ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর হাজার হাজার সন্দেহভাজন সদস্যের বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার দায়িত্ব ইরাক নেওয়ার প্রেক্ষাপটে রোববার দেশটিতে ছয় ফরাসি নাগরিকের বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরাকের কারাগারগুলোতে আগে থেকেই আইএসের বহু সন্দেহভাজন সদস্য আটক রয়েছে। গত বছর থেকে প্রতিবেশী সিরিয়ার কারাগারগুলো থেকে আরও হাজার হাজার বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইরাকের এক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এএফপিকে জানান, ছয় ফরাসি নাগরিকের রোববার বিচার শুরুর কথা রয়েছে।
তবে তাঁদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তাঁরা গত বছর সিরিয়া থেকে ইরাকে স্থানান্তর করা ৪৭ জন ফরাসি নাগরিকের একটি দলের সদস্য।
এই বড় দলটির মধ্যে রয়েছেন আদ্রিয়েন গিহাল। তিনি ২০১৬ সালে ফ্রান্সের নিস শহরে হামলার দায় আইএসের পক্ষে স্বীকার করেছিলেন।
গত ২০১৪ সালে আইএস সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। ওই সময় গোষ্ঠীটি ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায় এবং নারী ও কিশোরীদের যৌন দাসত্বে বাধ্য করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সহায়তায় ইরাক ২০১৭ সালে আইএসের বিরুদ্ধে বিজয় ঘোষণা করে। এর দুই বছর পর কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) সিরিয়াতেও গোষ্ঠীটির সামরিক পরাজয় নিশ্চিত করে।
তবে আইএসের রেখে যাওয়া সহিংসতার উত্তরাধিকার এখনো ইরাককে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। গণকবর এবং আইএসের নৃশংসতার বহু সাক্ষ্য এখনো তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে ইরাকের আদালত সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শত শত মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। এসব দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বিদেশি যোদ্ধারাও রয়েছেন।
বিতর্কিত বিষয়
২০১৯ সালে ১১ জন ফরাসি নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁদের সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কিছু মানবাধিকার সংগঠন ইরাকে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত বিচারকে তড়িঘড়ি করা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ঘাটতি রয়েছে বলে সমালোচনা করেছে।
ফ্রান্স নিজেও জিহাদি হামলার বারবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এ কারণে আইএসের সন্দেহভাজন সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে আনা বা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত।
বৃহস্পতিবার ফরাসি আইনজীবীরা ইরাকে আটক ফরাসি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, ইরাকে এসব ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ৬০টিরও বেশি দেশের ৫ হাজার ৭০০-এর বেশি আইএস সন্দেহভাজন বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর করে।
এই বন্দিরা এর আগে কয়েক বছর ধরে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরিয়ার কারাগারে আটক ছিলেন।
স্থানান্তরিত বন্দিদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন ফরাসি নাগরিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স নাবালক ছিল, যখন তাঁদের বাবা-মা আইএসে যোগ দিয়েছিলেন।
চলতি মাসের শুরুতে ইরাকের বিচার বিভাগ জানায়, এসব বন্দির জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো এখন বিচারের দিকে এগোবে।
ইরাকের বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, তদন্তে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় ৪৫০ জনের বেশি সিরীয় নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হবে।
এর আগে এপ্রিল মাসে সন্দেহ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর ইরাক দুই বিদেশি নাগরিককে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠায়। তাঁদের একজন ফিনল্যান্ডের এবং অন্যজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
ইরাকে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন ফরাসি আইএস সন্দেহভাজনরা
ইরাকে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন ফরাসি আইএস সন্দেহভাজনরা
ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর হাজার হাজার সন্দেহভাজন সদস্যের বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার দায়িত্ব ইরাক নেওয়ার প্রেক্ষাপটে রোববার দেশটিতে ছয় ফরাসি নাগরিকের বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইরাকের কারাগারগুলোতে আগে থেকেই আইএসের বহু সন্দেহভাজন সদস্য আটক রয়েছে। গত বছর থেকে প্রতিবেশী সিরিয়ার কারাগারগুলো থেকে আরও হাজার হাজার বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইরাকের এক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এএফপিকে জানান, ছয় ফরাসি নাগরিকের রোববার বিচার শুরুর কথা রয়েছে। তবে তাঁদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তাঁরা গত বছর সিরিয়া থেকে ইরাকে স্থানান্তর করা ৪৭ জন ফরাসি নাগরিকের একটি দলের সদস্য। এই বড় দলটির মধ্যে রয়েছেন আদ্রিয়েন গিহাল। তিনি ২০১৬ সালে ফ্রান্সের নিস শহরে হামলার দায় আইএসের পক্ষে স্বীকার করেছিলেন। গত ২০১৪ সালে আইএস সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। ওই সময় গোষ্ঠীটি ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায় এবং নারী ও কিশোরীদের যৌন দাসত্বে বাধ্য করে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সহায়তায় ইরাক ২০১৭
সালে আইএসের বিরুদ্ধে বিজয় ঘোষণা করে। এর দুই বছর পর কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) সিরিয়াতেও গোষ্ঠীটির সামরিক পরাজয় নিশ্চিত করে। তবে আইএসের রেখে যাওয়া সহিংসতার উত্তরাধিকার এখনো ইরাককে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। গণকবর এবং আইএসের নৃশংসতার বহু সাক্ষ্য এখনো তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে ইরাকের আদালত সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শত শত মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। এসব দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বিদেশি যোদ্ধারাও রয়েছেন। বিতর্কিত বিষয় ২০১৯ সালে ১১ জন ফরাসি নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁদের সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিছু মানবাধিকার সংগঠন ইরাকে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত বিচারকে তড়িঘড়ি করা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ঘাটতি রয়েছে বলে সমালোচনা করেছে। ফ্রান্স নিজেও জিহাদি হামলার বারবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এ কারণে আইএসের সন্দেহভাজন সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে আনা বা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত। বৃহস্পতিবার ফরাসি আইনজীবীরা ইরাকে আটক ফরাসি নাগরিকদের দেশে
ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, ইরাকে এসব ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ৬০টিরও বেশি দেশের ৫ হাজার ৭০০-এর বেশি আইএস সন্দেহভাজন বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর করে। এই বন্দিরা এর আগে কয়েক বছর ধরে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরিয়ার কারাগারে আটক ছিলেন। স্থানান্তরিত বন্দিদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন ফরাসি নাগরিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স নাবালক ছিল, যখন তাঁদের বাবা-মা আইএসে যোগ দিয়েছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে ইরাকের বিচার বিভাগ জানায়, এসব বন্দির জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো এখন বিচারের দিকে এগোবে। ইরাকের বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, তদন্তে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় ৪৫০ জনের বেশি সিরীয় নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হবে। এর আগে এপ্রিল মাসে সন্দেহ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর ইরাক দুই বিদেশি নাগরিককে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠায়। তাঁদের একজন ফিনল্যান্ডের এবং অন্যজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত