বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভ-স্কুলে অবরোধ • ময়মনসিংহে ধর্ষণ মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন • ইয়ামালের জোড়া গোলে টানা দ্বিতীয় জয় স্পেনের • আহত চীনা নাগরিক জেংলিং হংকে দেখতে বার্ন ইনস্টিটিউটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী • বিমান বাহিনী প্রধানের শ্রেষ্ঠ বিমানসেনা ও এমওডিসিদের পুরস্কার প্রদান • দিনাজপুরে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার • সিলেটে নদীভাঙন ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু • দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ০.৫ শতাংশ • দখল-ভাঙচুরে বিব্রত সরকার, অভ্যন্তরীণ তদন্তে বিএনপি • ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার, ফিশারিজ ও লাইভস্টক শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান
দেশের খবর মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা!

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা!

মাগুরার শালিখায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল আসার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অস্বাভাবিক এই বিল দেখে হতবাক হয়ে পড়েন গ্রাহক ও তার পরিবারের সদস্যরা।

মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে চলতি মাসের বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করা হয়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী।

বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট মিটারের রিডিং ছিল ১৬০ ইউনিট। ৮ সেপ্টেম্বরের রিডিং দেখানো হয়েছে ৩৯৫ ইউনিট। অর্থাৎ এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ২৩৫ ইউনিট।

কিন্তু এই ২৩৫ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট যোগ হয়ে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ মোট অর্থের পরিমাণ ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

অথচ সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা প্রায় ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ সেটি দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৫৬ টাকা।

১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয় এবং পরিশোধের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’।

গ্রাহক আলেয়া খাতুন বলেন, এত বড় অঙ্কের বিল দেখে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে যান। তার ভাষায়, এ ধরনের ভুল গ্রাহকদের অযথা দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তিতে ফেলছে। তিনি ভুলের যথাযথ প্রতিকার দাবি করেন।

ঘটনার বিষয়ে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি স্বীকার করেন।

তিনি জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্ট হয়ে যাওয়ায় এত বড় অঙ্কের বিল তৈরি হয়েছিল। পরে বিলটি সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামও ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, টাইপিংয়ের ভুলের কারণে এই অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছিল। পরে বিল সংশোধন করা হয়েছে এবং গ্রাহক প্রকৃত বিল পরিশোধ করেছেন। ভুলের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুঁজুন