শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
নির্বাচনের আগে ব্রাজিলে স্পোর্টস বেটিং নিষিদ্ধ করলেন লুলা • ব্রাজিলের সঙ্গে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদার চান • লক্ষ্মীপুরে ৭৬ হাজার শিশুকে দেয়া হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকা • বান্দরবানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মধু পূর্ণিমা উদযাপন • ডেঙ্গু প্রতিরোধে গাজীপুরে শতবর্ষী পুকুর পরিষ্কার • ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৬৫, মামলা ৩১ • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার আশায় ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজার চাঙ্গা • দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা, বাড়তে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা • জনবল ও কাঁচামাল সঙ্কটে জর্জরিত সৈয়দপুর রেল কারখানা • রাজশাহীতে ম্যারাথন ‘রান ফর সিল্ক সিটি’ অনুষ্ঠিত
দেশের খবর জনবল ও কাঁচামাল সঙ্কটে জর্জরিত সৈয়দপুর রেল কারখানা

জনবল ও কাঁচামাল সঙ্কটে জর্জরিত সৈয়দপুর রেল কারখানা

 দেশের বৃহত্তম নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় জনবল সঙ্কট এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাবে কোচ মেরামত এবং উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকহারে কমে গেছে। এ কারণে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগ এখন পুরোপুরি বিপর্যয় ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। 

সম্প্রতি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকায় রাজশাহী থেকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি কোচের স্প্রিং ভেঙে বগি লাইনচ্যুত হয়। এমন ছোট-বড় দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পর্যাপ্ত জনবল না থাকার কারণে ট্রেন মেরামতে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ কারণে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে ট্রেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিলাহাটি-সৈয়দপুর, খুলনা-রাজশাহী রুটের আন্তঃনগর সীমান্ত, রূপসা, বরেন্দ্র ও তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচগুলোর বেহাল অবস্থা। জরাজীর্ণ ট্রেনগুলোর চেয়ার ভাঙা, বেশির ভাগ জানালা নষ্ট, ফ্যান, লাইটিং সিস্টেম অকেজো। বাথরুমের ফিটিংস ভালো নেই; ফলে টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী। 

পানি সরবরাহের লাইনও অচল।

কারখানা সংশ্লিষ্টরা বাসস’কে বলছেন, এসব কোচ মেরামতের কথা থাকলেও তা করা যাচ্ছে না।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দক্ষ কারিগর ও অর্থ বরাদ্দের অভাবে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ৭৪৯টি যন্ত্রপাতির মধ্যে ৬শ’টি অলস পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ফলে কারখানায় উৎপাদন এবং আউটটার্ন কমে যাওয়ায় পশ্চিমাঞ্চল ট্রেনের কোচ সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ প্রতিবছর এবং মেইল এক্সপ্রেস কোচগুলো দেড় বছর পর মেরামত করতে হয়। 

এছাড়া পণ্যবাহী ওয়াগন ৩ বছর পরপর মেরামতের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কারখানায় নানা সঙ্কটের কারণে কোচগুলো মেরামত করা হচ্ছে না। ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন।

ট্রেনের ওজন বহনকারী স্প্রিং নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৫ বছর পর পর বদলানোর কথা। কিন্তু তা না বদলে তার নিচে প্লেট বা প্যাকিং দিয়ে উচ্চতা বাড়ানো হয়। এতে অল্প দিনেই প্যাকিং খুলে যাচ্ছে। কোচগুলো ভার বহন করতে পারছে না। ট্রেনে অতিরিক্ত ঝাঁকুনি হচ্ছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আওতায় ৬৬টি আন্তঃনগর ও ৬০টি মেইল ট্রেন দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। এসব ট্রেনে ৮১৮টি কোচ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পণ্য পরিবহনে ৯৫৬টি ব্রডগেজ ও ২শ’টি মিটারগেজ ট্রেন চলাচল করছে পশ্চিমাঞ্চল রেলের বিভিন্ন রুটে। এগুলোর মধ্যে ২০০৬ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা সাদা ৫০টি ব্রডগেজ, লাল-সবুজ ১শ’টি ব্রডগেজ ও ৫০টি মিটারগেজ কোচ রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় লাল-সবুজ ১২০টি কোচ রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে ৪৫ বছর আগে জার্মানি, ডেনমার্ক, পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ৪৪৮টি ব্রডগেজ কোচ।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ক্যারেজ শপের ইনচার্জ মমিনুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী জনবল থাকলে কোচ আমদানি করতে হতো না। এতে প্রতিবছর শতকোটি টাকা সাশ্রয় হতো রেলের। একই অবস্থা চলছে কারখানাটির ওয়াগন শপে। সেখানে প্রতিবছর ২৫০-৩শ’ ওয়াগন মেরামতের চাহিদা দেওয়া হলেও জনবল সঙ্কটে শুধু আউট টার্ন করা হয় ২শ’টি।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ বাসস’কে বলেন, দেশের বৃহত্তম এই রেলওয়ে কারখানায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে।

বর্তমানে নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে শ্রমিকরা অতিরিক্ত সময় কাজ করে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। তবে এখানে বড় সমস্যা প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাব। সময়মতো প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ না করায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম  যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর একাধিক কোচ খুলে রাখা হয় মাসের পর মাস। এতে আমরা স্বল্প দূরত্বের কোনো স্টেশনের টিকিটই দিতে পারছি না। টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে যাত্রীরা দাঁড়িয়েই যাতায়াত করে। ফলে অনেকে টিকিট কাটে না। এতে রেলওয়ে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ রুটে প্রায়ই শিডিউল বিপর্যয় হয়।

লালমনিরহাট রেল বিভাগের ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপার ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সারাদেশেই রেলের জনবল সঙ্কট থাকলেও সৈয়দপুর রেল কারখানায় জনবল সঙ্কট ট্রেন চলাচলের জন্য প্রধান অন্তরায়।

খুঁজুন