শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
রাজনীতি কালেমা লেখা পতাকা নিয়ে মিছিল করছে কারা?

কালেমা লেখা পতাকা নিয়ে মিছিল করছে কারা?

প্রশাসনের উপস্থিতিতেই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে কালিমা তাইয়্যিবার পতাকা বহন করে টুপি পরা মোল্লা সমাজের লোকজনের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল ও মোটরযানের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব শোভাযাত্রা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে ২০০৪ সালে রাজশাহী জেলার বাগমারা থেকে শায়েখ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে প্রথমে জাগ্রত মুসলিম জনতা আবির্ভূত হয়, যা পরবর্তীতে জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) নাম ধারণ করে। দেশব্যাপী গত কয়েক দিন যাবৎ আল-কায়েদা, আইএসআইএস এবং হামাসের হাজার হাজার পতাকা ছড়িয়ে পড়ছে।

 এবার রাজশাহীর মালোপাড়া এলাকায় অবস্থিত দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দেখা গেল এই উদ্বেগজনক দৃশ্য, যেখানে জঙ্গি সংগঠনের পতাকার পাশে রাইফেল উঁচিয়ে ছবি তোলা হচ্ছে। এমনকি শিশুদেরও এসব কাজে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা এর আগে আমরা আইএসআইএস কিংবা হামাসের ক্ষেত্রেও দেখেছি।

বিএনপি সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কি এসব দেখছে? এই ছবি বিদেশে ছড়িয়ে পড়ছে, যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। সরকার কেন এই বিষয়ে নির্বিকার কিংবা নিষ্ক্রিয় এমন প্রশ্ন জনমনে।

মোটর শোভাযাত্রা থেকে মাওলানা বশির দাবি করেন, ঢাকা-সহ সারাদেশে একযোগে এই কর্মসূচি আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। তারা ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকার প্রতি বিষোদ্গার করে কালিমা তাইয়্যেবাকে ইসলামের নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত চার দিন ধরে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সংগঠিতভাবে মোটর শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় প্রতীক ও পতাকা বহন করছেন। অনেক এলাকায় এসব কর্মসূচি প্রকাশ্য সড়কে অনুষ্ঠিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বাধা দেওয়া হয়েছে বলে দেখা যায়নি বলে দাবি করেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে উগ্র মতাদর্শকে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দাবি, সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে বাংলাদেশে আইএস, হিজবুত তাহরীর ও হামাসের জঙ্গি মহড়া চলছে। সারাদেশে কালিমা তাইয়্যিবার জিহাদি পতাকা নিয়ে মোটর শোভাযাত্রা হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় এর পেছনে অর্থের যোগানদাতা জামায়াত।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ঘটনার প্রকৃতি, আয়োজকদের পরিচয় এবং অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছ তদন্ত করা। একই সঙ্গে জননিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির স্বার্থে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।

খুঁজুন