২০১৪ সালে ভ্রমনে যাচ্ছি কম্বোডিয়া। সঙ্গী সতীর্থ মতিন ভাই, একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আরো দুজন, বিমানবন্দরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ঐ দুজনের সাথে কোন পরিচয় ছিল না। বিমানবন্দরে পরিচয় হলো তাদের একজন মতিন ভাইয়ের জুনিয়র সহকর্মী তালেবুল মাওলা বয়স ২৬/২৭।
অপর জন মেহেরাব ভাই, বয়স প্রায় পঁয়ষট্টি। সম্ভবত পরনে ছিল অতি সাধারণ লুঙ্গি ও জুব্বা। পরিচয় পর্ব শেষে মেহরাব ভাই প্রস্তাব করলেন, আমাদের মধ্যে একজন দলনেতা নির্বাচন করা প্রয়োজন , যার নেতৃত্বে পুরো সফর সম্পন্ন হবে।
সেই সঙ্গে তিনি প্রস্তাব দিলেন—দলনেতা হবেন মান্নান ভাই।
নিজের নাম শুনে কয়েক সেকেন্ড চিন্তা করলাম। তারপর সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম—এর চেয়ে ভালো বিকল্প বোধহয় নেই!
মতিন ভাইয়ের বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ভারত ও কম্বোডিয়া তে সীমাবদ্ধ।ধরে নিয়েছিলাম তালেবুল মাওলার বিদেশ যাত্রার ইতিহাস তার বসের চেয়ে কম । আর লুঙ্গি-জুব্বা পরিহিত এই প্রবীণ ভদ্রলোকের ভ্রমণ ইতিহাস সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না।
অন্যদিকে তখন অব্দি আমার বিদেশ ভ্রমণের ঝুলিতে ছিল ডজনখানেক দেশের অভিজ্ঞতা।
সুতরাং বিনয়ের খাতিরে অন্য কারও নাম প্রস্তাব করার মতো উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পেলাম না। বাধ্য হয়েই গুরু দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলাম।
অবশ্য ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্বের প্রতি আমার এক ধরনের দুর্বলতা, মোহ , লোভ তো ছিলই। তার ওপর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও বিনা খরচে নেতৃত্ব! দল ছোট হলেও নেতৃত্ব তো নেতৃত্বই। মনে মনে সফর পরিচালনার নানা পরিকল্পনা করতে লাগলাম।
ইমিগ্রেশন পার হওয়ার কিছুক্ষণ পর সেই প্রবীণ ভদ্রলোক নেতার অনুমতি না নিয়েই দ্রুত একটি দোকানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। আমি কিছুটা গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,
—কোথায় যাচ্ছেন?
তিনি বিনীতভাবে বললেন,
—এক বোতল পানি কিনব।
আমি খানিকটা বিরক্ত হয়ে বললাম,
—এখানে এত টাকা খরচ করে পানি কেনার কী দরকার? একটু পরেই তো বিমানে পানি দেবে।
মনে মনে ভাবলাম, বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা না থাকলে যা হয়!
তিনি নেতার নির্দেশ শিরোধার্য করে পানি কেনার পরিকল্পনা বাতিল করলেন এবং আমার নেতৃত্বে বিমানে উঠে বসলেন।
বিমান উড়ল। মিনিট পেরিয়ে ঘণ্টা হলো। কিন্তু পানি তো দূরের কথা, কোনো খাবারও এলো না। এদিকে প্রবীণ ভদ্রলোকের তৃষ্ণার্ত মুখ বারবার আমার বিবেককে কড়া নাড়ছিল। যদিও তিনি একবারের জন্যও আমাকে কিছু বলেনি।
অবশেষে এক এয়ার হোস্টেসকে ডেকে পানির কথা জিজ্ঞেস করলাম। তিনি শান্তভাবে জানালেন,
—স্যার, এই ফ্লাইটে খাবার ও পানীয় টিকিটের অন্তর্ভুক্ত নয়। সবকিছু কিনে নিতে হয়।
আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল!
এত বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা মুহূর্তেই ম্লান হয়ে গেল।
পরে জানতে পারলাম, এটি টাইগার এয়ারওয়েজের একটি বাজেট ফ্লাইট। সিঙ্গাপুর ট্রানজিট হয়ে কম্বোডিয়া যাচ্ছে। ট্রাভেল এজেন্ট বিষয়টি আমাকে অবগত করেনি, হয়তো টিকিটে লেখা ছিল। আমি নির্বোধ মনযোগ সহকারে সেটা পড়েনি।
মুহূর্তের মধ্যে আমি মহাবেকুবে পরিণত হলাম।
তারপর ক্রেডিট কার্ড বের করে আক্কেল-সেলামি হিসেবে কয়েক গুণ বেশি দাম দিয়ে পানি ও খাবার কিনে সবাইকে খাওয়ালাম।
প্রায় দশ দিনের সফর। কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর কয়েক দিন পর ধীরে ধীরে মেহেরাব ভাই সম্পর্কে জানার সুযোগ হলো।
জানলাম, তিনি আইসিডিডিআরবি -এর একজন জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক ও গবেষণা কর্মকর্তা ছিলেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমার জন্মের পূর্বে অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়া থেকে স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। গবেষণা ও জ্ঞানের জগতে তার পদচারণা ছিল ঈর্ষণীয়।
সফরের ফাঁকে ফাঁকে তার সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডা হতো। গল্প করতে করতেই অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণা সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পারিবারিক জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু জানার সুযোগ পেয়েছিলাম। তার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার ছিল সমৃদ্ধ, আর গল্প বলার কৌশল ও উপস্থাপনার ভঙ্গি ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত।
একদিন তিনি অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশাল লেকে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন। বড় একটি মাছ ধরা পড়ার পর তার রোমাঞ্চকর অনুভূতির বর্ণনা শুনে আমরা যেন নিজেরাই সেই লেকের তীরে পৌঁছে গিয়েছিলাম।
একই সঙ্গে তিনি সেখানে মাছ ধরার নানা আইন-কানুন, কোন মাছ ধরা যাবে, কোনটি ছেড়ে দিতে হবে, নির্দিষ্ট আকারের নিচে মাছ রাখা নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ও ব্যাখ্যা করছিলেন। তার গল্পে যেমন জ্ঞান ছিল, তেমনি ছিল রসিকতা। মাঝে মাঝেই এমন সব মজার ঘটনা বলতেন যে আমরা হাসতে হাসতে একাকার হয়ে যেতাম।
ফলে পুরো সফরে তিনি শুধু একজন সহযাত্রী ছিলেন না; বরং আমাদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষক, গল্পকার এবং আনন্দের উৎসে পরিণত হয়েছিলেন।
তার একমাত্র পুত্র ইউরোপে পড়ছে।
এসব জানার পর আমার অবস্থা কী হয়ে
ছিল, তা সহজেই অনুমেয়।
লজ্জায় যেন মুখ লাল হয়ে গেল।
"দলনেতা হিসেবে আমার আত্মবিশ্বাস বালির বাঁধের মতো ভেঙ্গে গেল গেল"
যাকে আমি পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে সাধারণ একজন অল্প শিক্ষিত মানুষ ভেবেছিলাম, তিনি আসলে ছিলেন জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বে আমার চেয়ে অনেক উঁচু মাপের একজন মানুষ।
তবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তার বিনয়। বয়সে, জ্ঞানে, অভিজ্ঞতায় এবং সামাজিক মর্যাদায় আমার চেয়ে বড় হওয়া সত্ত্বেও তার আচরণে বিন্দুমাত্র অহংকার ছিল না। বরং তার ভদ্রতা, নম্রতা ও সৌজন্য আজও আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
আজও মাঝেমধ্যে সেই ঘটনার কথা মনে পড়ে। নিজের নির্বুদ্ধিতার কথা ভেবে লজ্জা পাই, আবার মনে মনে হাসিও। অনেকের সঙ্গে সেই নির্বুদ্ধিতার গল্প শেয়ার করি।
জীবনের পথচলায় সেদিন একটি বড় শিক্ষা পেয়েছিলাম—মানুষকে কখনো পোশাক, বাহ্যিক রূপ বা প্রথম দর্শনের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। কারণ অনেক সময় সবচেয়ে সাধারণ বেশভূষার আড়ালেই লুকিয়ে থাকেন সবচেয়ে অসাধারণ মানুষ।
“এক বোতল পানি ও দলনেতার নির্বুদ্ধিতার গল্প”
“এক বোতল পানি ও দলনেতার নির্বুদ্ধিতার গল্প”
২০১৪ সালে ভ্রমনে যাচ্ছি কম্বোডিয়া। সঙ্গী সতীর্থ মতিন ভাই, একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আরো দুজন, বিমানবন্দরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ঐ দুজনের সাথে কোন পরিচয় ছিল না। বিমানবন্দরে পরিচয় হলো তাদের একজন মতিন ভাইয়ের জুনিয়র সহকর্মী তালেবুল মাওলা বয়স ২৬/২৭। অপর জন মেহেরাব ভাই, বয়স প্রায় পঁয়ষট্টি। সম্ভবত পরনে ছিল অতি সাধারণ লুঙ্গি ও জুব্বা। পরিচয় পর্ব শেষে মেহরাব ভাই প্রস্তাব করলেন, আমাদের মধ্যে একজন দলনেতা নির্বাচন করা প্রয়োজন , যার নেতৃত্বে পুরো সফর সম্পন্ন হবে। সেই সঙ্গে তিনি প্রস্তাব দিলেন—দলনেতা হবেন মান্নান ভাই। নিজের নাম শুনে কয়েক সেকেন্ড চিন্তা করলাম। তারপর সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম—এর চেয়ে ভালো বিকল্প বোধহয় নেই! মতিন ভাইয়ের বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ভারত ও কম্বোডিয়া তে সীমাবদ্ধ।ধরে নিয়েছিলাম তালেবুল মাওলার বিদেশ যাত্রার ইতিহাস তার বসের চেয়ে কম । আর লুঙ্গি-জুব্বা পরিহিত এই প্রবীণ ভদ্রলোকের ভ্রমণ ইতিহাস সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। অন্যদিকে তখন অব্দি আমার বিদেশ ভ্রমণের ঝুলিতে ছিল ডজনখানেক দেশের অভিজ্ঞতা।সুতরাং বিনয়ের খাতিরে অন্য কারও নাম প্রস্তাব করার মতো উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পেলাম না। বাধ্য হয়েই গুরু দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলাম। অবশ্য ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্বের প্রতি আমার এক ধরনের দুর্বলতা, মোহ , লোভ তো ছিলই। তার ওপর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও বিনা খরচে নেতৃত্ব! দল ছোট হলেও নেতৃত্ব তো নেতৃত্বই। মনে মনে সফর পরিচালনার নানা পরিকল্পনা করতে লাগলাম। ইমিগ্রেশন পার হওয়ার কিছুক্ষণ পর সেই প্রবীণ ভদ্রলোক নেতার অনুমতি না নিয়েই দ্রুত একটি দোকানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। আমি কিছুটা গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,—কোথায় যাচ্ছেন?তিনি বিনীতভাবে বললেন,—এক বোতল পানি কিনব।আমি খানিকটা বিরক্ত হয়ে বললাম,—এখানে এত টাকা খরচ করে পানি কেনার কী দরকার? একটু পরেই তো বিমানে পানি দেবে। মনে মনে
ভাবলাম, বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা না থাকলে যা হয়! তিনি নেতার নির্দেশ শিরোধার্য করে পানি কেনার পরিকল্পনা বাতিল করলেন এবং আমার নেতৃত্বে বিমানে উঠে বসলেন। বিমান উড়ল। মিনিট পেরিয়ে ঘণ্টা হলো। কিন্তু পানি তো দূরের কথা, কোনো খাবারও এলো না। এদিকে প্রবীণ ভদ্রলোকের তৃষ্ণার্ত মুখ বারবার আমার বিবেককে কড়া নাড়ছিল। যদিও তিনি একবারের জন্যও আমাকে কিছু বলেনি। অবশেষে এক এয়ার হোস্টেসকে ডেকে পানির কথা জিজ্ঞেস করলাম। তিনি শান্তভাবে জানালেন,—স্যার, এই ফ্লাইটে খাবার ও পানীয় টিকিটের অন্তর্ভুক্ত নয়। সবকিছু কিনে নিতে হয়।আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল! এত বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা মুহূর্তেই ম্লান হয়ে গেল। পরে জানতে পারলাম, এটি টাইগার এয়ারওয়েজের একটি বাজেট ফ্লাইট। সিঙ্গাপুর ট্রানজিট হয়ে কম্বোডিয়া যাচ্ছে। ট্রাভেল এজেন্ট বিষয়টি আমাকে অবগত করেনি, হয়তো টিকিটে লেখা ছিল। আমি নির্বোধ মনযোগ সহকারে সেটা পড়েনি। মুহূর্তের মধ্যে আমি মহাবেকুবে পরিণত হলাম। তারপর ক্রেডিট কার্ড বের করে আক্কেল-সেলামি হিসেবে কয়েক গুণ বেশি দাম দিয়ে পানি ও খাবার কিনে সবাইকে খাওয়ালাম। প্রায় দশ দিনের সফর। কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর কয়েক দিন পর ধীরে ধীরে মেহেরাব ভাই সম্পর্কে জানার সুযোগ হলো।জানলাম, তিনি আইসিডিডিআরবি -এর একজন জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক ও গবেষণা কর্মকর্তা ছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমার জন্মের পূর্বে অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়া থেকে স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। গবেষণা ও জ্ঞানের জগতে তার পদচারণা ছিল ঈর্ষণীয়। সফরের ফাঁকে ফাঁকে তার সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডা হতো। গল্প করতে করতেই অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণা সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পারিবারিক জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু জানার সুযোগ পেয়েছিলাম। তার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার ছিল সমৃদ্ধ, আর গল্প বলার কৌশল ও উপস্থাপনার ভঙ্গি ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত। একদিন
তিনি অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশাল লেকে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন। বড় একটি মাছ ধরা পড়ার পর তার রোমাঞ্চকর অনুভূতির বর্ণনা শুনে আমরা যেন নিজেরাই সেই লেকের তীরে পৌঁছে গিয়েছিলাম। একই সঙ্গে তিনি সেখানে মাছ ধরার নানা আইন-কানুন, কোন মাছ ধরা যাবে, কোনটি ছেড়ে দিতে হবে, নির্দিষ্ট আকারের নিচে মাছ রাখা নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ও ব্যাখ্যা করছিলেন। তার গল্পে যেমন জ্ঞান ছিল, তেমনি ছিল রসিকতা। মাঝে মাঝেই এমন সব মজার ঘটনা বলতেন যে আমরা হাসতে হাসতে একাকার হয়ে যেতাম। ফলে পুরো সফরে তিনি শুধু একজন সহযাত্রী ছিলেন না; বরং আমাদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষক, গল্পকার এবং আনন্দের উৎসে পরিণত হয়েছিলেন। তার একমাত্র পুত্র ইউরোপে পড়ছে। এসব জানার পর আমার অবস্থা কী হয়েছিল, তা সহজেই অনুমেয়।লজ্জায় যেন মুখ লাল হয়ে গেল। "দলনেতা হিসেবে আমার আত্মবিশ্বাস বালির বাঁধের মতো ভেঙ্গে গেল গেল" যাকে আমি পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে সাধারণ একজন অল্প শিক্ষিত মানুষ ভেবেছিলাম, তিনি আসলে ছিলেন জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বে আমার চেয়ে অনেক উঁচু মাপের একজন মানুষ। তবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তার বিনয়। বয়সে, জ্ঞানে, অভিজ্ঞতায় এবং সামাজিক মর্যাদায় আমার চেয়ে বড় হওয়া সত্ত্বেও তার আচরণে বিন্দুমাত্র অহংকার ছিল না। বরং তার ভদ্রতা, নম্রতা ও সৌজন্য আজও আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে। আজও মাঝেমধ্যে সেই ঘটনার কথা মনে পড়ে। নিজের নির্বুদ্ধিতার কথা ভেবে লজ্জা পাই, আবার মনে মনে হাসিও। অনেকের সঙ্গে সেই নির্বুদ্ধিতার গল্প শেয়ার করি। জীবনের পথচলায় সেদিন একটি বড় শিক্ষা পেয়েছিলাম—মানুষকে কখনো পোশাক, বাহ্যিক রূপ বা প্রথম দর্শনের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। কারণ অনেক সময় সবচেয়ে সাধারণ বেশভূষার আড়ালেই লুকিয়ে থাকেন সবচেয়ে অসাধারণ মানুষ।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৮),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত