জার্মানির দুটি রাজ্যে রোববার ভোট হচ্ছে। এসব নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থী ও উগ্র বামপন্থীদের আসন বাড়লে বার্লিনের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে চাপে থাকা চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের সরকারও বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।
৭০ বছর বয়সী মের্ৎস বার্লিন ও মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্ন রাজ্যের নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর, তা নিয়ে আলোচনা করতে তার মধ্য-ডানপন্থী দল সিডিইউর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
ক্ষমতায় আসার ১৬ মাসের মাথায় মের্ৎস পরবর্তী কয়েক দিনের কর্মসূচিও প্রায় ফাঁকা রেখেছেন। এমনকি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাওয়ার সফরও বাতিল করেছেন তিনি, যাতে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে পারেন।
দুই সপ্তাহ আগে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে মের্ৎসের সিডিইউকে চমকে দিয়ে বড় সাফল্য পায় উগ্র ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসন থেকে মাত্র কয়েকটি আসন দূরে ছিল। ওই ফলের পর মের্ৎসের দলেই তার নেতৃত্ব নিয়ে সমর্থন কমছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
এরই মধ্যে মের্ৎসের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেন্দ্র-বামপন্থী জোটসঙ্গী এসপিডির সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তার প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণ সংস্কারও এগিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
জনমত জরিপগুলো বলছে, রোববারের নির্বাচনেও এএফডি আরও আসন পেতে পারে। তবে দুই রাজ্যের কোনোটিতেই দলটি সরকার গঠনের মতো অবস্থানে পৌঁছাবে বলে মনে হচ্ছে না। অবশ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে তারা সেই অবস্থানের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
চাপে থাকা মের্ৎস বুধবার তার দলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে কিছুটা সমর্থন পেয়েছেন।
আটটি রাজ্যের প্রধানরা যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, জার্মানির এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন ‘স্থিতিশীলতা’, নেতৃত্বে কে থাকবে তা নিয়ে আলোচনা নয়।
তবে তারা সরাসরি মের্ৎসকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করার ঘোষণা দেননি।
দুটি রাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
রোববারের নির্বাচনে সিডিইউকে দুই রাজ্যে দুই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় রাজ্য মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্নে মূল লড়াই হচ্ছে মের্ৎসের দলের বাইরে জনপ্রিয় রাজ্য প্রধান মানুয়েলা শভেসিগের এসপিডি ও এএফডির মধ্যে।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফের জরিপ অনুযায়ী, এখানে এএফডির সমর্থন ৩৬ শতাংশ ও এসপিডির ৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে মের্ৎসের সিডিইউর সমর্থন মাত্র ৬ শতাংশ, অর্থাৎ রাজ্য পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটের সীমার খুব কাছাকাছি।
সিডিইউ যদি ৫ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে রাজ্যটির পার্লামেন্টে দলটির না থাকার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটবে।
এতে মের্ৎসের ওপর রাজনৈতিক চাপও ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, শহর-রাজ্য বার্লিনে ক্ষমতাসীন সিডিইউর সঙ্গে উগ্র বামপন্থী দল ডি লিংকের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
বার্লিনের ভয়াবহ আবাসন সংকট সমাধানে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডি লিংকে। তরুণদের মধ্যেও দলটির জনপ্রিয়তা রয়েছে।
বার্লিনে সিডিইউ পরাজিত হলে মের্ৎসের জন্য সেটি আরেকটি রাজনৈতিক ধাক্কা হবে, বিশেষ করে যদি ডি লিংকের কাছে দলটিকে হারতে হয়।
দলটি করপোরেট ক্ষমতা কমানোর পক্ষে ও রাশিয়ার প্রতি তুলনামূলকভাবে সহানুভূতিশীল অবস্থান নেয়।
গত বছরের মে মাসে ক্ষমতায় এসে মের্ৎস দুর্বল হয়ে পড়া জার্মান অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানো, রাশিয়াকে নিবৃত্ত করতে দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো ও অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তার লক্ষ্য ছিল এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটারদের উদ্বেগ কমিয়ে তাদেরকে এএফডির প্রতি ঝুঁকে পড়া ঠেকানো।
তবে বর্তমানে দেশব্যাপী জনমত জরিপে এএফডি এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, মের্ৎসের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার হারও ১০ শতাংশের সামান্য ওপরে রয়েছে।
তার মাঝে মাঝে করা সরাসরি ও কড়া মন্তব্যও তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হয়নি।
জার্মানির রাজ্য নির্বাচন মের্ৎস সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক ধাক্কার আশঙ্কা
জার্মানির রাজ্য নির্বাচন মের্ৎস সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক ধাক্কার আশঙ্কা
জার্মানির দুটি রাজ্যে রোববার ভোট হচ্ছে। এসব নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থী ও উগ্র বামপন্থীদের আসন বাড়লে বার্লিনের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে চাপে থাকা চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের সরকারও বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। ৭০ বছর বয়সী মের্ৎস বার্লিন ও মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্ন রাজ্যের নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর, তা নিয়ে আলোচনা করতে তার মধ্য-ডানপন্থী দল সিডিইউর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। ক্ষমতায় আসার ১৬ মাসের মাথায় মের্ৎস পরবর্তী কয়েক দিনের কর্মসূচিও প্রায় ফাঁকা রেখেছেন। এমনকি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাওয়ার সফরও বাতিল করেছেন তিনি, যাতে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে পারেন। দুই সপ্তাহ আগে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে মের্ৎসের সিডিইউকে চমকে দিয়ে বড় সাফল্য পায় উগ্র ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসন থেকে মাত্র কয়েকটি আসন দূরে ছিল। ওই ফলের পর মের্ৎসের দলেই তার নেতৃত্ব নিয়ে সমর্থন কমছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এরই মধ্যে মের্ৎসের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেন্দ্র-বামপন্থী জোটসঙ্গী এসপিডির সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তার প্রতিশ্রুত
অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণ সংস্কারও এগিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। জনমত জরিপগুলো বলছে, রোববারের নির্বাচনেও এএফডি আরও আসন পেতে পারে। তবে দুই রাজ্যের কোনোটিতেই দলটি সরকার গঠনের মতো অবস্থানে পৌঁছাবে বলে মনে হচ্ছে না। অবশ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে তারা সেই অবস্থানের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। চাপে থাকা মের্ৎস বুধবার তার দলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে কিছুটা সমর্থন পেয়েছেন। আটটি রাজ্যের প্রধানরা যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, জার্মানির এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন ‘স্থিতিশীলতা’, নেতৃত্বে কে থাকবে তা নিয়ে আলোচনা নয়। তবে তারা সরাসরি মের্ৎসকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করার ঘোষণা দেননি। দুটি রাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই রোববারের নির্বাচনে সিডিইউকে দুই রাজ্যে দুই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় রাজ্য মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্নে মূল লড়াই হচ্ছে মের্ৎসের দলের বাইরে জনপ্রিয় রাজ্য প্রধান মানুয়েলা শভেসিগের এসপিডি ও এএফডির মধ্যে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফের জরিপ অনুযায়ী, এখানে এএফডির সমর্থন ৩৬ শতাংশ ও এসপিডির ৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে মের্ৎসের সিডিইউর সমর্থন মাত্র ৬ শতাংশ, অর্থাৎ রাজ্য পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটের সীমার খুব কাছাকাছি। সিডিইউ যদি ৫ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে
রাজ্যটির পার্লামেন্টে দলটির না থাকার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটবে। এতে মের্ৎসের ওপর রাজনৈতিক চাপও ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। অন্যদিকে, শহর-রাজ্য বার্লিনে ক্ষমতাসীন সিডিইউর সঙ্গে উগ্র বামপন্থী দল ডি লিংকের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। বার্লিনের ভয়াবহ আবাসন সংকট সমাধানে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডি লিংকে। তরুণদের মধ্যেও দলটির জনপ্রিয়তা রয়েছে। বার্লিনে সিডিইউ পরাজিত হলে মের্ৎসের জন্য সেটি আরেকটি রাজনৈতিক ধাক্কা হবে, বিশেষ করে যদি ডি লিংকের কাছে দলটিকে হারতে হয়। দলটি করপোরেট ক্ষমতা কমানোর পক্ষে ও রাশিয়ার প্রতি তুলনামূলকভাবে সহানুভূতিশীল অবস্থান নেয়। গত বছরের মে মাসে ক্ষমতায় এসে মের্ৎস দুর্বল হয়ে পড়া জার্মান অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানো, রাশিয়াকে নিবৃত্ত করতে দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো ও অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটারদের উদ্বেগ কমিয়ে তাদেরকে এএফডির প্রতি ঝুঁকে পড়া ঠেকানো। তবে বর্তমানে দেশব্যাপী জনমত জরিপে এএফডি এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, মের্ৎসের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার হারও ১০ শতাংশের সামান্য ওপরে রয়েছে। তার মাঝে মাঝে করা সরাসরি ও কড়া মন্তব্যও তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হয়নি।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত