জ্বালানি তেলে ভর্তুকি নেই দাবি করা প্রতিবেদনটি বিভ্রান্তিকর বলে শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এ সময় জ্বালানি খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকির প্রসঙ্গ এনেছিলেন। জাতীয় অর্থনীতি পত্রিকা গতকাল ‘জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি নেই, উচ্চহারে শুল্ক নিচ্ছে সরকার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, ‘সরকার ভর্তুকি কমানোর কথা বলে দাম বাড়িয়েছে, অথচ বর্তমান সরকার জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকিই দেয়নি; উল্টো উচ্চহারে শুল্ককর আদায় করে যাচ্ছে’।
বাংলাফ্যাক্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রতিবেদনের ‘ভর্তুকি নেই’ উপসংহার বিভ্রান্তিকর। অধিকাংশ তথ্য সঠিক উৎস থেকে নেওয়া হলেও কয়েকটি সংখ্যা ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রতিবেদনটি ‘ভর্তুকি’ বলতে কেবল অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিপিসিকে নগদ অর্থ হস্তান্তর বুঝিয়েছে। এই সংকীর্ণ অর্থেও দাবিটি পুরোপুরি সঠিক নয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার ২৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ভর্তুকি অনুমোদন করেছিল। এর মধ্যে ৭ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছিল জ্বালানি তেল, মূলত বিপিসির ডিজেল আমদানির জন্য। এই বরাদ্দের কতটা শেষ পর্যন্ত ছাড় হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু ‘কোনো ভর্তুকিই নেই’ বলার আগে এই বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা অপরিহার্য ছিল।
বড় সমস্যাটি অবশ্য ধারণাগত। বিপিসি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, এক দশকে বিপিসির মুনাফার ৩৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে গেছে। অর্থাৎ বিপিসির তহবিল কার্যত জনগণের অর্থ। বিশ্ববাজারের চেয়ে কম দামে তেল বিক্রি করে বিপিসি যখন নিজস্ব সঞ্চয় ভেঙে লোকসান মেটায়, তখন সেটিও রাষ্ট্রের বহন করা ভর্তুকি। শুধু তা বাজেটের ভর্তুকি খাতে না দেখিয়ে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যালেন্স শিটে চাপানো হয়েছে। অর্থনীতির পরিভাষায় একে ‘প্রচ্ছন্ন ভর্তুকি’ বা আন্ডার-রিকভারি বলা হয়। জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছিলেন, মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্তই এই লোকসান ২০ হাজার ৫৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ-বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলে ভর্তুকি নেই দাবি করা প্রতিবেদনটি বিভ্রান্তিকর বলে শনাক্ত
জ্বালানি তেলে ভর্তুকি নেই দাবি করা প্রতিবেদনটি বিভ্রান্তিকর বলে শনাক্ত
জ্বালানি তেলে ভর্তুকি নেই দাবি করা প্রতিবেদনটি বিভ্রান্তিকর বলে শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’। বাংলাফ্যাক্ট জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এ সময় জ্বালানি খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকির প্রসঙ্গ এনেছিলেন। জাতীয় অর্থনীতি পত্রিকা গতকাল ‘জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি নেই, উচ্চহারে শুল্ক নিচ্ছে সরকার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, ‘সরকার ভর্তুকি কমানোর কথা বলে দাম বাড়িয়েছে, অথচ বর্তমান সরকার জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকিই দেয়নি; উল্টো উচ্চহারে শুল্ককর আদায় করে যাচ্ছে’। বাংলাফ্যাক্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রতিবেদনের ‘ভর্তুকি নেই’ উপসংহার বিভ্রান্তিকর। অধিকাংশ তথ্য সঠিক উৎস থেকে নেওয়া হলেও কয়েকটি সংখ্যা ভুলভাবে উপস্থাপিত
হয়েছে। প্রতিবেদনটি ‘ভর্তুকি’ বলতে কেবল অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিপিসিকে নগদ অর্থ হস্তান্তর বুঝিয়েছে। এই সংকীর্ণ অর্থেও দাবিটি পুরোপুরি সঠিক নয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার ২৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ভর্তুকি অনুমোদন করেছিল। এর মধ্যে ৭ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছিল জ্বালানি তেল, মূলত বিপিসির ডিজেল আমদানির জন্য। এই বরাদ্দের কতটা শেষ পর্যন্ত ছাড় হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু ‘কোনো ভর্তুকিই নেই’ বলার আগে এই বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা অপরিহার্য ছিল। বড় সমস্যাটি অবশ্য ধারণাগত। বিপিসি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, এক দশকে বিপিসির মুনাফার ৩৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে গেছে। অর্থাৎ বিপিসির তহবিল কার্যত জনগণের অর্থ। বিশ্ববাজারের চেয়ে কম দামে তেল বিক্রি করে বিপিসি যখন নিজস্ব সঞ্চয় ভেঙে লোকসান
মেটায়, তখন সেটিও রাষ্ট্রের বহন করা ভর্তুকি। শুধু তা বাজেটের ভর্তুকি খাতে না দেখিয়ে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যালেন্স শিটে চাপানো হয়েছে। অর্থনীতির পরিভাষায় একে ‘প্রচ্ছন্ন ভর্তুকি’ বা আন্ডার-রিকভারি বলা হয়। জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছিলেন, মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্তই এই লোকসান ২০ হাজার ৫৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ-বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত