক্তব্য দেবেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী ২৭ দেশের এই জোটের সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে উভয় পক্ষই বৈরী যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। কার্নিই প্রথম কোনো বিদেশি সরকারপ্রধান, যিনি ইইউ’র বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ ভাষণে অংশ নিচ্ছেন। আগামী মাসে মন্ট্রিয়েলে অনুষ্ঠেয় ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলনের আগে তার এই সফরকে দুই পক্ষের সম্পর্ক জোরদারের অনুঘটক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কানাডার ইইউবিষয়ক রাষ্ট্রদূত জোনাথন উইলকিনসন এএফপিকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব কিছুটা অস্থির হয়ে উঠেছে। তাই আমাদের জন্য পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসা ও সহযোগিতা করা যায়, তার পথ খুঁজে বের করার সময় এসেছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার চাপে থাকা ব্রাসেলস
ও অটোয়া ইতোমধ্যে বিদ্যমান উল্লেখযোগ্য সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে চাইছে। ইউরোপীয় কমিশন আলোচনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে একজন মুখপাত্র বলেন, উভয় পক্ষের উচ্চাভিলাষের মাত্রা অনেক বেশি। বুধবার ফন ডার লিয়েন ‘ইতিবাচক ও অর্থবহ’ কিছু ঘোষণা করবেন। ২০১৬ সালে কার্যকর হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সিইটিএ) প্রায় সব শুল্ক বাতিল করেছে। চুক্তিটিকে পণ্য ও সেবায় বাণিজ্য ৮০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয়। এ বছর কানাডা ইইউ’র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া প্রথম ইইউ-বহির্ভূত দেশ।তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্পর্ক আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। উইলকিনসন বলেন, দুই পক্ষ এমন ক্ষেত্রগুলো নিয়ে কাজ করছে, যেখানে তাদের ‘পরিপূরক সক্ষমতা ও প্রয়োজন’ রয়েছে এবং যা ‘কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। নিজেদের ‘সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করাই’ এসব সহযোগিতার লক্ষ্য। -শিক্ষার্থী ও এলএনজি-কানাডা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্পে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) যাতে অর্থায়ন করতে পারে, সে বিষয়ে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। উইলকিনসন বলেন, এতে ব্যাটারির মতো ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা হতে পারে। তিনি কানাডার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) জার্মানিতে পাঠানোর সাম্প্রতিক চুক্তি এবং কানাডার এআই প্রতিষ্ঠান কোহেরের জার্মানিতে বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব চুক্তি আরও বিস্তৃত সহযোগিতার পথ
দেখাতে পারে। টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইলকিনসন বলেন, ‘এখন বিষয়টি হলো এই কাজকে বাস্তবে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া।’ এ ছাড়া কিছু সহজেই বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগও রয়েছে। ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডসহ ইইউ’র ১০টি দেশ এখনো সিইটিএ অনুমোদন করেনি। স্থানীয় কৃষকদের বিরোধিতার কারণে আংশিকভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চুক্তিটির পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।বিনিয়োগ সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলোও এখনো কার্যত অকার্যকর হয়ে আছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মধ্যপন্থী রিনিউ গ্রুপ ইইউ’র বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচকে দেওয়া এক চিঠিতে বলেছে, ‘এই বিলম্ব অব্যাহত থাকলে নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে ইইউ’র বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল হবে।’ এতে পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনের জন্য ব্রাসেলসকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিছু ইইউ আইনপ্রণেতা ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে সিইটিএর সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে আরও উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যান্য ক্ষেত্রেও আলোচনা চলছে। শ্রমিকদের চলাচলের নিয়ম সহজ করা এবং ইইউ’র জনপ্রিয় এরাসমাস যুব চলাচল কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়ানো থেকে শুরু করে ইউক্রেনের জন্য ইইউ’র ৯০ বিলিয়ন ইউরো (১০৫ বিলিয়ন ডলার) ঋণে কানাডার অবদান রাখাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় রয়েছে। উইলকিনসন বলেন, ‘আমরা কেবল মুক্ত বাণিজ্য সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। বরং সব ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে আরও গভীর করতে চাই।’
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত