সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
লিগ্যাল এইড-এর জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সচেতন শ্রমিকদের জন্য ৭ কোটির অধিক টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় লিগ্যাল এইডের আর্কটিক অঞ্চলের অগ্রাধিকার নির্ধারণে বৈঠকে বসছেন ইউরোপীয় নেতারা টোল ফ্রি নম্বরের মাধ্যমে ২ লাখের অধিক জনকে আইনি সেবা লিগ্যাল এইডের এআই দিয়ে তৈরি ছবি ছড়িয়ে অপপ্রচার শনাক্ত : ফ্যাক্টওয়াচ গত পাঁচ মাসে হামের টিকা পেয়েছে প্রায় দুই কোটি শিশু ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৩৫ জনকে আইনি সহায়তা দিয়েছে লিগ্যাল এইড পিরোজপুর সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে দুই প্রতিমন্ত্রী লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার : ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু নিরাপদ খাদ্য আইনে এক সপ্তাহে ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা
দেশের খবর নিরাপদ খাদ্য আইনে এক সপ্তাহে ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা

নিরাপদ খাদ্য আইনে এক সপ্তাহে ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা

 জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহে ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সময়ে ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযান, মোবাইল কোর্ট এবং সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এসব জরিমানা ও মামলা করা হয়।

বিএফএসএ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণ প্রদর্শনে ব্যর্থতার মতো অনিয়ম পাওয়া যায়। এসব অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা এবং তিনটি মামলা করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকার বাইরে লক্ষ্মীপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও নীলফামারী জেলায় ১৪টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি, পোড়া তেল ব্যবহার, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপস্থিতি, অনুমোদনহীন ঘি ব্যবহার, বিরিয়ানি তৈরিতে কেওড়াজল ব্যবহার, পণ্যে লেবেল না থাকা এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদনের মতো অনিয়ম ধরা পড়ে।

এসব ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৫টি মামলা করা হয়।

এ ছাড়া, ১২ সেপ্টেম্বর পাবনা ও সিলেটে পৃথকভাবে নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়। পাবনায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং নিরাপদ খাদ্য অফিসারের উপস্থিতিতে পরিচালিত অভিযানে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, সিলেটের বিসিক শিল্পনগরীর খাদিমনগরে দুটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে একটি প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি। অপর প্রতিষ্ঠানে খাদ্য সংরক্ষণ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা যাওয়ায় সাত দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করেছে বিএফএসএ। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৯৬টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়েছে।

এসব কার্যক্রমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে বিএফএসএ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সচেতনতামূলক টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা প্রচারের পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক অডিওবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তার করণীয় বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

বিএফএসএর চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গবেষণা, গণসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী, উৎপাদক, ভোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও ব্যাপক ও কার্যকরভাবে অব্যাহত থাকবে।

খুঁজুন