রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্বস্তির জয় • সহকর্মী বেচে থাকতেই তাঁর দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে শিখি • রিসোর্টের ট্র্যাজেডি আমাদের কী শেখায় • নজরুল ও সিতির শিরশ্ছেদ মানবাধিকার ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন • মেসির জোড়া গোলে আটলান্টাকে ৩-১ ব্যবধানে হারাল ইন্টার মায়ামি • জুনে সতর্কবার্তা, অক্টোবরে দশ মৃত্যু: টুপটুপ রিসোর্টের আগুন থেকে শিক্ষা • পটিয়া ভূমি অফিসে নথি বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি • বান্দরবান-চট্টগ্রামে কাঠ পাচারের অভিযোগ, বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা ঘুষের দাবি • আমি জ্ঞানের শহর, আলী তার দরজা • ওষুধের আগুন, রাষ্ট্রের পরীক্ষা: হ্যাজম্যাট প্রস্তুতি ও জবাবদিহি কোথায়?
জাতীয় নিমতলী স্বজন হারানোর ভয়াল স্মৃতি

নিমতলী স্বজন হারানোর ভয়াল স্মৃতি

২০১০ সালের ৩ জুন, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে নয়টা। হালকা ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছিল। ৭ বছরের সন্তান বৈশাখকে নিয়ে ফল বিক্রি করছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো মহল্লা আলোকিত হয়ে উঠে। ঘুরে তাকাতেই বিশাল আকারের একটি কালো ধোঁয়া এসে গায়ে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে শরীরের একপাশের চামড়া-মাংস খসে পড়ে। এরপর জ্ঞান ফিরে নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পাই।’ এক যুগ আগে পুরান ঢাকার নিমতলী নবাব কাটারা এলাকায় কেমিক্যাল বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সন্তান হারানো ও শরীরের ক্ষত বয়ে বেড়ানো ফল বিক্রেতা মামুন মিয়া বলছিলেন তার সেই কালরাত্রীর স্মৃতিগুলো।

তিনি বলেন, ‘আমার ছোট সন্তানকে নিয়ে দোকান করছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে আগুনের লেলিহান ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। ওই সময় শুধু বৈশাখের (সন্তান) দুটি শব্দ কানে আসে। বাবা, বাবা। আজও সেই স্মৃতি চোখে ভাসে। কেয়ামত এসেছিল আমাদের কাছে।’

এক যুগে আগে এই দিনে কেমিক্যাল বিস্ফোরণে নিমতলী এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছিল আরো শতাধিক মানুষ। বেসরকারি সংস্থা বার্ন এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস মিশন (বিইএএম) এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর বার্ন ইনজুরি (বিএসবিআই)-এর হিসাব মোতাবেক এ সংখ্যা প্রায় ১৫০। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তে ৬-৭টি বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তিনটি বাড়ির সবাই পুড়ে মারা যায়।

একই পরিবারের ১১ সদস্যকে হারানো গুলজার এলাহী বলেন, ‘ভয়াবহ ওই ঘটনায় আমার বাবা-মা, তিন ভাইয়ের স্ত্রী ও ছয় সন্তান মারা যায়। কখনো ভাবিনি এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে হবে। এমন পরিস্থিতি যেন কখনো কারো জীবনে না আসে।’

পাশের আরেকটি বাড়িতে শরিফ উদ্দিন দুলালের বাবা-মা, চার সন্তান, তিন ভাইয়ের স্ত্রী ও খালা-খালুও প্রাণ হারান। কান্না ও আবেগজনিত কণ্ঠে দুলাল বলেন, ‘যে কারণে আমাদের পরিবার হারিয়েছি! আজও তার বিচার পাইনি। প্রতিদিনই সেই ভয়াল স্মৃতি আমাদের কাদায়। এমন পরিস্থিতি যেন আর কারো জীবনে না আসে। সেজন্য সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রতিগুলো বাস্তবায়ন চাই।’

জুয়েলের বাড়িতে পুড়ে মারা যান বাবা-মা, দুই খালতো বোন, খালা-খালুসহ নয়জন সদস্য। তিনি বলেন, ‘মা-বাবার সঙ্গে কথা বলে মসজিদে নামাজ পড়তে যাই। এরমধ্যে বিকট শব্দ ও মানুষের আহাজারি শুনে দৌড়ে মার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি। রাস্তার মধ্যে আগুনের স্তূপ থাকায় অন্য বাড়ির ওপর দিয়ে বাসায় ঢোকার চেষ্টা করি। বেশ কয়েক ঘণ্টা পর বাসায় ডুকে ধোঁয়ার কাউকে খুঁজে পাইনি। হঠাৎ কোনো কিছু একটা পায়ে বেঁধে পড়ে যাই। পরে মোবাইলের আলোতে দেখি আমার মা পুড়ে মারা গেছে।’

খুঁজুন