সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেশ সরগরম। ইস্যুটি নিয়ে বেশ হাস্যরসও হচ্ছে। যদিও এমপি প্রথমে দাবি করেন, ভিডিওটি এআই বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। দ্বিতীয়বার দাবি করেন, মেয়েটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী।
নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশের শুরা সদস্য। অন্যদিকে ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেন মোছা. মরিয়াম। জামায়াত নেতার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিয়ের সময় বয়স কত ছিল; বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ের সব শর্ত পূরণ হয়েছে কিনা-এই নিয়ে প্রশ্ন দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিওর একাধিক অংশে দেখা যায়, একটি কক্ষে তরুণীসহ অবস্থান করছেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। কোনোটিতে তাকে ফোনে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। আবার কোনোটিতে ওই নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা গেছে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল থেকে দাবি করা হয়, ছড়ানো ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও। তবে তথ্য যাচাইকারী একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান অনুসন্ধানে জানিয়েছে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি বা এডিটেড নয়, এটি আসল।
আরও জানানো হয়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে ধারণকৃত স্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এমপি আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি উনার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
‘তবে ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ পেল, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি’, যোগ করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে অবশেষে মুখ খুলেছেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানান।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গত ১৩ জুলাই আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।’
গাজী নজরুল ইসলাম লেখেন, ‘আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লক্ষ টাকা আদায় করে। আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়।’
তিনি লেখেন, ‘আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এ সময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’
‘পরবর্তীতে হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, লেখেন জামায়াতের এই নেতা।
তিনি আরও লেখেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।’
‘যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি’, লেখেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল প্রথমে এআই, পরে স্ত্রী দাবি
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল প্রথমে এআই, পরে স্ত্রী দাবি
সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেশ সরগরম। ইস্যুটি নিয়ে বেশ হাস্যরসও হচ্ছে। যদিও এমপি প্রথমে দাবি করেন, ভিডিওটি এআই বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। দ্বিতীয়বার দাবি করেন, মেয়েটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশের শুরা সদস্য। অন্যদিকে ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেন মোছা. মরিয়াম। জামায়াত নেতার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিয়ের সময় বয়স কত ছিল; বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ের সব শর্ত পূরণ হয়েছে কিনা-এই নিয়ে প্রশ্ন দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিওর একাধিক অংশে দেখা যায়, একটি কক্ষে তরুণীসহ অবস্থান করছেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। কোনোটিতে তাকে ফোনে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। আবার কোনোটিতে ওই নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা গেছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল থেকে দাবি করা হয়, ছড়ানো ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও। তবে তথ্য যাচাইকারী একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান অনুসন্ধানে জানিয়েছে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি বা এডিটেড নয়, এটি আসল। আরও জানানো হয়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে ধারণকৃত স্থান
সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এমপি আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি উনার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।’ ‘তবে ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ পেল, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি’, যোগ করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে অবশেষে মুখ খুলেছেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গত ১৩ জুলাই আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।’ গাজী নজরুল ইসলাম লেখেন, ‘আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লক্ষ টাকা আদায় করে। আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ
টাকা দাবি করা হয়।’ তিনি লেখেন, ‘আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এ সময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’ ‘পরবর্তীতে হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, লেখেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি আরও লেখেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।’ ‘যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি’, লেখেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত