সড়কের পাশে ছোট্ট একটি দোকানঘর। দোকানের এক পাশে সাজানো তৈরি জুতা, স্যান্ডেল ও লফার। অন্য পাশে চামড়া, সুতা আর জুতা তৈরির নানা সরঞ্জাম। এখানেই নিজের হাতের নিপুণতায় চামড়ার জুতা তৈরি করছেন জামাল উদ্দীন নামে এক পাদুকা শিল্পী। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে তার তৈরি জুতা স্থানীয় মানুষের কাছে পেয়েছে আস্থা ও জনপ্রিয়তা। তবে পুঁজি সংকটে বাড়াতে পারছেন না উৎপাদনের পরিসর। ঋণ সহায়তা পেলে স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে পাইকারি বাজারে জুতা সরবরাহের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের তেঁতুলতলা মোড়ের এই দোকানেই চলছে তার প্রতিদিনের কর্মযজ্ঞ। গ্রাহকের চাহিদা ও অর্ডার অনুযায়ী তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের জুতা, স্যান্ডেল ও লফার। নকশা অনুযায়ী চামড়া কাটা থেকে শুরু করে সেলাই, জোড়া লাগানো ও ফিনিশিং- প্রায় সব কাজই করেন নিজের হাতে।
তুলনামূলক কম দামে নিজের পছন্দমতো জুতা তৈরি করে নেয়ার সুযোগ থাকায় স্থানীয়দের অনেকেই তার কাছে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় কাজ করায় তৈরি হয়েছে নিয়মিত ক্রেতাও।
জামাল উদ্দীনের বাড়ি বড়শশী ইউনিয়নের বোদেশ্বরী এলাকায়। একসময় ঢাকায় একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন তিনি। সেখানে কাজ করতে করতেই হাতে-কলমে শিখে নেন জুতা তৈরির বিভিন্ন কৌশল। পরে নিজ এলাকায় ফিরে এসে শুরু করেন নিজের উদ্যোগ। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুই যুগ।
তিনি বাসস’কে জানান, জুতা তৈরির চামড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ঢাকা থেকে কিনে আনতে হয়। কিন্তু সীমিত পুঁজির কারণে একসঙ্গে বেশি পরিমাণে উপকরণ কিনতে পারেন না। ফলে চাহিদা থাকলেও বাড়াতে পারছেন না উৎপাদন।
তিনি বলেন, ‘পুঁজি বেশি থাকলে আরও বেশি পরিমাণে জুতা তৈরি করতে পারতাম। তখন শুধু স্থানীয় বাজার নয়, পাইকারি বাজারেও সরবরাহ করা সম্ভব হতো। এজন্য ঋণ সহায়তা প্রয়োজন।’
ইকবাল বাহার নামে এক গ্রাহক বলেন, সড়কের পাশে জুতা তৈরির দোকান দেখে কৌতুহল বশত একদিন এখানে আসি। এরপর এক জোড়া জুতা নেই। জুতাগুলো বেশ ভালো ছিলো। এরপর আরো কয়েক জোড়া জুতা এখান থেকে নিয়েছি। মূলত এখান থেকে নিজের পছন্দ মত জুতা বানিয়ে নেয়া যায়। দামও সাধ্যের মধ্যে। জুতার মান ভালো হওয়ায় এখান থেকেই কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য তারা মিয়া বলেন, আমরা এই এলাকার মানুষ বাজার থেকে জুতা কিনি না। জামাল উদ্দীনকে অর্ডার দিলে সে-ই তৈরি করে দেয়। আমরা তার দোকানের জুতাই পায়ে দেই। আমরা অনেক বছর ধরে তাকে এই
কাজ করতে দেখছি। তার তৈরি জুতা ভালো ও টেকসই। দামও তুলনামূলক কম। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তার জুতার চাহিদা রয়েছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন-বিসিক’র পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক জুয়েল চন্দ্র সেন বাসস’কে বলেন, জামাল উদ্দীন তার ব্যবসার পরিসর বাড়াতে যদি ঋণ সহায়তা চান আমরা তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করবো।
কারখানা নয়, ছোট দোকানেই তৈরি হচ্ছে মানসম্মত জুতা
কারখানা নয়, ছোট দোকানেই তৈরি হচ্ছে মানসম্মত জুতা
সড়কের পাশে ছোট্ট একটি দোকানঘর। দোকানের এক পাশে সাজানো তৈরি জুতা, স্যান্ডেল ও লফার। অন্য পাশে চামড়া, সুতা আর জুতা তৈরির নানা সরঞ্জাম। এখানেই নিজের হাতের নিপুণতায় চামড়ার জুতা তৈরি করছেন জামাল উদ্দীন নামে এক পাদুকা শিল্পী। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে তার তৈরি জুতা স্থানীয় মানুষের কাছে পেয়েছে আস্থা ও জনপ্রিয়তা। তবে পুঁজি সংকটে বাড়াতে পারছেন না উৎপাদনের পরিসর। ঋণ সহায়তা পেলে স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে পাইকারি বাজারে জুতা সরবরাহের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের তেঁতুলতলা মোড়ের এই দোকানেই চলছে তার প্রতিদিনের কর্মযজ্ঞ। গ্রাহকের চাহিদা ও অর্ডার অনুযায়ী তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের জুতা, স্যান্ডেল ও লফার। নকশা অনুযায়ী চামড়া কাটা থেকে শুরু করে সেলাই, জোড়া লাগানো ও ফিনিশিং- প্রায় সব কাজই করেন নিজের হাতে। তুলনামূলক কম দামে নিজের পছন্দমতো জুতা তৈরি করে নেয়ার সুযোগ থাকায় স্থানীয়দের অনেকেই তার
কাছে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় কাজ করায় তৈরি হয়েছে নিয়মিত ক্রেতাও। জামাল উদ্দীনের বাড়ি বড়শশী ইউনিয়নের বোদেশ্বরী এলাকায়। একসময় ঢাকায় একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন তিনি। সেখানে কাজ করতে করতেই হাতে-কলমে শিখে নেন জুতা তৈরির বিভিন্ন কৌশল। পরে নিজ এলাকায় ফিরে এসে শুরু করেন নিজের উদ্যোগ। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুই যুগ। তিনি বাসস’কে জানান, জুতা তৈরির চামড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ঢাকা থেকে কিনে আনতে হয়। কিন্তু সীমিত পুঁজির কারণে একসঙ্গে বেশি পরিমাণে উপকরণ কিনতে পারেন না। ফলে চাহিদা থাকলেও বাড়াতে পারছেন না উৎপাদন। তিনি বলেন, ‘পুঁজি বেশি থাকলে আরও বেশি পরিমাণে জুতা তৈরি করতে পারতাম। তখন শুধু স্থানীয় বাজার নয়, পাইকারি বাজারেও সরবরাহ করা সম্ভব হতো। এজন্য ঋণ সহায়তা প্রয়োজন।’ ইকবাল বাহার নামে এক গ্রাহক বলেন, সড়কের পাশে জুতা তৈরির দোকান দেখে কৌতুহল বশত একদিন এখানে আসি।
এরপর এক জোড়া জুতা নেই। জুতাগুলো বেশ ভালো ছিলো। এরপর আরো কয়েক জোড়া জুতা এখান থেকে নিয়েছি। মূলত এখান থেকে নিজের পছন্দ মত জুতা বানিয়ে নেয়া যায়। দামও সাধ্যের মধ্যে। জুতার মান ভালো হওয়ায় এখান থেকেই কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। স্থানীয় ইউপি সদস্য তারা মিয়া বলেন, আমরা এই এলাকার মানুষ বাজার থেকে জুতা কিনি না। জামাল উদ্দীনকে অর্ডার দিলে সে-ই তৈরি করে দেয়। আমরা তার দোকানের জুতাই পায়ে দেই। আমরা অনেক বছর ধরে তাকে এই কাজ করতে দেখছি। তার তৈরি জুতা ভালো ও টেকসই। দামও তুলনামূলক কম। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তার জুতার চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন-বিসিক’র পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক জুয়েল চন্দ্র সেন বাসস’কে বলেন, জামাল উদ্দীন তার ব্যবসার পরিসর বাড়াতে যদি ঋণ সহায়তা চান আমরা তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করবো।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত