ফিচার ডেস্ক: ইউরোপের খ্যাতনামা জ্যোতির্বিদ জোহানেস হেভেলিয়াস ১৬৪৭ সালে চাঁদের একটি বিস্তারিত ও নির্ভুল মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। তৎকালীন পোল্যান্ডের ডানজিগ শহরে জন্মগ্রহণকারী এই বিজ্ঞানী নিজের বাড়ির ছাদে মানমন্দির তৈরি করে আকাশ পর্যবেক্ষণ করতেন। সূক্ষ্ম পরিমাপের জন্য তিনি খালি চোখের ওপর নির্ভর করতেন এবং নিজেই উন্নতমানের টেলিস্কোপ তৈরি করতেন। চাঁদের ভূপ্রকৃতি ও গর্ত নিয়ে তার কাজ বিজ্ঞান জগতে তাকে অনন্য পরিচিতি এনে দিয়েছিল।
পারিবারিক ব্যবসার পাশাপাশি জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগী হেভেলিয়াস গাণিতিক শিক্ষক পিটার ক্রুগারের মাধ্যমে মহাকাশ নিয়ে কাজ শুরু করেন। তার নির্মিত ৪৫ মিটার ফোকাল দৈর্ঘ্যের টেলিস্কোপ এবং ছাদের মানমন্দিরটি সে সময় ইউরোপের বিজ্ঞানীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। তিনি চাঁদের মানচিত্র তৈরির পাশাপাশি সৌরকলঙ্ক পর্যবেক্ষণ, চারটি ধূমকেতু আবিষ্কার এবং নতুন নয়টি নক্ষত্রমণ্ডল চিহ্নিত করেছিলেন। এছাড়া চন্দ্রপৃষ্ঠের লিব্রেশন বা আপাত দোলন নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১৬৭৯ সালে এক আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে তার মানমন্দির, বহুমূল্য যন্ত্রপাতি ও গবেষণার বহু বছরের নথি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে তিনি দমে না গিয়ে স্ত্রী এলিজাবেথার সহযোগিতায় পুনরায় মানমন্দির নির্মাণ করেন এবং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও গবেষণা চালিয়ে যান। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিয়ে ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট হুকের সঙ্গে তার দীর্ঘ বিরোধ থাকলেও তিনি নিজের কাজের ধরণ পরিবর্তন করেননি। তার এই আজীবন সাধনা জ্যোতির্বিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছিল।
১৬৮৭ সালের ২৮ জানুয়ারি নিজের ৭৬তম জন্মদিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তার মৃত্যুর পর স্ত্রী এলিজাবেথা তার অসমাপ্ত কাজ ও গবেষণাপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেন। বৈজ্ঞানিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চাঁদের একটি বৃহৎ গর্তের নামকরণ করা হয়েছে তার নামানুসারে। বিজ্ঞানের ইতিহাসে তিনি চাঁদের ভূপ্রকৃতিবিদ্যার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
জোহানেস হেভেলিয়াস: চাঁদের প্রথম মানচিত্রকার
জোহানেস হেভেলিয়াস: চাঁদের প্রথম মানচিত্রকার
ফিচার ডেস্ক: ইউরোপের খ্যাতনামা জ্যোতির্বিদ জোহানেস হেভেলিয়াস ১৬৪৭ সালে চাঁদের একটি বিস্তারিত ও নির্ভুল মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। তৎকালীন পোল্যান্ডের ডানজিগ শহরে জন্মগ্রহণকারী এই বিজ্ঞানী নিজের বাড়ির ছাদে মানমন্দির তৈরি করে আকাশ পর্যবেক্ষণ করতেন। সূক্ষ্ম পরিমাপের জন্য তিনি খালি চোখের ওপর নির্ভর করতেন এবং নিজেই উন্নতমানের টেলিস্কোপ তৈরি করতেন। চাঁদের ভূপ্রকৃতি ও গর্ত নিয়ে তার কাজ বিজ্ঞান জগতে তাকে অনন্য পরিচিতি এনে দিয়েছিল।পারিবারিক ব্যবসার পাশাপাশি জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগী হেভেলিয়াস গাণিতিক শিক্ষক পিটার ক্রুগারের মাধ্যমে মহাকাশ নিয়ে কাজ শুরু
করেন। তার নির্মিত ৪৫ মিটার ফোকাল দৈর্ঘ্যের টেলিস্কোপ এবং ছাদের মানমন্দিরটি সে সময় ইউরোপের বিজ্ঞানীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। তিনি চাঁদের মানচিত্র তৈরির পাশাপাশি সৌরকলঙ্ক পর্যবেক্ষণ, চারটি ধূমকেতু আবিষ্কার এবং নতুন নয়টি নক্ষত্রমণ্ডল চিহ্নিত করেছিলেন। এছাড়া চন্দ্রপৃষ্ঠের লিব্রেশন বা আপাত দোলন নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।১৬৭৯ সালে এক আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে তার মানমন্দির, বহুমূল্য যন্ত্রপাতি ও গবেষণার বহু বছরের নথি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে তিনি দমে না গিয়ে স্ত্রী এলিজাবেথার সহযোগিতায় পুনরায় মানমন্দির নির্মাণ করেন এবং কঠিন
পরিস্থিতির মধ্যেও গবেষণা চালিয়ে যান। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিয়ে ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট হুকের সঙ্গে তার দীর্ঘ বিরোধ থাকলেও তিনি নিজের কাজের ধরণ পরিবর্তন করেননি। তার এই আজীবন সাধনা জ্যোতির্বিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছিল।১৬৮৭ সালের ২৮ জানুয়ারি নিজের ৭৬তম জন্মদিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তার মৃত্যুর পর স্ত্রী এলিজাবেথা তার অসমাপ্ত কাজ ও গবেষণাপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেন। বৈজ্ঞানিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চাঁদের একটি বৃহৎ গর্তের নামকরণ করা হয়েছে তার নামানুসারে। বিজ্ঞানের ইতিহাসে তিনি চাঁদের ভূপ্রকৃতিবিদ্যার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত